ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধে স্বস্তিতে খামারিরা
১৫ মে ২০২৬ ২১:৩০
রাজশাহী সংবাদদাতা : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজশাহী অঞ্চলে জমে উঠতে শুরু করেছে কুরবানির পশুর হাট। নগরীর সিটি হাটসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার পশুর বাজারে এখন থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ছে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য বলছে, এবার রাজশাহীতে কুরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। ফলে ভারত থেকে গরু আমদানির প্রয়োজন পড়বে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে স্থানীয় খামারিরাও আশা করছেন, দেশীয় পশুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে তারা লাভবান হবেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী জেলায় এবার মোট কুরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৬৩ হাজার। এর মধ্যে গরু রয়েছে ১ লাখের বেশি, ছাগল প্রায় ৩ লাখ ১১ হাজার, ভেড়া ৪৩ হাজারের বেশি এবং মহিষ রয়েছে কয়েক হাজার। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজার পশু। সে হিসাবে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯২ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
একসময় রাজশাহীর সীমান্তবর্তী হাটগুলো ভারতীয় গরুর ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল ছিল। তবে সীমান্তে কড়াকড়ি নজরদারি এবং দেশীয় খামার বৃদ্ধির কারণে গত কয়েক বছরে ভারতীয় গরুর প্রবেশ অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় খামারিরা নতুন করে উৎসাহ পেয়েছেন। খামারিরা বলছেন, আগে ভারতীয় গরু কম দামে বাজার দখল করায় তারা ক্ষতির মুখে পড়তেন। এখন দেশীয় গরুর চাহিদা বাড়ায় অনেকেই ছোট-বড় খামার গড়ে তুলেছেন।
রাজশাহীর পবা, গোদাগাড়ী, তানোর, বাঘা ও চারঘাট এলাকায় এবার বাণিজ্যিকভাবে গরু পালন বেড়েছে। অনেক পরিবার বাড়িতেই ছোট পরিসরে গরু মোটাতাজাকরণ করেছেন। খামারিরা জানান, গো-খাদ্য ও ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। তাই বাজারে ভালো দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।
নগরীর সিটি হাট ঘুরে দেখা গেছে, মাঝারি আকারের দেশি গরুর দাম ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে হাঁকা হচ্ছে। বড় আকারের ষাঁড়ের দাম দুই লাখ টাকার ওপরে চাওয়া হচ্ছে। ছোট আকারের গরু ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রির প্রস্তুতি চলছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, বাজারে ভিড় ও দাম তত বাড়বে।
এদিকে কুরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির আশঙ্কাও বাড়ছে। পশুবাহী ট্রাক থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পুরনো হলেও এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। বিশেষ করে পশুবাহী ট্রাক ঢাকামুখী হলে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজদের উৎপাত বাড়ে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পথে পথে চাঁদা দিতে হওয়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে পশুর দামে।