মৌলভীবাজার ও রাজনগরে পানিবন্দি ৩০ গ্রামের মানুষ
৬ আগস্ট ২০২৬ ১৩:৫১
মৌলভীবাজার সংবাদদাতা : মৌলভীবাজারের ৪টি নদনদীর মধ্যে মনু, ধলাই ও জুড়ী নদীর পানি অনেকটা কমে গেলেও জেলার রাজনগর ও সদর উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদীতে এখনো পানি বিপৎসীমার ওপর ও নিচ দিয়ে ওঠানামা করছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে দুই উপজেলার উত্তরভাগ, ফতেপুর, মনুমুখ ও খলিলপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩০ গ্রামের প্রায় ১ লাখ মানুষের জনজীবন।
স্থানীরা জানান, দীর্ঘ ৫ যুগ ধরে নদী পাড়ের পানিবন্দি মানুষের দুর্দশা লাঘব ও প্রকৃত সমস্যা সমাধানে পানি উন্নয়ন বোর্ড এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। দীর্ঘ বন্যায় নদীপাড়ের গ্রামগুলো তলিয়ে থাকে মাসের পর মাস। ইতোমধ্যে শত শত বাড়ি ভেঙে তলিয়ে গেছে নদীগর্ভে।
পানিবন্দি থাকা গ্রামগুলো হচ্ছে রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের বকশিপুর, ছিক্কাগাঁও, কামালপুর, আমনপুর, সুরিখাল, যুগিকোনা, কেশরপাড়া, সুনামপুর, উমরপুর, কান্দিগাঁও, জোড়াপুর, রামপুর ও ফতেপুর ইউনিয়নের সাদাপুর, হামিদপুর বেড়কুড়ি, শাহাপুর, জাহিদপুর, আব্দুল্লাহপুর, রশীদপুর, ইসলামপুর, সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের মনুমুখ, চাঁনপুর, সেওয়াইজুরি ও খলিলপুর ইউনিয়নের নতুন বস্তি, ব্রাহ্মণগ্রাম, হামরকোনা, নাদামপুরসহ আরও বেশ কয়েকটি গ্রাম।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ বন্যা থেকে নদীপাড়ের গ্রাম বাঁচাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তরফ থেকে পুরোদমে নদী খনন করা হলে দ্রুত পানি নিষ্কাশন হয়ে ভাটিতে চলে যাবে। এতে পানির চাপ কমে গিয়ে বসতিতে হানা দেবে না।
এছাড়া খননকৃত মাটি দিয়ে পানিবন্দি গ্রাম ভরাট ও নদীপাড়ে লম্বা বাঁধ নির্মাণ করা হলে কুশিয়ারার থাবা থেকে পরিত্রাণ পাবে লক্ষাধিক মানুষ। পাশাপাাশি ভাঙনকবলিত এলাকায় জিওব্যাগ না ফেলে ব্লকের আওতায় আনা হলে নদীপাড়ের অবশিষ্ট গ্রাম রক্ষা পাবে। রাজনগর উপজেলার কুশিয়ারা পাড়ের সুনামপুর ও শাহাপুর গ্রামে সরেজমিন দেখা যায়, বন্যায় তলিয়ে যাওয়া রাস্তাঘাট থেকে নদীর পানি সরে গেলেও ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সলিং করা সড়ক থেকে ইট বের হয়ে খাদে পড়েছে। সিংহভাগ বাড়িঘর ও আঙিনায় বন্যার ক্ষত এখনো শুকায়নি। নদীর পানি ওঠানামা করায় স্থানীয়দের মাঝে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
শাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহদি হাসান বলেন, নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে প্রবল বেগে পানি বসতিতে এসে আঘাত হানে। এতে আমাদের রাস্তাঘাট ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা কেন দেখে না দেখার ভান করছেন।
মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও কুশিয়ারা নদীপাড়ের কামালপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইয়ামীর আলী বলেন, প্রবল বন্যা থেকে গ্রামগুলোকে বাঁচাতে নদী খনন কর করতে হবে। এতে করে দ্রুত পানি চলে যাবে। এক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে এগিয়ে আসতে হবে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, কুশিয়ারা পাড়ে বর্ষাকালে তো পানি থাকবেই। বন্যা থেকে রক্ষা পেতে হলে উঁচু করে বাড়ি নির্মাণ করতে হবে। নদী খননের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নদী খনন করা তো অনেক বড় প্রজেক্ট। শুধু মৌলভীবাজার খনন করলে তো আর হবে না। সিলেট, হবিগঞ্জসহ কুশিয়ারা পাড়ের অন্যান্য জেলায় খনন কার্যক্রম চালাতে হবে। বিষয়টি আমরা কর্তৃপক্ষকে জানাবো।