শাহ আলী মাজারে কাপুরুষোচিত হামলা ও জামায়াত বিরোধী মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে আমার দৃঢ় অবস্থান: মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন
২০ মে ২০২৬ ১৭:৪২
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও আমীর, ঢাকা মহানগরী উত্তর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে বলেছেন,গত ১৪ মে দিবাগত রাতে মিরপুরের ঐতিহাসিক শাহ আলী মাজারে মুখোশধারী একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত নিরীহ মানুষের উপর যে কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে — তা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত ও ক্রুদ্ধ করেছে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দর্শনার্থীদের উপর লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত আক্রমণ এবং লুটপাট — এটি শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি সভ্যতার বিরুদ্ধে আঘাত।
আমি এই হামলার সর্বোচ্চ ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছি। আহত প্রতিটি মানুষের জন্য আমার হৃদয় কাঁদছে। পুলিশ প্রশাসনকে আমি সরাসরি বলতে চাই — দেরি নয়, এখনই তদন্ত করুন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করুন এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করান।
জামায়াতের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার — আমি সরাসরি জবাব দিচ্ছি
আমি অত্যন্ত পরিষ্কার ও দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করছি —
শাহ আলী মাজারে এই হামলার সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দূরতম সম্পর্কও নেই।
কিছু সুবিধাবাদী সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক দলের ভাড়াটে বুদ্ধিজীবীরা কোনো প্রমাণ ছাড়াই জামায়াতের ঘাড়ে এই ঘটনার দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন। এটি কেবল মিথ্যাচার নয় — এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।
জামায়াতে ইসলামী সবসময় বিশ্বাস করে — যেকোনো অন্যায়ের প্রতিকার হবে আইনের মাধ্যমে, রাস্তায় বিচার করে নয়। এটি আমাদের আদর্শ, এটি আমাদের রাজনৈতিক চরিত্র।পক্ষপাতদুষ্ট মিডিয়াকে আমার সরাসরি প্রশ্ন
ভিডিও ফুটেজে হামলাকারীদের মুখ দেখা গেছে। তাদের পরিচয় উদ্ঘাটন করা কি মিডিয়ার দায়িত্ব নয়? তদন্তের আগেই জামায়াতকে দোষী সাব্যস্ত করে যে সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে — তা সাংবাদিকতা নয়, এটি হলুদ সাংবাদিকতার নিকৃষ্ট উদাহরণ।
আমি মিডিয়াকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই — জনগণ এখন অনেক সচেতন। মিথ্যা প্রচারণার দিন শেষ।রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিরীহ গ্রেফতার — এটি মানা হবে না
ঘটনাস্থলে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনের কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিডিয়ায় এসেছে। অথচ গ্রেফতারের সময় তাদের বাদ দিয়ে জামায়াত সমর্থকদের টার্গেট করা হচ্ছে।
এটি বিচার নয় — এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।
আমি প্রশাসনকে সাফ বলে দিতে চাই — ভিডিও প্রমাণ ছাড়া, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেফতার করা হলে প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। এর দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।
আসল সত্য যা কেউ বলছেন না
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর সারাদেশে মাজারকেন্দ্রিক যে হামলাগুলো হয়েছে, তার পেছনে ‘ধর্মীয় উন্মাদনা’ নয় — আছে দখলদারিত্ব এবং অবৈধ অর্থের লোভ।
পতিত সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় যারা মাজার নিয়ন্ত্রণ করত, তারা এখন নতুন শক্তি দিয়ে সেই নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় মাঠে নেমেছে। এই দখলের লড়াইকে সাম্প্রদায়িক রং দিয়ে প্রকৃত সত্য আড়াল করা হচ্ছে।
আমি প্রশাসন, মিডিয়া এবং সুশীল সমাজের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি — এই দখলদারিত্বের শিকড় খুঁজুন। সেখানেই পাবেন আসল অপরাধী।