রাজস্ব না বাড়ায় ঋণ করছে সরকার

অতিথি প্রতিবেদক
২ অক্টোবর ২০২৫ ১২:০৬

সরকারের ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ॥ অতি ধনী ও শিল্পপতিরা কর ফাঁকি দিচ্ছেন ॥ সরষেই ভূত নাকি সক্ষমতার অভাব

॥ উসমান ফারুক॥
আঠারো কোটি মানুষের দেশে মাত্র ১ কোটি ১১ লাখ কর দেওয়ার জন্য নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন করেছেন। তার মধ্যে মাত্র ৩৫ শতাংশ বা ৪০ লাখ কর দেন। অবশিষ্ট ৬৫ শতাংশই বছর শেষে কর দেন না। অথচ দেশে কর্মক্ষম জনবল বা শ্রমশক্তির পরিমাণ ৮ কোটি। এর মধ্যে ১০ লাখের বেশি সরকারি কর্মচারী। যদি নিবন্ধনকারী (টিআইএনধারী) সবাই বছর শেষে কর দেন, তাহলেও রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বেড়ে যায়। অন্যদিকে শিল্প প্রতিষ্ঠান ও অতি ধনীরা যে পরিমাণ কর দেন, তা আয় হিসেবে সঠিক কি না, সেই প্রশ্নটিও উঠেছে। গবেষণা বলছে, অতি ধনীদের মধ্যে ৮৭ শতাংশই কোনো প্রকার করই দেন না। আবার যারা দেন, তাদের কাছ থেকে প্রাপ্য করের পরিমাণ কিছু অসৎ কর্মকর্তা ঘুষের বিনিময়ে কমিয়ে দেয়ার ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। এ অবস্থার মধ্যেও প্রতি বছরে ব্যবসায়ীরা দেড় লাখ কোটি টাকার কর ছাড় সুবিধা নিচ্ছেন গরিব এ রাষ্ট্র থেকে। এর সঙ্গে কর ভর্তুকি বা প্রণোদনা নিচ্ছেন আরো এক লাখ কোটি টাকা।
সব মিলিয়ে বছরে আড়াই লাখ কোটি টাকার কর সুবিধা নিচ্ছেন প্রভাবশালী এ ব্যবসায়ীরা। এসব সুবিধা বাতিল ও সৎ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিলে দেশের রাজস্ব আদায় নিয়ে এত কষ্ট পোহাতে হতো না। প্রতি বছরে আড়াই লাখ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট দিতে হতো না। পাশাপাশি কর আদায় বাড়াতে হয়রানি বন্ধ, অনলাইন ব্যবস্থা জোরদার ও কর হিসাব প্রক্রিয়া আরো সহজ করে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। একইসঙ্গে কালো টাকা বাজেয়াপ্ত, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, সম্পদ কর আদায়, অতিরিক্ত মুনাফার ওপর কর বসানো, বিলাসী পণ্যের ওপর কর হার বাড়ানো ও বিদেশি নাগরিকদের কর ফাঁকি রোধ করতে পারলে দেশের রাজস্ব আদায় বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন তারা।
রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি : টানা ১৩ বছর ধরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সদ্য বিদায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এনবিআর কর আদায় করে তিন লাখ ৭০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। এটি সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা কম। অর্থবছরটিতে সরকার চার লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা কর আদায়ের লক্ষ্য রাখলেও শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকা করে।
সেই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই ও আগস্ট) রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি থাকলেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড় ধরনের ঘাটতি থেকেই গেছে। গত দুই মাসে রাজস্ব আদায় হয় গত বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেশি। তবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঘাটতির পরিমাণ ৬ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। রাজস্বে লক্ষ্য ছিল মোট ৬১ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু আদায় হয় মাত্র ৫৪ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা।
প্রতি বছরে ৯২ হাজার কোটি টাকার বেশি ঘাটতি থাকলেও আড়াই লাখ কোটি টাকার করছাড় সুবিধা নিচ্ছে শিল্পপতিরা। অথচ এই করছাড় না দিলে সরকারের ঋণ নেয়া লাগতো না, প্রতি বছর নতুন করে করহার বাড়ানোর দরকার হতো না।
কর দেন না ধনীরা
কর পরিস্থিতি নিয়ে এনবিআরের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। গত বাজেট আলোচনার সময়ে দেয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এ দেশে মাত্র ১৮ লাখ মানুষ নিয়মিত কর দেন অর্থাৎ তারা সবসময়ই কর দেন। কোনো বছরে শূন্য রিটার্ন হয় না তাদের। এর মধ্যে ১০ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং অন্যান্য চাকরিতে নিয়োজিত আছেন। দেশে ধনী ও উচ্চমধ্যবিত্তদের মধ্যে আয়কর প্রদানকারীর সংখ্যা ৯-১০ লাখ হবে। এ সংখ্যা হওয়ার কথা ৭৮ লাখ ৩২ হাজার। এর মানে ধনী ও উচ্চমধ্যবিত্তদের ৮৭ শতাংশ কোনো ধরনের আয়কর দেন না।
বিশাল অঙ্কের করছাড়
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তৈরি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩-২৪ এর তথ্য বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে করছাড় এক লাখ ৭৮ হাজার ২৪১ কোটি টাকা হয়। এর সঙ্গে কর ভর্তুকির পরিমাণ যোগ করলে তা দাঁড়াবে দুই লাখ ৮৯ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে করছাড় হয় ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। কর ভর্তুকি হিসাব করলে তা বাজেট ঘাটতি অর্থাৎ আড়াই লাখ কোটি টাকার চেয়েও বেশি।
আর আগের তথ্য হিসাব করলে দেখা যায়, এনবিআরের হিসাবেই গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ছাড় ছিল এক লাখ ২৫ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। পরের অর্থবছরে তা দাঁড়ায় এক লাখ ১৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছাড় ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা।
তথ্যানুযায়ী, শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন খাত ধরে করছাড় দেওয়া হয়। এর মধ্যে রপ্তানীকারকদের নগদ রপ্তানি সহায়তায় ২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা, শিক্ষায় ২৮৪ কোটি টাকা, লভ্যাংশ খাতে ২ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা, আইটি ও সফটওয়্যার খাতে ১ হাজার কোটি টাকা করছাড় দেওয়া হয়েছে ওই অর্থবছরে।
এছাড়া পোলট্রি ও মৎস্য চাষে ২ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা, পোশাক ও বস্ত্র খাতে ৪ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে ৪ হাজার ২২ কোটি টাকা, জ্বালানি ও খনিজ খাতে ৭ হাজার ৬১১ কোটি টাকা, রেমিট্যান্সে ১১ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা, ক্ষুদ্র ঋণে ১১ হাজার ১৩৪ কোটি টাকা, শেয়ার হতে মূলধনি আয়ে ১২ হাজার ১২৩ কোটি টাকা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এই টাকা চলে যাচ্ছে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের পকেটে।
এনবিআরের সাবেক সদস্য শামস উদ্দিন জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ভাতা, বিমান ভাড়া ও আনুতোষিক করমুক্ত রাখা হয়েছে। কয়েকটি খাত ও শিল্পেও আছে ট্যাক্স হলিডে, কোনো করই নেওয়া হয় না তাদের থেকে। এসব খাত থেকে কর আদায় করা সম্ভব। শুধু নতুন খাতকে বড় করতে বা বিশেষ কোনো সুবিধা দিতে এই কর সুবিধা দেয়া যেতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই কর সুবিধা নিয়ে আসছে অনেক খাতের ব্যবসায়ীরা।
করছাড় কমিয়ে আনার সুপারিশ
বিশ্বের যেসব দেশে কর-জিডিপি অনুপাত সবচেয়ে কম, বাংলাদেশ সেগুলোর অন্যতম। এখন মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির তুলনায় কর আহরণ মাত্র ৮ শতাংশের মতো। এটি বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার পরামর্শ দীর্ঘদিনের। কর আদায় কম হওয়ায় বাংলাদেশ উচ্চ হারে শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক আদায় করে। এটি বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে বলে মত দিয়ে আসছেন অর্থনীতিবিদরা। যদিও জিডিপির হিসাব নিয়ে গরমিল করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। বাড়িয়ে দেখানোর কারসাজি শেষ পর্যায়ে ধরা পড়ে আওয়ামী লীগ সরকার। সেই তথ্য সংশোধন করলেও জিডিপির অনুপাতে কর আদায় পরিমাণ খুব একটা বাড়বে না। হয়তো ১০ শতাংশ হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেছেন, প্রতি বছর ২০ লাখ লোককে করের আওতায় আনতে হবে, যেন যারা কর দিচ্ছে শুধু তাদের ওপরই করের বোঝা না পরে। সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ পাচারকারীদের ধরার ব্যাপারেও উৎসাহিত করতে হবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কর আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর পাশাপাশি এনবিআরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে সুবিধা দিয়ে আসা খাতগুলো থেকে ধীরে ধীরে করছাড় প্রত্যাহার করে নিতে হবে। করছাড় দেওয়ার কারণে বাজেট ঘাটতি বেড়ে যাচ্ছে। সেই ঘাটতি পূরণে সরকারকে আবার ঋণ করতে হচ্ছে। বেশি বেশি ব্যাংক ঋণের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ চাপে পড়ছে; ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি কমছে। রাজস্ব আদায়ে তা প্রভাব রাখছে। পাশাপাশি সেই ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে পরের বাজেট বিপুল চাপে পড়ছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) জ্যেষ্ঠ গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান সব করছাড় পুরোপুরি একবারে তুলে না দিয়ে ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে তুলে দেয়ার পক্ষে। দেশের পোশাক খাত গত ৫০ বছর ধরেই সুবিধা পেয়েই নিজ পায়ে দাঁড়াতে পারছে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, কতদিন এ সুবিধা নিয়ে পোশাক খাত চলবে। তাদের তো এখন দেশকে দেয়ার সময় হয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশেই করমুক্ত আয় সীমা রয়েছে। আবার রেমিট্যান্সেও কেন কর হবে? তাদের আয় তো এদেশে হচ্ছে না, বিদেশে তো তারা কর দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ব্যক্তি পর্যায়ের করছাড়ের তুলনায় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কয়েকটি খাত বছরের পর বছর ছাড় পেয়ে আসছে। তা ধীরে ধীরে তুলে নিতে হবে, এর পরিমাণই বেশি। তৈরি পোশাক খাত, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র, কৃষি খাতে নাম লিখিয়ে করপোরেট কোম্পানি ও রপ্তানি খাতের সবচেয়ে বেশি করছাড় পাচ্ছে। তাদের তো কর সুবিধা দেয়ার কথা না।
তৌফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষককে সুবিধা দিতে কৃষি খাতকে করমুক্ত রাখা হয়েছিল। একজন প্রান্তিক কৃষক খুব বেশি আয় করতে পারেন না। এখন করপোরেট প্রতিষ্ঠান কৃষিতে বিনিয়োগ করে সেই সুবিধা নিচ্ছে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য তো করছাড় সুবিধা দেওয়ার কথা না, এটি তুলে নিতে হবে।
তবে হুট করে কিছু করা উচিত না মত দিয়ে তিনি বলেন, হুট করে তো চালু থাকা করছাড় বন্ধ করা যায় না। তাহলে ব্যবসায়ীরা কীভাবে পরিকল্পনা সাজাবেন। তাদের তো আগেই জানাতে হবে, কবে থেকে কতটা করছাড় তোলা হবে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও কর সুবিধা বন্ধ করার সুপারিশ
করছাড় বন্ধ হলে অর্থনীতিতে এর কী প্রভাব হবে, সেই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, করছাড় বন্ধ হলে মোটাদাগে জনগণের লাভ ও লোকসান কোনোটিই হবে না। সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে মূল্যস্ফীতি এত হবে না। জনগণ সরকারকে প্রশ্ন করতে পারবে, করের টাকা কোথায় খরচ করছে। এতে সরকারের জবাবদিহি বাড়বে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
তিনি বলেন, এখন কাউকে বেশি, কাউকে কম ছাড় দিচ্ছে, এতে বৈষম্য তৈরি হয়, দুর্নীতির সুযোগ থাকে। আমাদের প্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থার দিকেই যেতে হবে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, করছাড় মানে হলো এনবিআর যে কর পাওয়ার কথা ছিল তা আদায় না করে ছাড় দিচ্ছে। সরকার একদিকে বলছে, রাজস্ব বাড়াতে আবার করছাড় সুবিধা অব্যাহত রেখেছে। করছাড় দিলে এখানে দুর্নীতির সুযোগ থেকে যায়। কারণ কে কত ছাড় পাবে, তা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হচ্ছে। এখানেই দুর্নীতির জন্ম হয়।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজস্ব আদায় করতে না পারায় সরকার প্রতি মাসেই ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে। এতে সরকারের সুদ ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ব্যাংকগুলো ব্যবসায়ীদের বদলে সরকারকে ঋণ দিচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা ঋণ পেতে তদবির করছে। এ সুযোগে সুদের হার বাড়িয়ে দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। ফলে ঋণের সুদহার নিয়ে ব্যাংকের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে ব্যবসায়ীরা। এতেই পণ্য উৎপাদন ও আমদানি খরচ বেড়ে গেছে, যা মুদ্রাস্ফীতিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে লাগাম টানতে পেরেছে মূল্যস্ফীতিতে। বেসরকারি খাতে ঋণ কমে যাওয়ায় ভোক্তা ব্যয় কমছে এবং প্রবৃদ্ধি ও নতুন কর্র্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত, যা মূল কর্মসংস্থানের উৎস, সবচেয়ে বেশি তহবিল বঞ্চিত হচ্ছে।
এজন্য করছাড় বন্ধের পাশাপাশি এনবিআরে সৎ ও দক্ষ জনবল নিয়োগ দিতে হবে। গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়িয়ে ঘুষ লেনদেনকারী আরো কর্মকর্তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। কর ফাইল নিয়ে যেন বাণিজ্য না হয়, তা বন্ধ করতে সরকারকে আন্তরিক হওয়ার পাশাপাশি সৎ কর্মকর্তাদের প্রণোদনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

রাজস্ব না বাড়ায় ঋণ করছে সরকার