রাষ্ট্র পরিচালনায় মিডিয়ার ভূমিকা, করণীয় ও প্রস্তুতি
২৮ নভেম্বর ২০২৫ ১০:৪৭
॥ ফজল মুহাম্মদ ॥
১৯৭৫ সালের আগস্ট বিপ্লব-উত্তর পরিবেশে দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকাটি যখন ১৯৭৭-৭৮ সালে বংশাল রোডের বলিয়াদী প্রেস থেকে পুনরায় ছাপা হওয়া শুরু হয়েছে; সেই তখন থেকেই আমি দৈনিক খবরের কাগজের দফতরে আনাগোনা শুরু করি। তখন অনেক ছোট ছিলাম। ছাত্র ছিলাম। এছাড়া মাহে নও পত্রিকা, মাসিক মদীনা, মাসিক পৃথিবী, মাসিক কলম, মাসিক সবুজ পাতা, ঢাকা ডাইজেস্টসহ বিভিন্ন সাময়িকীর সাথে ঘনিষ্ঠ পাঠক হিসেবে নিজেকে জড়িয়ে ফেলি। এভাবে ছাত্রজীবনের ভরা যৌবনে ১৯৮৬ সাল থেকে সরাসরি খবর তথা সংবাদজগতে নিজের সত্তাকে অঙ্গাঙ্গিভাবে সম্পৃক্ত করি। এরপর ১৯৯০ দশকে স্বৈরাচারী জেনারেল এরশাদবিরোধী রাজপথের আন্দোলনে কলমসৈনিক হিসেবে নিজেকে ব্যস্ত রাখি। ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সাংবাদিকতা বিষয়ে সেমিনার, সিম্পোজিয়ামসহ বিভিন্ন কোর্সে অংশ নিতে সার্কভুক্ত দেশসমূহ; আসিয়ানভুক্ত দেশ, ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ বিভিন্ন আরব দেশ ও সফর করি। ২১ জুন ২০০০ সালে দুনিয়ার অন্যতম ধনী রাষ্ট্র এ-ঝবাবহ কানাডায় ফুল ফেলোসিপ নিয়ে ঢাকা ত্যাগ করি। সেই অবধি এখনো কানাডাপ্রবাসী বিগত ছাব্বিশ বছর যাবত। ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নসহ পূর্ব ইউরোপের কমিউনিস্ট রাষ্ট্রগুলোর সরকারের পতন ঘটলে উত্তর আমেরিকার পেন্টাগন এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বিদ্যমান (ওদের আমেরিকার) পররাষ্ট্রনীতি ও পর্দার আড়ালের নিরাপত্তা নীতির কৌশলে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটায়। তাছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডালার মুক্তি এবং ম্যান্ডেলার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবার পর ওয়াশিংটনের পুজিবাদী দুনিয়ায় একক তথ্য নিয়ে পুঁজিবাদী কর্পোরেট দানব তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং ঐ ধারাবাহিকতায় এক সময়ের কমিউনিস্ট দুনিয়ার নিকটবর্তী বন্ধু রাষ্ট্র (ভারতের) দিল্লির কাছে দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলো আমেরিকা ইজারা দিয়ে ফেলে। এরপর আমেরিকা নিজেই তৈরি করে নাইন-ইলেভেন ২০০১ সালের সাজানো নিউইয়র্ক নাটক। ঈড়ষফ ডধৎ তথা সোভিয়েত ইউনিয়ন আমলে ওয়াশিংটন আরব দেশের কতিপয় রাজা-বাদশাহর মাধ্যমে মুসলিম দুনিয়ার বিভিন্ন ইসলামী দলগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতো। কিন্তু যখন কমিউনিস্ট দেশগুলোর সরকারের পতন ঘটে গেছে; তখন থেকেই আমেরিকার তলোয়ার ডধৎ ড়হ ঞবৎড়ৎ নামে ইসলাম আর মুসলিম কুপিয়ে হত্যা শুরু করেছে। ইরান, ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, সুদান, সোমালিয়া, পাকিস্তান, আলজেরিয়া, তিউনিশিয়া, ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশের ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা নানামুখী গোপন চক্রান্ত করছে বা করে যাচ্ছে। ঐ ধারাবাহিকতায় ভিনদেশি এজেন্ট দৈনিক প্রথম আলো তথাকথিত যুদ্ধাপরাধী বয়ান দিয়ে জামায়াতের শীর্ষনেতাদের ফাঁসির প্রচারণা শুরু করে। আর ঐ দিকে আরব বসন্তের কারণে ইখওয়ানুল মুসলিমীন আর জামায়াত ইসলামীর ওপর কতিপয় আরব রাজা-বাদশাহ গণবিরক্তি প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনকে কোনো দেশভিত্তিক বা ভাষাকেন্দ্রিক আন্দোলনে সীমাবদ্ধ রাখা বা চিন্তা করার কোনো শরিয়াহ হুকুম নেই। দুনিয়ার সব দেশের ইসলামী আন্দোলন বিশ্বজনীন এবং মুসলিম ও মজলুম মানুষের নিরাপত্তার ভরসাস্থল। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলন এখন অনেক বেগবান এবং সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনায় এ দেশের ইসলামী আন্দোলনকে এখন; প্রস্তুতি নিতে হবে। আমি যেহেতু আপাদমস্তক একজন মিডিয়ার কর্মী এবং মিডিয়ার বদৌলতেই পশ্চিমা বিশ্বের অলিগলিতে চলাফেরা করেছি এবং করছি সেই হিসেবে এ বিষয়ে আমার কিছু মতামত দিতে চাই। আমি প্রতি বছরই নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে কানাডা থেকে বাংলাদেশে সফরে আসি। এ বছরেও এসেছি; আল্লাহর অপার মেহেরবানিতে। বাংলাদেশে আমার অবস্থানকালীন পর্যবেক্ষণে যা দেখছি যে, বাংলাদেশের প্রধান ইসলামী দলটি জনমতের সব সূচকে অগ্রগামী এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হবে; ইনশাআল্লাহ। যদি না বিশ্ব মোড়ল রাষ্ট্রের উববঢ় ঊংঃধনষরংযসবহঃ বাড়া ভাতে ছাই না দেয়।
বাংলা বাগধারা আছে যে ঘরের শত্রু বিভীষণ। বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলন এদেশের বিভিন্ন মিডিয়া হাউসের তথ্য গুজব নিউজের শিকার। এমতাবস্তায় আধুনিক ডিজিটাল যুগের বিভিন্ন মিডিয়ার অপপ্রচার মোকাবিলায় রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী আন্দোলনের সরকারকে আটঘাট বেঁধে মিডিয়াজগতের সকল সেক্টরে কাজের পরিধি বাড়াতে হবে। যেহেতু বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তারুণ্যের বিশাল শক্তি ইসলামী ছাত্র আন্দোলনকে বিজয়ী করেছে, সেহেতু আমি মনে করি মিডিয়াজগতের সকল সেক্টরে কাজ করার মতো আমাদের বিশাল তরুণ বাহিনী তৈরি হয়েছে। তাছাড়া আমিসহ যারা ১৯৮৭ সালে ঢাকার ৩৭ এলিফ্যান্ট রোডে ঢাকা সাংবাদিক ফোরাম প্রতিষ্ঠা করেছিলাম; আমাদের গড়া এ ফোরামের ছেলেরা দেশে-বিদেশে যোগ্যতার সাথে মিডিয়াজগতে কাজ করে যাচ্ছে; তাদেরও মিডিয়া সেক্টরে পদপদবি ও দায়িত্ব দিয়ে কাজে লাগাতে হবে। এ মুহূর্তে এ পরিকল্পনা নেওয়া ও বাস্তবায়ন করা এক নম্বর জরুরি কাজ।
* ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচিত সরকারকে বা এ দলের কর্মসূচি দেশে-বিদেশে বাধাহীনভাবে প্রচার ও প্রকাশ করতে হলে আমাদের বিভিন্ন বিভাগে মিডিয়া টুল স্থাপন করতে হবে।
যেহেতু এদেশের প্রধান ইসলামী দলটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নির্বাচিত হতে যাচ্ছে ইনশাআল্লাহ, সেহেতু আমি মিডিয়া সম্প্রসারণে নিচের পরামর্শ তুলে ধরলাম। আশা করছি, এ দেশের ইসলামী আন্দোলনের উঊঊচ ঊঝঞঅইখওঝঐগঊঘঞ-এর মিডিয়া সেল এই বিষয়ে অতি দ্রুত পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। ১. বাংলাদেশের চৌষট্টি জেলার বিভিন্ন জেলা শহরে কমপক্ষে এক বা একাধিক ভালোমানের লোকাল দৈনিক পত্রিকা বের করতে হবে এবং এর মাধ্যমে স্থানীয় নেতাদের সকল প্রকার খবর প্রকাশ ও প্রচার করতে হবে। প্রতিটি সাংগঠনিক শাখা ডিজিটাল মিডিয়া উইং অনুসন্ধানী রিপোর্টার তৈরি করবে এবং জেলা সদর ও উপজেলাসহ বিভিন্ন পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে উন্নয়নে ব্যাপক আকারে রিপোর্ট প্রকাশ করার মিডিয়া সেল সচল রাখবে।
২. দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে বেসরকারি টিভি চ্যানেল আলাদা আলাদাভাবে চালু করতে হবে এবং মানুষের কাছে ইসলামী আন্দোলনের সকল কর্মসূচি তুলে ধরতে হবে এবং রাসূল (সা.)-এর সিরাতের ওপর ধারাবাহিক ডিজিটাল প্রচারণা চালাতে হবে।
৩. জাতীয়ভাবে ঢাকা থেকে কমপক্ষে পাঁচটি ভালোমানের দৈনিক পত্রিকা বের করতে হবে। যারা অনুসন্ধানী রিপোর্টে দেশের শীর্ষে থাকবে।
আইবিসিবি
৪। দেশে বিদ্যমান বিভিন্ন সেকুলার মিডিয়া টিভি চ্যানেলগুলোয় যাতে ভবিষ্যতে ইসলামবিদ্বেষী বা ঈমানবিরুদ্ধ কোনো নাটক, সিনেমা ইত্যাদি প্রচার না করে; ইসলামী মূল্যবোধ বিষয়ে নাটক ও সিনেমা প্রচার করা যায় সেজন্য জাতীয়ভাবে স্বীকৃত ও সম্মানজনক লোকজন নিয়ে গঠন করে কাজ শুরু করতে হবে।
৫. দেশের সকল তারুণ্য শক্তিকে সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মে ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপসসহ বিভিন্ন সামাজিক ইতিবাচক কাজে নিয়োজিত করতে হবে।
৬. ইসলামী আন্দোলনের ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডভিত্তিক ইউনিটে একটি গণমাধ্যম ইউনিট থাকতে হবে; যারা ত্বরিতগতিতে মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও জুলুমবাজির খবরগুলো দূরীকরণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে নিয়ে আসবে।
তৃণমূল সাংবাদিকরা জাতির খবর প্রচারের রক্ত ধমনী
৭. বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন এবং পাঁচশত থানা-উপজেলা আছে। এসব বিস্তীর্ণ এলাকায় একটা বিশালসংখ্যক সাংবাদিক আছেন; যারা তৃণমূল সংবাদ কর্মী। যারা ঐতিহাসিকভাবেই ঢাকা বা জেলা শহরের সাংবাদিকদের তুলনায় উপেক্ষিত, অবহেলিত। যারা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে সংবাদ সংগ্রহ করে এবং খবর লেখে; দুঃখজনক হলেও এসব তৃণমূল সাংবাদিকরা যথারীতি বেতন-ভাতাদি পায় না। বাধ্য হয়ে অনেক তৃণমূল সাংবাদিক পেটের দায়ে স্থানীয় গডফাদার আর চাঁদাবাজ গংয়ের কাছে টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়ে যায় এবং ফরমায়েশি অসত্য বা মন গড়া রিপোর্ট করতে বাধ্য হয়। এ অনৈতিক সাংবাদিকতার কালচার দূর করতে ইসলামী আন্দোলনের মিডিয়া উইং দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন, থানা, উপজেলা, পৌরসভায় কমপক্ষে তিনজন তরুণ সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দেবে। সারা দেশে এ সংখ্যাটা পনেরো থেকে আঠারো হাজার হতে পারে এবং এ আঠারো হাজার তরুণ যেন গাঁও-গেরামের তৃণমূল সাংবাদিকতায় টিকে থাকতে পারে; সেজন্য ওদের জন্য বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে। সংগঠনের থানা, জেলা, বিভাগের শাখাগুলো খুব সহজেই বেতন-ভাতার এ টাকা জোগাড় করতে পারে। আমার ব্যক্তিগত মতামত একটা জনসভা করতে একটা জেলা সদরে পঞ্চাশ লাখ টাকা খরচ না করে এই টাকার একটা অংশ যদি জেলা উপজেলার লোকাল তৃণমূল সাংবাদিকদের রুজি-রোজগারের জন্য সংগঠন খরচ করে, তাহলে সারা বছর সাংগঠনিক খবরাখবর জনগণের দৌরগোড়ায় পৌঁছে যাবে; খুবই অনায়াসে।
৮. ডিজিটাল প্রযুক্তির বদৌলতে সারা দুনিয়ার মিডিয়াজগতে সোশ্যাল মিডিয়ার একটা বিশাল ও বিরাট প্রভাব পড়েছে। সাম্প্রতিক হামাস ও ইসরাইল যুদ্ধে কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বের বাঘা বাঘা করপোরেট মিডিয়াগুলোর হাজারো মিথ্যা বা অর্ধমিথ্যা খবরের মোকাবিলায় হামাসের সোশ্যাল মিডিয়ার কৌশল বিশ্ব জনমত গঠনে জায়নিস্ট ইসরাইলের বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের দামাল ছেলে-মেয়েরা শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধেও ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছে; তাদের হাতে থাকা সামান্য একটা মোবাইল ফোন ডিভাইসের মাধ্যমে। বাংলাদেশের প্রধান ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মিডিয়া উইং যদি আমাদের তারুণ্য শক্তিকে পরিকল্পনা মাফিক এ কাজে সহযোগিতা করতে পারে; তাহলে আমি মনে করি আমাদের তরুণ বাহিনী দক্ষিণ এশিয়ার এ বাংলা জনপদকে দুনিয়ার সামনে সুলতানী বাংলার মতো একটি সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবে, ইনশাআল্লাহ।
৯. আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট প্রচার মাধ্যম থাকা জরুরি : রাষ্ট্র পরিচালনা করতে যেমন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সংহতি জোরালো থাকা চাই; তেমনিভাবে দুনিয়ার বন্ধু রাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে ইসলামী আন্দোলন তথা এ সরকার গঠিত হবার আগে থেকেই স্যাটেলাইট মাধ্যমে বাইরের দুনিয়ায় আমাদের কথা, কাজ, মেসেজ এগুলো কমপক্ষে কয়েকটি ভাষায় খবর প্রকাশ ও প্রচারের কার্যকর উদ্যোগ কালবিলম্ব না করে নেওয়া উচিত। আমাদের সংগঠন যদি এ মুহূর্তে নিজস্ব স্যাটেলাইট ইউনিট মহাবিশ্বে স্থাপন করতে না পারে; তাহলে বিভিন্ন দেশের সরকার বা বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে ভাড়ার ভিত্তিতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আমাদের খবরগুলো ইংরেজি; আরবি, উর্দু, চাইনিজ আর প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বাংলা ভাষার মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করা। এ বিষয়ে তুরস্ক, মালেশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন, থাইল্যান্ডের সাথে অতি তাড়াতাড়ি যোগাযোগ শুরু করা।
এক থেকে দেড় কোটি প্রবাসীর হাজারো লাখো দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা। এজন্য প্রবাসীদের মানব উন্নয়ন, পেশাগত উন্নয়ন এবং আদম দালাল চক্রের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য খোদ প্রবাসীদের জন্য একটি বিশেষ টিভি চ্যানেল করা এবং প্রবাসীদের হাসি কান্নার আওয়াজ তুলে ধরা।
প্রবাসীদের মাঝেও মিডিয়াকর্মী নিয়োগ দেওয়া
১০. দুনিয়ার দেশে দেশে নিজস্ব মিডিয়া ইউনিট তথা মিডিয়াকর্মী নিয়োগ করতে আমাদের তারুণ্য শক্তিকে পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমরা যখন সেই ১৯৮৭ সালে ৩৭ এলিফেন্ট রোডে ঢাকা সাংবাদিক ফোরাম (উঔঋ) গঠন করি : তখন থেকেই আমি একটা পূর্ণাঙ্গ মিডিয়া ইউনিভার্সিটি স্থাপনের স্বপ্ন দেখতাম। আলহামদুলিল্লাহ, ২০২২ সালে সুলতানী বাংলার রাজধানী ঐতিহাসিক সোনারগাঁ শহরের পাশ দিয়ে বহমান ইবনে বতুতার নহর উল আজরক তথা আজকের মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত আমাদের নিজ গেরাম নুনেরটেকে, আমাদের নিজেদের দশ বিঘা জমির ওপর একটা মিডিয়া ইউনিভার্সিটি স্থাপনের ভিত্তিপ্রস্তর করা হয়েছে। আমি আশা করছি, আমার অনুজ যারা ১৯৮৭ সালের পর থেকে ঢাকা সাংবাদিক ফোরাম প্রতিষ্ঠার পর মিডিয়া জগতে এখনো কর্মরত; তাদের সবাইকে এ প্রস্তাবিত মিডিয়া টেক ইউনিভার্সিটির সকল কাজে পাশে পাব।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকল নেক নিয়তগুলো কবুল করুক। আমীন।
লেখক : কানাডাপ্রবাসী সাংবাদিক। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের দমনমূলক কূটনীতি- বইয়ের লেখক।