ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহানের পচা-গলা লাশ উদ্ধার


৪ জুন ২০২৬ ১০:১৫

যুগ্ম সচিব ছেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার : প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর মিরপুরে ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধা মা নুরজাহান বেগমের পচা-গলা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার ছেলে এবং যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। গত ৩ জুন বুধবার সকালে গণমাধ্যমকে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযুক্ত যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমান বর্তমানে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) হিসেবে প্রাক্কলিত দায়িত্বে রয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তাকে (আনিসুর রহমান) গত ২ জুন মঙ্গলবার রাতে ফোনে পাওয়া যায়নি। এখন তার সঙ্গে কথা বলে আগে নিশ্চিত হতে হবে যে বিষয়টি তার মাকে কেন্দ্র করেই কি না। আমরা সেটি দেখছি।’
প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী আরও বলেন, ‘একটা আইন আছে, যেখানে বাবা-মায়ের ভরণ-পোষণ সংক্রান্ত বিধান (বাবা-মায়ের ভরণ-পোষণ বিধান ২০১৩) রয়েছে। সেটি কার্যকর থাকলে আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।’
এছাড়া একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখে তা অ্যাড্রেস করা হবে বলে তিনি জানান। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে গত ৩ জুন বুধবার ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের লাশ উদ্ধারের ঘটনাটির তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শরীফ সরকার। রিটে নুরজাহান বেগমের সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটের পক্ষের আইনজীবী হলেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।
এর আগে গত ৩১ মে রোববার রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের পচা-গলা ও পোকাধরা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ প্রতিবেশীদের ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
লাশ উদ্ধারের পর তদন্তে জানা যায়, মায়ের সঙ্গে একই বাসায় পাশাপাশি রুমে বসবাস করলেও তার মৃত্যুর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাননি তার স্কুলশিক্ষিকা মেয়ে। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, ওই বৃদ্ধা দীর্ঘদিন ধরে কার্যত একা ও অবহেলার মধ্যে বসবাস করছিলেন। নুরজাহানের থাকার ঘরের প্রকাশিত ছবিতেও যার প্রমাণ মেলে।
নুরজাহান বেগমের দুই ছেলে আলাদা থাকতেন এবং মায়ের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ ছিল না। যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমান ছাড়াও তার অপর ছেলে এ কে এম আশিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের একজন অধ্যাপক। উচ্চশিক্ষিত ও পদস্থ সন্তানদের এমন চরম অবহেলায় মায়ের মৃত্যুর ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।