প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ সক্ষম প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি
৮ জুলাই ২০২৬ ২১:১৪
॥ ফারাহ মাসুম ॥
একবিংশ শতাব্দীর ভূরাজনীতিতে বঙ্গোপসাগর আর কেবল একটি সামুদ্রিক অঞ্চল নয়; এটি এখন ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। এই ভূকৌশলগত অক্ষের মাঝখানে অবস্থান করছে বাংলাদেশ- যার ভৌগোলিক অবস্থান তাকে যেমন অসাধারণ সম্ভাবনা দিয়েছে, তেমনি বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখেও দাঁড় করিয়েছে।
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতিতে যে পরিবর্তন এসেছে, তা কেবল বিচ্ছিন্ন সীমান্ত ঘটনার সমষ্টি নয়; বরং এটি দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিবর্তিত শক্তির ভারসাম্যের প্রতিফলন। একদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা ও অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র শক্তির উত্থান; অন্যদিকে ভারতীয় নিরাপত্তা বয়ানে ‘পুশইন’, সীমান্তে কঠোরতা কিংবা ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর মতো আলোচনার পুনরাবৃত্তি- সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত এখন একটি বিস্তৃত ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে উঠেছে।
সীমান্ত : শুধু নিরাপত্তা নয়, কৌশলগত অস্তিত্বের প্রশ্ন
একটি রাষ্ট্রের সীমান্ত কেবল ভৌগোলিক বিভাজনরেখা নয়; এটি সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর। বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার স্থলসীমান্ত এবং বিস্তৃত সামুদ্রিক অঞ্চল এখন নতুন ধরনের নিরাপত্তা বাস্তবতার মুখোমুখি।
অতীতে সীমান্ত নিরাপত্তা বলতে মূলত চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা সীমান্ত অপরাধকে বোঝানো হতো। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় বিষয়টি অনেক বিস্তৃত। এখন সীমান্ত নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী, শরণার্থীপ্রবাহ, ড্রোন নজরদারি, তথ্যযুদ্ধ, মনস্তাত্ত্বিক চাপ এবং পরাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা।
ফলে বাংলাদেশের সীমান্ত প্রশ্ন এখন আর কেবল বিজিবি বা সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; এটি পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক কূটনীতির কেন্দ্রীয় উপাদান।
রাখাইন : নতুন বাস্তবতার সূচনা
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে। দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা সংকট, জান্তা সরকারের সঙ্গে আলোচনা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনাই ছিল বাংলাদেশের প্রধান উদ্বেগ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইনের বিস্তীর্ণ এলাকায় জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা দিয়েছে।
এখানে এখনকার একটি মৌলিক বাস্তবতা হলো- বাংলাদেশের সীমান্তের অপর পাশে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ অনেক ক্ষেত্রে আর কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে নেই। ফলে সীমান্ত স্থিতিশীলতা, মানবিক সহায়তা কিংবা নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় নতুন বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রশ্ন নয়; বরং সীমান্ত নিরাপত্তার বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার বিষয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাস দেখায়, অনেক সময় রাষ্ট্রগুলো সীমান্ত স্থিতিশীল রাখার প্রয়োজনে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে সীমিত যোগাযোগের পথও খুঁজে নেয়।
রোহিঙ্গা সংকটের নতুন মাত্রা
রাখাইন রাজ্যের সংঘাত এখন আর শুধু মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকট নয়; এটি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, মানবিক দায়িত্ব এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি আঞ্চলিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ২০১৭ সালের পর থেকে বাংলাদেশ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। ফলে রাখাইনে নতুন করে সংঘাত তীব্র হলে আরও বাস্তুচ্যুত মানুষের ঢলের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, যা বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত মানবিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় গোলাগুলি, মর্টার শেল বিস্ফোরণ, ড্রোনের অনুপ্রবেশ বা বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিচ্ছিন্ন তৎপরতা সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও জটিল করে তুলছে। এসব ঘটনার ফলে সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা, কৃষি ও জীবিকা এবং সীমান্ত বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। দীর্ঘমেয়াদে কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক স্থিতিশীলতা, স্থানীয় অর্থনীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য সীমান্ত নজরদারি জোরদার, মানবিক প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ সক্রিয় রাখা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাখাইনের স্থিতিশীলতা শুধু মিয়ানমারের নয়, সমগ্র বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
ভারতের নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গি ও বাংলাদেশের অবস্থান
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত। তাই এই সীমান্তে যেকোনো উত্তেজনা কেবল দুই দেশের নিরাপত্তা বা কূটনৈতিক সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এর প্রভাব সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য ও স্থিতিশীলতার ওপরও পড়ে। ভারতের দৃষ্টিতে সবচেয়ে স্পর্শকাতর ভূকৌশলগত অঞ্চলগুলোর একটি হলো শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন নেক’ একটি সংকীর্ণ ভূখণ্ড, যা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের সঙ্গে মূল ভারতের একমাত্র স্থল যোগাযোগ নিশ্চিত করে। ফলে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে।
একইসঙ্গে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রেল, সড়ক ও নৌপথে উত্তর-পূর্ব ভারতে যোগাযোগ এবং চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ ভারতের আঞ্চলিক সংযোগনীতিকে নতুন গতি দিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্যও ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার এবং প্রতিবেশী বাজার। সীমান্তে আস্থার পরিবেশ দুর্বল হলে বাণিজ্য, ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা এবং উপ-আঞ্চলিক সংযোগ উদ্যোগ- যেমন বিবিআইএন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে সীমান্তে শান্তি ও পারস্পরিক বিশ্বাস বজায় রাখা শুধু নিরাপত্তার জন্য নয়, উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, আঞ্চলিক সংহতি এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বের জন্যও অপরিহার্য।
‘পুশইন’ : নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবিক প্রশ্ন
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সবচেয়ে সংবেদনশীল আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো কথিত ‘পুশইন’, অর্থাৎ পরিচয় বা নাগরিকত্ব নিয়ে বিরোধপূর্ণ ব্যক্তিদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ। এই অভিযোগের বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন হতে পারে, তবে বিষয়টি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নাগরিকত্ব, মানবাধিকার এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাব কেবল সীমান্ত নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জনমিতিক ভারসাম্য, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নও এর সঙ্গে যুক্ত।
জনমিতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া সীমান্ত অতিক্রম করানোর অভিযোগ নাগরিকত্ব নির্ধারণ, রাষ্ট্রহীনতার ঝুঁকি এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় সামাজিক ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একইসঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সম্পদ ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা এবং সামাজিক সম্প্রীতির ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এ ধরনের ঘটনা সীমান্তে একটি স্থায়ী মনস্তাত্ত্বিক চাপের পরিবেশও তৈরি করতে পারে, যা দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থাকে দুর্বল করে।
এই ইস্যুর পেছনে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় নাগরিকত্ব, জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি), নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অনেক সময় সীমান্ত প্রশ্নকে আরও স্পর্শকাতর করে তোলে। এর প্রতিফলন সীমান্ত নীতি ও জনমতÑ উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে, কোনো ব্যক্তিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও দ্বিপাক্ষিক যাচাই ছাড়া সীমান্ত পার করে দেওয়ার অভিযোগ মানবাধিকার ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব সম্পর্কিত প্রশ্ন উত্থাপন করে। বিশেষ করে অ-প্রত্যাবর্তন (ঘড়হ-জবভড়ঁষবসবহঃ) নীতি অনুযায়ী, এমন কোনো ব্যক্তিকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো উচিত নয়, যার জীবন, নিরাপত্তা বা স্বাধীনতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সংবেদনশীল ইস্যুর সমাধানে একতরফা পদক্ষেপ নয়; বরং তথ্য যাচাই, যৌথ তদন্ত, নিয়মিত কূটনৈতিক সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই পথ।
‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বয়ান : মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব
ভারতীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, কিছু গণমাধ্যম বা নিরাপত্তা বিশ্লেষকের আলোচনায় সময়ে সময়েই বাংলাদেশকে ঘিরে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর মতো পরিভাষার উল্লেখ দেখা যায়। যদিও এ ধরনের মন্তব্যকে ভারতের আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় নীতির প্রতিফলন হিসেবে সবসময় দেখা যায় না, তবু এ ধরনের বক্তব্য সীমান্ত অঞ্চলে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলতে পারে এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়াতে সক্ষম। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিতও সংবেদনশীল বিষয়; তাই বাংলাদেশ সীমান্ত নজরদারি, আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ, ড্রোন শনাক্তকরণ, আধুনিক রাডার এবং প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদারে গুরুত্ব দিচ্ছে। একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা সমন্বয় এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাও জাতীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হয়ে উঠছে।
তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আস্থাবর্ধক ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য বা হুমকির পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়াতে পারে, যা বাণিজ্য, সীমান্ত সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং বিবিআইএনের মতো উপ-আঞ্চলিক সংযোগ উদ্যোগকে দুর্বল করতে পারে। তাই সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অঙ্গীকারই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে, কোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে একতরফা সামরিক অভিযান বা তার হুমকি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মৌলিক নীতি। এ কারণেই বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্ত নজরদারি, বিমান প্রতিরক্ষা, আধুনিক রাডার, ড্রোন পর্যবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদারে গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে সম্ভাব্য যেকোনো নিরাপত্তা ঝুঁকির ক্ষেত্রে কার্যকর প্রতিরোধ সক্ষমতা বজায় থাকে।
একই সঙ্গে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক সংলাপ, সীমান্তে আস্থাবর্ধক ব্যবস্থা এবং নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য দীর্ঘমেয়াদে জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সীমান্ত বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং বিবিআইনের মতো উপ-আঞ্চলিক সংযোগ উদ্যোগও নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়তে পারে। তাই সীমান্তে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রতিরোধ সক্ষমতা ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি- উভয়ই সমান অপরিহার্য।
বঙ্গোপসাগরে পরাশক্তির প্রতিযোগিতা
বাংলাদেশের সীমান্ত উত্তেজনাকে কেবল প্রতিবেশী দেশগুলোর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আলোকে ব্যাখ্যা করলে পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না। এটি এখন বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক ভূরাজনীতি এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক কৌশলগত প্রতিযোগিতার অংশ। চীন তার বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই), মিয়ানমারের কিয়াউকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উপস্থিতি সুসংহত করতে চায়। অন্যদিকে ভারত বঙ্গোপসাগরকে তার প্রাকৃতিক নিরাপত্তা বলয়ের অংশ হিসেবে দেখে এর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায় এবং এই অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে দিল্লির আধিপত্যের জন্য সীমান্ত নিরাপত্তা, সামুদ্রিক যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সংযোগ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের আওতায় উন্মুক্ত সমুদ্রপথ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, অংশীদারিত্ব এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কারণে বাংলাদেশকে ঘিরে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা আগ্রহও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোও অবকাঠামো বিনিয়োগ, বন্দর উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সংযোগের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে তাদের উপস্থিতি জোরদার করছে। ফলে বাংলাদেশ আজ কেবল একটি উপকূলীয় রাষ্ট্র নয়; বরং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যয়ে সবার নিচে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা হলো এর সীমিত প্রতিরক্ষা ব্যয়। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ায় জিডিপির অনুপাতে সবচেয়ে কম প্রতিরক্ষা ব্যয়কারী দেশ বাংলাদেশ। ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও দক্ষিণ এশিয়ার গড় সামরিক ব্যয় যেখানে জিডিপির প্রায় ২.২ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশ অবস্থান করছে তালিকার তলানিতে- ০.৬২ শতাংশ।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে সম্ভাব্য ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার জিডিপির বিপরীতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৪২ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। সরকারি হিসাবে এই ব্যয় জিডিপির প্রায় ০.৬২ শতাংশ। তবে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সামরিক পেনশন ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যয়সহ বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির ১.১ থেকে ১.৩ শতাংশের মধ্যে থাকে, যা অঞ্চলে সর্বনিম্ন। বিশ্লেষণ মতে, বিগত ১৭ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনামলের নীতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতের অগ্রাধিকারের কারণেই সামরিক খাত এই তুলনামূলক কম বাজেট পেয়ে আসছে।
অন্যদিকে পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তান সামরিক ব্যয়ে এগিয়ে। পাকিস্তান দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট সত্তেও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে জিডিপির ২.৭ থেকে ২.৯ শতাংশ ব্যয় করছে। ভারত নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ ও চীন-পাকিস্তান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জিডিপির ২.৩ থেকে ২.৪ শতাংশ ব্যয় করে বিশাল সামরিক বাজেট বজায় রেখেছে। এমনকি গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী ও আর্থিক সংকটগ্রস্ত শ্রীলঙ্কাও জিডিপির ১.৮ থেকে ১.৯ শতাংশ সামরিক খাতে ধরে রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর আওতায় সশস্ত্রবাহিনীর আধুনিকায়ন সত্ত্বেও বাংলাদেশ একটি সংযত কৌশল নিয়েছে। আঞ্চলিক সামরিক প্রতিযোগিতায় না জড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রাধান্য দেয়া এই উন্নয়নমুখী কৌশল যেমন প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে, তেমনি বর্তমান পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশকে একটি ভঙ্গুর নিরাপত্তা কাঠামোর মুখোমুখিও দাঁড় করিয়েছে।
‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বয়ান ও বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বলয়
ভারতের কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য, গণমাধ্যমের আলোচনা কিংবা নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-সংক্রান্ত মন্তব্য বাংলাদেশে স্বাভাবিকভাবেই কৌশলগত আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এ ধরনের বক্তব্যকে ভারতের আনুষ্ঠানিক নীতির সঙ্গে সবসময় এক করে দেখা যায় না, তবু সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বাস্তববাদী প্রস্তুতি রাখতে হয়।
বাংলাদেশের সংবিধান ও পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হলো স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আঞ্চলিক শান্তি এবং ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ নীতি। ফলে কোনো সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার পরিবর্তে দেশের জন্য অধিক কার্যকর হতে পারে একটি বহুমাত্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গড়ে তোলা। এর অর্থ হলো- প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়নে একাধিক দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা, যাতে কোনো একক দেশের ওপর অতিনির্ভরতা তৈরি না হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশ চীন, তুরস্ক, ইউরোপের কয়েকটি দেশ এবং অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণ করেছে। একইসঙ্গে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন নৌ-মহড়ায় সম্পৃক্ততার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা কূটনীতিও জোরদার করেছে। এসব উদ্যোগকে অনেক বিশ্লেষক বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেন।
ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতিই দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা
বাংলাদেশের সীমান্ত উত্তেজনা, পুশইনের চেষ্টা কিংবা সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের হুমকি কোনো বিচ্ছিন্ন বা সাময়িক ঘটনা নয়। এগুলো মূলত দক্ষিণ এশিয়া এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক টেকটোনিক প্লেটের স্থানান্তরের বহিঃপ্রকাশ।
বাংলাদেশকে তার সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হলে অত্যন্ত পরিপক্ক ও গতিশীল ভারসাম্যমূলক সক্ষম প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক নীতি বজায় রাখতে হবে। একইসাথে মায়ানমারের অ-রাষ্ট্রীয় শক্তিগুলোর সাথে বাস্তবভিত্তিক যোগাযোগ এবং ভারতের সাথে দৃঢ় অথচ সমমর্যাদার ভিত্তিতে সীমান্ত আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।
মনে রাখতে হবে, সীমান্তে স্থিতিশীলতা কেবল বাংলাদেশের একক প্রয়োজন নয়; বরং ভারতের নিজস্ব উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মায়ানমারে বৈশ্বিক বিনিয়োগের সুরক্ষার স্বার্থেও এই সীমান্ত শান্ত থাকা অপরিহার্য। ঢাকা যদি তার ভূকৌশলগত অবস্থানকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে একটি দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখতে পারে, তবে এই সংকটগুলোকে কাটিয়ে উঠে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরের একটি প্রধান স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হবে।
বাংলাদেশের সামনে নতুন কৌশল
এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ নীতিকে অনুসরণ করে এসেছে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই নীতিকে আরও পরিশীলিত রূপ দিতে হচ্ছে।
প্রথমত, সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে। স্মার্ট নজরদারি, ড্রোন, থার্মাল সেন্সর, উন্নত রাডার এবং সমন্বিত সীমান্ত তথ্যব্যবস্থা ভবিষ্যতের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও সক্রিয় রাখতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সীমান্ত সংলাপ, সামরিক পর্যায়ের যোগাযোগ এবং আস্থাবর্ধক ব্যবস্থা ভবিষ্যতের সংকট প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে। তৃতীয়ত, রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন হবে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যতের সমীকরণ
বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- প্রতিযোগিতার কেন্দ্র না হয়ে সহযোগিতার কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। বঙ্গোপসাগরের ভৌগোলিক অবস্থান বাংলাদেশকে একদিকে যেমন কৌশলগত গুরুত্ব দিয়েছে; অন্যদিকে বহুমাত্রিক চাপও সৃষ্টি করেছে। এই চাপ মোকাবিলায় সামরিক প্রস্তুতি যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন কার্যকর কূটনীতি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক আস্থার পরিবেশ। ভারত, মিয়ানমার, চীন কিংবা যুক্তরাষ্ট্র- সব পক্ষের সঙ্গে বাস্তববাদী সম্পর্ক বজায় রেখে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়াই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে।
প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কার্যকর কূটনীতি। সীমান্তে আস্থাবর্ধক ব্যবস্থা, নিয়মিত সামরিক সংলাপ, হটলাইন, যৌথ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং সংকট-প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা যেকোনো ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে। সামরিক প্রস্তুতি প্রয়োজনীয় হলেও, দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের নিরাপত্তার সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হবে শক্তিশালী প্রতিরোধক্ষমতা, ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার।
শেষ পর্যন্ত সীমান্তে স্থিতিশীলতা শুধু বাংলাদেশের প্রয়োজন নয়; এটি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া এবং বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আঞ্চলিক সংযোগ এবং নিরাপত্তার পূর্বশর্ত। বাংলাদেশের কৌশলগত সাফল্য নির্ভর করবে এই বাস্তবতা কতটা দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগানো যায় তার ওপর। যদি ঢাকা ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি, আধুনিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে পারে, তবে বর্তমান সংকটই ভবিষ্যতের কৌশলগত শক্তিতে পরিণত হতে পারে। তখন বাংলাদেশ কেবল একটি সীমান্তবর্তী রাষ্ট্র নয়, বরং বঙ্গোপসাগরের স্থিতিশীলতা, সংযোগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হবে।