বিশ্বনন্দিত নেতা শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী
২১ মে ২০২৬ ১০:২২

॥ একেএম রফিকুন্নবী ॥
শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর সাথে আমার পরিচয় হয় ঢাকা কলেজ করিডোরে। সাথে ছিলেন শহীদ ডা. ইমরান, শহীদ শাহজামাল ভাই। তখন তিনি একটি ইসলামী ছাত্র সংগঠনের সভাপতি ছিলেন। পরে পাকিস্তানের সভাপতি হন। অফিস ছিল ১৫ পুরানা পল্টনে।
ছাত্রজীবনেই নিজামী ভাই বেড়া বাজারে আমাদের বাড়িতে এসেছেন। তখন বেড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ছোট ছোট গাড়ি নগরবাড়ী যেত। নগরবাড়ীতে ফেরি বা লঞ্চে আরিচা হয়ে তরারঘাট ফেরিতে পার হতে হতো। তারপর তরারঘাট ফেরি পার হয়ে ঢাকা পৌঁছাতাম। ঢাকা কলেজের নর্থ হোস্টেলে থাকতাম। কলেজের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতাম। ঢাকা কলেজে পড়ার কারণেই নেতৃবৃন্দ স্নেহের সাথে আমাদের দেখতেন। শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ছিলেন গ্রাম থেকে উঠে আসা বড় নেতা। সাঁথিয়া উপজেলার মনমথপুর গ্রামে তার জন্ম। বাবার নাম লুৎফর রহমান। নিজামী সাহেবের বাড়িতে আমার একাধিকবার যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। তখন বেড়া থেকে হেঁটে যেতে হতো। একবার মরহুম সরদার আব্দুস সালাম ভাইসহ তার বাবা-মায়ের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। খালাম্মা বলতেন, তোমরা যদি কিছু না খেয়ে যাও আর আমার ‘মতি’ যদি শুনে, তাহলে মন খারাপ করবে। বাড়িতে মসজিদ ছিল। এখনো আছে। পরবর্তী সময়ে সাঁথিয়ায় টিনশেড বাড়ি করেন। সেখানেই বাবা-মা থাকতেন। নিজামী ভাই বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে।
সাঁথিয়ার বোয়ালমারী মাদরাসায় তিনি লেখাপড়া শুরু করেন। পরে পুষ্পপাড়া মাদরাসা, এরপর ঢাকা আলিয়া এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
মাওলানা নিজামী ঢাকা মহানগরীর আমীর থাকাকালে আমি কর্মপরিষদের সদস্য ছিলাম। সেক্রেটারি ছিলেন শহীদ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। একবার নিজামী ভাইকে বলেছিলাম, আপনি কত সৌভাগ্যবান যে, ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারিকে তুমি বলে সম্বোধন করেন। শহীদ মোল্লা ভাই, শহীদ মীর কাসেম আলী ভাই, শহীদ কামারুজ্জামান ভাই তখন ঢাকা মহানগরীর নেতা ছিলেন।
১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম তিনি অংশগ্রহণ করেন। পরে আরও তিনটিসহ মোট ৪ বার সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জোট সরকারের সময় তিনি মন্ত্রী হন। প্রথমে কৃষিমন্ত্রী পরে শিল্পমন্ত্রী। কৃষিমন্ত্রী থাকাকালে দেশের কৃষি বিভাগের লোকদের সাথে কৃষিজমিতেও যেতেন। এক জমিতে কীভাবে সাথী ফসল হিসেবে ৩ ফসল উৎপাদন করা যায়, তা আবিষ্কৃত হয়। আমরাও তার সাথে থাকার চেষ্টা করতাম। কৃষকদের সাথে কাজ করে সাধারণ মানুষের সাথে তার ওঠাবসা অনেকের কাছে ভালো লাগেনি। একদিকে জামায়াতের আমীর, অন্যদিকে কৃষিমন্ত্রী। ফলে সাধারণ মানুষ এবং প্রশাসনে বিরাট চাঞ্চল্য পড়ে যায়। তার সাথেই প্রতিমন্ত্রী ছিলেন আজকের বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মন্ত্রী হিসেবে যখন জেলা-উপজেলায় যেতেন, তিনি সরকারি ডাকবাংলোয় থাকতেন। কিন্তু সরকারি কোনো খাবার খেতেন না। বরং সরকারের লোকেরাই আমাদের দাওয়াতে আসতেন, খাওয়ায় শরিক হতেন। একবার সাঁথিয়া ইউএনও অফিসে গেলে ইউএনও সাহেব আমাকে একটি সার্কুলার দেখালেন এবং বললেন, দেখেন আপনাদের মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে এটা জারি করিয়েছেন। বিষয় ছিল মেহমানদের দেশি ফল দিয়ে আপ্যায়ন করতে হবে। ঐ সময় থেকে আমি বিদেশি ফল কিনি না, খেজুর ছাড়া।
শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সহজ, নম্র ভাষায় কথা বলতেন। তার কথায় কোনো নেতা বা কর্মী রাগ হয়েছে, আমার জানা নেই। এলাকায় গেলে বেশিরভাগ সময়েই আমি সাথে যেতাম। যমুনা ব্রিজ হওয়ার পর মাঝে মাঝে আমি বলতাম, যাওয়ার সময় ব্রিজ দিয়ে যাব আসার সময় নদী ভ্রমণ করে ফেরি পার হয়ে ফিরবো। তিনি মেনে নিতেন। ফেরিতে মন্ত্রীর প্রটোকল মেনেই ফেরিতে লোকেরা তার সাথে ব্যবহার করতেন। বর্তমানে পাবনার এমপি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস নিজামী ভাইয়ের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখতেন। নিজামী ভাই এলাকায় গেলে সাধারণ মানুষ তার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারতো, শুধু তাই নয়, সাধারণ ভিক্ষুকরাও ছেলেমেয়ে নিয়ে তার সাথে কথা বলতে পারতেন।
একবার তিনি আমাকে টেলিফোন করলেন এলাকার ৫ জন সদস্য ছাত্রজীবন শেষ করা ভাইয়ের জন্য। চাকরির জন্য নয়। তিনি আমাকে বললেন, তুমি যদি এদের ঢাকায় চাকরি দেও, তবে এলাকার নেতৃত্ব দেবে কারা। বরং এলাকায় তাদেরকে প্রোডাক্টটিভ করার ব্যবস্থা কর। নেতার কথার সাথে তাল মিলিয়ে তাদের সাথে আলাপ করে প্রিন্টিং প্রেস করার উদ্যোগ নেই। এ ৫ ছাত্রনেতা পরবর্তীতে ২টি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন, একটি হাফিজিয়া মাদরাসা করেন, বাকি ২ জন মাদরাসায় চাকরি করেন এবং তারা সবাই আন্দোলনের দায়িত্ব পালন করেন স্থানীয় আমীরসহ।
নিজামী ভাই এমপি-মন্ত্রী হওয়ায় এলাকার রাস্তাঘাট, সাঁথিয়া অডিটোরিয়াম, স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠায় বড় অবদান রাখেন। তার সভাপতিত্বে তৈরি বেড়া আলহেরা একাডেমি থেকে এবার ৫৮ জন ক্লাস এইটে বৃত্তি পেয়েছে। বর্তমানে আমাকেই সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে হয়।
১৯৯০ সালে হঠাৎ আমাদের এক ছোট ভাই ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ জানালেন, একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছেÑ এক টিকিটে ২ জন সৌদি আরবে সফর করা যাবে ভিজিট ভিসায়। আপনি এটাকে হজ ভিসা করায়ে দেবেন। কথা অনুযায়ী ৪ জনের হজ ভিসা নিয়ে মক্কায় পৌঁছালাম। গিয়ে দেখি আমাদের থাকার জায়গায় মক্কী শহীদুল ইসলাম ভাইয়ের বাসায় নিজামী ভাই, মুজাহিদ ভাই, মোল্লা ভাই, মাওলানা আবুল কালাম আযাদ উপস্থিত। তাদের দেখে আমাদের মনে খুশির বন্যা বয়ে গেল। একসাথে হজ করাটা আমার পরিবারের জন্য ছিল দুনিয়ায় শ্রেষ্ঠ পাওয়া। আরাফাত ময়দানে শহীদ জিয়াউর রহমানের দেয়া নিমগাছের নিচে আমরা নিজামী ভাইয়ের সাথে মোনাজাতে শরিক হয়ে দুনিয়া ও আখিরাতের ভালো ফল সকলের জীবনে ফিরে আসুক সে দোয়া করি। আরো একবার তার সাথে আমার কা’বায় দেখা হয়েছে, যা মনে রাখার মতো।
শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ও ইসলামী চিন্তাবিদ ছিলেন। তার জনসভা ও সংসদের বক্তব্য দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বার্তা বয়ে আনতো। সংসদে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানাতেন। সুদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠে সংসদে যে বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন, তা কিয়ামতে মহান আল্লাহ রেফারেন্স হিসেবে তার পক্ষে কুরআনের বাণীর সাক্ষী হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি গোটা দুনিয়ায় মুসলিম দেশসহ ঘুরে বেড়িয়েছেন মহান আল্লাহর বাণী প্রচারের জন্য। বিদেশে বিভিন্ন সেমিনারে আলোচনা সভায় যোগ দিয়েছেন, যার হিসাব দিতে গেলে একটি বই হয়ে থাকে। আজকের তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সাথে তার বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক ছিল। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী আমাদের কাছে বড় ভাইসুলভ মনে হলেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তিনি বিশেষ গুরুত্ব পেতেন।
শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে অপবাদ দিয়ে বিচারের নামে অবিচার করে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। ফাঁসির আগে কেসের আইও আমাকে পুলিশের সমন দিয়ে ট্রাইব্যুনালের অফিসে ডেকে নিয়ে নিজামী ভাই সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করল। তাকে আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম, আপনি সাঁথিয়াতে একটি গণশুনানির ব্যবস্থা করুন। আপনি নিজামী সাহেবের সম্পর্কে আপনার কথা বলবেন আর আমি তার জবাব দেব। দেখবেন আপনার পক্ষে একজনকেও পাবেন না। সত্য কথা তার সাথে ট্রাইব্যুনালে বলে এসেছিলাম।
শহীদ নিজামী ভাইয়ের সাথে আমার জেলখানায় দেখা হয়েছে। হঠাৎ একদিন জেলখানার পথে দেখা হয়েছিল। আমরা উভয়েই আবেগের সাথে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করাতে হাসপাতালের কারারক্ষী এসে আমাকে সতর্ক করলেনÑ যেন আমি আর এভাবে কোলাকুলি না করি। করলে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। শহীদ নিজামী ভাইয়ের জোট সরকারে মন্ত্রণালয় পরিবর্তনের সময়ে একটি ঘটনা না বললেই নয়। তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজামী ভাইয়ের সাথে কোনো আলাপ-আলোচনা না করেই তাকে কৃষি থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেন। এতে নিজামী ভাই আহত হন এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি সংগঠনকে জানিয়ে দেন। সংগঠন সরকারের এ সিদ্ধান্তে মনোক্ষুণ্ন হলেও শিল্প মন্ত্রণালয়ে যোগ দেয়ার অনুকূলে মত প্রকাশ করে। কিন্তু নিজামী ভাইকে শক্তভাবে বলতে ইতস্তত করছিল। হঠাৎ মুজাহিদ ভাইয়ের সাথে আমার দেখা হয় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের প্রোগ্রামে। তিনি আমাকে শক্তভাবে বললেন, তুমি যাও নিজামী ভাইকে বল শিল্প মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে। আমি সাহস করে মুজাহিদ ভাইয়ের নির্দেশ পালনের জন্য সোজা মগবাজারে নিজামী ভাইয়ের বাসায় গেলাম। অসময়ে আমাকে দেখে একটু অপ্রস্তুত হলেও তার সাথে যে আমার গভীর সম্পর্ক ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবেই কথা শুরু করলাম। আমি তাকে বোঝাতে সক্ষম হলাম এভাবে যে মহান আল্লাহ আপনাকে দেশের বড় কাজ করাবেন বলেই কৃষকদের মন্ত্রী থেকে শিল্পপতিদের মন্ত্রী বানিয়ে প্রমাণ করবেন একজন সৎ, আল্লাহভীরু মানুষ যোগ্যতার বলে শিল্পপতিদের মন্ত্রী হতে পারেন এবং দুর্নীতিমুক্ত থেকে দুর্নীতিগ্রস্ত লোকদের শাসন করতে পারেন। তাই আপনি আপনার কাজে যোগ দিয়েই প্রধানমন্ত্রীকে দেখিয়ে দেন যে, আমরা শুধু মৌলভী নাÑ যোগ্যতার প্রমাণ হয়ে যাবে। মহান আল্লাহ কিন্তু শহীদ নিজামী ভাইকে যোগ্যতার সাথে শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করিয়েছেন এবং বহু বন্ধ পেপার ও চিনির মিল চালু করেছিলেন এবং মালিক-শ্রমিকদের সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টা করেছিলেন।
আরেকটি কথা না বললেই নয়, কৃষি মন্ত্রণালয়ে থাকাকালে মাওলানা নিজামী ভাই বাংলাদেশের উৎপাদিত ফলের প্রদর্শনী করার উদ্যোগ নেন মাত্র এক মাসের মধ্যে। তখন এ মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন আউয়ুব কাদেরী। নিজামী ভাইয়ের প্রস্তাবে মন্ত্রণালয়ের লোকেরা দিশেহারা হয়ে পড়লেন যে, এক মাসে এ প্রদর্শনী করা সম্ভব নয়। কিন্তু মাওলানা নিজামীর মতো লোকের সামনে বিরোধিতা করতে পারছিলেন না। নিজামী ভাই সচিব সাহেবকে বলে দিলেন, চিঠি চালাচালি না করে আপনি সরাসরি ডিসিদের টেলিফোন করেন তার এলাকায় কী কী ফল উৎপাদিত হয়, তা যেন ইউএনওদের থেকে নিয়ে ৭ দিনের মধ্যে আপনাকে জানায়। সচিব সাহেব নিজে চীন মৈত্রী হলে প্রদর্শনীতে বক্তৃতায় এ কথা বলেছিলেন যে, ইচ্ছা করলেই প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা যায়। ঐ প্রদর্শনীতে প্রায় ১০০ প্রকার ফল জোগাড় হয়েছিল, যা সবগুলো আমিও এর পূর্বে দেখিনি। আজকে বাজারে গেলে দেখবেন অনেক বিদেশি ফল এখন বাংলাদেশে জন্মে এবং বাজারজাত হয়।
আমি বলতে চাই, শহীদ নিজামী ভাইদের মতো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন সৎ, দুর্নীতিমুক্ত লোকদের হাতে বাংলাদেশের ক্ষমতা এলে এ দেশকে সিঙ্গাপুর বানাতে বেশি সময় লাগবে না।
এবারো নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে যে, জামায়াতের সৎ, শিক্ষিত, দুর্নীতিমুক্ত প্রার্থীরা দেশের সব জায়গায় উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছে সাধারণ মানুষের। কোথাও পেশিশক্তি ও ডিপস্টেটের ষড়যন্ত্রের কাছে নির্বাচন কমিশনার জামায়াত জোটকে ৭৭টি সিটে বিজয়ী ঘোষণা করল আর প্রায় ১০০ সিটে জামায়াত জোটকে হারিয়ে দেয়া হলো খোঁড়া যুক্তি দিয়ে। যা সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের কথায় স্পষ্ট হয়েছে যে, তারা জামায়াত জোটকে মেইন স্ট্রিমে আসতে দেয়নি। আমি কয়েকদিন পূর্বে ময়মনসিংহে সাংগঠনিক কাজে গিয়ে জানতে পারলাম, শহরের জামায়াত প্রার্থী এক লাখ চুয়াত্তর হাজার ভোট পেয়েও ৪ হাজার ভোটে হার দেখানো হয়েছে।
শাহাদাতের তামান্না নিয়েই শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবন, রাজনৈতিক জীবন শেষ করে শেখ হাসিনার রোষানলে পড়েন। দেশের এবং আন্তর্জাতিক সব প্রতিষ্ঠানের অনুরোধ উপেক্ষা করে নিজামী ভাইকে ১১ মে ২০১৬ সালে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যু কার্যকর করে ফ্যাসিস্ট সরকার। সন্ধ্যায় পরিবারকে শেষ দেখার সুযোগ দেয়া হয়। পরিবারের লোকেরা তার সাথে দেখা করতে গেলে তিনি শান্ত মনেই তাদের জীবনের সর্বশেষ দাওয়াত দিয়ে চির পরিচিত সাদা পাঞ্জাবি-পাজামা পরে ফাঁসির দিকে ধীরগতিতে এগোতে থাকেন আর বলতে থাকেন, তুমি আমার জীবনের মালিক, তুমিই আমার অভিভাবক, তুমি আমার সাহায্যকারী, তুমি আমাকে তোমার সর্বোচ্চ জায়গা জান্নাতুল ফেরদাউস দেওয়ার একচ্ছত্র অধিপতি এবং দেশবাসী ও দুনিয়ার মুসলিম জাতিকে তুমি তোমার দীন কায়েমের জন্য সদা প্রস্তুত রেখো।
আমরা রাতেই সাঁথিয়ার মনমথপুর গ্রামে পৌঁছে যাই। মসজিদের মধ্যে রাত কাটাই। ইতোমধ্যেই শহীদ নিজামী ভাইয়ের কফিন পৌঁছে যায়। সাথে জড়ো হতে থাকে হাজার হাজার জনতা। পাহারায় আসে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি। তারাও চোখের পানি চেপে রাখতে পারেননি। নিজামী সাহেবের মেজো ছেলে মাওলানা নাজিব মোমেন বর্তমানে এমপি বাবার শহীদী কফিন সামনে রেখে জানাজা পড়ান। পেছনে হাজার হাজার মানুষ তার জন্য দোয়া করে এবং শাহাদাতের তামান্নায় ভূষিত হয়ে তার কফিন আমরা কবরে রেখে আসি। তিনি দুনিয়ার সবচেয়ে বড় পাওনা শহীদ হিসেবেই মহান আল্লাহর কাছে চলে যান, রেখে যান তার পুরো সার্থক কর্মজীবন, যা আমাদের আজও জীবন চলার প্রেরণা হয়ে আছে। আজ জামায়াত দেশের সর্বোচ্চ ইসলামী দল হিসেবে দাঁড়াতে সক্ষম হয়ে সংসদ ও জনগণের ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যাবে। মহান আল্লাহ আমাদের একমাত্র সহায়ক।
আমরা আশা করতে পারি, শহীদ নিজামী ভাইসহ আমাদের শহীদের রক্ত বৃথা যাবে না। মহান আল্লাহ তাঁর দীনকে এদেশে কায়েম করার ব্যবস্থা করবেন। ভালো চরিত্রবান লোকের শাসন কায়েম হবে, ইনশাআল্লাহ।
লেখক : সাবেক সিনেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ই-মেইল : rnabi1954@gmail.com