বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

বেড়েছে জনসমর্থন, বেড়েছে ভোট

প্রিন্ট ভার্সন
৫ মার্চ ২০২৬ ২১:০৮

হারুন ইবনে শাহাদাত

॥ হারুন ইবনে শাহাদাত ॥
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ইতিহাস সৃষ্টি করেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে ২৯০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ ভোটের মধ্যে ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৩২ হাজার ৮৭১টি ভোট পেয়েছে। দলটি পেয়েছে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট। জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ২২৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পেয়েছে ২ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার ২৯০ ভোট। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট। ধানের শীষের চেয়ে ৬৬টি কম আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে দাঁড়িপাল্লা। এ ৬৬ আসনের ভোট যোগ হলে বিএনপির ভোটের কাছাকাছি হতো জামায়াতে ইসলামীর এতে কোনো সন্দেহ নেই। জামায়াতের ভোট বেড়েছে এ বছর ১ কোটি ১২ লাখ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উত্থান সহজে নিতে পারছে না ঈর্ষান্বিত প্রতিপক্ষ। তারা খণ্ডিত ফলাফল প্রকাশ করে নানা অপতথ্য ছড়াচ্ছে। উগ্রপন্থীদের ঠেকাতে পেরেছেÑ এ বয়ান তৈরি করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছে।
এ প্রসঙ্গে মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আবদুর রব সোনার বাংলাকে বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনোদিনই উগ্রপন্থায় বিশ্বাস করে না। তিনি তার দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষক ও গবেষণায় যা প্রত্যক্ষ করেছেন, তা হলো জামায়াতে ইসলামীর অতীতে প্রাপ্ত ভোট নিয়ে যে প্রচারণা চালানো হয় ১২-১৩ পারসেন্ট বলে, তা ভিত্তিহীন। কারণ জামায়াত এর আগে আড়াইশত আসনের বেশি আসনে কোনোদিন নির্বাচন করেনি। দেখা গেছে, আড়াইশ’ আসনে তাদের শতকরা প্রাপ্ত ভোট ২০ এর ওপরে। বাকি আসনের হিসাব এলে আরো বাড়তো। এবারও জামায়াত তিনশ’ আসনে নির্বাচন করেনি। মাত্র ২২৪টি আসনে নির্বাচন করেছে।
ড. আবদুর রব মনে করেন, তরুণ ভোটাররা ব্যাপকভাবে জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন দিয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমীর ডা. শফিকুর রহমান তরুণদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো অনেক ইতিবাচক কর্মসূচি নিয়েছেন। সাথে সাথে তার মানবিক চরিত্র এবং সেই আলোকে মানবতার কল্যাণে তার ইতিবাচক কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি ভোটারদের জামায়াতে ইসলামীর দিকে আকৃষ্ট করেছেন। নির্বাচনে তার প্রতিফলন ঘটেছে। এবার ফলাফল তাও জামায়াতে ইসলামীর প্রতি জনসমর্থনের প্রকৃত চিত্র নয়।
এ প্রসঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল নিয়ে গণমাধ্যমের খণ্ডিত উপস্থাপনায় দেশবাসী ও নেতাকর্মীদের হতাশ বা বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রোববার রাতে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের একটি পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান। পোস্টে জামায়াতের আমীর বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে গণমাধ্যমের খণ্ডিত উপস্থাপনায় আপনারা হতাশ বা বিভ্রান্ত হবেন না। জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের ভোটপ্রাপ্তির পরিসংখ্যান অনেক শক্তিশালী বার্তা বহন করে। প্রদত্ত প্রায় ৭ কোটি ভোটের মধ্যে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ নাগরিক এই জোটের ওপর তাদের আস্থা স্থাপন করেছেন। এটি একটি বিশাল ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ জনরায়।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অতীতের অনেক রেকর্ড ভেঙে আজ দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বিরোধীদল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ২০০৮ সালে মাত্র ২টি আসন থেকে আজ কোটি কোটি মানুষের সমর্থন, আমাদের প্রতি জনআস্থার বহিঃপ্রকাশ। ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রার শুরু। দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটার সংস্কার, জবাবদিহি ও নীতিভিত্তিক রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।’ তিনি লেখেন, ‘এখন আমাদের সময় এসেছে শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিপক্বতা দেখানোর। আসুন, সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতে আমরা গঠনমূলক ভূমিকা পালন করি। পরবর্তী নির্বাচনে জনগণের আরও ব্যাপক আস্থা অর্জনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করি। আমরা আমাদের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করব, দলীয় ঐক্যকে সুদৃঢ় করব এবং সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব।’
দীর্ঘ দেড় দশক পর এদেশের জনগণ গত ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলো। অধিকাংশ আসনে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চল; বিশেষ করে একক প্রভাবাধীন ভোটকেন্দ্রগুলোয় বিএনপি কারচুপি করেছে এবং ফলাফল প্রকাশে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়টি পর্যবেক্ষকরাও স্বীকার করেছেন। ১১ দলের পক্ষ থেকে ৩২টি আসনের ভোট পুনর্গণনার আবেদন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেছেন, গেজেট প্রকাশের ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করেছে নির্বাচন কমিশন। তাই তারা গেজেট ঘোষণার আগে অভিযোগ কমিশনের কাছে দাখিল করতে পারেনি। স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করা হলে রিটার্নিং অফিসাররা তা গ্রহণ করেননি। এদিকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এত দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকায় আসা অসম্ভব। এর মাধ্যমে কমিশন তাদের অধিকার বঞ্চিত করেছেন।
নির্বাচনের অনিয়মগুলো তুলে ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকার জনগণ বলাবলি করছে, জামায়াতে ইসলামী হারেনি, হারানো হয়েছে। সাধারণ ভোটাররা তাদের মনের কষ্ট মনের মাঝে লুকিয়ে না রেখে জামায়াতে ইসলামীর আমীরের নিকট প্রকাশও করেছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা যেখানেই যাচ্ছি, লোকেরা বলছেন, আপনারা হারেননি, আপনাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের অভিমত
জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে ফলাফল মেনে নিয়ে আইনগতভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে। অনিয়মের বিষয়গুলো শুধু সাধারণ জনগণ নয়, সুপ্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন টিআইবি এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ও সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অভিযোগের তদন্ত না করে নির্বাচন কমিশন তড়িঘড়ি গেজেট প্রকাশ করেছে। এখন নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে এর মীমাংসা করতে হবে।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন তদন্ত করেনি। তারা তড়িঘড়ি করে গভীর রাতে গেজেট প্রকাশ করে দিয়েছে। গেজেট প্রকাশ করে তারা হাত মুছে নিয়েছে। তাদের আর কোনো কিছু করার নেই।
ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অযোগ্য, তারা যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, তাহলে নির্বাচনী ফলাফলের সমীকরণ বদলে যায়। তখন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি বলেন, যখন এরকম প্রশ্ন ওঠে, তখন নির্বাচন কমিশন তদন্ত করতে পারে। তদন্ত করে ফলাফল বাতিলও করতে পারে। আবার নতুন নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারে তারা। এ নির্বাচনেও এ প্রশ্নগুলো উঠেছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তদন্ত করেনি। তারা তড়িঘড়ি করে গভীর রাতে গেজেট প্রকাশ করে দিয়েছে।
সুজন সম্পাদক বলেন, নির্বাচনের আগে অনেকের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ ছিল। তারা আদালত থেকে ‘স্টে অর্ডার’ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া দ্বৈত নাগরিকের বিষয় নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। এরকমও অভিযোগ উঠেছে যে, অনেকে দ্বৈত নাগরিক এবং তারা প্রয়োজনীয় নথি না দিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছেন। এসব বিষয়ে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নিয়ে তারপর গেজেট প্রকাশ করতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছিল। নির্বাচনের পরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সুষ্ঠু হয়েছে কি না, সেটি ‘সার্টিফাই’ করারও সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটা পালন করেনি। তবে এখনো সুযোগ আছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, আরপিওর ৯১ ধারায় বলা হয়েছে, যদি হলফনামা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে, কোনো অভিযোগ ওঠে, তাহলে গেজেট প্রকাশের পরও এটা তদন্ত করে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তারা নির্বাচনও বাতিল দিতে পারবে। সুজনের তথ্যে বলা হয়েছে, নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জনের মধ্যে ১৪৭ জন ঋণগ্রহীতা। শতাংশের হিসাবে যা প্রায় ৫০ শতাংশ। তাদের মধ্যে পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন ৩৬ জন। আর ১২৬ জনই বিএনপি থেকে নির্বাচিত। সুজনের তথ্যে আরও বলা হয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এই নির্বাচনে ঋণগ্রহীতার হার বেড়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই হার ছিল ৪৫ শতাংশ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাল ভোট পড়া নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) মাঠপর্যায়ের গবেষণার জন্য দৈবচয়ন পদ্ধতিতে নমুনাভিত্তিক নির্বাচিত ৭০ আসনের মধ্যে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ আসনে এক বা একাধিক জাল ভোট দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
ভোটগ্রহণ হয়েছে গত ১২ ফেব্রুয়ারি একটি ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পর। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের যে স্টিমরোলার চালিয়েছে ফ্যাসিস্ট হাসিনা, তা বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করেছে। সাপ্তাহিক সোনার বাংলার এ প্রতিবেদকের একাধিক প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছিলো, অত্যাচার-নির্যাতন করে জামায়াতে ইসলামীকে নির্মূল করার দুঃস্বপ্ন যারা দেখছে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণ তুলে ধরে করা সেই দাবি ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে সত্যে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হলো, সোনার বাংলা যা বলে, তা ফলে।
সোনার বাংলা যা বলে, তা ফলে
২০১৬ সালে এ প্রতিবেদক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিলেন, সরকারের অত্যাচার-নির্যাতন জামায়াতে ইসলামীর প্রভাব ঠেকাতে পারবে না। সরকারের অত্যাচার-নির্যাতনের ফলে দলটির প্রতি জনগণের সমর্থন বাড়বে। অত্যাচার-নির্যাতন করে সরকার ভুল করছেÑ এমন ইঙ্গিত ২০১৩ সালেই দিয়েছিলেন ইরানের এশিয়াবিষয়ক বিশ্লেষক পির মুহাম্মদ মোল্লাযেহি। ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর রেডিও তেহরান সূত্রে প্রকাশ, পির মুহাম্মদ মোল্লাযেহি বলেন, ‘বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে দেশটির সরকার। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ২ শতাধিক আসনে জামায়াত ১২.১৩ শতাংশ ভোট পায়। তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহনের হিসাবে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক ছিলো ২৫% (অর্থাৎ ৪ কোটি)। এম আলম নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আজ থেকে ২২ বছর পূর্বে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ২ শতাধিক আসনে ১২.১৩ শতাংশ ভোট পেলেও তাদের জনসমর্থন ছিল আরো বেশি। কারণ ৯১-এর নির্বাচনে ১০০-র মতো আসনে জামায়াতের কোনো প্রার্থী ছিল না। তাছাড়া ২০০-র মতো আসনে জামায়াতের দলীয় প্রার্থী থাকলেও বাছাইকৃত কিছু আসন ছাড়া অন্যান্য আসনে নৌকা ঠেকাতে তাদের ভোট যায় বিএনপির ঘরে। আর ২২ বছরে দেশে জামায়াতের প্রভাব-বলয় তাদের কর্মী ও সমর্থকও জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। বিগত নির্বাচনের তুলনায় প্রতিটি নির্বাচনেই প্রধান ইসলামী দল জামায়াতের মোট ভোট বেড়েছে।’ ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট তারই প্রমাণ।
১৯৮৬ সালের নির্বাচনে ৪.৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে জামায়াত আসন পায় ১০টি, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ১২.১৩ শতাংশ ভোট পেয়ে আসন পায় ১৮টি, ১৯৯৬ সালে প্রাপ্ত ভোট ছিল ৮.৬১ শতাংশ। ২০০১ সালে ৪.২৯ শতাংশ ভোট পেয়ে আসন পায় ১৭টি আর ২০০৮ সালে ৩৮টি আসনে ৪.৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে জামায়াত পেয়েছে ২টি আসন। তবে ২০০৮-এর নির্বাচনে ৩৮টি আসনে নির্বাচন করে প্রতি আসনে গড়ে ৮৮ হাজারের ওপরে ভোট পায়, যা কিনা বিগত ২০০১-এর নির্বাচনে তাদের প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে বেশি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও উপজেলা নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর জনসমর্থন বেড়েছে। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক গবেষক সাইমুম পারভেজ জার্মান বার্তা সংস্থা ডয়চে ভেলের ব্লগে সেই ২০১৬ সালেই লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ধর্মভিত্তিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এক প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’
পর্যবেক্ষকরা ২০২৬ সালের নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে বলেছেন, কোনো প্রতিকূল অবস্থাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অগ্রযাত্রা থামাতে পারিনি। ভবিষ্যতেও পারবে না। Email: harunibnshahadat@gmail.com

হারুন ইবনে শাহাদাত

নজরুল মানস ও ইসলামী সঙ্গীত
১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:১৮

সম্পর্কিত খবর