সরকারকে জনতার কাতারে দাঁড়াতেই হবে
৯ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১৬
আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট দুঃশাসনমুক্ত হওয়ার পর দেশে বিএনপি সরকারের শাসন চলছে। তবে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের দিন থেকেই জনপ্রত্যাশার সাথে বিএনপির দূরত্ব বাড়ছে। একই দিন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার কথা থাকলেও এ শপথ শুধু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদলের সদস্যরা নিয়েছেন। সরকারি দলে বিএনপি ও দলটির নেতৃত্বাধীন জোটের কোনো এমপি এ শপথ নেননি।
অথচ ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোট। এদিন আলাদা ব্যালটে ভোটাররা গণভোটে ভোট দিেেয়ছেন। এই সনদ বাস্তবায়নে ভোটারদের সমর্থন আছে কি-না, সেই প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিয়েছেন। ভোটাররা। এতে শতকরা ৭০ জন হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। যেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেছিলেন, “হ্যাঁ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে দেশ এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে”। সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট, দফায় দফায় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বৈঠকের পর গণভোটে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি প্রস্তাবনা সাংবিধানিক এবং ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার কথাও জানিয়েছে সরকার। গণভোটে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব থাকলেও এর মধ্যে কোনো কোনোটিতে বিএনপি, কোনোটিতে জামায়াতসহ অন্য রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। প্রথমে প্রস্তাবনা ছিল, যেসব প্রশ্নে যে রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে সেই দল ক্ষমতায় গেলে ওই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন করতে বাধ্য থাকবে না। তবে শেষ পর্যন্ত এ নিয়ে সমাধানে ব্যর্থ হয়ে গণভোটের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এতে আর নোট অব ডিসেন্টের কার্যকারিতা নেই। এখন জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। আইনজীবীদের অভিমত হলো, ‘দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যা’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি ৫১ শতাংশ মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করে এখন যদি ৫১ শতাংশের ক্ষমতাবলে ৭০ শতাংশের মতামতকে বাতিল করলে, সেটি হবে জাতির সাথে প্রতারণা।”
সরকার দাবি করছে, গণভোট বাতিল হওয়ার দাবিগুলো সত্য নয়। সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গণভোট অধ্যাদেশ অনুযায়ী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে এটির কোনো ব্যবহার না থাকায় অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তর করা হচ্ছে না। অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে গণভোট বাতিল হয়ে যাচ্ছে না বা অবৈধ হচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারিকৃত ‘গণভোট অধ্যাদেশ’ সংসদে উত্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, এটি সরকারের একটি চালাকি। এমন চালাকিকে প্রতারণা ছাড়া আর কীই-বা বলা যায়, আমাদের জানা নেই। তবে এ কথা বলতে পারি, হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষের জনগণের রায় বাস্তবায়ন না হলে বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা পাবো না। নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলবে না। তাই এ কাজে যারা বাধার সৃষ্টি করছে, তারা আসলে দেশ ও জনগণের উন্নতি চায় না। তারা পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত টিকিয়ে রেখে রাজনীতির নামে দেশটাকে লুটেপুটে খেতে চায়। কিন্তু ২০২৪-এর ৩৬ জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতা রক্তে দিয়েছে পুরনো বন্দোবস্ত ভেঙে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে। তাই আমরা মনে করি, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের সাথে প্রতারণার পথ বেছে নেবে না। গণভোট বাতিলের ষড়যন্ত্র থেকে সরে এসে জনতার কাতারে দাঁড়াবে। সরকারকে জনতার কাতারে দাঁড়াতেই হবে। এর ব্যত্যয় দেশের মানুষ মানবে না।