দুর্নীতি কমে সেবা বাড়বে কি?
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৪৬
॥ সাইদুর রহমান রুমী ॥
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদনের পর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিলেও এর বিভিন্নমুখী প্রভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা সমালোচনা। নতুন বেতনকাঠামো একদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক সুবিধা বাড়াবে; অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি ও পুরো বেসরকারি খাত নিয়ে সরকারের পরিকল্পনাহীনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।
তবে পে-স্কেল ঘোষণার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হলো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি দপ্তরগুলোয় ঘুষ ও দুর্নীতি আদৌ কমবে কি না। মানুষের সেবা নিশ্চিত হবে কি না এবং ভোগান্তি শেষ হবে কি না। সাধারণ মানুষের করের টাকায় সরকারি কর্মচারীদের বেতনাদি হলেও পদে পদে হয়রানির অভিযোগ সবসময়ের।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি সেবার ক্ষেত্রে বাড়তি অর্থ দাবি, হয়রানি কিংবা দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ নিয়ে অনেকেই ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, কাস্টমস, ভ্যাট, পাসপোর্ট, নগর সেবাসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ যেন অন্তহীন।
বেতন বৃদ্ধি হলে দুর্নীতি কমবে বলে আশা করছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী : সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি হলে দুর্নীতি কমবে বলে আশা করছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, তাই বেতন সমন্বয় করা জরুরি। স্বাভাবিকভাবে মানুষের যখন অভাব থাকে তখন দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার একটা প্রবণতা থাকে। এটা তো অস্বীকার করে লাভ নেই।
অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ১১ বছর ধরে পে-স্কেল নেই, কিন্তু এর মধ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ফলে সরকারি কর্মচারীদের ব্যয় মেটাতে সমস্যা হচ্ছে। বেসরকারি খাতে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বাড়লেও সরকারি খাতে সে সমন্বয় হয়নি।
তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, বেতন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতি স্বাভাবিকভাবে কমবে। তাদের যখন আয় বাড়বে, তাদের যখন জীবন যাত্রা একটু উন্নত হবে। তখন নিশ্চয়ই দুর্নীতি কমবে। সরকারি চাকরিজীবীদের পে-স্কেল ১১ বছর ধরে অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশে দুটি পে-স্কেলের মধ্যে এত দীর্ঘসময়ের ব্যবধান আর ঘটেনি। এছাড়া প্রায় চার বছর ধরে চলা টানা উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় মিলিয়ে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা রয়েছে। বিশেষ করে নিচের স্তরের চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা জীবনযাত্রার ব্যয়ের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই স্তরের চাকরিজীবীরা যে বেতন পান, ঢাকা কিংবা বড় শহরের জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলে তাদের আয়ের সিংহভাগই চলে যায় বাসাভাড়ার পেছনে।
অতীতে পে-স্কেল ঘোষণায় দুর্নীতি কমেনি
বাংলাদেশে অতীতে সব সরকারের আমলেই দফায় দফায় সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো দেয়া হলেও দুর্নীতি কমার লক্ষণ ছিল না। বরং বিগত আওয়ামী লীগের সময় স্মরণকালের বৃহৎ পে-স্কেল দিয়ে বেতন দ্বিগুণ-তিনগুণ করা হয়েছিল। সর্বশেষ ২০১৫ সালের অষ্টম সেই জাতীয় পে-স্কেল ছিল স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বড় বেতন পুনর্গঠন। সে সময় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছিল। যুক্তি দেওয়া হয়েছিল আকর্ষণীয় বেতনকাঠামোর সরকারি চাকরির প্রতি ‘যোগ্য ও দক্ষদের’ আকর্ষণ বাড়বে, দুর্নীতি কমবে।
বাস্তবতা কিন্তু এই যুক্তির ধারেকাছেও মিল ছিল না। ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির ধারণাসূচকে বাংলাদেশের স্কোর ২৮ থেকে ২৩-এর মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। এর অর্থ দুর্নীতির দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষে থাকা দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে বেতন বাড়ানোর পর ২০১৬ ও ২০১৭ সালে কিছুটা উন্নতি হলেও এরপর অবনতি হয়ে চার বছর স্থির অবস্থানে থাকে। ২০২১ সালের পর ধারাবাহিকভাবে অবনতি হতে থাকে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১৩তম। ১৮২টি দেশের মধ্যে ১০০-এর স্কেলে বাংলাদেশের স্কোর ২৪, যা বৈশ্বিক গড় স্কোরের (৪২) চেয়ে অনেক নিচে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভুটান ৭১ স্কোর নিয়ে দুর্নীতি কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছে। ভারত ও মালদ্বীপের ৩৯, শ্রীলঙ্কার ৩৫, নেপালের ৩৪, পাকিস্তান ২৮ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের থেকে এগিয়ে রয়েছে। একমাত্র যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের স্কোর (১৬) বাংলাদেশের নিচে। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারি চাকুরেদের দুর্নীতি কমবে না।
এবারো বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে পূর্বেকার বেতনের দ্বিগুণ করা হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘দুর্নীতি সিস্টেমের কারণে হয়। সিস্টেম যতক্ষণ পরিবর্তন না করা যাবে, এই দুর্নীতি অব্যাহত থাকবে। দুর্নীতি যারা করে তারা সমন্বয় করে নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত ভাগ করে এবং সমাজও এটার সঙ্গে জড়িত। সুতরাং এই সিস্টেম পরিবর্তন ছাড়া এই দুর্নীতি কমবে না। আমরা অতীতে দেখেছি এমন ঘটনার পর অনেক সময় এই দুর্নীতির রেট আরও বেড়ে যায়। নিজেকে অনেক বেশি দামি ভাবা লোকদের এখন আগের চেয়ে দুর্নীতির রেটটা বেড়ে যাবে। আর দুর্নীতির বাইরেও কিন্তু ভালো মানুষের সংখ্যা আমাদের অনেক আছে। তাদের জন্য এটা অবশ্য সুবিধাজনক হবে। তবে আদতে যারা দুর্নীতিবাজ, যাদের মগজে-মস্তিষ্কে দুর্নীতি, তাদের মধ্যে এটা কমার কোনো আলামত দেখতে পাচ্ছি না। তারা বলেন, ‘সরকার যথেষ্ট সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেতন-ভাতা বাড়ানোর ব্যাপারে, বাড়ানো তো দরকার। তবে খালি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য না, কারণ বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ শ্রমজীবী মানুষ আছে। এখনো জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা হয়নি এবং তার বাস্তবায়ন নাই, মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়তেছে। সেই জায়গাটায় জোর দিতে হবে। নয়তো দুর্নীতি কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।
মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ব্যাপক প্রভাব
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদনের পর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিলেও এর প্রভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। নতুন বেতনকাঠামো একদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক সুবিধা বাড়াবে; অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ব্যাপক বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিও বাড়বে। নাগরিকরা যাতে ঘুষ ছাড়াই নির্ধারিত সময়ে সরকারি সেবা পান, সেটি নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
জনমত হলো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি যেমন প্রয়োজন, তেমনি দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, আয় ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। একইসঙ্গে সরকারি অফিসে ঘুষ ও দুর্নীতি কমিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবে কতটা কার্যকর করা যায়, সেটিই এখন সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ-উর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির ফলে নিত্যপণ্যের মূল্য বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অনুমোদিত নতুন বেতনকাঠামোর কারণে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়তে পারে। সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারি বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই মূল্যস্ফীতি বেশি। বর্তমানে তা কিছুটা কমলেও সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়বে। ফলে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার তার প্রতিশ্রুতি থেকেই সক্রিয় রয়েছে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেন, পে-স্কেল বাস্তবায়ন হতে শুরু করলে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ বাজারে যাবে এবং তা অর্থনীতিতে একটি ‘পজিটিভ ভাইভ’ সৃষ্টি করবে। এতে নিচের দিকের সরকারি কর্মচারীরা একটু বেশি নগদ অর্থ হাতে পাবেন এবং তাদের জীবনযাত্রাকে দারিদ্র্যসীমার ওপর তুলতে সক্ষম হবেন। পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও বেতন-ভাতা বাড়াতে হবে এবং এর ফলে কর্মজীবী-শ্রমজীবীদের হাতেও বাড়তি অর্থ যাবে। তিনি বলেন, নতুন পে-স্কেল মূলত দেশের জনগোষ্ঠীর একটি বৃহৎ অংশকে (সুবিধাভোগীদের) সচ্ছল জীবনযাপনের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করল। এর মাধ্যমে সরকারের শুধু ব্যয়ই বাড়বে না; আয়ও বৃদ্ধি পাবে। কারণ, সরকারের কর আদায়ের পরিধিও বেড়ে যাবে।
বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতিতে জড়ানোর প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হবে কি না— এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেতন কম বা বেশি তা দুর্নীতির প্রবণতাকে প্রভাবিত করে না। কেবলমাত্র দুর্নীতিরোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ ও শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলেই দুর্নীতি রোধ হবে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়লে নিত্যপণ্যের মূল্য বেড়ে যায় বা বাড়িয়ে দেওয়া হয়, এটি একটি ধারণাগত মূল্যস্ফীতি। অতীতে এমনটি হয়ে এসেছে। এবারও হতে পারে। কিন্তু কয়েক ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের যে রোডম্যাপ সরকার দিয়েছে, তা দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং এতে মূল্যস্ফীতিতে খুব একটা প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, অতীতেও (২০১৫ সালে) দুই দফায় বেতন ও ভাতা দেওয়া হয়েছিল। এবারই প্রথম কয়েক ধাপে বেতন ও পরবর্তী পর্যায়ে ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক ব্যয় ব্যবস্থাপনা দক্ষতা ও দূরদর্শীতার সঙ্গে হতে হবে।
ফিরোজ মিয়া বলেন, নতুন পে-স্কেল আয় বিবেচনায় বাজারে দুই ধরনের ক্রেতা সৃষ্টি করল। একই বাজার; কিন্তু ক্রেতার সক্ষমতা দুই রকমের। সরকারি চাকরিজীবীরা তো বর্ধিত বেতন পাবেনই। কিন্তু বেসরকারি খাতের কর্মজীবীরা অনিশ্চয়তায় পড়ে যাবেন। কারণ বিদ্যমান বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট, বৈশ্বিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক মন্দা ও বিনিয়োগে স্থবিরতার কারণে বেসরকারি খাত এই মুহূর্তে বেতন-ভাতা বাড়াতে পারবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। সরকার এই পরিস্থিতি উত্তরণে বেসরকারি খাত পুনরুদ্ধারে বিরাট অঙ্কের অর্থায়ন সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্তও বাস্তবায়নের পথে। কিন্তু এই অর্থায়ন সুবিধা হতে হবে কার্যকরী। সঠিকভাবে অর্থায়ন না হলে পরবর্তী পরিস্থিতি সরকারের সামলাতে অসুবিধা হয়ে যাবে।
এদিকে পে-স্কেল ঘোষণার পর এফবিসিসিআই নেতৃবৃন্দ জানান, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে এমনিতেই শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তার ওপর সরকারি পে-স্কেল নতুন এক পরিস্থিতির তৈরি করবে। বাজারের সমস্যাগুলো আবেগ দিয়ে নয়, তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে চিহ্নিত করতে হবে। কোন পণ্যের দাম কেন বাড়ছে, আমদানি ও সরবরাহে কোথায় সমস্যা হচ্ছে এবং কোন পর্যায়ে মূল্য বাড়ছে এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে যেতে হবে।