নারীর শ্রমমূল্য ও বর্তমান সমাজব্যবস্থা


৭ মে ২০২৬ ০৯:৫১

॥ আবু জায়েদ আনসারী ॥
জীবিকা নির্বাহের জন্য নারী ও পুরুষের কর্মদক্ষতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর্থিক নচ্ছলতা ও সাবলীল জীবনধারণের জন্যও দক্ষতা অপরিহার্য। আর্থিক নিরাপত্তা থাকলে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নারী বা পুরুষ সবাই কাক্সিক্ষত জীবনমান পেতে পারে। এজন্য আর্থিক সচ্ছলতা কিংবা স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে নারী ও পুুরুষ উভয়ের তাগাদা রয়েছে। কারণ অর্থ মানুষের দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহের অন্যতম চালিকাশক্তি।
আধুনিক বিশ্বে নারীদের শ্রমের মূল্য ও কাজের সুযোগ কিংবা বঞ্চনা নিয়ে বিস্তর আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারীদের ওপর নিপীড়নের চিত্র, বঞ্চনা, কাজের সুযোগ ও নিরাপত্তাহীনতা, কাজের উত্তম পরিবেশের সংকট, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিগত সমস্যা বা আর্থসামাজিক বৈরী প্রেক্ষাপটে নারীদের কাজের মূল্যায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে- যেগুলোর সমাধান হওয়া কিংবা স্পষ্টীকরণ জরুরি। তা না হলে সংকটের আদতে সমাধান সম্ভব নয়।
আল্লাহ তায়ালা সূরা জুম’আর ৯ ও ১০ নম্বর আয়াতে বলেছেন, ‘যখন তোমাদের সালাতের জন্য ডাকা হয়, তখন তোমরা বেচাকেনা ছেড়ে দাও। সালাত শেষ হলে তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবেÑ যাতে তোমরা সফলকাম হও।’
এখানে দুটি বিষয়- সালাত আদায়কারী ব্যক্তি আল্লাহর সীমা মেনে চলতে বাধ্য; দ্বিতীয়ত, তাকে রিজিক অনুসন্ধান করতে হবে- তবেই তিনি সফলকাম হবেন। এক্ষেত্রে নারী কিংবা পুরুষকে আল্লাহর দেয়া সীমা মেনেই পৃথিবীতে বিচরণ করতে হবে। অর্থাৎ নারীদের ক্ষেত্রে তার প্রয়োজন অনুযায়ী সীমা মেনে অর্থাৎ নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ সবকিছু মিলিয়েই কাজ করতে হবে। তা হতে পারে গৃহের অভ্যন্তরে কিংবা বাইরে, যা একইভাবে পুরুষদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় অনেক পরিবারে এক ব্যক্তির আয় দিয়ে পরিবারের সবার চাহিদা কিংবা সামগ্রিক ব্যয় মেটানো অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। সেক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে আল্লাহর দেয়া সীমায় থেকে নারীরা আয় করে পরিবারে অবদান রাখতে পারে, রাখা উচিত। ইসলামেও এর অনুমোদন রয়েছে এবং উৎসাহিত করা হয়েছে।
নারীর শ্রম দক্ষতা ও স্বীকৃতি
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপে দেখা যায়, দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪৪.২ শতাংশ নারী। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে পরিবারে আর্থিক নিরাপত্তায় নারীর অবদানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গ্রামীণ কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবেও নারীরা সরাসরি ভূমিকা রাখছেন। অর্থনীতিতে নারীদের এটি নীরব অবদান; বিশেষ করে গৃহস্থালির কাজের মাধ্যমে যা সম্পাদন হয়ে থাকে। এসব কাজের আর্থিক মূল্যও অপরিসীম। কারণ এর মাধ্যমে একটি পরিবার আর্থিক নিরাপত্তা পায়, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে অবদান রাখে নীরবে। ইসলাম নারীদের ঘরে ও বাইরে উভয় জায়গায় কাজের অনুমতি দেয়। ইসলামের ইতিহাস থেকে জানা যায়, নারী সাহাবিরা কেবল সাধারণ শ্রমই দিতেন না, বরং কাজের তদারকি ও ব্যবস্থাপনায়ও যুক্ত ছিলেন। বুখারি শরীফের একটি হাদীসে এসেছে, এক আনসার নারী সাহাবী নবীজির (সা.) কাছে এসে বলেছিলেন, ‘আমার একজন দাস (শ্রমিক) আছে যে কাঠমিস্ত্রির কাজ জানে।’ পরে তাঁর নির্দেশ ও তত্ত্বাবধানে সেই শ্রমিক বনের ঝাউগাছ কেটে নবীজির জন্য মিম্বর তৈরি করে দেন। এ থেকে বোঝা যায়, সেসময়েও নারীরা নির্মাণ ও কারিগরি কাজের স্বত্বাধিকারী ও ব্যবস্থাপক হিসেবে ভূমিকা রাখতেন, যা ছিল গৃহাভ্যন্তরে এবং বাইরে। রাসূল (সা.)-এর যুগে অনেক নারী ঘরে বসে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে বাজারে বিক্রি করতেন। সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের স্ত্রী জয়নব (রা.) ছিলেন দক্ষ কারিগর। তিনি নবীজিকে বলেছিলেন, ‘আমি একজন শ্রমজীবী নারী। আমি নিজের হাতে তৈরি পণ্য বিক্রি করি। অথচ আমার, আমার স্বামী বা সন্তানের তেমন কোনো সম্পদ নেই।’ তিনি তাদের পেছনে খরচ করার সওয়াব সম্পর্কে জানতে চাইলে নবীজি (সা.) তাকে আশ্বস্ত করেন যে, পরিবারের পেছনে খরচের সওয়াবেও তিনি সমান অংশীদার। সাহাবাদের জীবনী থেকে জানা যায়, তৎকালীন অনেক সাহাবা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সেলাইয়ের কাজে যুক্ত ছিলেন।
বর্তমান নারীশ্রমের মূল্য ও অব্যবস্থাপনা
সভ্যতার বিবর্তন ও আধুনিকায়নে কাজের ধরন ও পরিবেশ পরিবর্তন হয়েছে। আধুনিক কলকারখানা গড়ে ওঠায় দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের চাহিদা তৈরি হয়েছে। জীবনধারার পরিবর্তনের ফলে কাজের পরিধি বেড়েছে। কিন্তু নারীবান্ধব কর্মক্ষেত্র সেভাবে গড়ে ওঠেনি। প্রায়শই নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠে। দেশের নানা প্রান্তে ও কর্মক্ষেত্রে বঞ্চনা, নিপীড়ন, নির্যাতনসহ নানা অনিয়মের শিকার হচ্ছেন নারীরা। দেশের শ্রমশক্তির প্রায় ৪৪ শতাংশ নারী হলেও এসব অভিযোগ পিছু ছাড়েনি, যা উদ্বেগের। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ কম ও অনিয়মিত মজুরি, অতিরিক্ত পরিশ্রম, অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তার অভাব, সাপ্তাহিক ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটি না পাওয়া, যৌন নির্যাতনসহ বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে নারী শ্রমিকদের দিন কাটে; যা ইসলাম কোনোভাবে অনুমোদন দেয় না বরং শাস্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। শ্রমিকের ঘামের মূল্য দেওয়াকে ইসলাম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। শ্রমের বিনিময়ে ন্যায্য মজুরি পাওয়া তার প্রধান অধিকার। নবীজি (সা.)-এর নির্দেশ হলো, ‘শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করে দাও।’ (ইবনে মাজাহ)। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে অর্থনীতিতে নারী শ্রমিকদের অবদানকে মূল্যায়ন করা ও মর্যাদা দিতে হবে। তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে আরো দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু আইন প্রণয়ন নয়, বরং আইনের কঠোর বাস্তবায়ন, কর্মদক্ষতা ও কাজ অনুযায়ী মজুরি নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে ৪০ লাখ শ্রমিকের ৬০ শতাংশ নারী, যারা আমাদের দেশের রফতানি আয়ের মূল চালিকাশক্তি। কৃষিকাজেও নারীরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৬০ শতাংশ শ্রম দেন। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আমাদের সমাজকে বিনির্মাণ করতে হবে।
এছাড়া বর্তমানে কর্মজীবী নারীরা কর্মক্ষেত্র ও ঘরের কাজের সাথে দ্বৈত দায়িত্ব বহন করলেও অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক ও সামাজিক মানসিকতা, শ্রেণিবৈষম্য এবং নীতিগত ঘাটতি নারী শ্রমকে অবমূল্যায়িত করছে। প্রতি বছর আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস তথা মে দিবসে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দাবি তোলা হলেও নারীদের শ্রমমূল্য এবং তাদের নিরাপত্তা বিধানে বিশেষ অগ্রাধিকার পায়নি।
নারীদের আর্থিকভাবে স¦াবলম্বী হওয়া
পরিপূর্ণ জীবনবিধান হিসেবে ইসলাম নারীদের শালীন পরিবেশে শিক্ষা, কাজ ও চলাফেরায় উৎসাহিত করে। নারীদের অধিকার কিংবা হক প্রতিষ্ঠায় সর্বদা তাগাদাও দিয়েছে। শরিয়ত নির্ধারিত সীমারেখার মধ্যে থেকে নারীরা অবশ্যই শিক্ষা অর্জনসহ অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারবে, যা তাদের ক্ষেত্রবিশেষে দায়িত্বও। ইসলাম কোনো জায়গায় নারীকে আটকিয়ে রাখার কথা বলেনি। নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে কাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অধিকারও প্রদান করেছে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূরা বাকারার ১৮৬ নম্বর আয়াতে বলেছেন, ‘আমি ব্যবসাকে হালাল করেছি এবং সুদকে হারাম করেছি।’ এই আয়াতে ব্যবসা হালাল হওয়া এবং সুদ হারাম হওয়া নারী-পুরুষের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। এখানে স্পষ্ট যে, একজন পুরুষ কিংবা নারী হালাল পন্থায় সব ব্যবসা করতে পারবে, লিঙ্গভেদে নিষেধ নেই। কারণ সে তার অর্জিত সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী। তবে অবিবাহিত নারী হলে পিতার অভিভাবকত্ব এবং বিবাহিত হলে স্বামীর অভিভাবকত্ব থাকবে। যার মাধ্যমে তাদের তদারকির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, তার খালার বিচ্ছেদ হলে তিনি নিজের খেজুর বাগান থেকে খেজুর সংগ্রহ করতে বাইরে যেতে চেয়েছিলেন। এক ব্যক্তি তাকে বাইরে যেতে নিষেধ করলে তিনি নবীজির কাছে যান। রাসূল (সা.) তাকে অনুমতি দিয়ে বলেন, ‘অবশ্যই তুমি তোমার খেজুর সংগ্রহ করবে। আশা করা যায় এর মাধ্যমে তুমি দান-সদকা করতে পারবে বা কোনো ভালো কাজ করতে পারবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৪৮০)।
নারীদের কর্মপরিধি
বর্তমানে শহুরে এবং গ্রামীণ এলাকায় নারীদের কর্মপরিবেশ বা ক্ষেত্র ভিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায়। এখনো গ্রামের নারীরা কৃষিকাজের অংশ হিসেবে পশুপালনের সাথে সম্পৃক্ত আর শহুরে নারীরা অফিস আদালত ও শিল্প-কারখানা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। এসব কাজ করার ক্ষেত্রে শালীন পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তবতা হলো- নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নেয়া হয় না। ফলে নানা সমস্যায় থাকতে হয় নারীদের, যা তাদের জন্য অসম্মানের ও অমর্যাদার। বাংলাদেশের মতো ৯০ ভাগ মুসলিমদের দেশে এটি একেবারেই অনাকাক্সিক্ষত। নারীদের বাইরে কাজ করার অনুমতি তো ইসলামে অনুমোদিত। সাথে সাথে নিরাপত্তার বিষয়টি জুড়ে দেয়া হয়েছে। রাসূল (সা.)-এর যুগে মদিনার পাহাড়-পর্বতে নারীরা গবাদি পশু চড়াতেন। কাব ইবনে মালিকের (রা.) এক দাসীর কথা আছে, যিনি ‘সাল’ নামের পাহাড়ে ছাগল চরাতেন। একবার একটি ছাগল মারা যাওয়ার উপক্রম হলে তিনি পাথর দিয়ে সেটি জবাই করেন এবং নবী কারীম (সা.) সেই মাংস খাওয়ার অনুমতি দেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৫০৪)।
এছাড়া নারীরা যুদ্ধের ময়দানে তৃষ্ণার্ত সৈন্যদের পানি পান করানো ও আহতদের চিকিৎসাসেবা দিতেন। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিকদের চিকিৎসার জন্য যুদ্ধের ময়দানে ‘খেইমাহ আল-রুফাইদাহ’ নামে ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রুফাইদাহ আল-ইসলামিয়া বা আসলামিয়া নামের এক মহীয়সী নারী। তিনি আধুনিক নার্সিং পেশার অগ্রদূতও। ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম নারীদেরও একজন তিনি।
নারীরা ইসলামের সীমার মধ্যে থেকে নিরাপত্তা ও শালীনতার সাথে কৃষি, শিল্প, চিকিৎসা ও বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে নিজেকে সম্পৃক্ত করে অবদান রাখতে পারবেন, যা তাদের পরিবার সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখবে। এর মাধ্যমে তাদের পরিশ্রমলব্ধ উপার্জন কেবল পরিবারের সচ্ছলতাই ফেরাবে না, বরং রাষ্ট্র ও ইসলামের সেবায়ও ব্যয় করা সম্ভব।
লক্ষণীয় বিষয় হলো ইসলামে নারীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয়া হয়েছে। নারীদের ওপর আর্থিক দায় চাপানো হয়নি, তাদের একাধিক আয়ের উৎস থাকলেও। পরিবারের যাবতীয় আর্থিক দায়দায়িত্ব পুরুষের ওপর অর্পিত। সেহেতু নারীকে তার জীবিকার জন্য চাকরি করার প্রয়োজন নেই, সেহেতু নারীর চাকরি তার ইচ্ছাধীন। তবে পুরুষের উপার্জিত অর্থে যদি সংসার চালানোর জন্য যথেষ্ট না হয় এবং প্রকৃত অভাবের সময়, সংকটকালে উভয়েরই চাকরি করার প্রয়োজন দেখা দিলে এ বিষয়ে নারীর স্বাধীনতা রয়েছে। নারী তার উপার্জিত অর্থ ইচ্ছামতো হালাল খাতে খরচের অধিকার রাখে।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর স্ত্রী নিজ ঘরে বসে শিল্পকর্ম করতেন এবং তা বিক্রি করে ঘর-সংসারের খরচ চালাতেন। একদিন তিনি রাসূল (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, ‘আমি একজন কারিগর মেয়ে। আমি আমার তৈরি করা দ্রব্যাদি বিক্রি করি। এছাড়া আমার ও আমার স্বামীর এবং আমার সন্তানদের জীবিকার অন্য কোনো উপায় নেই।’ রাসূল (সা.) বললেন, ‘এভাবে উপার্জন করে তুমি তোমার সংসারের প্রয়োজন পূরণ করছ। এতে তুমি বিরাট সওয়াবের অধিকারী হবে।’ (মুসনাদে আহমদ : ১৬১৩০, ১৬০৮৬)।
বাংলাদেশের জনসমষ্টির অর্ধেক নারী। দেশের আর্থিক খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই নারীরা অবদান রাখছেন। নারীদের অবদানকে ধরে রাখতে তাদের বা পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পাশাপাশি শালীন ও নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ, দক্ষতা বৃদ্ধি, বৈষম্য দূর করা, কর্মক্ষেত্রে আধুনিক সুযোগ সুবিধা, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও ভাতা নিশ্চিত করতে সরকারকে উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। এতে করে ইসলামের বিধিবিধান পালনের একটি অংশ পূরণ হবে বলে আশা করা যায়।