কোন পথে আসতে পারে কাক্সিক্ষত রাষ্ট্র
১০ এপ্রিল ২০২৫ ১৩:১৩
॥ ফেরদৌস আহমদ ভূইয়া ॥
রাষ্ট্র ও সরকার জনগণের জন্য, আর জনগণের জন্যই রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থার উদ্ভব। বিশ্বে বহুকাল ধরে অনেক জনপদের মানুষ রাষ্ট্র ও সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে বাস করে তাদের জীবনযাপন সুখে-শান্তিতেই কাটিয়েছে। আধুনিক বিশ্বে এখনো এমন কিছু জনপদ আছে, যারা রাষ্ট্র ও সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে আছে। তারাও স্বাভাবিক জীবনযাপন করে। তারা যেমন রাষ্ট্র ও সরকার থেকে কোনোরকম সুবিধা নেয় না, তেমনি তারা রাষ্ট্রকে কোনো কর দেয় না। মাত্র একশত বছর আগেও ভারতবর্ষেই অনেকগুলো রাজ্য ছিল, যারা ভারত রাষ্ট্রকে সামান্য কর দিয়ে রাজারাই রাজ্যগুলো শাসন করতো। আর ঐসব রাজ্যের প্রজাদের অধিকাংশই প্রাকৃতিক উপায়ে চাষবাস করে জীবনযাপন করতো। তাদের রাজাদের না দিতে হতো কোনো কর বা খাজনা আবার তারা না নিত রাজাদের কাছ থেকে কোনো সুযোগ-সুবিধা।
রাজা-মহারাজা বলি, আর প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী বলি, তারা কী করেন, কীভাবে করেন, কোন আইনে দেশ চালাচ্ছেন- এসব নিয়ে একসময় প্রজা বা নাগরিকদের কোনো চিন্তাভাবনা ছিল না। রাজারা রাজ্য চালাতেন আর প্রজা বা নাগরিক বা সাধারণ মানুষ তাদের নিজের আনন্দে নিজেদের জীবনযাপন করতেন। একটা সময় আসলো রাজারা প্রজাদের ভূমি তথা জমি দখল করতে লাগলো আর বললো এ জমি চাষ করে ফসল ফলানোর পর তোমাদের ফসলের একটি অংশ রাজাকে দিতে হবে। এভাবে প্রজাদের ওপর রাজা বা শাসকরা বিভিন্নভাবে কর, শুল্ককর ও খাজনার নামে বিভিন্নভাবে অর্থ আদায় করতে থাকে। একপর্যায়ে প্রজারা অতিরিক্ত কর প্রদানে অসম্মতি জানাতে থাকে। বিরোধ তৈরি হতে থাকে রাজা ও প্রজাদের মধ্যে। প্রজারা বলতে থাকেন দেশ তথা রাষ্ট্র শুধু রাজারা চালাবেন কেন- এটা তো উনাদের একক মালিকানার দেশ নয়। দেশের মালিকানা তো আমাদেরও আছে। তাই কালের পরিক্রমায় রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রজা তথা জনগণের অংশগ্রহণ শুরু হলো। জনগণের মতামতে ভিত্তিতে রাষ্ট্রের প্রধান থেকে শুরু করে পরিষদবর্গ মনোনয়ন ও নির্বাচন শুরু হলো। প্রথমদিকে শুধুমাত্র রাজধানী শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মতামতের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রের কর্ণধাররা নির্বাচিত হতেন। একপর্যায়ে সারা দেশের সাধারণ জনগণের ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পার্লামেন্ট নির্বাচন পদ্ধতি শুরু হয়। যেটা হচ্ছে আধুনিক কালের পাশ্চাত্য ধাঁচের গণতন্ত্র।
পাশ্চাত্য ধাঁচের গণতন্ত্রে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের জন্য ব্যক্তিকে নিজ উদ্যোগে বা দলের মনোনয়ন নিয়ে প্রার্থী হতে হয়, জনসমর্থন আদায়ের জন্য ভোটের জন্য জনগণের কাছে যেতে হয়। এ পদ্ধতিতে একই আসনে বা একই পদের জন্য একাধিক প্রার্থী হয়ে থাকে। তারপর প্রার্থীদের ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট চাইতে হয়, যিনি সর্বাধিক ভোট পান, তিনিই নির্বাচিত হন। এ পদ্ধতিতে প্রার্থী, ভোটার তথা সাধারণ জনগণ, দল ও দলের নেতাকর্মীদের কাছে দায়বদ্ধ হয়ে পড়েন। বলা যায় নির্বাচিত প্রতিনিধি অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েন তাদের কাছে। তৃতীয় বিশ্বের দেশের অনৈতিক জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীরা এ সুযোগে অনৈতিক দাবি-দাওয়া ও প্রাপ্তিযোগ আশা করে এবং আদায়ের চেষ্টা করে। এতে করে নির্বাচিত হয়ে নির্বাহী বিভাগের যারা দায়িত্ব পালন করে, তাদের নির্বাচন ও ভোটের কারণে সাধারণ জনগণ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের অনৈতিক দাবি-দাওয়াকে মেনে নিতে হয়। আর এটা স্বাভাবিক একজন প্রার্থীকে পাস করতে যেমন দলের মনোনয়ন থেকে শুরু করে দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা দরকার হয়, তেমনিভাবে সাধারণ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়। আর তাই ভোটার থেকে শুরু করে দলের নেতাকর্মীরা তার কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাওয়াকে অধিকার বলেই মনে করে। আর প্রার্থীও এ অতিরিক্ত সুবিধা দেয়াটাকে দায়িত্ব হিসেবেই মনে করে এবং দেনও। প্রার্থীরা আগামী নির্বাচনে ভোট পাওয়ার স্বার্থেই এটা করে থাকেন। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোয় পাশ্চাত্য ধাঁচের এ ধরনের ভোট ও নির্বাচনে এটা একটা প্রধানতম সমস্যা। অবশ্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটাকে ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র বলছেন। তবে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোয় এ ধরনের ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রই চলছে। নৈতিক দিক থেকে যথাযথ ও সুষ্ঠু পদ্ধতিটা হচ্ছে রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার জন্য একদল লোককে দায়িত্ব প্রদান করা হবে। দায়িত্ব প্রদানের জন্য জনগণ তাদের মধ্য থেকে অপেক্ষাকৃত যোগ্য, দক্ষ, সৎ ও ত্যাগী লোকদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। তাদের বলা হবে, আপনাদের আমরা দেশটাকে ভালোভাবে পরিচালনার জন্য দায়িত্ব প্রদান করছি। ইসলামী শরিয়াহ আর এ ধরনের পদ্ধতিতেই রাষ্ট্র ও সরকারের দায়িত্বশীল নির্বাচন করার কথা বলছে। ইসলামী শরিয়াহয় রাষ্ট্র বা সরকারের কোনো দায়িত্বে নিজের পক্ষ থেকে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই, এটা শরিয়াহয় গ্রহণযোগ্য না। সেখানে সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে তাকে রাষ্ট্র ও কেন্দ্রীয় সরকার বা স্থানীয় সরকারের কোনো দায়িত্ব গ্রহণ করতে বলা হবে। এ পদ্ধতিটা যখন কোনো দেশে চালু হবে, তখন কাউকে প্রার্থী হওয়ার জন্য বা নির্বাচিত হওয়ার জন্য জনগণ তথা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে না। জনগণই যখন তাদের নির্বাচিত করে দায়িত্ব প্রদান করবে, তখন তাদের জনগণের কাছে জিম্মি হয়ে অনৈতিক সুবিধাদী প্রদান করতে হবে না।
নির্বাচিত সরকার, সুশাসন, উন্নয়ন ও কমিশন বাণিজ্য
আমরা যদি ইতোপূর্বেকার নির্বাচিত সরকারগুলোর মেয়াদকালে তাদের কার্যক্রম নিয়ে পর্যালোচনা করি, তাহলে উন্নয়ন ও সুশাসনের যেমন কোনো ইতিবাচক চিত্র দেখতে পাই না। তেমনিভাবে উন্নয়নের নামে কমিশন বাণিজ্য, সুশাসনের পরিবর্তে অপশাসন, দুর্নীতি, ঘুষ ও লুটপাট ইত্যাদিও দেখতে পাই।
বাংলাদেশের মানুষ শেখ মুজিবুর রহমানের নির্বাচিত সরকার দেখেছে, এরশাদের নির্বাচিত সরকার দেখেছে, বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচিত সরকার দেখেছে এবং শেখ হাসিনারও নির্বাচিত সরকার কঠিনভাবে উপভোগ করেছে। বিগত ৫৪ বছরে এ তিন সরকারের আমলে রাজনীতি, নির্বাচন ও ভোট যেমন স্বাভাবিক হয়নি, তেমনি অর্থনৈতিক খাতেও কথিত উন্নয়নের নামে হয়েছে চরম দুর্নীতি। বিশেষ করে গণতন্ত্রের কথা বলে ক্ষমতায় আসা শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার শাসনামলে তো গণতন্ত্রকে হত্যা করে অগণতান্ত্রিক সরকারই কায়েম করা হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচারের স্টিমরোলার চালানো হয়েছে। অসংখ্য মানুষকে বিনাবিচারে হত্যা করা হয়েছে। বাপ-বেটি দুই শাসনামলে হত্যা, খুন, লুটপাট, দুনীতি, কমিশন বাণিজ্য থেকে শুরু করে এহেন অপকর্ম নেই করা হয়নি।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোয় যে কথিত গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হচ্ছে, তাদের দ্বারা দুনীতিমুক্ত সরকার যেমন সম্ভব নয়, তেমনি দেশে সুশাসন আসতে পারে না।
অনির্বাচিত সরকার ও সুশাসন
রাষ্ট্র, সরকার, পার্লামেন্ট, গণতন্ত্র, নির্বাচন ও ভোট থেকে শুরু করে বিচার, প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যম ইত্যাদি বিষয়ে আধুনিক বিশ্ব পাশ্চাত্যজগৎ দ্বারাই বিশেষভাবে প্রভাবিত। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোও পাশ্চাত্য ধাঁচের গণতন্ত্রকেই তাদের জাতীয় মুক্তির একমাত্র পথ বলেই ধরে নিয়েছে। রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার যে আরো উন্নত ও নৈতিক পদ্ধতি আছে, সেটা নিয়ে তাদের চিন্তাভাবনা নেই বললেই চলে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়।
বিশেষ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে এখন একটা অনির্বাচিত তথা আনইলেকটেড সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। দেশের আপামর জনগণের ঘোষিত ম্যান্ডেট নিয়েই এ আনইলেকটেড বা অন্তর্বর্তী সরকার এখন দেশ পরিচালনা করছে। নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে এ অন্তর্বর্তী সরকার। এ সরকার বিগত আট মাস ধরে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। কিন্তু আমরা বা আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর অধিকাংশই নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশ চলতে পারে না বলে খুব হাকডাক দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই বহু বছর অনির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে। তাদের দ্বারাও দেশ জাতি ও জনগণের উপকার হয়েছে। বাংলাদেশেও বেশ কয়েকটি অনির্বাচিত সরকার ছিল যেমন জিয়াউর রহমানের সরকার, সাহাবুদ্দিন আহমদের সরকার, হাবিবুর রহমান ও লতিফুর রহমানের সরকার, ফখরুদ্দিন আহমদের সরকার ইত্যাদি। আর বর্তমানে চলছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আর একটি অনির্বাচিত সরকার।
আধুনিক বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের সরকার রয়েছে, যেমন নির্বাচিত সরকার, অনির্বাচিত সরকার। অনির্বাচিত সরকারেরও বিভিন্ন ধরন ও রকম রয়েছে যেমন, রাজতান্ত্রিক সরকার, সামরিক সরকার, বিপ্লবী সরকার, ঐকমত্যের সরকার ইত্যাদি। বাংলাদেশে বর্তমান সরকার নির্বাচিত নয়, কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত একটি ঐকমত্যের সরকার।
একটি সরকার কী ধরনের এবং কারা চালাচ্ছে, তা নিয়ে সাধারণ জনগণের একটি অংশের কিছু চিন্তা থাকলেও অধিকাংশ জনগণের চাহিদা হলো সরকার তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছে কিনা সেটা দেখা। বাংলায় একটি প্রবাদ আছে যে, বিড়াল সাদা না কালো এটা বিষয় নয়, সে ইঁদুর ধরতে পারে কিনা, এটাই হলো বিবেচ্য বিষয়। তাই জনগণের চাওয়াও হচ্ছে সরকার কী ধরনের, তা নির্বাচিত না অনির্বাচিতÑ এটা নয় সরকার দেশ ও জনগণের জন্য কী করছে, তাই দেখার বিষয়।
শহিদুল ইসলাম মণ্ডল নামে একজন সোশ্যাল মিডিয়ায় ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে বলেছেন, ‘এ মানুষটাকে কোনো রাজনৈতিক দল চালাতে হয় না ফলে দলের নেতাকর্মীদের চালানোর জন্য কিংবা দল চালাতে তাকে কোনো টাকা-পয়সা খরচা করতে হয় না। আর যেহেতু টাকা-পয়সা খরচ করতে হয় না, তাই তাকে কোনো চাঁদাবাজিও করতে হয় না। উনার যেহেতু বিশাল বড় কোনো দল বা কর্মী বাহিনী নেই, তাই কারো সুপারিশ বা তদবির রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি করতে হয় না।’
খুবই বাস্তব একটি পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন মাত্র দুটি প্যারায়। অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত হতে না পারে, কিন্তু রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনায় বিগত সাত মাসেই বিভিন্ন খাতে অনেক সাফল্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। যেমন বিগত সাত মাসে মূল্যস্ফীতি না কমলেও বাড়েনি, রেমিট্যান্স প্রতিনিয়ত বাড়ছেই যেমন বিগত মার্চ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে তিন শতাধিক কোটি ডলার, যা সর্বকালের রেকর্ড। রপ্তানিও বাড়ছে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাক্সিক্ষত মানের উন্নতি না হলেও ঘুষ-দুর্নীতি কমছে, বাণিজ্য ও ঠিকাদারি কাজে কমিশন বাণিজ্য নেই বললেই চলে। বিশেষ করে রাষ্ট্রের ওপরতলায়; বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের মাধ্যমে দেশের মেগা প্রজেক্টে যে কমিশন বাণিজ্য হতো তা এখন নেই। তারই প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ প্রত্যক্ষভাবেই সাধারণ মানুষ বলছে, ড. ইউনূস সরকারকে দেশ পরিচালনায় পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব প্রদান করা দরকার।
তবে রাজনৈতিক দলগুলো একটি নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকারই চাচ্ছে। তবে ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেসব নির্বাচন হবে এবং সেই নির্বাচনে প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হতে পারে না। আর তাই কথিত ভোট ও নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার হবে, তাদের দ্বারা দুর্নীতিমুক্ত একটি প্রশাসন যেমন সম্ভব নয়, তেমনি সুশাসন ও প্রকৃত উন্নয়ন হতে পারে না। তাই দেশে একটি গণমুখী ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে পাশ্চাত্য ধারার যে ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র বাংলাদেশে চলছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, তাই বাংলাদেশের মতো একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম রাষ্ট্রে শরিয়াহভিত্তিক গণতান্ত্রিক পদ্বতির আওতায় ভোট ও নির্বাচন অনুষ্ঠান করার দিকে যেতে হবে। ইসলামী শরিয়াহ শূরা ও দায়িত্ব হস্তান্তরের যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ও ব্যবস্থার কথা বলেছে, সেটা চালু করতে পারলে দেশে সৎ যোগ্য ও নৈতিকতাসম্পন্ন নেতা ও দায়িত্বশীলরা নির্বাচিত হয়ে আসতে পারবে। আর তখনই দেশে জনগণের কাক্সিক্ষত একটি সরকার ও প্রশাসন চালু হতে পারে। যে সরকার জনগণের জন্য, উন্নয়নের জন্য কাজ করবে যেখানে দুর্নীতি ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্য থাকবে না। জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে, জনগণ নিরাপদে ও সুখে-শান্তিতে বাস করতে পারবে। সেই কাক্সিক্ষত মানের একটি রাষ্ট্রের জন্য বিগত ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতা রক্ত উৎসর্গ করেছিলেন।