ফুলতলা ও ডুমুরিয়ায় ঈদ পুনর্মিলনী

অর্থনৈতিক সংকট ও জনআস্থা হারানোর দায় সরকারের : মিয়া গোলাম পরওয়ার


৪ জুন ২০২৬ ১১:১৩

খুলনা সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, অর্থনৈতিক মন্দা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, চাঁদাবাজি, খুন, শিশু ধর্ষণ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির কারণে সরকার জনগণের আস্থা হারাচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সরকারকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, দুই-তিন মাস না যেতে মন্ত্রীরা কোথাও গেলেই ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান শুনতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেখানেই যাচ্ছেন, সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে। সরকারকে এ অবস্থা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক লুটপাট বন্ধ করতে হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি বাদ দিয়ে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
গত ৩০ মে শনিবার সকালে ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়ার টিপনা মাদরাসার অডিটোরিয়ামে ঈদ পুণর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা আমীর ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা মোক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আব্দুর রশীদ বিশ্বাসের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্যা, খুলনা-১ এর সংসদ সদস্য প্রার্থী বাবু কৃষ্ণ নন্দী।
এতে বক্তব্য দেন ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর গাজী মো. সাইফুল্লাহ ও মাওলানা হাবিবুর রহমান, উপজেলা শূরা ও কর্মপরিষদ মাওলানা ফরহাদ আল মাহমুদ, মাওলানা হাফিজুর রহমান, মাওলানা শফিকুর রহমান, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা সাইদুল্লাহ হোসাইন, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি বি এম আলমগীর হোসাইন, মো. আমান উল্লাহ আমান, ডুমুরিয়া সদর থানা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান প্রমুখ।
এর আগে ঈদুল আজহার পরের দিন গত ২৯ মে শুক্রবার সকালে ফুলতলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে শিরোমনি খানজাহান আলী আদর্শ মহাবিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে ঈদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। এতে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খানজাহান আলী থানা আমীর ও ফুলতলা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটো। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন ও জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান। এ সময় খুলনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, সহকারী সেক্রেটারি ফুলতলা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী গাউসুল আযম হাদী, ফুলতলা উপজেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলীম মোল্লা, সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম, খানজাহান আলী থানা সেক্রেটারি গাজী মুর্শেদ মামুন প্রমুখ।
রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়ে সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। গণভোটে যেসব বিষয়ে জনগণ মতামত দিয়েছে, সেগুলো সংবিধানের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হলে চলমান সংকট অনেকটাই নিরসন হতে পারে। তিনি বলেন, সরকারের সামনে এখনো সময় আছে। চাইলে তারা বাজেট অধিবেশন শুরুর আগেই উদ্যোগ নিতে পারে। রাজপথে সংঘাতমুখী পরিস্থিতি তৈরি করা সমীচীন হবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, কার্ড কার্যক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্পের নামে দলীয়করণ করছে। শুরুতেই ভাগ-বাঁটোয়ারা, নিজেদের মধ্যে হানাহানি, মারামারি ও লুটপাট শুরু হয়ে গেছে।
প্রশাসনে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এনে গোলাম পরওয়ার বলেন, বদলি, পোস্টিং, ওএসডির মাধ্যমে প্রশাসনকে একদলীয়করণের চেষ্টা চলছে। সচিবালয় থেকে উপজেলা প্রশাসন পর্যন্ত ব্যাপক রদবদল হচ্ছে। এটা অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।
দেশ বহুমাত্রিক সংকটে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, বিচারিক ও অর্থনৈতিক সব ক্ষেত্রেই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ঈদুল আজহার এই সময়েও মানুষ উদ্বেগের মধ্যে দিন পার করছে। এই সংকট সরকারই সৃষ্টি করেছে। তাই সংকট নিরসনের দায়িত্বও সরকারের। তবে দেশের কল্যাণে যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।