কবি আল মুজাহিদীর ইন্তেকালে কবিতা বাংলাদেশের শোক
২০ জুন ২০২৬ ১০:৪৭
বাংলাদেশের অন্যতম কবি, ষাটের দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা, মুক্তিযোদ্ধা, কবিতা বাংলাদেশের সভাপতি কবি আল মুজাহিদী ১৯ জুন শুক্রবার দুপুরে ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কবিতা বাংলাদেশের সহসভাপতি যথাক্রমে কবি মোশাররফ হোসেন খান, কবি সোলায়মান আহসান, কবি হাসান আলীম, কবি আশরাফ আল দীন, কবি চৌধুরী গোলাম মাওলা, কবি শরীফ আবদুল গোফরান, কবি নাসির হেলাল, কবি জাকির আবু জাফর; সাধারণ সম্পাদক কবি ও গবেষক রাবি প্রফেসর ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ প্রমুখ।
শোকবার্তায় তাঁরা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সাহিত্য আন্দোলনকে বিশুদ্ধ ধারায় পরিচালিত করতে তিনি ‘কবিতা বাংলাদেশ’ এর সভাপতি হিসেবে দক্ষতার সাথে কাজ করে গেছেন। বাংলা কবিতার আধুনিক ধারায় আল মুজাহিদী এমন একজন কবি, যিনি মাটি, মানুষ ও ইতিহাসকে একত্রে ধারণ করে একটি স্বতন্ত্র কাব্যভুবন নির্মাণ করেছেন। তাঁর কবিতা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক স্মৃতি ও জাতীয় আত্মপরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত। সমকালীন সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি, নৃতত্ত্ব, পুরাণ এবং আত্মদর্শনের নানা উপাদান তাঁর কাব্যভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে। এজন্য তাঁকে ‘মৃত্তিকার কবি’ বলা হয়।
উল্লেখ্য, কবি আল মুজাহিদী ১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন এবং বাংলা কবিতার ষাটের দশকের গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। সাহিত্যচর্চায় তাঁর দীর্ঘ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ২০০৩ সালে একুশে পদকে ভূষিত করে। তিনি অল্প বয়স থেকেই কবিতা লেখা শুরু করেন। তিনি দীর্ঘ তিন দশকের অধিক কাল দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় একশত। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই প্রবীণ কবি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সর্বশেষ চিকিৎসাধীন ছিলেন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে। মৃত্যুকালে স্ত্রীসহ এক ছেলে ও মেয়ে রেখে যান। কবি শোকাহত পরিবারের প্রতি আমরা জানাই সমবেদনা। মহান রাব্বুল আলামিন এই পরিবারকে ধৈর্য্য ও শক্তি দান করুন।
পুনশ্চ🔸
কবি আল মুজাহিদীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেয়া হচ্ছে, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ এশা ১ম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তারপর উত্তরায় কবির বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে।
রাত ১০ টায় উত্তরায় ১০ নম্বর সেক্টরের ২নং রোড কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ২য় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
আগামীকাল দুপুর ১২ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে নেয়া হবে এবং বাদ যোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সর্বশেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাপন করা হবে।