আখিরাতের স্থায়ী বিনিয়োগেই প্রকৃত সাফল্য


২২ মে ২০২৬ ২১:৩১

॥ মীর লুৎফুল কবীর সা’দী ॥
কখনো কখনো একটি বাক্য মানুষের চিন্তার জগতে প্রচণ্ড ঝড় তোলে, যা দীর্ঘদিনের অভ্যাসগত মানসিকতাকে ভেঙে চুরমার করে দেয়। এমনই একটি বাক্য হলো, ‘আসুন, ধান্দাবাজি করি, স্বার্থপর হই।’ প্রথম শুনে মনে হতে পারে এটি নৈতিকতার বিপরীতে একটি চমক দেখানো আহ্বান। সমাজে যেখানে নিজে পালন না করলেও উপদেশ হিসেবে সততা, নৈতিকতা ও পরার্থপরতার কথা সর্বদা বেশ জোরেশোরে উচ্চারিত হয়, সেখানে হঠাৎ ‘ধান্দাবাজি’ ও ‘স্বার্থপরতার’ মতো নেতিবাচক দিকে আহ্বান কেন?
তবে গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, বাক্যটির ভেতরে রয়েছে মানুষের প্রকৃতি, জীবনদর্শন এবং অনন্ত জীবনের মাঝে অনুচ্চারিত এক গভীর তত্ত্ব ও সত্যতা। মানুষের স্বার্থবোধ জন্মগত স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য, যা মানুষকে পরিচালিত করে থাকে। তবে মূল প্রশ্ন হলো এই স্বার্থ কোন দিকে নিবদ্ধ? ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াবী লাভের স্বার্থ নাকি অনন্ত জীবনের স্থায়ী কল্যাণ লাভের স্বার্থ?
মানুষের স্বার্থবোধ : সৃষ্টিগত প্রেরণা
মানুষের ভেতরে স্বার্থবোধ থাকা কোনো নৈতিক ত্রুটি নয়। বরং এটি মানব প্রকৃতির একটি মৌলিক অংশ, যা মানুষকে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে, পরিকল্পনা করতে এবং উন্নতির পথে এগোতে প্ররোচিত করে। ইতিহাস দেখিয়েছে, যদি মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা না করত তবে সে কখনো কৃষি আবিষ্কার করত না, ঘরবাড়ি নির্মাণ করত না এবং জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে মানব সভ্যতাও গড়ত না। ইসলাম এই মনস্তত্ত্বকে অস্বীকার করে না, বরং এটিকে একটি উচ্চতর উদ্দেশ্যের দিকে পরিচালিত করে। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন, ‘যে ব্যক্তি পরকালের ফসল চায়, আমি তার ফসল বৃদ্ধি করে দিই। আর যে দুনিয়ার ফসল চায়, তাকে আমি কিছু দিই কিন্তু আখিরাতে তার কোনো অংশ থাকবে না।’ (সূরা আশ-শূরা : ২০)। এই আয়াত মানুষের জীবনকে একটি কৃষিক্ষেত্রের সাথে তুলনা করেছে। যেমন একজন কৃষক বীজ বপন করে পরে ফসল পায়, তেমনি মানুষের কাজের ফলও একদিন অবশ্যই দেখা দেয়। দুনিয়ার জীবন বীজ বপনের ক্ষেত্র, আর আখিরাত হলো চিরস্থায়ী ফসলের ক্ষেত্র।
দুনিয়ার স্বার্থ : ক্ষণস্থায়ী মরীচিকা
মানুষ প্রায়ই দুনিয়াবি স্বার্থের পেছনে ছুটে। সম্পদ, ক্ষমতা, খ্যাতি, সামাজিক মর্যাদা সবই ক্ষণস্থায়ী। ইতিহাসে অসংখ্য শক্তিশালী সম্রাট ও শাসক ছিলেন, যাদের নাম আজ শুধুই ইতিহাসের পাতায় রয়েছে। কুরআন আমাদের সতর্ক করে, ‘পার্থিব জীবন কেবল খেল-তামাশা। আর আখিরাতের আবাসই প্রকৃত জীবন যদি তারা জানত।’ (সূরা আনকাবুত : ৬৪)। যারা কেবল দুনয়িার মোহে লিপ্ত থাকে, তাদের জীবন প্রায়ই ভ্রান্তি ও প্রতারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
আখিরাতের অর্থনীতি : কুরআনের ভাষায় বিনিয়োগ
কুরআনের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো মানুষের নেক কাজকে ব্যবসার ভাষায় বর্ণনা করা। তবে মনে রাখতে হবে নেক কাজ হতে হলে নিশ্চিত করতে হবেÑ ১. আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস, ২. শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজটি করা, ৩. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী কাজটি করা। এই তিনটি বৈশিষ্ট্যের একটিও বাদ গেলে তা আর নেক কাজ হিসেবে গণ্য হবে না। তবে সেটা ‘ভালো কাজ’ হতে পারে। ‘ভালো কাজ’ আর ‘নেক কাজ’ এর মধ্যে মূলত পার্থক্য এখানেই। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! আমি কি তোমাদের এমন একটি ব্যবসার কথা বলব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে?’ (সূরা আস-সফ : ১০)। আরেকটি আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, সলাত কায়েম করে এবং আমি তাদের যা দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে তারা এমন এক ব্যবসার আশা করে যা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।’ (সূরা ফাতির : ২৯)। এই ব্যবসা হলো নেক আমল, আখিরাতের এক অনন্ত বিনিয়োগ, যেখানে ক্ষতির বিন্দুমাত্র কোনো সম্ভাবনা নেই।
ছোট কাজের বিশাল মূল্য
ইসলামের সৌন্দর্য হলো ছোট নেক কাজেও আখিরাতে বিশাল প্রতিফল লাভ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘এক ব্যক্তি পথ থেকে কাঁটাযুক্ত একটি ডাল সরিয়ে দিল। আল্লাহ তার এই কাজটি কবুল করলেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন।’ (সহীহ বুখারী)। তিনি বলেন, ‘তোমার ভাইয়ের প্রতি একটি হাসিও সদকা।’ (সুনান তিরমিযী)। তাই দেখা যায় ছোট ছোট নেক কাজও আখিরাতে চিরস্থায়ী বিশাল ফল দেয়।
সময় : মানুষের প্রকৃত মূলধন
মানুষ সাধারণত অর্থকে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ মনে করে কিন্তু বাস্তবে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো সময়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দুটি নিয়ামত আছে যার দ্বারা অধিকাংশ মানুষ প্রতারিত হয় সুস্থতা এবং অবসর।’ (সহীহ বুখারী)। সময়কে সঠিকভাবে বিনিয়োগ করলে তা চিরস্থায়ী সম্পদে পরিণত হয়। আধ্যাত্মিক বিনিয়োগ যেমন দোয়া, জিকির, সদকা, নেক কাজ এর মাধ্যমে আমরা আখিরাতের বিশাল লাভ নিশ্চিত করা যায়।
মৃত্যুর পরও চলমান ব্যবসা
দুনিয়ার যেকোনো ব্যবসা মৃত্যুতেই শেষ হয়ে যায়, কিন্তু আখিরাতের ব্যবসা অনন্তকাল ধরে চলতে থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মানুষ মারা গেলে তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি ব্যতীত চলমান সদকা, উপকারী জ্ঞান এবং নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।” (সহীহ মুসলিম)। ওয়াকফ সংস্কৃতির মাধ্যমে ইসলাম এই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে, যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান সবই আখিরাতের বিনিয়োগ হিসেবে মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করেছে।
সাহাবাদের আখিরাত ব্যবসা
সাহাবাগণ সম্পদকে উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহার করতেন না, বরং ব্যবহার করতেন উপায় হিসেবে। আবু বকর (রা.) বহু দাসকে মুক্ত করেছিলেন। উসমান (রা.) কূপ কিনে মানুষের জন্য উন্মুক্ত করেছিলেন। আব্দুর রহমান ইবন আওফ (রা.) বিশাল পরিমাণ দান করেছিলেন। জাকাত, সদকা ও ওয়াকফের মাধ্যমে সম্পদের নৈতিক পুনর্বণ্টন ছিল ইসলামী সমাজের মূলনীতি। এই নৈতিক কাঠামো শহর নির্মাণ, শিক্ষা বিস্তার, চিকিৎসা ও সামাজিক সেবার মাধ্যমে সমাজকে শক্তিশালী করেছে।
ইমাম গাজ্জালি : নৈতিক স্বার্থ ও নফস তত্ত্ব
ইমাম গাজ্জালি ‘ইহ্যাউ উলূমুদ্দীন’-এ নফসকে তিনটি স্তরে ভাগ করেছেন, ইমারাতি নফস: স্বার্থপরতা ও অহংকার, মোয়তাদিল নফস: মধ্যপন্থী, সীমিত স্বার্থ ও মুত্তাকী নফস: আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং চিরস্থায়ী কল্যাণ। প্রকৃত সফলতা অর্জিত হয় মুত্তাকী নফসের মাধ্যমে। এটি মানুষকে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মোহ থেকে মুক্ত করে আখিরাতের স্থায়ী স্বার্থের দিকে পরিচালিত করে।
ইবনে খালদুন : সভ্যতা ও অর্থনৈতিক নৈতিকতা
ইবনে খালদুন ‘মুকাদ্দিমা’-তে দেখিয়েছেন, যে সভ্যতা আধ্যাত্মিক ও নৈতিক ভিত্তি ছাড়া গড়া হয়, তা ধীরে ধীরে পতনশীল হয়। সম্পদকেন্দ্রিক সমাজে স্বার্থপরতা বৃদ্ধি পায় দুনিয়ার অর্জনকে চূড়ান্ত লক্ষ্য মনে করা হয়। আধ্যাত্মিক ও সামাজিক বিনিয়োগ নষ্ট হয়। খালদুনের মতে, ইসলামের নৈতিক অর্থনীতি যেখানে সম্পদ আখিরাতের জন্য বিনিয়োগ হয় সর্বোচ্চ সভ্যতা ও স্থায়িত্বের মূল ভিত্তি।
আধুনিক পুঁজিবাদ বনাম আখিরাতের অর্থনীতি
আধুনিক অর্থনীতি ক্ষণস্থায়ী লাভ, প্রতিযোগিতা ও বাজারের পরিবর্তনশীলতার ওপর নির্ভরশীল। দুনিয়ার পুঁজিবাদ মানুষের মনোবৃত্তিকে ক্ষণস্থায়ী লাভের দিকে প্রবলভাবে আকৃষ্ট করে, যেখানে সামাজিক নৈতিকতার স্থান অতি সীমিত। অপরদিকে আখিরাতের অর্থনীতি কুরআনের ভাষায় ‘তিজারাহ’ কোনো ক্ষতি নেই, লাভ চিরস্থায়ী এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক কল্যাণকে সমন্বিত করে। মানবিক উন্নয়ন ও আধ্যাত্মিক সম্পদ অর্জন একইসাথে সম্ভব, যদি স্বার্থকে আখিরাতের স্থায়ী কল্যাণের সাথে মেলানো হয়।
আধ্যাত্মিক প্রশান্তি : প্রকৃত সুখের উৎস
কুরআন বলে, ‘হৃদয় আল্লাহর স্মরণে শান্তি পায়।’ (সূরা রা’দ :২৮)। দুনয়িার চাকচিক্য, মোহ, ক্ষণস্থায়ী সুখ প্রকৃত প্রশান্তি দিতে পারে না। প্রকৃত শান্তি আসে আধ্যাত্মিক বিনিয়োগ, নেক আমল এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে। এটি মানব মনস্তত্ত্বের সাথে গভীর সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সমাজে নৈতিকতার প্রসার ঘটায়।
চূড়ান্ত সফলতা
একদিন মানুষের সামনে তার আমলনামা খোলা হবে। সেই দিন চূড়ান্ত সফলতা নির্ধারিত হবে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী অর্জন নয়, আখিরাতের স্থায়ী বিনিয়োগই প্রকৃত বিজয়। মুসলিম হিসেবে আমাদের শুধুমাত্র একটি বিষয় খুব ভালো করে বুঝতে হবে। আমরা মহান স্রষ্টা আল্লাহকে বিশ্বাস করি কি না? এটি হয়তো একটি অবান্তর প্রশ্ন মনে হতে পারে। আল্লাহকে বিশ্বাস করলে আমরা আখিরাতের অনন্ত জীবনকে বিশ্বাস করি পুরস্কার বা শাস্তি অর্থাৎ জান্নাত বা জাহান্নামকে বিশ্বাস করি। কাজেই আল্লাহকে বিশ্বাস করলে কেউ যদি আল্লাহর হুকুম পালন থেকে বিরত থাকে, তাহলে তার পরিণতি নিশ্চিত জাহান্নাম সে নিজেই বিশ্বাস করে। কেননা সে কুরআন ও হাদিসে বিশ্বাস করে। আর এ কথাগুলো কুরআন ও হাদিসে পরিষ্কারভাবে রয়েছে।
একটু উদাহরণ দিলে বিষয়টা আরো পরিষ্কার হবে। কেউ যদি বলে আমি চাকরি করি কিন্তু কর্মস্থলে যেতে পারবো না, মালিকের কথা শুনবো না, কোন কাজ করবো না কিন্তু মাস শেষে বেতন পাব। এ কথা যেমন খুব সহজে বুঝতে পারি যে যেটা অবিশ্বাস্য। কিন্তু আমি আল্লাহকে বিশ্বাস করি অথচ আল্লাহর কোনো হুকুম পালন করব না, আল্লাহ আমাকে জান্নাত দান করবেনÑ এমন কথা কুরআন বা হাদিসের কোথায় রয়েছে? আর জান্নাত না পেলে তো নিশ্চিত পরিণতি জাহান্নাম।
আমরা সফলতার ব্যাপারে মনে করি অর্থ সম্পদ, বাড়ি গাড়ি বা পদবী অর্জন করতে পারলেই তা সফলতা। অথচ এটা প্রকৃত সফলতা নয়। কুরআন এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে বলে, “প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। যাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করা হয়েছে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে, সেই প্রকৃতভাবে সফল।” (সূরা আল-আনকাবুত : ৫৭)।
তাই আসুন, প্রকৃত সফলতার সন্ধানে আমরা এক অর্থে ‘ধান্দাবাজ’ হই, তবে সেই ধান্দা হোক আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ধান্দা, মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদন করার ধান্দা এবং আখিরাতের চিরস্থায়ী সফলতার জন্য আন্তরিক ও অবিরাম সাধনার ধান্দা।
আসুন, আমরা ‘স্বার্থপর’ও হই, কিন্তু সেই স্বার্থপরতা যেন দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী লাভের সংকীর্ণ হিসাব-নিকাশে সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং তা হোক এমন এক উচ্চতর স্বার্থবোধ, যা আমাদের বারবার অনন্ত জীবনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পথে আমাদেরকে আরও সচেতন, আরও বিনয়ী এবং আরও আন্তরিক করে তোলে।
দুনিয়ার ‘ধান্দাবাজি’ মানুষকে প্রায়ই ছোট করে ফেলে; তাকে হীন স্বার্থের সংকীর্ণ গণ্ডিতে আবদ্ধ করে দেয়। কিন্তু আখিরাতের ‘ধান্দাবাজি’ মানুষকে মহৎ করে তোলে। তা হৃদয়কে প্রশস্ত করে, মানুষের প্রতি মমতা জাগায়, দানশীলতা ও উদারতার আলো প্রজ্জ্বলিত করে এবং মানুষকে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে বিনয়ী, সচেতন ও আলোকিত করে তোলে। সুতরাং যদি ধান্দাই করতে হয়, তবে সেই ধান্দা হোক এমন এক ধান্দা যার লাভ দুনিয়ার সামান্য মোহে আবদ্ধ নয়, বরং যার মুনাফা প্রসারিত হয় অনন্ত আখিরাতের দিকে যেখানে মানুষের প্রতিটি নিঃস্বার্থ সৎকর্ম আল্লাহর কাছে চিরস্থায়ী সম্পদে রূপান্তরিত হয়।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের অন্তরকে ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার সংকীর্ণ মোহ থেকে মুক্ত করে দিন। আমাদের জীবনকে নেক আমলে পরিপূর্ণ করে দিন। আমাদেরকে সেই ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যাদের ব্যবসা কখনোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। আমাদেরকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দান করুন। আমাদের কবরকে শান্তির স্থান করুন আর জান্নাতুল ফিরদাউসকে আমাদের শেষ ঠিকানা বানিয়ে দিন। আমিন।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও গবেষক।