ক্ষমতার আরেক নাম সেলাম

প্রিন্ট ভার্সন
১২ মার্চ ২০২৬ ০৯:৫১

লেখক:    হারুন ইবনে শাহাদাত

॥ হারুন ইবনে শাহাদাত ।।
‘ক্ষমতার আরেক নাম সেলাম’, তাই ছলে-বলে কলে-কৌশলে ক্ষমতা দখল করার ধান্ধা বন্ধ হচ্ছে না। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও ড. খলিলুর রহমানরা বিষয়টি খুব ভালো করেই জানেন বলে মনে করেন পর্যক্ষেকরা। তাই তো ক্ষমতা দখলের পর খলিলুর রহমান বলেছেন, ‘সমস্যা তো গণনায় আবার গুনলেই হবে।’ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ‘আমাদের কাজ ছিল যাতে তারা মূলধারায় (মেইনস্ট্রিম) আসতে না পারে এবং আমরা সে কাজটা করতে পেরেছি’- এমন আত্মঘাতী অথচ চরম সত্য বলার সাহস দেখাচ্ছেন তিনি।
পুনর্গণনা কাজটি গেজেট প্রকাশের পর করা খুবই কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ। শপথ নিয়ে সরকার গঠনের পর ক্ষমতার বদল অসম্ভব। রাষ্ট্রের টেয়ারিং হুইল একবার হাতে এলে, তা কেড়ে নিতে কত রক্ত দিতে হয়, এর প্রমাণ ২০২৪-এর ৩৬ জুলাই বিপ্লব। তাই তারা হাসতে হাসতে জনগণের সাথে এমন তামাশা করছেন। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা পরোক্ষভাবে স্বীকার করার সাহস দেখাচ্ছেন।
আদালতের রায়ে সত্য প্রকাশের পর সরকারের ভয়ংকর রূপ প্রকাশের উদাহরণ এ উপমহাদেশেই আছে। অবশ্য তার পরিণতিও তাকে ভোগ করতে হয়েছে। ভারতের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দল ‘নিখিল ভারত কংগ্রেস’র বিরুদ্ধে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রমাণ হয়েছিল আদালতের রায়ে। কিন্তু তারা ক্ষমতা ছাড়েনি। জরুরি অবস্থা জারি করেছিল। জনগণ সুযোগমতো প্রতিশোধ ঠিকই নিয়েছে। ‘নিখিল ভারত কংগ্রেস’র জনপ্রিয়তার পারদ দিন দিন নিচে নামতে নামতে সংসদীয় বিরোধীদল হওয়ার মতো ন্যূনতম সমর্থনও হারিয়েছিলো। দলটি বলতে গেলে এখনো জনবিচ্ছিন্ন। পরপর দুজন নেতাকে জীবন দিতে হয়েছে। আয়রন লেডিখ্যাত শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী ও তার আদরের দুলাল শ্রীমান রাজিব গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেও নিজেদের রক্ষা করতে পারেননি।
তারপরও ক্ষমতার সেলামের লোভে পড়েন ক্ষমতান্ধ নেতারা। তারা ভুলে যান- যত বেশি ক্ষমতার ভার, বিপদ তত বেশি। জন ডালবার্গ অ্যাক্টন এ কথা শাসকদের স্মরণ করাতেই বলেছেন, “Power tends to corrupt, and absolute power corrupts absolutely” (ক্ষমতা দুর্নীতির প্রতি মোহগ্রস্ত, পরম ক্ষমতা চরম দুর্নীতিগ্রস্ত করে।) ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারপরও ক্ষমতাবানরা নিজের তৈরি সেই দুর্নীতির ফাঁদে নিজেই নিজের ধ্বংস ডেকে এনেছে বারবার। ভোট কারচুপির অভিযোগ আদালতে প্রমাণ হওয়ার পরও রায় উপেক্ষা করে নিখিল ভারত কংগ্রেস থেকে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার পরিণতি ভালো হয়নি।
বাংলাদেশের সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ এবং গণনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দাখিল করার আগেই তড়িঘড়ি গেজেট ঘোষণা করায় জটিলতা বেড়েছে। এ কথা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)সহ বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা এবং নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্টরাও স্বীকার করেছেন। গেজেট ঘোষণা এবং শপথের আগে বিষয়টি মীমংসা করার দায়িত্ব ছিল নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু এখন বিষয়টি চলে গেছে আদালতে। ক্ষমতার নাটাই যাদের হাতে, অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। আদালত সাহস নিয়ে রায় দিলেও নাটাই না ছাড়ার দৃষ্টান্ত এ উপমহাদেশে দৃষ্টি করেছে সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল নিখিল ভারত কংগ্রেস, তা ওপরে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেই দৃষ্টান্ত এবং জনতার প্রতিশোধ
ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট ১৯৭৫ সালের ১২ জুন রায় দেন যে, ১৯৭১ সালের লোকসভা নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছিলেন। ফলে তাঁর নির্বাচন বাতিল এবং ছয় বছরের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়, যা ছিল তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের ওপর সরাসরি হুমকি। লোকনায়ক বা জনগণের নেতাখ্যাত ভারতীয় রাজনীতিবিদ জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে ইন্দিরা গান্ধীর পদত্যাগের দাবিতে ভারতজুড়ে তীব্র গণআন্দোলন শুরু হয়েছিল। তিনি আদালতের রায়ে অবৈধভাবে নির্বাচিত প্রমাণ হওয়া ইন্দিরা গান্ধীর আদেশ অমান্য করতে দেশের পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। আদালতের রায়ের পরও ক্ষমতা না ছেড়ে গদি বাঁচাতে ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার স্থগিত করা হয়েছিল এবং বিরোধীদলীয় নেতাদের কারারুদ্ধ করেছিলেন। ব্যাপক জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে বিরোধীদলের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা, রিমান্ড, বিনাবিচারে কারারুদ্ধ করে ২৫ জুন ১৯৭৫ থেকে ২১ মার্চ ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ক্ষমতা আঁকড়ে থাকেন। ১৯৭৭ সালে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণার পর এ জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয়। ভারতের জনগণ ইন্দিরা গান্ধীর অত্যাচার-নির্যাতন আর নিপীড়নের জবাব ব্যালটের মাধ্যমে দিয়েছিল ১৯৭৭ সালের ভারতের সাধারণ নির্বাচনে। তারা ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস পার্টিকে পরাজিত করেছিল। এ বছর জনতা পার্টি (Janata Party) প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় এসে কংগ্রেসের দুর্গের পতন ঘটায়। এ ঐতিহাসিক বিজয়ের পর মোরারজি দেশাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, নিখিল ভারত কংগ্রেসের পতন যুগের সূচনা, ইন্দিরা গান্ধী ও রাজিব গান্ধীর নিহত হওয়ার অন্যতম কারণ জনরায়কে উপেক্ষা করে জরুরি অবস্থা জারি এবং জনগণের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন। প্রতিবেশী দেশের জন্য এ ঘটনা উল্লেখ করার কারণ ক্ষমতা একবার দখল করার পর তা অবৈধ বা বৈধতা যে প্রশ্ন ভুলে যান ক্ষমতাসীনরা। জনগণ বাধ্য হয়ে সেলাম ঠুকে। বৈদেশিক মিত্ররাও হাত বাড়ায়। কিন্তু ভোটদাতা জনগণের মনের ক্ষত দূর হয় না। সুযোগ পেলে তারা ঠিকই প্রতিশোধ নিতে ভুল করে না।
পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের উচিত বিরোধীদলের দাবি মেনে নিয়ে উল্লেখিত প্রশ্নগুলোর জরুরিভাবে মীমাংসা করা দরকার। বিশেষ করে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ এবং এডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে বিরোধীদল রাজসাক্ষী হিসেবে গণ্য করার পর অবশ্যই বিষয়টি আইনসম্মত সমাধান জরুরি বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।
কেন এডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজসাক্ষী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ রাজসাক্ষী এ অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বিচার দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধীদলগুলো। একই অভিযোগে তারা অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকেও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এমপি বলেন, “আমরা একটা রাজসাক্ষী পেয়েছি। সেই রাজসাক্ষীর নাম হচ্ছে সাবেক উপদেষ্টা এডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তার (সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান) ভাষায়, ‘আমরা যারা নারীদের উপযুক্ত অধিকারকে নিশ্চিত করতে পারিনি, তারা বিরোধীদলে থাকলেও তাদের কিন্তু মূলধারায় বা প্রধান শক্তি হিসেবে আসতে দেয়নি।’ তখনই বোঝা যায়, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যে কথা এসেছিল বা এসেছে, সেটাকে উনি (রিজওয়ানা) নিজেই স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন। আমরা এখন জানতে চাই ওনার (রিজওয়ানা) কাছে বা তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে এবং আজকের সরকারের কাছে যে, তাদের যোগসাজশে কী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীকে মূলধারা বা প্রধান দল হিসেবে মেজরিটি পেতে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। আমরা সাবেক উপদেষ্টার কাছে এটাও জানতে চাই যে, এই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ওনার সঙ্গে কারা কারা জড়িত ছিলেন। পুরো গভর্নমেন্ট (সরকার) ছিল, নাকি গভর্নমেন্টের একটি অংশ ছিল, যারা নির্বাচন প্রভাবিত করেছে।” সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আরো বলেন, এ সরকারের কাছে দাবি জানাবো, রিজওয়ানা হাসানকে তারা কীভাবে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনবেন। যে সিচুয়েশন তিনি তৈরি করেছিলেন, সে সম্পর্কে উনারা (সরকার) জানবেন, আমাদের জানাবেন, দেশবাসীর কাছেও এটা পরিষ্কার করবেন। নির্বাচনের আগে জামায়াত অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টার বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমপর্যায়ের নিরপেক্ষ বলেছিল। এমন নীতিগত কথা ছিল, তাদের কেউ দলীয় সরকারের মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করবেন না। তবে নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এটি তিনি আগের শপথের পরিপন্থী কাজ করেছেন।’ এ দাবি শুধু জামায়াতে ইসলামীর নয়, এ জোটে থাকা ১০ দল এবং অন্যান্য বিরোধীদলেরও। তাই বিষয়টি হালকা করে দেখার সুযোগ নেই।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের দাবি
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের দাবি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি ঝিকে মেরে বৌকে ভয় দেখানোর অপকৌশল নিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, তিনি ‘জামায়াতে ইসলামী’ ও ‘নির্বাচন’ এ দুটি শব্দ বলেননি। অবশ্য তিনি আবার নিজেই স্বীকার করেছেন, ‘আর বিরোধীদল তো অবশ্যই মেইনস্ট্রিম।’ উল্লেখ্য, একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ানে গত ৩ মার্চ মঙ্গলবার রাতে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রিজওয়ানা হাসান। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ধর্মীয় উগ্রবাদী শক্তিকে মূলধারায় আসতে দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, সমাজে একটি শক্তি সবসময় নারীর সমান অধিকার ও ক্ষমতায়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এ সময়ে উপস্থাপক বলেন, সে শক্তি বর্তমানে বিরোধীদলে আছে। জবাবে রিজওয়ানা হাসান বলেন, সে শক্তির একটি অংশ রাজনীতিতেও সক্রিয় থাকতে পারে। তবে আমাদের কাজ ছিল যাতে তারা মূলধারায় (মেইনস্ট্রিম) আসতে না পারে এবং আমরা সে কাজটা করতে পেরেছি। দেশ-বিদেশের অনেক পর্যবেক্ষকও এবারের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে বলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন। তারা মনে করেন, পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করে জামায়াতকে ‘মূলধারা’ থেকে দূরে রাখা হয়েছে। এ সময় তারা সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিযুক্ত করেছেন। সূত্রে প্রকাশ, ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে সহায়তা করায় তাকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী করা হয়েছে।
রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিরোধীদলের দাবি অবশ্যই সংশ্লিষ্টদের গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। কারণ ৩৬ জুলাই বিপ্লবের পর মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করছে। সেই কাজটা খুব সহজ নয়, দেশি-বিদেশি শত্রুরা বসে নেই। তারা তৎপর তাদের নীল নকশা বাস্তবায়নে। তাই চলার পথে এমন কোনো কুলক্ষণ দেখা দিলে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে তার সংশোধন করতে হবে। এ পথে পেছন ফেরার সুযোগ নেই। পরাজয় মেনে নেয়ারও সুযোগ নেই। ভুলে গেলে চলবে না, একটি দুর্গের পতন মানেই বিজয় নয়।
বাস্তিল দুর্গের পতন এবং চূড়ান্ত বিজয়
পর্যক্ষেকরা মনে করেন, ফ্রান্স বিপ্লবের ইতিহাস থেকে এ দেশের বিপ্লবীদের জন্য শিক্ষণীয় আছে। বাস্তিল দুর্গের পতনের ১০ বছর পর ফ্রান্স বিপ্লবের চূড়ান্ত বিজয় এসেছে। ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই ফ্রান্সের প্যারিসে বাস্তিল দুর্গের পতন ফরাসি বিপ্লবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী ঘটনা, যা নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রের অত্যাচারের প্রতীক ধ্বংস করে জনসাধারণের বিজয় নিশ্চিত হয়। ১৭৯২ সালে রাজতন্ত্রের বিলুপ্তি এবং প্রজাতন্ত্রের ঘোষণা করা হয়। কিন্তু চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় ১৭৯৯ সালে বলা হলেও নেপোলিয়ন বোনাপার্টের ‘১৮ ব্রুমায়ারের অভ্যুত্থান’-এর মাধ্যমে, যা ডাইরেক্টরি শাসনের অবসানের পর। কিন্তু নেপোলিয়ন বোনাপার্ট সামরিক একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু তিনি ‘স্বাধীনতা, সমতা, ভ্রাতৃত্ব’ (Liberty, Equality & Fraternity) নীতির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাই বিজয় বলে মনে করা হয়। আধুনিক গণতান্ত্রিক কাঠামো লাভ করে আরো অনেক পরে ১৯৫৮ সালে চার্লস দ্য গল পঞ্চম প্রজাতন্ত্র অর্থাৎ বর্তমান ফরাসি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পর। তাই ২০২৪ সালের ৩৬ জুলাইয়ে সাফল্য এসেছে কিংবা বিপ্লব ছিনতাই হয়েছে এমনটা ভেবে খুশি বা হতাশার সাগরে ডুবে থাকার অর্থ পরাজয় মেনে নেয়া। যা কোনো বিপ্লবীর জন্য মানায় না। সংগ্রাম শেষ হয়নি- এ কথা মনে রেখে আন্দোলনের মাঠে থাকতে হবে। এডভোকেট রিজওয়ানা হাসান ও ড. খলিলদের নেপথ্যের শক্তিগুলো চিহ্নিত করে প্রকৃত সত্য উন্মোচন করতে হবে। ইনসাফ ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, দখলবাজি, চাঁদাবাজিসহ সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে সিসাঢালা প্রাচীরের মতো ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। তবেই মুক্তির সোনালি সূর্য হাসবে, আঁধার কালো নিশি দূর হবে।

হারুন ইবনে শাহাদাত

সম্পর্কিত খবর