নিরাপদ খাদ্যঝুঁকিতে দেশ
২১ মে ২০২৬ ১০:১৬
॥ সাইদুর রহমান রুমী ॥
নিরাপদ কর্তৃপক্ষসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর উদাসীনতা, দুর্নীতি এবং কঠোর নজরদারির অভাবে দিন দিন ভয়াবহ ঝুঁকিতে দেশ। খাদ্য নিরাপত্তার প্রতিটি স্তরে স্তরে ভেজাল আর জবাবদিহির কারণে অকালে মারা পড়ছে মানুষ। নানা ধরনের চিকিৎসা জটিলতায় সর্বস্বান্ত হচ্ছে তারা। সর্বশেষ এক জরিপ মতে, শুধুমাত্র প্যাকেটজাত চিপস, চানাচুর, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, স্যুপ, বিস্কুটে উচ্চমাত্রার লবণে বছরে মারা যাচ্ছে ২৪ হাজার মানুষ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে সাধারণ মানুষ নানা ধরনের খাদ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন। বিশেষ করে বাজারের মাছ, গোশত, দুধ, ফল, শাকসবজি থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবার পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে ভেজাল, ক্ষতিকর রাসায়নিক, ফরমালিন, কৃত্রিম রং ও অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করছে। এর ফলে বিকলাঙ্গ এক ভবিষ্যৎ প্রজম্ম তৈরির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাড়ছে কিডনি বিকল, হৃদরোগ-স্ট্রোকের ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দৈনিক গড়ে প্রায় ৯ গ্রাম লবণ গ্রহণ করেন, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুপারিশকৃত মাত্রার প্রায় দ্বিগুণ। বাংলাদেশে খোলা বাজারে যেসব প্যাকেটজাত আকর্ষণীয় খাবার পাওয়া যায় এগুলো তদারকির কোনো ধরনের খবরা খবর সচরাচর পাওয়া যায় না। বিশ্ব লবণ সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসচেতনতামূলক সেমিনারে বক্তারা জানান, চিপস, চানাচুর, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, স্যুপ, বিস্কুটে উচ্চমাত্রার লবণ; যার ফলে বছরে মারা যাচ্ছে ২৪ হাজার। এটা শুধু লবণের অতিরিক্ত মাত্রার সমস্যা। এমনিভাবে বাজারে প্রচলিত প্রায় প্রতিটি খাবারে রয়েছে মাত্রারিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ফর্মুলেশন।
বাংলাদেশ নিরাপদ কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্য শিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ। উচ্চমাত্রায় লবণ গ্রহণ রক্তচাপ বৃদ্ধি করে এবং হৃদরোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। একইসঙ্গে এটি অস্বাস্থ্যকর ওজন বৃদ্ধি ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট আহমাদ খাইরুল আবরার বলেন, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে। এর মধ্যে ৫১ শতাংশ মানুষ অকালে মারা যায়। যার মোদ্দাকথা হচ্ছে, নিরাপদ খাদ্যের অভাবেই প্রতিনিয়ম মানুষ মারা পড়ছে নানাবিধ জটিল রোগে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. সাইদুল আরেফিন বলেন, দেশে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। শিশু, কিশোর-কিশোরী ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণের প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে।
তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে অভিভাবকদের সচেতনতার পাশাপাশি সুসংহত নীতিমালার মাধ্যমে স্কুল, হাসপাতাল ও কর্মস্থলে কম লবণযুক্ত স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী বিষয়টির কার্যকর সমাধানে প্যাকেটের সামনের দিকে ওয়ার্নিং লেবেল ব্যবহার, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের মান পুনর্নির্ধারণ ও জোরালো প্রচারণার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
বাজারের খাদ্যপণ্যের ৩৩.৩% মানহীন
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারে থাকা বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের ৩৩.৩% নমুনা মানহীন ও অনিরাপদ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। সংগৃহীত ১ হাজার ৭১৩টি নমুনা পরীক্ষার পর এই ফলাফল পাওয়া যায়। যেখানে সস, চিপস, মুড়ি, সরিষার তেল ও মধুর মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য রয়েছে। সংগৃহীত খাদ্যপণ্যের মধ্যে ৫৭১টি নমুনা খাবার খুবই অনুপযোগী, দূষিত বা পুষ্টিমানের ঘাটতিযুক্ত প্রমাণিত হয়। এর মাঝে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফলের পানীয়, সরিষার তেল ও ঘিয়ে ভেজালের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খাদ্য নিরাপত্তা জরিপ অনুযায়ী, নিম্নআয়ের প্রায় ৬০% পরিবার তাদের মোট আয়ের অন্তত অর্ধেক কেবল খাবার কেনার পেছনেই ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে। আর এর মাঝে যদি ভেজাল খাবারের পরিমান বেশি থাকে তাহলে তা খুবই ভয়াবহ।
এ প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এখন শুধু জনস্বাস্থ্যের বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রক্ষার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। বাজারের মাছ, গোশত, দুধ, ফল, শাকসবজি থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবার পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে ভেজাল, ক্ষতিকর রাসায়নিক, ফরমালিন, কৃত্রিম রং ও অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক, চিকিৎসক ও নাগরিক সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। খাদ্যে ক্ষতিকর উপাদান অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি বলেও জানান তিনি।
অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারে বাড়াচ্ছে নতুন সংকট
পোলট্রি, মাছ ও গবাদিপশু খামারে দ্রুত উৎপাদনের জন্য অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিষয়টি এখন বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। গবেষকরা বলছেন, খাদ্যের মাধ্যমে এসব অ্যান্টিবায়োটিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করে ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স’ তৈরি করছে। ফলে সাধারণ সংক্রমণেও কার্যকর ওষুধ কাজ না করার ঝুঁকি বাড়ছে।
বিশেষ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বাড়ছে। দেশের পোলট্রি খাতের ৯০ শতাংশের বেশি খামারে নির্বিচারে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। এছাড়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মাছ এবং মুরগির মাংসের নমুনায় অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণের (অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স-এএমআর) ব্যাকটেরিয়া বিদ্যমান রয়েছে। দেশে বিদ্যমান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আহমেদ বোরহান বলেন, ‘আমাদের দেশে খাদ্যে ভারী ধাতু, নিষিদ্ধ রাসায়নিক ও ওজনবর্ধক স্টেরয়েডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) সংকট আরো তীব্র হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় বলা হয়েছে, এএমআর মোকাবিলা করা না গেলে ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বে ৪ কোটি মানুষ মারা যেতে পারে।’
এ খাতের পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নিবিড় মৎস্য চাষ থেকে নিঃসৃত বর্জ্য জলাশয়ের বাস্তুসংস্থান ধ্বংস করছে। বাংলাদেশের মৎস্য খাত থেকে বছরে প্রায় ৩.৬৮ মিলিয়ন টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড সমতুল্য গ্যাস নির্গত হয়, যার ৯৬ শতাংশই আসে পুকুরে মাছ চাষ থেকে। এছাড়া প্রাণিসম্পদ খাত ৬ থেকে ৮ মিলিয়ন টন গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ করে। চাষিদের অপরিকল্পিতভাবে অতিরিক্ত রাসায়নিক ও অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার পুকুরের পানিকে বিষাক্ত করছে, যা ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত করার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।
ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে মানুষ
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে খাদ্যে ভেজালের কারণে দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার, কিডনি বিকল, লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, হরমোনজনিত সমস্যা ও বন্ধাত্বের মতো রোগ বাড়ছে। বাজারে বিক্রি হওয়া অনেক ফল পাকানোর জন্য কার্বোইড, মাছ ও গোশতের ফরমালিন, সবজিতে অতিরিক্ত কীটনাশক এবং দুধে ডিটারজেন্ট বা ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানোর অভিযোগ বহুদিনের।
অন্যদিকে চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায় তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। দূষিত ও ভেজাল খাদ্যের কারণে শিশুদের অপুষ্টি, পেটের রোগ, শ্বাসকষ্ট, এলার্জি, বুদ্ধিবিকাশে বাধা এবং বিভিন্ন জটিল রোগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিকযুক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে শিশুদের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সাধারণ চিকিৎসাকেও অকার্যকর করে তুলতে পারে।
রাস্তার খাবারে বিপজ্জনক মাত্রার ব্যাকটেরিয়া
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্সেস’ এবং ‘ফুড মাইক্রোবায়োলজি ল্যাব’-এর গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন এলাকার রাস্তার খাবারে বিপজ্জনক মাত্রার ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে চটপটিতে বিপুল পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ঝালমুড়ি, ছোলা-মুড়ি এবং অন্যান্য জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুডেও লক্ষাধিক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এমনকি আখের জুস, মৌসুমি ফলের জুস ও অ্যালোভেরা শরবতের মতো পানীয়েও জীবাণুর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা সাধারণত স্বাস্থ্যকর মনে করা হলেও বাস্তবে ঝুঁকিপূর্ণ। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণায় দেখা গেছে, ফুচকার টক পানি ও অন্যান্য রাস্তার খাবারে মলজনিত জীবাণু পাওয়া যায়, যা মূলত অস্বাস্থ্যকর পানি ব্যবহার এবং অপরিচ্ছন্ন হাতের মাধ্যমে ছড়ায়।
আরো উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব জীবাণুর কিছু অংশ অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। ফলে সাধারণ ওষুধেও অনেক সময় সংক্রমণ নিরাময় কঠিন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং খাদ্য ও কৃষি সংস্থার যৌথ জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ বিক্রেতা খাবার পরিবেশনের আগে হাত পরিষ্কার করেন না। টাকা নেওয়ার পর সেই হাত দিয়েই আবার খাবার তৈরি বা পরিবেশন করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে অপরিচ্ছন্ন পানি ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি রাস্তার ধুলাবালি ও যানবাহনের ধোঁয়া থেকে আসা ভারী ধাতু- যেমন সিসা ও ক্যাডমিয়াম- খাবারে মিশে যেতে পারে, যা বিশেষ করে শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এই স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রভাব শুধু তাৎক্ষণিক অসুস্থতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও হেপাটাইটিস অ-এর মতো রোগের ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
ঢাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষিত স্ট্রিট ফুডের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মানবদেহের জন্য নিরাপদ নয়। তবুও তরুণ প্রজন্ম আড্ডা ও অভ্যাসের অংশ হিসেবে প্রতিদিন এসব খাবার গ্রহণ করছে, যা অজান্তেই তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে হেপাটাইটিস অ ও ঊ ভাইরাস ছড়াতে পারে, যা লিভারে সংক্রমণ ঘটিয়ে জন্ডিস সৃষ্টি করে। তবে সব ধরনের জণ্ডিস খাবার থেকেই হয় না; অনেক ক্ষেত্রে এটি লিভারের দীর্ঘমেয়াদি রোগ, রক্তের সমস্যা কিংবা পিত্তনালির জটিলতার কারণেও হতে পারে। তাই অস্বাস্থ্যকর খাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হলেও এটি একমাত্র কারণ নয়। এই সমস্যার পেছনে শুধু বিক্রেতাদের অসচেতনতা নয়, ভোক্তাদের উদাসীনতাও বড় ভূমিকা রাখে।