খলিল জিবরানের প্রফেট গ্রন্থ একশত বছর পরও প্রাসঙ্গিক
১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:১৩
॥ মুহাম্মদ নূরে আলম ॥
‘দ্য প্রফেট’ নাম শুনে অনেকে মনে করতে পারেন, এটি হয়তো নবী করিম সা.-এর জীবনী। আসলে খলিল জিবরানের ‘দ্য প্রফেট’ কোনো নির্দিষ্ট নবীর জীবনী নয়। বরং এটি আল-মুস্তাফা নামক একজন কাল্পনিক চরিত্রের মাধ্যমে জীবন, প্রেম, কাজ, আনন্দ, দুঃখ, মৃত্যু ইত্যাদি বিষয়ে ২৬টি কাব্যিক প্রবন্ধের সমাহার, যা ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয় এবং বিশ্বজুড়ে একটি জনপ্রিয় আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত। এখানে তিনি যুগে যুগে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত নবীদের আ. শিক্ষার সমন্বয় করেছেন। তিনি বিশ্বমানবতার মুক্তির আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া অহি বা সত্য ও সুন্দর বাণী নবীগণ সা. প্রচার করেছেন। প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে শান্তি ও সমৃদ্ধিময় পৃথিবী গড়ার নিদের্শনা দিয়েছেন। খলিল জিবরান এ গ্রন্থে কাব্যিক ভাষায় সেই বার্তাই উপস্থাপন করেছেন। খলিল জিবরান একজন লেবানিজ (আরব)-আমেরিকান লেখক। বলা হয়ে থাকে ইতিহাসে যাদের কবিতার বই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে, জিবরান তার মধ্যে তৃতীয়। তার আগে আছেন শেকসপিয়ার ও লাওজি। তিনি একাধারে কবি ও অসাধারণ চিত্রশিল্পী। তার ‘দ্য প্রফেট’ সাহিত্য ইতিহাসের সাড়াজাগানো একটি বই। গ্রন্থটি এ পর্যন্ত শতাধিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯২৩ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। জিবরানের প্রফেট গ্রন্থটি এখনো এক বিস্ময়ের নাম। সবার কাছেই এক চমক। এত বছর পরও এ বইয়ের আবেদন একটুও কমেনি। বইয়ের মূল চরিত্র আল-মুস্তাফা। তিনি বারো বছর ধরে অপেক্ষা করছেন তার জাহাজের, যাতে করে তিনি তার স্বদেশে ফিরে যেতে পারেন। এ বারো বছর তিনি কাটিয়েছেন অরফালিজ (Orphaless)। আল-মুস্তাফার একাকী সময়, দুঃখের সময়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে ঐ দেশের মানুষ ও মাটি। একদিন পাহাড়ের ওপর উঠে তিনি তার জন্য আসা জাহাজ দেখতে পেলেন। জাহাজে তার স্বদেশি মানুষেরা তার জন্য অপেক্ষা করছিল। তার মন আনন্দে ভরে উঠলো। আবার একইসাথে তাকে বিষণ্নতায়ও ঘিরে ধরলো। কারণ এ বারো বছরে তিনি ওরফেলিসের জনগণের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছিলেন। তাই বিদায়বেলায় এ দুঃখ তাকে জর্জরিত করে ফেলে। কবি খলিল জিবরানকে প্রথম দিকে লোকে কলাকৈবল্যবাদী হিসেবে চিনলেও তুরস্কের বিরুদ্ধে সিরিয়ার যুদ্ধজয়ের পর তাঁর কবিসত্তার দার্শনিক ও রাজনৈতিক দিকগুলো প্রকাশ পেতে থাকে। ‘দ্য প্রফেট’ গ্রন্থে তাঁর দর্শন, রাজনীতি, কাব্য ও আধ্যাত্মিকতা যেভাবে ধরা পড়েছে, সেটা আর কোনো গ্রন্থে পড়েনি।
খলিল জিবরানের পরিচয় : ১৮৮৩ সালের ৬ জানুয়ারি লেবাননের বিশারি শহরে মারোবিট খ্রিস্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন খলিল জিবরান। তার লেখায় ইসলামে প্রভাব লক্ষণীয়। তার জন্মের সময় সিরিয়া ও লেবানন অভিন্ন রাষ্ট্র ছিল। ১২ বছর বয়সে মা, এক ভাই ও ছোট দুই বোনের সঙ্গে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়ে চলে যান এবং বোস্টন শহরে বসবাস করতে শুরু করেন। বোস্টনে পৌঁছার কিছুদিন পর দুই বছরের জন্য পড়াশোনা করতে একবার এবং ১৯০২ সালে আরেকবার অল্পদিনের জন্য লেবাননে বেড়াতে যান তিনি। এরপর লেবাননের সঙ্গে আর তাঁর দেখা হয়নি।
স্কুলে থাকতেই শুরু হয় জিবরানের সাহিত্যচর্চা আর ছবি আঁকা। ২২ বছর বয়সে বোস্টনের তৎকালীন নামকরা চিত্রগ্রাহক ফ্রেড হল্যান্ড ডে তাঁর চিত্রকর্মের প্রথম প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। এর পরপরই ক্যামব্রিজ স্কুলে আরেকটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেন সেখানকার প্রধান শিক্ষিকা মেরি হ্যাসকেল। এরপর দুই বছরের জন্য তিনি প্যারিসে যান, চিত্রকর্মে পড়াশোনা করতে। প্যারিস থেকে বোস্টনে ফিরে মেরি হ্যাসকেলকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। মেরি সেই প্রস্তাবে রাজি না হলেও তিনিই হয়ে ওঠেন জিবরানের পরম বন্ধু এবং পৃষ্ঠপোষক।
১৯৩১ সালের ১০ এপ্রিল মাত্র ৪৮ বছর বয়সে লিভার সিরোসিসে জিবরানের মৃত্যু হয়। তাঁর দেহ লেবাননের বিশারিতে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুর দুই বছর পর ১৯৩৩ সালে তাঁর ভক্ত প্রকাশক বারবারা ইয়ং প্রকাশ করেন ‘দ্য প্রফেট’-এর দ্বিতীয় পর্ব ‘দ্য গার্ডেন অব দ্য প্রফেট’।
‘দ্য প্রফেট’ : দ্য প্রফেট (The prophet) খালিল জিবরান রচিত নবী একটি কালজয়ী আধ্যাত্মিক ক্লাসিক। এটি প্রেম, বিবাহ, কাজ এবং মানুষের অবস্থা সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে এবং এর কাব্যিক জ্ঞান দিয়ে লাখ লাখ মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে। ধর্মীয় অনুপ্রেরণাময়, ইংরেজিতে লেখা খলিল জিবরানের দ্য প্রফেট কাব্যিক প্রবন্ধের একটি সংকলন। ১৯১৯ সালের ৯ নভেম্বর লেখা (মে জিয়াদাহকে লেখা) এক চিঠিতে জিবরান বলেন, ‘বইটি বোধহয় মনে মনে লিখেছিলাম আরও হাজার বছর আগে, অথচ কাগজে কলম দিয়ে লিখলাম ইদানীং। এর মধ্য দিয়ে আমার লেখক সত্তার পুনর্জন্ম হলো। মনে হচ্ছে বেঁচে থাকাটা অর্থবহ। তাঁকে নিয়ে কী লিখব! তিনিই আমাকে লিখলেন। তাঁকে গড়ার আগে তিনিই আমাকে গড়লেন। তারপর এমনভাবে আমাকে চালাতে লাগলেন যেন আমি লিখি।’
ধারণা করা হয়, জিবরান ‘দ্য প্রফেট’ লিখতে শুরু করেন ১৯১২ সালের জুনে এবং কাজটি শেষ করতে তাঁর সময় লাগে এগারো বছর, যদিও এর মধ্যে অন্যান্য লেখা চালিয়ে যান তিনি। মেরি বইটি সম্পাদনার কাজে যুক্ত ছিলেন শুরু থেকেই এবং জিবরান ইংরেজিভাষী হিসেবে তাঁর পরামর্শের গুরুত্ব দিতেন। জিবরানের আঁকা ছবিসহ সম্পাদিত বইটি প্রকাশের (১৯২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর) পর মেরি জিবরানকে এক চিঠিতে (১৯২৩ সালের ২ অক্টোবর) লেখেন, প্রিয় খলিল, ‘দ্য প্রফেট’ প্রকাশিত হয়েছে। এটা আমার কল্পনার চেয়েও ভালো… ফরম্যাট দারুণ, তোমার আঁকা ছবি দেখে আমার হৃদয় নেচে উঠেছে। আমি মুগ্ধ। মোটের ওপর দারুণ একটা কাজ… ইংরেজি তথা বিশ্ব সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ এটি… সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ভালোবাসার বই ‘দ্য প্রফেট’ এবং এটি সম্ভব হয়েছে তুমি এটি লিখেছো বলে, কারণ তুমি সর্বশ্রেষ্ঠ প্রেমিক। ২০২৩ সালে খলিল জিবরানের বিখ্যাত অমর সৃষ্টি ‘দ্য প্রফেট’ প্রকাশের একশ বছর পূর্তি পালন করা হয়। মহান এ কবির প্রতি সশ্রদ্ধ ভালোবাসা। জিবরান তাঁর বেশিরভাগ বই লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে তিনি নিউইয়র্ক পেন লিগের নেতৃত্বে ছিলেন। নিউইয়র্ক পেন লিগ হলো সর্বপ্রথম গঠিত আরব-আমেরিকান সাহিত্যসমাজ। ১৯২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ‘দ্য প্রফেট’ বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়। তখন থেকে বিশ্বজুড়ে বইটির লাখ লাখ কপি বিক্রি হয়েছে। বইটির মূল কপি ইংরেজি ভাষায় লেখা। পরে বেশকিছু ভাষায় তা অনূদিত হয়েছে।
লেবাননের উত্তরাঞ্চলীয় বিশারি শহরের পাহাড়ি এলাকায় তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গড়ে ওঠা একটি জাদুঘরে ‘দ্য প্রফেট’-এর শতবর্ষ উদযাপিত হয় ২০২৩ সালে। জিবরান জাদুঘরের পরিচালক জোসেফ গিয়াগিয়া বলেন, পাঠকেরা যে যেখান থেকেই আসুন না কেন; তাঁরা খ্রিষ্টান, মুসলিম, ইহুদি কিংবা অবিশ্বাসী যাই হোন না কেন, প্রত্যেকেই মনে করেন, বইটি তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এটি তাঁদের মনে গভীরভাবে নাড়া দেয়। জোসেফ গিয়াগিয়া আরও বলেন, এটি প্রত্যেকের আধ্যাত্মিক মনকে ছুঁয়ে যায়। মৃত্যু, জীবন, বন্ধুত্ব, প্রেম, সন্তান এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে বোঝাপড়া তৈরি করে।
গদ্যকাব্য সংকলন ‘দ্য প্রফেট’-এ ২৬টি অধ্যায় আছে। গ্রন্থটি থেকে বিভিন্ন চরণ প্রায়ই বিশ্বজুড়ে জন্মদিন, বিয়ে এবং শেষকৃত্যানুষ্ঠানে পাঠ করা হয়। লেবাননের লেখক আলেক্সান্দ্রে নাজ্জার সম্প্রতি বৈরুতে বইটি পাঠ করে শোনান। তিনি বলেন, গত শতাব্দীর ষাটের দশকে ‘দ্য প্রফেট’ বইটি শিক্ষার্থী ও হিপ্পিদের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল। জাদুঘরের পরিচালক জোসেফ গিয়াগিয়ার তথ্যানুসারে, বিশ্বখ্যাত গায়ক জন লেনন, জাপানের সাবেক সম্রাট মিচিকো এবং ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীও বইটি পছন্দ করতেন। বিশারির জাদুঘরের পরিচালক গিয়াগিয়া বলেছেন, প্রতি বছর ৫টি মহাদেশ থেকে প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থী সেখানে আসেন। ২০২৩ সালের এপ্রিলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরেও ‘দ্য প্রফেট’ বইয়ের শতবর্ষ উপলক্ষে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল।
বইটির উল্লেখযোগ্য কিছু অংশ
কাজ কেন : আল-মুস্তাফা এরপর মানুষের কাজের বিষয়ে উপদেশ দেন। তিনি বলেন, ‘আপনার কাজ কেবল জীবিকা উপার্জনের মাধ্যম নয়, এটি আপনার আত্মার প্রকাশ হওয়া উচিত।’ মানুষের কাজ তাদের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং সৃষ্টির শক্তির একটি প্রতিফলন। কাজ করতে গিয়ে, মানুষের উচিত তার অন্তরকে নিবেদিত রাখা। কারণ কাজ যদি নিছক জীবনধারণের জন্য হয়, তবে তা কখনোই পূর্ণতা লাভ করতে পারে না। কাজের সাথে আন্তরিকতা এবং হৃদয়ের যোগাযোগ থাকতে হবে। আল-মুস্তাফা বলেন, ‘যতটুকু আপনার কাজের মধ্যে আনন্দ ও ভালোবাসা যুক্ত হবে, ততটুকু তা আপনার আত্মাকে পূর্ণতা দেবে।’
স্বাধীনতা কী : আল-মুস্তাফা তার উপদেশে স্বাধীনতার ওপরও গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা শুধু বাহ্যিক মুক্তি নয়, এটি অন্তরের মুক্তি।’ বাস্তব জীবনে আমাদের অনেক কিছুই সীমাবদ্ধ থাকে, পারিবারিক, সামাজিক বা রাজনৈতিক বাধা। কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা আসে আমাদের চিন্তাধারা এবং হৃদয়ের অভ্যন্তরীণ মুক্তি থেকে। আমাদের উচিত আমাদের সত্যিকার স্বাধীনতা খুঁজে বের করা, যা আমাদের আত্মার গভীরে লুকিয়ে আছে।
মৃত্যু সম্পর্কে : মৃত্যু নিয়ে আল-মুস্তাফার উপদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘মৃত্যু জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি আসলে একটি নতুন যাত্রার সূচনা।’ মৃত্যুকে ভয় না পেয়ে, তাকে স্বাভাবিক জীবনচক্রের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। জীবনের সমস্ত সংকট, আনন্দ ও যন্ত্রণা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায় এবং মৃত্যুর মধ্যে নতুন জীবন, নতুন অভিজ্ঞতা এবং নতুন জ্ঞান বিরাজমান। আলমুস্তফা বলেন, ‘যত বেশি আপনি মৃত্যুর দিকে ঝুঁকবেন, তত বেশি জীবনের গভীরতা অনুভব করবেন। মৃত্যু কোনো শেষ নয়, এটি একটি নতুন সূচনা।’
খলিল জিবরানের দ্য প্রফেট, ‘ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ’ : খালিল জিবরানের দ্য প্রফেট ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এতে অনেক বিষয় ইসলামের মূল শিক্ষার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। জিবরানের লেখা ভালোবাসা, বিবাহ, কর্ম এবং ন্যায়বিচারের ওপর যে দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে, তা ইসলামের তাওহিদ, দয়া এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ধারণার সাথে মেলে। ইসলামে ভালোবাসা আল্লাহর প্রতি আনুগত্য এবং মানুষের প্রতি সহানুভূতির প্রতীক। জিবরান ভালোবাসাকে একটি শক্তিশালী এবং গভীর অনুভূতি হিসেবে তুলে ধরেছেন, যা জীবনকে আলোকিত করে। ইসলামেও ভালোবাসা মানবিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া জিবরান ন্যায্যতা ও মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্বের কথা বলেছেন। ইসলামে ন্যায়বিচারকে আল্লাহর অর্জনের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়। কুরআনে এবং হাদিসে ন্যায়বিচারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেমন ‘ন্যায়বিচার করা একটি ইবাদত।’ (তিরমিযী)। দুঃখ এবং আনন্দের ব্যাখ্যা জিবরান বলেছেন, ‘তোমার দুঃখ, তোমার আনন্দের মুখোশহীন গভীরতা’, যা ইসলামের দৃষ্টিকোণেও সঙ্গতিপূর্ণ। ইসলাম দুঃখকে পরীক্ষা হিসেবে এবং আনন্দকে আল্লাহর অনুগ্রহ হিসেবে দেখতে শেখায়। কুরআনেও বলা হয়েছে, ‘কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে’। (আল কুরআন)।
বইটির শক্তি ও আকর্ষণীয় দিক হলো বইটি ছোট ছোট অধ্যায়ে বিভক্ত, যেগুলোর প্রতিটি অধ্যায় মানবজীবনের কোনো না কোনোদিক নিয়ে আলোচনা করে। এতে নৈতিকতার, ভালোবাসার, মানুষের সম্পর্ক, কর্মের মূল্য এবং মৃত্যুর মতো গভীর আধ্যাত্মিক প্রশ্নের প্রতি আল-মুস্তাফার দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে। দ্য প্রফেট শুধু একটি সাহিত্যকর্ম নয়, এটি একটি জীবনযাত্রার দর্শনও বটে। এর প্রতিটি অধ্যায় একজন পাঠককে তার নিজের জীবন সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করে এবং প্রতিটি অধ্যায় একেকটি জীবনবোধের অনুপ্রেরণামূলক উপদেশ, যা মানবজীবনের উদ্দেশ্য, সম্পর্ক এবং আধ্যাত্মিকতার গভীরে নিয়ে যায়।