সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
২১ অক্টোবর ২০২৬ ২০:৫১
মহাবিস্ফোরণের শঙ্কায় গোটা ইউরোপ
ইউরোপজুড়ে হু-হু করে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও জীবনযাত্রার ব্যয়। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চরম আকার ধারণ করেছে আবাসন সংকট, শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যয়বৃদ্ধি এবং বেকারত্ব। সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হওয়ায় এবার রাজপথে নেমে এসেছে ক্ষুব্ধ জনতা। ফ্রান্সের চলমান বিক্ষোভের প্রভাবে বেলজিয়াম, পর্তুগাল, ইতালি এবং আলবেনিয়ায়ও ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র অসন্তোষ ও আন্দোলন। ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে বিক্ষোভে সহিংসতার ঘটনায় কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। প্রয়োজনে আগামী কয়েক দিনে কিছু সমাবেশ নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ম্যাক্রোঁ সাম্প্রতিক জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সংকটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংস বিক্ষোভের পেছনে গোয়েন্দা ও আগাম প্রস্তুতিতে ঘাটতি বা ‘ব্যর্থতা’ স্বীকার করেছেন। তবে তীব্র সহিংসতার মুখেও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজের পদত্যাগের দাবি কঠোরভাবে নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। সপ্তাহজুড়ে চলা এই তীব্র আন্দোলনের মধ্যে সপ্তাহান্তে পুলিশ পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল বলে স্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ। ফরাসি মন্ত্রিপরিষদ এই উদ্ভূত অস্থিরতা নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত ১৭ অক্টোবর শনিবারের সহিংসতায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রায় এক হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর। গত ১৮ অক্টোবর রোববার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ম্যাক্রোঁ বলেন, বৈধ দাবি নিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িতদের আলাদা করে দেখতে হবে। সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে জরুরি অবস্থা বা কারফিউ জারির ঘোষণা দেননি তিনি। তবে ফ্রান্সের গন্ডি পেরিয়ে সহিংসতার এই আগুন এখন ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।
বেলজিয়াম : ফ্রান্সের বিক্ষোভের আংশিক অনুপ্রেরণায় বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে রাস্তায় নেমেছে শত শত তরুণ ও শিক্ষার্থী। শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন সংস্কার এবং উচ্চশিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে তারা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এই অযৌক্তিক সংস্কারের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা আরও দুর্গম হয়ে উঠবে।
পর্তুগাল : দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার পর পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের রাজপথ দখল করেছে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। ২০১৭ সালের পর থেকে দেশটিতে আবাসন ও গৃহভাড়া দ্বিগুণ হয়ে গেছে, যা ইউরোপের অন্যতম তীব্র আবাসন সংকট তৈরি করেছে। জীবনযাত্রার এই অসহনীয় ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদেই এই বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ইতালি : ইতালির মিলানে জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ মিছিল সহিংস রূপ নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। মিলানের ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় ক্যাথেড্রাল স্কয়ারে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে বোলোগনা শহরে আরেকটি বিক্ষোভে ব্যাপক সহিংসতার পর পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে বলে এএনএসএ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।
আলবেনিয়া : বলকান রাষ্ট্র আলবেনিয়ায় দুর্নীতি, উচ্চ টিউশন ফি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর করুণ দশার বিরুদ্ধে চলা সরকারবিরোধী সহিংস বিক্ষোভ চরম রূপ নিয়েছে। আন্দোলন গতকাল ষষ্ঠ দিনে গড়ালেও পদত্যাগ করতে পরিষ্কার অস্বীকৃতি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এডি রামা। রাজধানী তিরানায় বিক্ষুব্ধ জনতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই সংঘর্ষে গত ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রায় ২৭২ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৬৯ জনই পুলিশ সদস্য। সিএনএন, এএফপি, আল-জাজিরা, স্কাই নিউজ।
আসামে মুসলিম ও সংখ্যালঘুদের উচ্ছেদ করে আদানি-আম্বানিদের কর্পোরেট স্বর্গরাজ্য
আসামের মোট ভৌগোলিক আয়তন ৭৮,৪৩৮ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে রয়েছে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা, বরাক উপত্যকা এবং দুটি পাহাড়ি জেলা। ব্রহ্মপুত্র ও বরাক নদী এবং এদের পঞ্চাশটিরও বেশি উপনদী আসামকে এক অনন্য নদী নালার ভৌগোলিক রূপ দিয়েছে। তবে প্রকৃতির এই রূপই আজ এক ভয়াবহ ভূমি সংকটের রূপ নিয়েছে। সরকারি তথ্য ও ‘ইকোনমিক সার্ভে অব আসাম’ অনুযায়ী, ক্রমাগত বন্যা এবং নদীভাঙনের ফলে রাজ্যের কৃষি ও বসতিযোগ্য জমি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। ১৯৫০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর থেকে এ পর্যন্ত রাজ্যের ৪.২৭ লাখ হেক্টরেরও বেশি জমি (মোট আয়তনের প্রায় ৭.৫ শতাংশ) স্থায়ীভাবে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রতি বছর গড়ে ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ হেক্টর উর্বর জমি নদীতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ মানুষ গৃহহীন ও ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের চেয়েও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে আসাম সরকারের প্রশাসনিক পদক্ষেপ। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ‘জবরদখলমুক্ত’ করার নামে রাজ্যজুড়ে অন্তত ৩৩টি বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এর ফলে ২২,০০০টিরও বেশি বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ১ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সমালোচক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই উচ্ছেদ অভিযান কেবল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণ ও কর্পোরেট স্বার্থ। উচ্ছেদের ধরন পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্তদের ৯০ শতাংশেরও বেশি ধর্মীয় সংখ্যালঘু (মুসলিম)। যে ভূমিহীন মানুষগুলো নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে বছরের পর বছর ধরে জীবনসংগ্রাম করছেন, তাদের কোনো স্থায়ী পুনর্বাসন না দিয়ে একছত্রভাবে ‘বাংলাদেশি’ বা ‘বহিরাগত’ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটব্যাঙ্ক নিশ্চিত করতেই এই বাছাইকৃত উচ্ছেদ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ নাগরিক সমাজের। অথচ একই জমিতে বছরের পর বছর ধরে বসবাসকারী প্রান্তিক মানুষকে উচ্ছেদ করে সেই স্থান তুলে দেওয়া হচ্ছে দেশটির শীর্ষ কর্পোরেট গোষ্ঠীগুলোর হাতে। একদিকে নদীভাঙনে নিঃস্ব সাধারণ মানুষকে ‘দখলদার’ বলে উচ্ছেদ করা হচ্ছে; অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার শিল্পায়নের নামে হাজার হাজার বিঘা সরকারি ও কৃষিজমি পানির দরে তুলে দিচ্ছে বড় পুঁজিবাদী গোষ্ঠীগুলোর হাতে। ধুবড়ী জেলার চাপর রাজস্ব সার্কুলারে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ১,৪০০টিরও বেশি পরিবারকে উচ্ছেদ করে ১০,০০০ মানুষকে গৃহহীন করা হয়। পরে সেই ৩,৫০০ বিঘারও বেশি জমি আদানি গ্রুপের ৩,২০০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া গৌহাটি বিমানবন্দরের পরিচালন ক্ষমতা ৫০ বছরের জন্য আদানি গ্রুপকে দেওয়ার পাশাপাশি অ্যারোট্রোপলিসের জন্য আরও ৪০০ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কার্বি আংলং স্বায়ত্তশাসিত উপজাতীয় অঞ্চলে ১,০০০ মেগাওয়াটের মেগা সোলার পাওয়ার প্রজেক্টের জন্য অম্বানি গ্রুপের অনুকূলে ৬,০০০ একর জমি বরাদ্দের প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় উপজাতিদের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। টাটা গ্রুপকে সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্টের জন্য ৫১৫ একর, পতঞ্জলি আয়ুর্বেদকে হাজার হাজার বিঘা জমি এবং মহাবল সিমেন্টসকে (জে কে লক্ষ্মী) ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত সংরক্ষিত এলাকার ৩,০০০ বিঘা জমি দেওয়া হয়েছে— যা নিয়ে গৌহাটি হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে। সিয়াসত ডেইলি।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সর্বনিম্নে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে ৩১ শতাংশে নেমেছে, যা তার দুই মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) শেষ হওয়া চার দিনের এ জরিপে দেখা গেছে, জ্বালানির বাড়তি দাম ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এর প্রভাব আসন্ন নির্বাচনে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির ওপর পড়তে পারে বলে জরিপের ফল ইঙ্গিত দিচ্ছে। জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, এখনই কংগ্রেস নির্বাচন হলে তারা কোন দলকে ভোট দেবেন। উত্তরে ৪৭ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৫ শতাংশ রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছেন। অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ের এ জরিপে ডেমোক্র্যাটরা ১২ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। চলতি নির্বাচনী চক্রে এটিই দলটির সবচেয়ে বড় ব্যবধান। দুই সপ্তাহ আগে রয়টার্স/ইপসোসের আরেক জরিপে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ছিল ৪৪ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৩৭ শতাংশ। সে সময় ব্যবধান ছিল সাত শতাংশ পয়েন্ট। নতুন জরিপে ডেমোক্র্যাটদের ব্যবধান আরও বেড়েছে। তবে জাতীয় পর্যায়ের এ জরিপ দিয়ে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। কারণ নির্বাচনের ফল নির্ধারণে রাজ্য ও নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব প্রতিযোগিতায় রিপাবলিকানদের কিছু কাঠামোগত সুবিধাও রয়েছে। জরিপে নারী ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থনের ব্যবধান বেশি দেখা গেছে। ৫০ শতাংশ নারী ভোটার ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন, বিপরীতে রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩২ শতাংশ। পুরুষ ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে থাকলেও ব্যবধান তুলনামূলক কম। অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে জরিপে। ৬৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এ বিষয়ে তার ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট। তাদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ নিজেদের রিপাবলিকান দলের সমর্থক বলে পরিচয় দিয়েছেন। অর্থনীতি পরিচালনায় কোন দলকে বেশি যোগ্য মনে করেন, এমন প্রশ্নে ৪০ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৩ শতাংশ রিপাবলিকানদের বেছে নিয়েছেন। রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের যেকোনো একটির নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের জন্য তার মেয়াদের বাকি দুই বছরে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তবে জরিপের ফল নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নির্দেশ করে না। অনলাইনে পরিচালিত এ জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ৬৭৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ২৭৯ জন নিবন্ধিত ভোটার। সব অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে জরিপের ত্রুটির সীমা ২ শতাংশ পয়েন্ট এবং নিবন্ধিত ভোটারদের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ পয়েন্ট। রয়টার্স।
মোদির বাসভবনের কাছের ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদে উচ্ছেদ নোটিশ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত দিল্লির ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদ খালি করে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ ৬ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে বলে দাবি করেছেন মসজিদের ইমাম। এ নিয়ে স্থানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন জানান, কেন্দ্রীয় ভূমি ও উন্নয়ন দফতর মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ কেটে দিয়েছে এবং প্রধান ফটক বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে সেখানে গিয়ে নিয়মিত নামাজ আদায় করতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। প্রায় ৪০ বছর ধরে মসজিদটির সাথে যুক্ত থাকা ইমাম হারুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিওতে অভিযোগ করেন, এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে মসজিদে চলাচলের পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বারবার সাহায্য চাওয়া সত্ত্বেও দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড থেকে কোনো কার্যকর সহায়তা পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, ওয়াকফ বোর্ড কেবল পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে এনডিএমসিকে চিঠি পাঠিয়েই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করেছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাওয়ার মতো কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি। ইমাম ২০২১ সালে পরিচালিত একটি জরিপের উল্লেখ করে দাবি করেন, সেই জরিপে এই মসজিদটিকে অবৈধ স্থাপনা বা জবরদখল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে এই দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রবেশাধিকার রোধ এবং জরুরি সেবা বিচ্ছিন্ন করার কারণে মুসল্লিরা যে চরম কষ্টে পড়েছেন, তা উল্লেখ করে মসজিদটি রক্ষায় সর্বসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছেন ইমাম। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ভূমি ও উন্নয়ন দফতর এই মসজিদটিকে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা একটি অননুমোদিত স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে নয়া দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের (এনডিএমসি) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে মসজিদটি একটি ‘ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে, যদিও এর আইনি মর্যাদার বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত। সিয়াসত ডেইলি।
শিগগিরই প্যারিস মুসলিম নগরীতে পরিণত হবে : ট্রাম্প
ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও লুটপাটের জন্য অভিবাসীদের দায়ী করে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে প্যারিস শিগগিরই একটি ‘মুসলিম নগরী’তে পরিণত হবে। ট্রাম্পের অভিযোগ, ম্যাক্রোঁ ফ্রান্সের সীমান্ত বন্ধ না করে বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষের প্রবেশের সুযোগ দিয়েছেন। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ফরাসি প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করেন তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, প্যারিস খুব শিগগির একটি মুসলিম নগরীতে পরিণত হতে যাচ্ছে, যদিও এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। তার ভাষ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ ফ্রান্সে প্রবেশ করছে। ম্যাক্রোঁর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, প্রায় ৮ বা ৯ বছর ধরে তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্টকে চেনেন। প্রথম দেখা হওয়ার সময়ই তিনি ম্যাক্রোঁকে সতর্ক করে বলেছিলেন, সীমান্তনীতি নিয়ে তিনি বড় ভুল করছেন। নিজের প্রশাসনের অভিবাসননীতির সঙ্গে ফ্রান্সের নীতির তুলনা করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু ফ্রান্স তা করেনি। দেশটির চলমান অস্থিরতার জন্য তিনি অভিবাসন নীতিকেই দায়ী করেন। ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের পাশাপাশি সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অভিবাসননীতি নিয়ে বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। তবে অস্থিরতার পেছনে শুধু অভিবাসন নীতিই দায়ী— এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য মূল প্রতিবেদনে নেই। আল-জাজিরা।
ভারতে দিওয়ালির বিজ্ঞাপন বিরোধের জেরে মুসলিম সাংবাদিককে পিটিয়ে হত্যা
উত্তরপ্রদেশের হাপুর জেলায় দিওয়ালির বিজ্ঞাপন কেন্দ্র করে সৃষ্ট কথিত বিবাদের জেরে প্রবীণ সাংবাদিক মোহাম্মদ নাসিম আহমেদকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। ৬০ বছর বয়সী নাসিম আহমেদ হিন্দি ‘দৈনিক জনবাণী’-র হাপুর ব্যুরো প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনাটি ঘটে হাপুর দেহাত থানা এলাকার জারোঠি রোডে। জানা গেছে, নাসিম আহমেদ পত্রিকার জন্য দিওয়ালির বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করতে স্থানীয় একটি ময়দার মিলে গিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী সালাউদ্দিনের ভাষ্যমতে, ব্যবসায়ী অশোক কুমার বিজ্ঞাপন দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তারা যখন ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন তাদের ‘ভুয়া সাংবাদিক’ বলে কটূক্তি করেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বিষয়টি রূপ নেয় মারাত্মক সংঘর্ষে। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল আহমেদ ও সালাউদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। আসোগা মহালের বাসিন্দা ড. শাহরুখ হাপুর দেহাত থানায় দায়ের করা অভিযোগে জানান, ঘটনাটি ঘটে রোববার বিকেলে। শাহরুখের স্ত্রী ফোনে জানান যে তার বাবা নাসিম আহমেদ নির্মম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। খবর পেয়ে ড. শাহরুখ কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে (সিএইচসি) পৌঁছান। সেখানে উপস্থিত সালাউদ্দিন, মুস্তাকিম, মনিকা ও শাহানা জানান যে, তারা নাসিম আহমেদের সাথে অশোক কুমার গুপ্তার ময়দার মিলে বিজ্ঞাপনের বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ইন্দ্রলোক কলোনির বাসিন্দা অশোক কুমার গুপ্তা, তার ছেলে কপিল, সর্বোদয় কলোনির বাসিন্দা নরেশ কুমার এবং আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সাংবাদিক দলকে গালিগালাজ শুরু করে। নাসিম আহমেদ এতে প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্তরা তার ওপর চড়াও হয়। তারা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারে এবং বুকে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে। হাপুর পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, মারাত্মক শারীরিক হামলার কারণেই নাসিম আহমেদের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে। হাপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মধুবন কুমার জানান, হাপুর দেহাত এলাকায় বিজ্ঞাপনী বিরোধ নিয়ে সংঘাতের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহমেদের মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দৈনিক জনবাণী।
গাজায় যুদ্ধবিরতির পর নিহত ১৫২২
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। গত ১৯ অক্টোবর সোমবার গাজাজুড়ে এসব হামলার ঘটনা ঘটে। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরাইলি বাহিনী এসব হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। খবর আনাদোলুর। চিকিৎসা সূত্রের বরাতে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের শেখ রাদওয়ান এলাকায় বেসামরিক মানুষের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে ইসরাইলি ড্রোন হামলা চালায়। এতে এক ব্যক্তি নিহত এবং দুজন আহত হন। এছাড়া দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে নাহর আল-বারেদ শিবির এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু লক্ষ করে গুলি চালায় ইসরাইলি বাহিনী। এতে আরও একজন ফিলিস্তিনি মাঝারি মাত্রায় আহত হন। স্থানীয় সূত্র জানায়, খান ইউনিসের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় নেওয়া তাঁবুগুলো লক্ষ করে ইসরাইলি সামরিক যান থেকে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই গুলি ও কামানের গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এতে হতাহতের শিকার হচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। এদিকে গাজা সিটি ও খান ইউনিসের উপকূলে ফিলিস্তিনি জেলেদের নৌকা লক্ষ করেও গুলি ও গোলাবর্ষণ করেছে ইসরাইলি নৌবাহিনী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলের হামলায় ১ হাজার ৫২২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫ হাজার ৪২১ জন। অন্যদিকে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া উপত্যকাটির প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আনাদোলু।
হারামাইনের নিরাপত্তায় কোনো আপস নয় : পাকিস্তান
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় পাকিস্তান প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও দেবে। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী একথা বলেন। গত রোববার (১৮ অক্টোবর) ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যারাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং পবিত্র দুই মসজিদের নিরাপত্তা পাকিস্তানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই। এ বিষয়টিকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধীকার দিচ্ছে ইসলামাবাদ। ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথিদের হামলার মুখে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সহায়তার ধরন ও পরিমাণ প্রকাশ করা কোনো জোটের রীতি নয়। পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে গড়ে ওঠা মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটকে তিনি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক আখ্যা দিয়ে বলেন, এর কোনো আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্য নেই। জোটভুক্ত কোনো দেশের বিরুদ্ধে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলে সম্মিলিতভাবে তার জবাব দেওয়া হবে। ইরানের সঙ্গে হুথিদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, উত্তেজনা কমাতে এবং সংযম বজায় রাখতে পাকিস্তান ইরানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তার ভাষ্য, জোটটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ করে গঠিত হয়নি; বরং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য। মুসলিম বিশ্বের প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, সংঘাত বাড়িয়ে কোনো দেশেরই লাভ নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের একে অপরের ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে।’ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব না হলে মক্কা জোটের সম্মিলিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ডন।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান