কুরবানি : প্রস্তুত এক কোটি ২৩ লক্ষাধিক পশু
১৪ মে ২০২৬ ১০:৩৩
উদ্বৃত্ত থাকবে সাড়ে ২২ লাখ পশু
৭০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন
এবার বাড়তে পারে পশুর দাম
ভারতীয় গরুর চোরাচালান ঠেকাতে তৎপর বিজিবি
॥ সাইদুর রহমান রুমী ॥
পবিত্র ঈদুল আজহা এগিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে সারা দেশের শহর-বন্দর গ্রাম-গঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সাধারণ কৃষক-কৃষানি এবং খামারিরা কুরবানির পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবারে দেশে গরু, ছাগল, মহিষসহ মোট এক কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি কুরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে এক কোটি এক লাখ ছয় হাজার ৩৩৪টি। সে হিসাবে এবার প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু অতিরিক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রস্তুতকৃত পশুর মাঝে গরু ও মহিষ রয়েছে প্রায় ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি, ছাগল ও ভেড়া ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি এবং উট-দুম্বাসহ অন্যান্য পশুর সংখ্যা পাঁচ হাজার ৬৫৫টি।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৮ মে কুরবানির ঈদ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসাবে আগামী সপ্তাহের পরপরই সারা দেশে বসবে কুরবানি পশুর হাট। কুরবানি মুসলমানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বিধান। তবে কুরবানি দেশে আমিষের অভাব পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সামাজিকভাবে পুষ্টির জোগান দেয়ার এটি একটি বড় উৎস। দেশের গ্রামে-গঞ্জে অনেক দরিদ্র পরিবার আছে, যারা সারা বছর গোশত কিনে খেতে পারে না। কুরবানির সময় ধনীরা তাদের কুরবানির একটি বড় অংশ গরিব-দুঃখীদের মধ্যে বিতরণ করেন। এর ফলে অসহায় গরিবরা সামান্য হলেও গোশত খেতে পারে। আসন্ন কুরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশব্যাপী পশুর খামারিদের মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সারা দেশে খামারিরা তাদের গরু-ছাগল কুরবানির জন্য প্রস্তুত করতে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তবে খামারিদের ভয়Ñ যদি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করে, তাহলে তাদের লোকসানে পড়তে হবে। এমনিতে গত কয়েক বছর যাবত কুরবানির হাটে চাহিদার চেয়ে বেশি পশু সরবরাহ হয়। আর তাতে অনেক পশু অবিক্রীত থেকে যায়।
ভারতীয় গরুর চোরাচালান ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে বিজিবি
সারা বছর কষ্ট করে কুরবানির ঈদকে ঘিরে দেশীয় খামারিরা গবাদিপশু উৎপাদন করছেন। তাই সরকারি নির্দেশে এ বছর ভারতীয় গরুর পুশইন তথা চোরাচালান ঠেকাতে ব্যাপক তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। একইসঙ্গে কুরবানি ঈদ সামনে রেখে সীমান্ত দিয়ে গরু চোরাচালান ও মাদক কারবার রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি সদস্যরা। সীমান্তে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে টহল তৎপরতা জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সজাগ থাকতে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি জানান, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন, মানব পাচার ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় আপসহীন। কুরবানি ঈদ সামনে রেখে গরু চোরাচালান ঠেকাতেও আমরা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে আছি। তিনি আরও জানান, ভারতের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে যাতে কেউ অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোয় বিজিবি সদস্যদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে সীমান্ত নিরাপদ রাখতে বিজিবি সদা প্রস্তুত রয়েছে।
তবে বিভিন্ন সীমান্তের গরু খামারিরা আশঙ্কা করছেন ভারতীয় গরু আসার। তারা জানান, দেশে পর্যাপ্ত গবাদিপশু রয়েছে। তাই ভারতীয় গরু প্রয়োজন নেই। দিনাজপুর নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জানান, উপজেলা এলাকায় পশুর মধ্যে ষাঁড় ৯ হাজার ৩২৯টি, বলদ দুই হাজার ৪০৫টি, গাভি/বকনা দুই হাজার ৮২৪টি, মহিষ ৪৮টি, ছাগল ১০ হাজার ৯৮২টি, ভেড়া দুই হাজার ১২৬টি। খামারির সংখ্যা রয়েছে চার হাজার ৯১২টি। উপজেলায় মোট পশুর চাহিদা রয়েছে ১৮ হাজার ৯৫৭টি। সেখানে পশু রয়েছে ২৭ হাজার ৭১৪টি। উদ্বৃত্ত থাকছে আট হাজার ৭৫৮টি পশু। তাই দেশীয় পশুতেই কুরবানি সম্ভব।
ঢাকার মাতুয়াইল এলাকার আল হাসান এগ্রোর ম্যানেজার আসিফ বলেন, সরকার ভারতীয় পশু আসায় কঠোর, এটি দেশীয় খামারিদের জন্য অবশ্যই সুখবর। তবে বর্ডার দিয়ে গরু চোরাচালান বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে না পারলে এর প্রকৃত সুফল খামারিরা পাবে না। ভারতীয় গরু ঢুকলে দেশের খামারিরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়বেন। তবে এ ব্যাপারে খামারিদের আশ্বস্ত করেছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্যমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। তিনি বলেছেন, আমাদের দেশীয় খামারিরা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সক্ষম। সরকারের নীতিগত সহায়তা, প্রণোদনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় বাংলাদেশ এখন পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছে। ফলে এই বছর কুরবানির জন্য বিদেশ থেকে পশু আমদানির প্রয়োজন নেই। এছাড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভারতীয় গরু আসা ঠেকাতে বিজিবি ও পুলিশের কঠোর নজরদারি থাকবে। মন্ত্রী বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে দেশে কুরবানিযোগ্য পশুর কোনো ঘাটতি নেই। চাহিদার তুলনায় বরং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
কুরবানিতে পশু কেনাবেচায় ৭০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন
প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, আসন্ন ঈদুল আজহায় এবার কুরবানির পশুর বাজারে সম্ভাব্য লেনদেন হতে পারে ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এবার সারা দেশে তিন হাজার ৬০০টির বেশি পশুর হাট বসবে, যার মধ্যে রাজধানী ঢাকাতে থাকবে ২৭টি। এসব পশুর হাটের মাধ্যমেই বেশিরভাগ লেনদেন সম্পন্ন হবে। গত বছর কুরবানি পশুর বাণিজ্যে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৬৯ হাজার ১৪১ কোটি ১২ লাখ টাকা। এবারের কুরবানির ঈদে দেশে মোট এক কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি কুরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে এক কোটি এক লাখ ছয় হাজার ৩৩৪টি। তাই এবার কুরবানিতে জমজমাট বাজার ব্যবস্থাপনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
এবার বাড়তে পারে পশুর দাম
গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধিসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত প্রান্তিক খামারিদের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার পশুর দাম বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসকল নানা সমস্যার কারণে দুই বছরের ব্যবধানে দেশে কুরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যাও ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৭টি কমে গেছে। ২০২৪ সালেও কুরবানির জন্য প্রস্তুত পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৬৭টি। চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টিতে। প্রাণিসম্পদ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সংখ্যার এই হ্রাসকে অস্বাভাবিক মনে করছেন। গত ৩ মে রোববার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, এ বছর কুরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। এর বিপরীতে দেশে প্রাপ্যতা রয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি পশু। সেই হিসাবে এবার প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। গত বছর কুরবানির হাটের জন্য ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৩টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৬০৩টি পশু অবিক্রীত ছিল। অন্যদিকে পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ১ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৬৭টি, ২০২৩ সালে ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৩৩টি এবং ২০২২ সালে ১ কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৯টি পশু প্রস্তুত ছিল। ২০২১ সালে করোনাকালে এই সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি।
করোনা মহামারির আগে দেশে যে পরিমাণ পশু কুরবানি হতো, এখন আর সেই সংখ্যা দেখা যাচ্ছে না। ২০১৬ সালে ৯৮ লাখ ১৩ হাজার পশু কুরবানি হলেও ২০১৯ সালে তা বেড়ে ১ কোটি ৬ লাখে দাঁড়িয়েছিল। তবে ২০২০ সালে করোনার সংক্রমণ দেখা দিলে কুরবানি কমে ৯৪ লাখ ৫০ হাজারে নামে। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পশুখাদ্য ও ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামারিরা লোকসানের শিকার হচ্ছেন। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার পরও খামারিরা পশু পোষছেন। কিন্তু অনেক পশু অবিক্রীত থাকায় পরবর্তীতে তারা আর পশু পালন করছেন না। এ বিষয়ে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, খামারিদের অনেকের স্বপ্ন এবার পশুর সঠিক দাম পেলে আগামীতে খামার আরো বড় করবেন। কিন্তু পশুর দাম না পেলে অনেক খামারি নিঃস্ব হয়ে যাবেন। এবার অনেক বড় ষাঁড় পালন করছেন ছোট-বড় খামারিরা। চড়া দামের খড়, খৈল, গমের ভাত, কাঁচা ঘাস, ভূসি ও নালী, খাবার দিয়ে এসব গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। তাদের আশা, এসব গরু ঈদ হাটে বিক্রি করে তারা লাভবান হবেন। কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক যে দুরবস্থা তাতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের সংসার চালাতে ত্রাহি অবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে দেশে কুরবানির সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগে যিনি একা কুরবানি দিতেন এবার হয়তো তিনি অন্যজনের সাথে ভাগে কুরবানি দেবেন। সব মিলিয়ে কুরবানির পশুর যথাযথ মূল্য পাওয়া নিয়ে এমনিতেই খামারিরা শঙ্কিত। তার ওপর যদি সীমান্ত পথে অবৈধ ভারতীয় গরু আসে, তাহলে তাদের পথে বসতে হবে। খামারিরা বলেন, দেশে পর্যাপ্ত গরু রয়েছে। কোনোভাবেই যাতে ভারত থেকে গরু না আসতে পারে, সেদিকে প্রশাসনকে নজর রাখতে হবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মালিক মোহাম্মদ ওমর জানান, গো-খাদ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যার পরিমাণ ৩০ শতাংশ। পাশাপাশি ওষুধ ও টিকা, বিদ্যুতের দাম, শ্রমিকের মজুরিসহ বেড়েছে পরিবহন খরচ। গত ৫-৬ বছর ধরে বিভিন্ন খাতে পশুর রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিপালনে খরচ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। উদ্বেগজনক তথ্য হলো, বিভিন্ন সংকটে গত ৫ বছরে শুধু চট্টগ্রামেই বন্ধ হয়ে গেছে ৫ হাজার গরুর খামার। খামারিদের আগ্রহ হারানোয় কমেছে গবাদিপশুর স্থানীয় উৎপাদন। ঢাকা-চট্টগ্রামে বড় বড় এগ্রোগুলোর সাথে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে ছোট ছোট প্রান্তিক খামারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিপালনে বেশি খরচ করে ছোট খামারগুলো ভালো ক্রেতা পাচ্ছে না। ফলে অনেকক্ষেত্রে কম দামে পশু বিক্রি করে ক্ষতির মুখে পড়ছে। গো-খাদ্যের দাম বাড়া নিয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই জানিয়ে তিনি আরও বলেন, তেল, খাদ্যপণ্য, চালসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে গেলে বাজার মনিটরিং ও অভিযান চালিয়ে জরিমানা করার পর বাজার নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু গো-খাদ্যের দাম বাড়া নিয়ে নীরব সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসন। ফলে গোখাদ্যকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া। নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে যাচ্ছেন তারা। সয়াবিনের খৈল আগে ২৪-২৫শ’ টাকা বিক্রি হলেও এখন দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৪-৩৫শ’ টাকা। গমের ভূসির দাম ওঠানামা করছে। ১৫শ’-১৬শ’ টাকার স্থলে কোথাও কোথাও কয়েকদিন ১৮শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। ঠিক সেভাবে আটা, কুঁড়া, ছোলার খোসা, সাদা ও লাল মোটরের খোসা, মুগডালের পাউডার- এসব খাদ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। যারা পাইকারি দামে বস্তা কেনেন তারা কিছুটা লাভবান হন। কিন্তু খুচরা ক্রেতাদের কাছ থেকে বস্তাপ্রতি ৫০-১০০ টাকা বেশি আদায় করা হয়। গো-খাদ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে না রাখলে খামার টিকিয়ে রাখা কঠিন। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘসময় ধরে আমরা আমাদের এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সরব আছি। কিন্তু দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।