ছড়া কবিতা


১ নভেম্বর ২০২৪ ১৮:২০

এই আমি
মাহমুদা সিদ্দিকা

পিতাহারা মেয়ে আমি মাতাহারা কন্যা
এসব কথা মনে হলে চোখে নামে বন্যা।
বাবা তুমি চলে গেছো দূর অজানার দেশে
জয়ী হলো তোমার মেয়ে দেখো অবশেষে।
খুশি হয়ে করবে আদর কপালে দেবে চুম
ভাগ্যে কি আর এসব আছে ভেবে হারাই ঘুম।
তোমার বুকে মুখ লুকিয়ে কাঁদবো সুখের কান্না
এমন ভাগ্য এই জীবনে আমার হবে না না।
বাবা তুমি ডাকতে আমায় হীরা মানিক পান্না
মা জননী ফিরনী পায়েস করতো শুধু রান্না।
মুখে তুলে খাইয়ে দিতে বাবা তুমি নিজে
ছোট্ট বুকে তখন আমি সুখ পাইতাম কী যে।
স্বপ্নে দেখি তুমি আছো আমার কাছাকাছি
ঘুমটা বাবা ভেঙে গেলে কেমনে বলো বাঁচি!
বাবাহারা এ আমিটা নিঃস্ব এবং রিক্ত
একলা হলে চোখ হয়ে যায় লোনাজলে সিক্ত।
বাবা আমি তোমায় খুঁজি নীল আকাশের বুকে
সামান্যই হেসেছিলাম পরম পাওয়ার সুখে।
সেই যে তুমি বলেছিলে শেষ করো এ গল্প
সোনার বাংলায় ছাপা হলে খুশি হবে অল্প।
পত্রিকাতে ছাপা হলো কত-শত লেখা
একটাও তো হয়নি বাবা তোমার চোখে দেখা।
ধূসর হইছে বাবা আমার লেখালেখির ইচ্ছা
বুকের ভেতর গুমড়ে কাঁদে বাবা মায়ের কিচ্ছা।

রাজার হাতি
আব্দুস সাত্তার সুমন

রাজার বাড়ির হাতিগুলো
দেখতে সাদা সাদা,
উঁচু যেন পাহাড় টিলা
চড়ে নবাবজাদা।

হাতির মাথায় সোনার মুকুট
রুপা দিয়ে বাঁধা,
রাজার বাড়ির হাতি বলে
পাড়ায় না সে কাদা।

মহান রাজা আগে বসে
রানি আছে পিছে,
মন্ত্রী আজ হাতির লাগাম
ধরছে মিছে মিছে।

আস্তা বলে মস্ত হাতি
সবাই করছে মজা,
শাহী হাতি দেখতে পেয়ে
অবাক চোখে প্রজা।

জিকির
খন্দকার জাহাঙ্গীর হুসাইন

পাখিদের মুখে শুনি জিকিরের বাণী
জিকিরেই মশগুল ঝর্ণার পানি।
ডাকে রোজ সকালে কুয়াশার ফোঁটা
খসে পড়ে বৃক্ষের পাতাদের বোঁটা।

প্রভুপাক জিকিরেই ছুটে চলে ধারা
ডেকে যায় রব রব শিশু, বুড়ো যারা।
আমি আর খোকামণি ডেকে বলি রব
তোমার জিকিরে মোরা ভুলে যাই সব।

জয় হবে তেলআবিব
আরিফুর রহমান আদিব

লাশের ওপর লাশের সারি
রক্তে ভেজা তপ্ত বালি
বীর শহীদরা মরতে রাজি
চালাও গ্রেনেড, চলাও গুলি !

মারছো মোদের লাখে লাখে
গ্রেনেড-বোমা ছুড়ছো ঝাঁকে
ভাবছো কি তাই,
ভয় পেয়েছি?
এবার তোমরা দেখতে পাবে
ভয় না পেয়ে, মোরা-
বীরের মতো লড়তে জানি।

দেখতে পাবে প্রতিরোধ
তুলবো এবার প্রতিশোধ-
শিরায় শিরায় গর্জে ওঠে
ভাই হারানোর শত ক্রোধ!

জাগো তুমি মুজাহিদ,
জাগো তুমি ফিলিস্তিন
ঊর্ধ্বশ্বাসে উড়াও নিশান
ঈশান কোণে নতুন কিশান
মোদের হাতেই জয় হবে-
দখলকৃত, তেলআবিব॥

মায়ের হাত
আবুল খায়ের বুলবুল

ভোর সকালে পাখি ডাকে
ঘুম ভাঙে তার গানে
ফজর নামায পড়তে ছুটি
সবাই মসজিদ পানে।
ভোরের সেই স্নিগ্ধ হাওয়ায়
হাঁটাহাঁটি করে
প্রশান্তিতে মন ভরে যায়
শোকর আদায় করে।
ফুলে ফুলে মৌমাছিরা
উড়ে এসে বসে
শুভ্র সাদা শিশিরদানায়
পত্র যেন কষে।
ছোট ছোট ছেলেমেয়ে
মক্তবে যায় তারা
চক্ষু মেলে বুজে পড়ে
কায়দা আমপারা।
চারদিকে শোনা যায় যে
তাদেরই কলরব
কুরআন পাঠের সুর লহরী
আনছে ডেকে রব।
পূব আকাশে সোনার রবি
উঁকি দিয়ে উঠলে
লাল হলুদে যায় ভরে দিগ
বৃষ্টি না জুটলে।
মায়ের হাতে নাশতা বানায়
লাড়কিও দেয় চুলায়
এ কাজ ও কাজ করতে গিয়ে
শরীর ভরে ধুলায়।

আজ হেমন্ত
আমিনুল ইসলাম কাইয়ুম

দেখ না? পিঠাপুলির উৎসব,
গিরামের ঘরে ঘরে কলরব,
‘আজ হেমন্ত’ তার কারণে॥
হেমন্তের মৌ মৌ ঘ্রাণে,
গিরামের বউঝির প্রাণে,
আনন্দে বলে- পিঠা আরো নে॥
তাদের বাক্যে এবং পিঠায়,
রস-মাখানো যেন মিঠায়,
জুড়ায় কাইয়ুম কবির প্রাণ॥
পথে-ঘাটে-উঠানে ধান,
গেয়ে গুনগুনিয়ে গান,
কুলায় ঝাড়ছে-ছড়াচ্ছে ঘ্রাণ॥
গান-কুলার মধুর ছন্দ,
বাতাস-যদিও মৃদ্যুমন্দ,
মাঝে-মধ্যে দিচ্ছে জিরান॥
কৃষক এসে ফেলে বোঝা,
পাটালি গুড়-মুড়ি-ভাজা,
যাচ্ছে-খেয়ে-বসে পিরান॥

মায়ের কথা
গোলাপ মাহমুদ সৌরভ

মায়ের কথা মনে হলেই
আসে চোখে পানি,
কত বছর কেটে গেল
দেখি না মার মুখখানি।

বড় যদি নাই-বা হইতাম
যাইতাম কী দূরে,
ভিতরে ভিতরে কষ্টগুলো
ব্যথার অনলে পুড়ে।

কেঁদে কেঁদে বুক ভাসাই
এমন কেন হলো,
ভাগ্য আমার খারাপ কেন
মাগো তুমি বলো?

নীরব রাতে ওই আকাশে
একলা চেয়ে রই
মাগো তুমি ভালো থেকো
খোদার কাছে কই।

তোমার ছেলে বড় পাপি
ক্ষমা করে দিও,
খোকা বলে ডাক দিয়ে
আপন করে নিও।