লজ্জাশীলতা : সামাজিক অস্থিরতার কারণ


১২ মার্চ ২০২৬ ১০:৫১

॥ রফিকুল ইসলাম ॥
একটি সমাজের মানুষের সামগ্রিক জীবনধারা- যা তাদের বিশ্বাস, প্রথা, রীতিনীতি, আচরণ, মূল্যবোধ এবং জীবনযাপনের পদ্ধতির সমষ্টিই সংস্কৃতি। সংস্কৃতি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়, অবচেতনভাবে শেখার মাধ্যমে হস্তান্তরিত হয়। মানুষের দৈনন্দিন আচার-আচরণ ও আচরণগত প্রকাশের মধ্য দিয়েই সংস্কৃতির বাস্তব রূপ ফুটে ওঠে। আবহমানকাল থেকেই বাংলাদেশের সামাজিক প্রথা ও রীতিনীতির মাঝে লজ্জাশীলতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান। সমাজের নানা রীতিনীতি, সামাজিক কর্মযজ্ঞ যেমন লজ্জাশীলতার অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে অনেক কাজই মানুষকে শালীনতা ও সংযম বজায় রেখে সম্পন্ন করতে হয়। এই লেখায় আমাদের সমাজে লজ্জাশীলতার বর্তমান অবস্থান, তার পরিবর্তন এবং প্রভাব নিয়ে সংক্ষেপে কিছু বিশ্লেষণ তুলে ধরব।
নারী-পুরুষের একে অপরের প্রতি আকর্ষণ স্বাভাবিক। পবিত্র কুরআনেও পুরুষের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় সাতটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার প্রথমটিই নারী। নারী-পুরুষের এ আকর্ষণ থেকেই ভালো লাগা, ভালোবাসা এবং প্রেম-প্রণয়ের সৃষ্টি হয়। তবে ইসলাম ধর্মে বিবাহবহির্ভূত নারী-পুরুষের সম্পর্ক, প্রেম হারাম। তবুও বাস্তবে দেখা যায়, নারী-পুরুষ একে অপরকে ভালো লাগা থেকে বিবাহবহির্ভূতভাবে সম্পর্ক স্থাপন করে, যা সমাজে ‘প্রেম’ নামে পরিচিত। ঠিক আজ থেকে ১০ বছর আগেও এ ধরনের সম্পর্কে জড়িতদের সমাজের চোখে অপরাধী হিসেবে দেখা হতো। নিজেরাও বিষয়টি খুব গোপন রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করত। বাবা-মা যদি জানতে পারতেন তাঁদের ছেলে-মেয়ে কারও সঙ্গে এমন সম্পর্কে জড়িত, তাহলে তাঁরা অপমানিতবোধ করতেন এবং ভাবতেন-সমাজে কীভাবে মুখ দেখাবেন।
মোবাইল ফোনের অবাধ ব্যবহার ও সহজলভ্যতার পূর্বে এ ধরনের যোগাযোগ শুধু চিঠির মাধ্যমেই হতো। আবার কোনোভাবে সেই চিঠি প্রকাশ হয়ে গেলে সমাজে বিরাট সমস্যা সৃষ্টি হতো। কখনো কখনো সেই চিঠিই বিষয়টিকে বিয়ে পর্যন্ত নিয়ে যেত। প্রায় ১৫ বছর আগে আমার গ্রামের এক মোড়ল ধানক্ষেতের মাঠে বিকেলবেলা এক ছেলে ও এক মেয়েকে কথা বলতে দেখে নিজ দায়িত্বে সালিশ ডাকলেন। ছেলে-মেয়ে স্বীকার করল যে তাদের মাঝে একটু সম্পর্ক আছে। এরপর সেই রাতেই তাদের বিয়ে দেয়া হয়। তখন সমাজের লজ্জাশীলতা ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ঠিক এ পর্যায়েই ছিল।
নাটক-সিনেমা সমাজের দর্পণ বিবেচনা করা হয় । সমাজে চলমান ঘটনা, ভাবনাগুলো নাটক-সিনেমার মাধ্যমে তুলে ধরাই পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা ও অভিনেত্রিদের অন্যতম কাজ। ছোটবেলায় প্রতি শুক্রবার বিকেলে বিটিভিতে সিনেমা প্রচারিত হতো। তখন হয়তো ২-৩টি গ্রাম মিলে ১ জনের বাড়িতে টেলিভিশন থাকত আর সেই সিনেমা দেখার জন্য গ্রামের শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষও সেখানে জড়ো হতো। প্রায় প্রতিটি সিনেমাতেই নায়ক-নায়িকার মাঝে প্রেমের বিষয় থাকত। কিন্তু সিনেমায়ও এই প্রেম গোপনে হচ্ছে এভাবেই প্রকাশ করা হতো-অর্থাৎ সমাজের শালীনতা ও লজ্জাশীলতার সীমারেখা মাথায় রেখেই উপস্থাপন করা হতো। কিন্তু আজকের বাস্তবতায় মনে হয়, আমাদের সমাজে সেই লজ্জাশীলতা ও সংযমের মানদণ্ড অনেকটাই নিচে নেমে এসেছে এবং এটি শুধু বিনোদনের পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও ক্রমে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
আজ নাটক-সিনেমায় শুধু প্রেমের বিষয় ইঙ্গিতে বা আড়ালে দেখানো হচ্ছে না; বরং অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি বলা হচ্ছে- ‘আজ আমার ডেটিং আছে’, ‘রুম ডেটে যাব’, কিংবা ‘রুম ডেটিংয়ে গিয়েছিলাম।’ একদিকে এমন সংলাপ ও দৃশ্যের প্রচার হচ্ছে, যেখানে বন্ধুরা মজা করে জিজ্ঞেস করছে, ‘কিরে, হচ্ছে।’ অন্যদিকে বাস্তব জীবনেও এখন অনেক ছেলে-মেয়ে খুব সহজেই বলে দিচ্ছে, ‘আমার বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড আছে’, ‘সে আমার এক্স’, ‘একটা রিলেশনে ছিলাম’, ‘ব্রেকআপ হয়ে গেছে, কিন্তু তাকে খুব মিস করি’- ইত্যাদি। অথচ আজ থেকে ১৫ বছর আগেও কারো সঙ্গে এমন কোনো সম্পর্ক থাকলে মানুষ সাধারণত সর্বোচ্চ চেষ্টা করত বিষয়টি গোপন রাখতে। সেখানে আজ অনেকেই অবলীলায় এসব প্রকাশ করছে- এটাই সমাজের পরিবর্তিত মানসিকতা ও লজ্জাশীলতার মানদণ্ডের বদলের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। এ পরিবর্তনের আরেকটি দিক হলোÑ বিভিন্ন পডকাস্ট ও ইন্টারভিউতে; এমনকি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবিবাহিত ছাত্র-ছাত্রীদেরও খুব স্বাভাবিকভাবে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘আপনার কোনো রিলেশন আছে কি না?’ ‘এক্স আছে কি না?’ এবং অনেকেই কোনো সংকোচ ছাড়াই এসব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। ফলে মনে হয়, ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়গুলো এখন আগের মতো ব্যক্তিগত থাকছে না; বরং ধীরে ধীরে তা সামাজিক আলোচনার সাধারণ অংশ হয়ে উঠছে।
আরও লক্ষণীয় যে, এক ধরনের কনটেন্ট ক্রিয়েটর হুট করেই অপরিচিত ছেলে বা মেয়েকে রাস্তায় বা শপিং মলে থামিয়ে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করতে শুরু করছে। যেমন: ‘আপনার বয়ফ্রেন্ড আছে?’, ‘এক্স আছে?’ ‘এক্সকে কল দিয়ে বলেন আবার ক্যাচআপ করতে চাই’; এমনকি কখনো কখনো আরও অস্বস্তিকর প্রশ্নও করা হচ্ছে, ‘আপনার কোনো ফিমেল টিচার কি আপনার ক্রাশ?’ উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে বলা হচ্ছে, ‘তাহলে উনাকে এখনই ফোন দিয়ে বলুন, আপনি উনাকে খুব ভালোবাসেন’- ইত্যাদি। এই ধরনের ভিডিওতে ইউটিউবসহ নানা প্ল্যাটফর্ম যেন সয়লাব হয়ে গেছে। অথচ আমাদের সমাজে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এসব ভিডিও শুধু বন্ধ-বান্ধব নয়-ছেলে-মেয়ের বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন এবং পরিচিতজনরাও দেখে। বিষয়টি ছেলে-মেয়েরাও ভালোভাবে বোঝে। তবুও প্রশ্ন থেকে যায়-কেন ব্যক্তিগত সম্পর্কের এই বিষয়গুলোকে এতটা প্রকাশ্য ও ‘স্বাভাবিক’ করে তোলা হচ্ছে?
আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো-যারা এসব কনটেন্ট তৈরি করছেন, তারা কি কখনো ভেবে দেখেন এই প্রবণতা সমাজকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে?
চায়নায় দেখেছিলাম ছেলে-মেয়েদের মাঝে অনেকটাই অবাধ মেলামেশা। আমরা যেমন ছোট বাচ্চাদের পিঠে ঝুলিয়ে নিয়ে হাঁটি, আমরা মজা পাই, বাচ্চারাও আনন্দ পায়, তেমনি চায়নায় যুবক-যুবতীদের মধ্যেও এমন দৃশ্য দেখেছি; কখনো ছেলের পিঠে মেয়ে, আবার কখনো মেয়ের পিঠে ছেলে। আজ যখন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভিডিও দেখি, যেখানে ছেলে-মেয়েরা হাগ করছে, একসাথে গোল্লাছুট খেলছে, তখন বুঝতে বাকি থাকে না, আমাদের সংস্কৃতি শুধু ইউরোপ-আমেরিকার প্রভাবেই বদলাচ্ছে না; বরং আমরা যেন যে কোনো জাতির আচরণ-ভঙ্গিকে দেখে-শুনে অনুকরণ করাকেই এক ধরনের ‘আধুনিকতা’ হিসেবে ধরে নিয়েছি। এর ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছি আমাদের নিজস্ব স্বকীয়তা ও মূল্যবোধের ভারসাম্য। আজ ইউরোপ-আমেরিকার একাংশে পুরুষের কোর্ট-প্যান্ট পরা ‘স্মার্টনেস’ ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হলেও, একই মঞ্চে একজন নারীকে কখনো অতিরিক্ত টাইটফিট পোশাকে, কখনো বা প্রায় নগ্নভাবে উপস্থাপন করাকে ‘সংস্কৃতি’ বা ‘স্টাইল’ হিসেবে প্রচার করা হয়। আর আমরা বিচার-বিবেচনা ছাড়াই তা অনুসরণ করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে ভাবছি-এভাবেই সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে।
দেশে যৌনকর্মী ছিল বা আছে- এ নিয়ে আগে সমাজে খুব বেশি আলাপ দেখা যেত না। আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগেও নির্দিষ্ট এবং হাতেগোনা কিছু মানুষ ছাড়া অনেকেই হয়তো যৌনকর্মীদের বাস্তবতা, সংখ্যা বা পরিস্থিতি সম্পর্কে তেমন জানত না। কিন্তু এখন দৃশ্যপট বদলেছে। তাদের অধিকার নিয়ে নারীপক্ষ, নারী কমিশনসহ বিভিন্ন সংগঠন সভা-সেমিনার, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি করছে। শুধু তাই নয়, তারা শ্রম আইনে গৃহকর্মী ও যৌনকর্মীদের পাশাপাশি রেখে শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে। এখানেই সীমাবদ্ধ নয়, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ২,০৯৪ জন যৌনকর্মীকে জনপ্রতি ১০,০০০ টাকা করে মোট ২ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছে। বিডিনিউজ২৪-এর ১৩ই জানুয়ারি ২০২২-এর তথ্যানুযায়ী দেশে নিবন্ধিত যৌনকর্মীর সংখ্যা প্রায় ৩,০০০। অন্যদিকে উইকিপিডিয়ার তথ্যে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত বা ভাসমানসহ যৌনকর্মীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ হতে পারে বলে উল্লেখ আছে। এই ব্যবধান থেকেই বোঝা যায়- বিষয়টি নিয়ে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান, সংজ্ঞা (নিবন্ধিত/অনিবন্ধিত/ভাসমান) এবং সরকারি-অসরকারি ডাটার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে।
দেখুন, নারী কমিশন/নারীপক্ষের সদস্যরা- তাঁরা মুসলিম হন বা যে কোনো ধর্মের- ব্যক্তিগতভাবে বা পারিবারিকভাবে কেউই হয়তো চাইবেন না যে দেশে যৌনকর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাক। কিন্তু বাস্তবে যখন যৌনকর্মীদের ‘শ্রমিক মর্যাদা’ দেওয়ার দাবী হয়, কিংবা আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়, তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে: এ ধরনের সিদ্ধান্তের আলটিমেইট টার্গেট কী হতে পারে? উদাহরণ হিসেবে ধরুন, ১০ হাজার টাকা সহায়তা- এই অর্থ দিয়ে একজন মানুষের বাস্তব জীবনে কী পরিবর্তন সম্ভব? ঢাকা শহরে এক মাসের থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা, নিরাপত্তা সব মিলিয়ে খরচই অনেক বেশি। ফলে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য: এই সহায়তা বা শ্রমিকের মর্যদা দিয়ে তারা কি সত্যিই পুনর্বাসন ও বিকল্প জীবিকা জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন নাকি তাদের সংখ্য যেন বৃদ্ধিপায় সে ব্যবস্থা করছেন?
আবার, প্রিয় মাতৃভূমিতে সভা সেমিনার, মানববন্ধন, নাটকের মাধ্যমে যৌনকর্মীদের বিষয়ে আলাপ-আলোচনা খুব স্বাভাবিক করে ফেলা হচ্ছে। মূলত লজ্জাশীলতা উঠিয়ে লজ্জাহীন এক সমাজ প্রতিষ্ঠার আয়োজন করা হচ্ছে না তো! অর্থাৎ এখানে মূল কথা ‘অধিকার’ নিয়ে কথা বলা নয়; বরং প্রশ্ন হলো- যে সহায়তা বা স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, তা কি মানুষকে সেই জীবন থেকে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি করছে, নাকি অনিচ্ছাকৃতভাবে সেটিকে আরও স্বাভাবিক ও বিস্তৃত করার পরিবেশ তৈরি করছে?
মূলত একটা সমাজ থেকে লজ্জাশীলতা উঠে গেলে সেই সমাজে যা অবশিষ্ট থাকে, তা হলো অপসংস্কৃতি। কারণ লজ্জাশীলতা মানুষের আচরণকে সংযত রাখে, সীমারেখা মনে করিয়ে দেয় এবং নৈতিক বিচ্যুতি থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। ইসলামে লজ্জাশীলতার গুরুত্ব অপরিসীম। এটি ব্যক্তি ও সমাজকে পাপপঙ্কিলতা থেকে দূরে রাখার একটি শক্তিশালী ঢাল। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘লজ্জা ঈমানের অঙ্গ, আর ঈমানদারের স্থান জান্নাতে’ এবং ‘লজ্জা কেবল কল্যাণই নিয়ে আসে’ (বুখারী, মুসলিম)। এর বিপরীত নির্লজ্জতা জাহান্নামের পথ নির্দেশ করে।
শেষ করব নাসিরউদ্দিন হোজ্জার একটি ছোট্ট গল্প দিয়ে। হোজ্জা সাহেব বাজার থেকে দুই সের মাংস কিনে এনে স্ত্রীকে রান্না করতে দিলেন। স্ত্রীও রান্না করে রাখলেন। কিন্তু হঠাৎ কয়েকজন বান্ধবী এসে সেই মাংসের পুরোটা খেয়ে ফেলল। স্ত্রী লজ্জায় কিছু বলতে পারলেন না। আবার হোজ্জার ভয়ে ভাবতে লাগলেন- স্বামী জিজ্ঞেস করলে কী জবাব দেবেন? এদিকে হোজ্জা এসে খেতে বসেছেন। স্ত্রী শাকসবজি যা ছিল তাই দিয়ে খাবার দিলেন। হোজ্জা মাংসের কথা জানতে চাইলে স্ত্রী বললেন, ‘আপনার প্রিয় বিড়ালটাই সব মাংস খেয়ে ফেলেছে।’ হোজ্জা এ কথা বিশ্বাস করলেন না। তিনি উঠে গিয়ে বিড়ালটাকে ধরে ওজন করলেন- দেখলেন, বিড়ালের ওজন মোটে দুই কেজি। তখন হোজ্জা স্ত্রীকে বললেন, ‘এ ওজন যদি বিড়ালের হয়, তবে মাংস কোথায়? আর যদি মাংসেরই হয়, তবে বিড়ালটা কোথায়?’
এই গল্পটার মতোই আজ আমার সরল মনে একটি প্রশ্ন জাগে- এমন লজ্জাহীনতা ও সীমালঙ্ঘনই যদি সংস্কৃতি হয়, তাহলে আমার সংস্কৃতির লজ্জাশীলতা, শালীনতা, সংযম কোথায়?
লেখক: পিএইচডি গবেষক, কিং আব্দুল আজিজ ইউনিভার্সিটি, সৌদি আরব।