নিষিদ্ধ আওয়ামী জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করেই ফ্যাসিবাদ প্রতিহত করা সম্ভব
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৩১
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। হাসিনার দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী দুঃশাসনের অবসান ঘটাতে রাজপথে নেমে এসেছিল ছাত্র-জনতা। নিরস্ত্র বিপ্লবী জনতার ওপর নজিরবিহীন দমন-পীড়ন ও গণহত্যা চালিয়েও পতন ঠেকাতে না পেরে শেখ হাসিনা এবং তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপে হিটলার ও মুসোলিনির নাৎসি ও ফ্যাসিস্ট পার্টিগুলো যেভাবে চরম দেউলিয়া হয়ে সহিংস পথ অবলম্বন করেছিল, বর্তমান আওয়ামী লীগের কৌশলও যেন ঠিক একই সূত্রে গাঁথা। আইনগত ও নৈতিক— উভয় দিক থেকেই প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা বা মিছিল-মিটিং করার কোনো সুযোগ বর্তমানে আওয়ামী লীগের নেই। অথচ এই অপশক্তি পরাজয় স্বীকার করে নেওয়ার বদলে আবার পথভ্রষ্ট ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার অপতৎরতার অপচেষ্টা করছে।
সম্প্রতি রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা গুলশান এবং সুরক্ষিত কূটনৈতিক এলাকায় ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণের দুঃসাহস দেখিয়েছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। রাজধানীর আরো জনবহুল কয়েকটি স্থানে বোমাবাজি করেছে তারা। এ সন্ত্রাসী কাণ্ডগুলো কেবল বিশৃঙ্খলা তৈরিরই অপপ্রয়াস নয়, বরং তা সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আতঙ্কের বীজ বপন করার চক্রান্ত। এছাড়া দেশের বিভিন্ন পয়েন্টে বাস ও ট্রেনে আগুন দেওয়ার মতো অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করছে যে, তারা গণতান্ত্রিক রাজনীতির সুবাতাস মেনে নিতে পারছে না। সহিংস ভ্রান্ত পথকেই তাদের শেষ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়ে তারা যে নাৎসি ও ফ্যাসিবাদী দলের নব্য সংস্করণ, তার প্রমাণ দিয়ে নিষিদ্ধ করার পক্ষে বৈধতা তৈরি করছে। তাদের এই সন্ত্রাসী তৎপরতার নেপথ্যে আঞ্চলিক অপশক্তির আধিপত্যবাদের স্পষ্ট বার্তা দেখতে পাচ্ছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই পরাজিত শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চালাছে।
৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করাই এদের মূল লক্ষ্য। তবে ইতিহাস সাক্ষী, আধিপত্যবাদী অপশক্তির সমর্থনপুষ্ট হলেও জনবিচ্ছিন্ন জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা কখনো জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে নস্যাৎ করতে পারে না।
এমতাবস্থায় দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব দেশের সর্বস্তরের জনগণের ওপর এসে বর্তায়। প্রতিটি রাজপথ ও সামাজিক স্তরে এই রাজনৈতিক উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জনগণের এই গণপ্রতিরোধের পাশাপাশি তারেক রহমানের সরকারকেও আরো কঠোর ও দূরদর্শী ভূমিকা পালন করতে হবে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো— ফ্যাসিবাদ উৎখাতের মূল চেতনা নিহিত রয়েছে ‘জুলাই সনদে’। যতক্ষণ না রাষ্ট্রযন্ত্রের আমূল পরিবর্তন ঘটবে, কেবল ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই তারেক রহমান সরকারের উচিত জুলাই সনদের আলোকে দ্রুততম সময়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা। জনগণের প্রত্যক্ষ রায়ের আলোকে নতুন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এখন সময়ের প্রধান দাবি।
বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামো থেকে ফ্যাসিবাদের অবশিষ্টাংশ নির্মূল করে দেশকে গণতান্ত্রিক ও সুশাসিত ধারায় ফিরিয়ে আনতে সংস্কার প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের শান্তিকামী মানুষ আর কোনো অরাজকতা বা অগ্নিসন্ত্রাসের কাছে পণবন্দি থাকবে না। জুলাই গণহত্যাসহ ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে নিয়ে সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা বিশ্বাস করি, জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ এবং রাষ্ট্র সংস্কার ত্বরান্বিত করার মধ্য দিয়েই কেবল এই নিষিদ্ধ আওয়ামী মদদপুষ্ট জঙ্গি-সন্ত্রাসী অপশক্তিকে চিরতরে প্রতিহত করা সম্ভব।