শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ চাই

প্রিন্ট ভার্সন
৬ মে ২০২৬ ১৮:০৭

॥ একেএম রফিকুন্নবী ॥
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। প্রাথমিক থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ জরুরি। আমরা যখন ৫০-এর দশকের প্রথমদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছি তখনকার পরিবেশ আর এখনকার পরিবেশ তুলনা করলে একদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো এখন ইট, বালু, সিমেন্টের দালান। আর আমরা পড়েছি টিনের চাল আর বাঁশের চাটাইয়ের বেড়ার ঘরে।
আমাদের প্রধান শিক্ষক ছিলেন তারাপদ বাবু। ধুতি আর সাদা পাঞ্জাবি পরে তিনি স্কুলে আসতেন। উত্তম ব্যবহার। তার স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে সবাই ছিলেন গানের পটু। পাকিস্তান রেডিওতে পরে বাংলাদেশ বেতারে গান গাইতেন। স্কুলের পরিবেশ, শিক্ষকদের ব্যবহার, আচার-আচরণ ছিল অত্যন্ত ভালো। ছাত্র-ছাত্রীদের সাথেও সম্পর্ক ছিল বন্ধুসুলভ।
কলেজ জীবনে ঢাকা কলেজে আমরা পেয়েছিলাম শিক্ষক যেমন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, কাজী ফারুকের মতো প্রথিতযশা শিক্ষক। তাদের সাথেও ছিল আমাদের ভালো সম্পর্ক। বর্তমানে এমপি শামা ওবায়েদের মা শাহেদা ওবায়েদ আমাদের ইংরেজি পড়াতেন। ভালো পড়াতেন। কলেজে ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে ছিল ভালো সম্পর্ক। মিটিং-মিছিল তখনো ছিল। ঢাকা কলেজের ছাত্র হয়েও আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় মিটিং-মিছিলে যোগ দিতাম। পরিবেশ ভালোই ছিল। দুবার আমরা তাহের-কাদের ও এনাম-কাদের পরিষদে ডাকসুর নির্বাচন করেছিলাম। তখন মোটামুটি ভালো পরিবেশ ছিল ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে। ছাত্র সংগঠনের মধ্যেও ভালো পরিবেশ ছিল। একে অন্যের মধ্যে মারামারি-ধরাধরি ছিল না। মধুর ক্যান্টিনে আমরা চা-নাস্তা, মিটিং করতাম সবাই মিলে।
১৯৭৪ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের দলীয় কোন্দলে মহসীন হলে ৭ ছাত্র হত্যার পর ছাত্র রাজনীতিতে গতি পরিবর্তন হয়। ১৯৭৭ সালে ইসলামী ছাত্রশিবিরের গঠনকালীন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সভাপতি ছিলেন বর্তমানের এমপি এটিএম আজহারুল ইসলাম। আমরা তার সাথে ছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একবার মারামারি হলে তখন শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন শহীদ মীর কাসেম আলী। আমাদের দুই ভাইকে মহসীন হলে আটকিয়ে মারধর করেছিল। তাদের মধ্যে আবদুল আওয়াল ভাইয়ের একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের মসজিদ থেকে আহতদের উদ্ধার করার জন্য মিছিল করে মহসীন হলে যাই। সেখানে মারামারি হয়। আমরা তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করি। নতুন করে আমরা আবার আহত হই। তাদের মধ্যে বড় আকারে আহত হন মরহুম রেজাউল করীম, আবুল কাশেম হায়দারসহ আরো অনেকে। আমিসহ সবাইকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হতে হয়েছিল। আজও আমাদের তোফাজ্জল ভাই এক-পা ছাড়া চলেন। তখন থেকেই ছাত্র রাজনীতির ধারা ভিন্নপথে চলতে থাকে। দেশের রাজনীতি পরিবর্তনের সাথে সাথে ছাত্র রাজনীতিরও আমূল পরিবর্তন হয়ে গেছে।
জুলাই বিপ্লবের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাকসু, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জগসু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসু ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকসু মোটামুটি ভালো পরিবেশে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলে সব জায়গায়ই ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়।
সৎ, যোগ্য, মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা এ প্যানেলে নির্বাচিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য জোর তৎপরতা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রক্টরসহ সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীগণ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে লাইব্রেরিতে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, মাদকদ্রব্য বেচাকেনা বন্ধ করা, যেখানে সেখানে দোকান বসানো বন্ধ করা সবই শিক্ষার পরিবেশ অনুকূল আনার জন্য ব্যাপক দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধেও সাড়া জাগে দীর্ঘদিন পর সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডাকসু শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলো শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এমনই সময় ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ জাতীয় নির্বাচনে দেশের জনগণ তরুণ ভোটারসহ পুরুষ-মহিলারা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেয় দীর্ঘদিন পর। আমরাও এলাকায় গিয়ে ভোট দিলাম। সন্ধ্যার পর থেকেই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা শুরু হলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভোটগণনার ব্যতিক্রম শুরু হলো। ফলাফলের প্রচার স্থবির হলো। যেখানে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে নির্বাচনের ফলাফল আসছিল। ব্যতিক্রমী কায়দায় ভোট ওলট-পালট শুরু হয়ে গেল। যেখানে জামায়াত জোট ১৬৮ এলাকায় বিজয়ী হওয়ার কথা, সেখানে মাত্র ৬৮+৯=৭৭ এলাকায় জামায়াত জোটকে বিজয়ী দেখানো হয়। হাজার থেকে শুরু করে ৫-৬ হাজার ভোট কম দেখিয়ে প্রায় ১০০ সিটে জামায়াত জোটকে পরাজিত দেখানো হয়।
রাতেই দেশে হট্টগোলের আশঙ্কা দেখা দেয়। সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের উক্তিতেই প্রকাশ হয়েছে যে, তারা জামায়াত জোটকে মেইন স্ট্রিমে আসতে দেয়নি, যা দেশের জন্য মোটেই কল্যাণ বয়ে আনবে না।
নির্বাচনের পরপরই তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বাসায় দেখা করেন এবং দেশ চালানোর জন্য সাহায্য চান। গত কয়েকদিন পূর্বে দেশের পার্লামেন্টের শেষ অধিবেশনে সরকারি দলের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলের নেতা সৌহার্দ্য পরিবেশে শেষ বক্তব্য দেন। সবাই দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
ইতোমধ্যেই ঘটে গেল ভিন্ন পরিবেশ ছাত্রাঙ্গনে। ডাকসুর নির্বাচিত দুজন সদস্যকে থানার মধ্যে জোরপূর্বক ঢুকে সরকারি দলের ছাত্রদলের নেতারা মারধর শুরু করে। তাদের আহত করে। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। যা গোটা দেশের ছাত্র রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি দল ও বিরোধীদলের ছাত্রদের মধ্যে মারামারি চলছেই।
শিক্ষার পরিবেশ অনুকূল রাখার জন্য সব দলেরই ভূমিকা নির্ভর করে। আবার সরকারি মূল দলের উসকানিও শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারি দলের মহাসচিব বাম ঘরানার নেতা মির্জা ফখরুল জামায়াত নির্মূলের প্রকাশ্য ঘোষণা দেশের রাজনীতিতে বড় ধাক্কা লাগে। আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা চলে যাবার পর মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্য আওয়ামী কায়দার বহিঃপ্রকাশ। আওয়ামীদের স্বৈরাচারী মনোভাব এ দেশের মানুষ আর গ্রহণ করবে না। সরকারি দলের সব নেতাই ফখরুল সাহেবের এমন বক্তব্যের সাথে একমত বলে আমার মনে হয় না। ছাত্রদলের একসময়ের সভাপতি ডাকসুর একসময়ের ভিপির আলোচনায় তাই মনে হয়েছে। মানুষ দীর্ঘ ৫৫ বছরে তাদের অধিকার আদায় করতে পারেনি। দল ও নেতাদের উন্নতি হয়েছে। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। তাই তো স্বৈরাচারবিরোধী কোটা আন্দোলন থেকে শুরু করে ছাত্র-জনতা শেখ হাসিনা তাড়ানোর আন্দোলনে নেমে যায়। মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনে স্বৈরাচার রাজনীতির রানি শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় তার দলবল নিয়ে।
আজকেও যদি স্বৈরাচারী কায়দায় কেউ রাজনীতি করতে চায় বা কোনো দল যাদের দেশের জনসমর্থন প্রায় ৪০%। আবার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটের হ্যাঁ ভোট প্রায় ৭০%। সুতরাং কারও চোখরাঙানিতে জনতা ভয় পায় না। জুলাই ও গণভাটে মানুষের সাড়া দেয়া সরকারি দলের অবজ্ঞা করা যাবে না। সরকারি দলের নেতারাও গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেয়ার আহ্বান করেছেন। স্বয়ং বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও প্রকাশ্যে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কথা বলেছেন। আবার নির্বাচনের পরও তিনি জুলাই সনদের প্রতিটি দাবি অক্ষরে অক্ষরে পালনের ওয়াদা করেছেন। তাই জুলাই সনদ অবিলম্বে মেনে নিলেই দেশের এবং শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ উন্নতি হবে।
ইতোমধ্যেই ডাকসুর ভিপির নেতৃত্বে শাহবাগ থানায় ডাকসুর দুজন সদস্যের ওপর মারাত্মক আক্রমণের রিপোর্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে পেশ করেছেন। আমরা আশা করবো, ঘটনার সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ এ পর্যন্ত যেখানেই মারামারি হয়েছে তার সঠিক বিচার করতে পারলেই পরবর্তী সময়ে শিক্ষার পরিবেশ সহায়ক হবে।
আমরা নাগরিক সমাজ আমাদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছেলেমেয়েদের নিরাপত্তা চাই। লাইব্রেরির মান উন্নত চাই। খেলার মাঠসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হল-ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা চাই। আগামীতে সৎ, যোগ্য, মেধাবী নেতা হয়ে দেশ পরিচালনায় সঠিক ভূমিকা রাখার মতো যোগ্য, নাগরিক হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আসুক, তা আমরা চাই।
ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে সরকারি ও বিরোধীদলের লেজুড়বৃত্তি করতে গিয়ে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে ব্যাপারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ কমিটিকে জোর তৎপর থাকতে হবে। প্রাইমারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়ে, অধিকাংশ সাধারণ পরিবার থেকে আসা। তাই তাদের ঘাম ঝরানো আয়ের টাকা যাতে সঠিকভাবে কাজে লাগে, তাদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা যাতে সেদিক বিবেচনা করতে হবে। আমরা শিক্ষার মান ভালো করতে পারলেই ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষকমণ্ডলীসহ ভালো পরিবেশে লেখাপড়া করে দেশের জন্য কল্যাণকর নাগরিক হতে পারবে। খুশির খবর, আমি একটি স্কুল ও কলেজের সাথে দীর্ঘদিন জড়িত এবং প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। সেই স্কুল ও কলেজ থেকে এবার ক্লাস এইটে ৫৮ জন ছাত্র-ছাত্রী বৃত্তি পেয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। এলাকার এ প্রতিষ্ঠানের নাম অনুসারে পৌরসভার মধ্যে সবচেয়ে উন্নত ও বাসোপযোগী এলাকার নামকরণ করা হয়েছে এবং এলাকাটিতে আরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্লিনিকসহ একটি আদর্শমানের বসবাস উপযুক্ত এলাকায় রূপান্তরিত হয়েছে। যা একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা ছিল। কোনো বাড়ি-ঘর ছিল না। তাই দল-মত নির্বিশেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা আমাদের সচেতন মহলের গুরুদায়িত্ব।
হঠাৎ করেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন রমনা থানায় উপস্থিত হয়ে থানার দালালদের তাড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, সরকারি দলের নাম ব্যবহার করে যেন কেউ অধিক সুবিধা নিতে না পারে, এই কথাটা যদি শাহবাগ থানায় যে ছাত্রদল অবস্থান করে ডাকসুর দুই নেতাকে আহত করল তাদের বিচার করা। ওসি থেকে শুরু করে অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা কী করল। ছাত্রদলের যারা জড়িত ছিল, তাদের আইনের আওতায় আনলেই শিক্ষা বিভাগের সব জায়গায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে, ইনশাআল্লাহ।
শিক্ষামন্ত্রী মিলন আগের সময়ে মন্ত্রী থেকে পরীক্ষায় নকলের বিরোধী কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। এবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আদু ভাই ও দীর্ঘদিন ছাত্রত্ব বজায় রেখে হলে সিট দখলের ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হবে। যেহেতু সিটের ঘাটতি রয়েছে, তাই শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতে রেগুলার ছাত্রদের সিট বরাদ্দ দিতে হবে। তাহলে প্রতিষ্ঠানে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে, যা শিক্ষার জন্য খুবই জরুরি। সরকার যদি প্রতিহিংসার রাজনীতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু রাখে, তবে শিক্ষার পরিবেশ ঠিক রাখা যাবে না। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে মেধাবী ছাত্রদের গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার বিকল্প নেই। মেধাবী শিক্ষকরাই মেধাবী ছাত্র তৈরি করতে পারে।
সময়মতো ছাত্র সংসদের নির্বাচন দিতে হবে। এখানেও দলের ঊর্ধ্বে উঠে মেধাবীদের মূল্যায়ন করতে হবে এবং রেগুলার ছাত্ররা যাতে নেতৃত্বে আসে, তার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিষ্ঠানে নিয়ম-শৃঙ্খলা শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে যেন প্রতিষ্ঠানের কোনো কাজ না করতে পারে, তার উদ্যোগ নিতে হবে। অছাত্ররা যাতে কোনোভাবে প্রতিষ্ঠানে কোনো ভূমিকা রাখতে না পারে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। যেহেতু শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। তাই মেরুদণ্ড ঠিক রাখতে পারলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মেধাবী জনশক্তিও নিয়োগ করতে পারলে প্রতিষ্ঠানগুলোয় কাজের স্বার্থে উৎপাদন ও মান ভালো হবে।
আমাদের দেশ ছোট হলেও জনশক্তিতে ভরপুর। এই জনশক্তিকে কার্যকরভাবে গড়ে তুলতে পারলে দেশে ও বিদেশে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। একদিকে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোয় কাজের মান বাড়বে; অন্যদিকে বিদেশে প্রশিক্ষিত লোক পাঠাতে পারলে বৈদেশিক মুদ্রা আসতে সহায়ক হবে। শিক্ষার মান বাড়াতে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ ঠিক রাখতে হবে। কোনো প্রকার দলবাজি বা মাস্তানির স্থান দেয়া যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট সদস্য থাকাকালে আমরা চেষ্টা করছিলাম শিক্ষার পরিবেশ ও মান বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়ার। আজকের ডাকসু শহীদ নজির আহমেদ ও শহীদ আবদুল মালেকের রক্তের ধারাবাহিকতায়ই এসেছে। আমরা চাই দল নয়, মেধার মূল্যায়ন ফিরিয়ে আনতে হবে সর্বক্ষেত্রে।

লেখক : সাবেক সিনেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ই-মেইল : rnabi1954@gmail.com

একেএম রফিকুন্নবী

ঈদ মোবারক
২১ মে ২০২৬ ১০:৩২

সম্পর্কিত খবর