সংবাদপত্রের পাতা থেকে
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৪৪
গত সপ্তাহে বিরোধীদলের লংমার্চ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন বেশ উত্তপ্ত ছিল। পাশাপাশি সংসদের সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত একটি বিল পাস করা নিয়ে সর্বমহলে তুমুল সমালোচনা ছিল। এছাড়া বিচারঙ্গন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট এসব বিষয় গণমাধ্যমের খবরে বেশ গুরুত্ব পেয়েছে।
দৈনিক যুগান্তর গত ৯ সেপ্টেম্বর ‘জরিমানার আদেশ নিয়ে মাহবুবের সঙ্গে বচসা : এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি’ শিরোনামে প্রধান খবর ছেপেছে। এতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে একটি মামলায় আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ নিয়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এবং আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে বচসার ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতিসহ পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এজলাস ছেড়ে চলে যান। গত ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আপিল বিভাগের আদালতকক্ষে এ ঘটনার পর আর আদালত বসেনি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চে এ সময় ছিলেন বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি। ঘটনার পর সাংবাদিকদের সামনে এর বর্ণনা দেন ব্যারিস্টার খোকন, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
পত্রিকাটি ‘ষড়যন্ত্র সিন্ডিকেটে সার সংকট’ শিরোনামে আরেকটি খবর প্রথম পৃষ্ঠায় গুরুত্বের সাথে ছেপেছে। এতে বলা হয়, পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকা সত্ত্বেও কিছু অসৎ ডিলারসহ মহল বিশেষ সরকারকে বিব্রত করতে কৃত্রিমভাবে সার সংকট সৃষ্টি করছে। এ কারণে কিছুদিন থেকে সার নিয়ে দেশের কয়েকটি জেলায় ডিলারের গোডাউন ভেঙে ক্ষুব্ধ কৃষকদের সারের বস্তা লুট করে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অথচ যুগান্তরের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারের হাতে চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক হিসাবে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের সারের চাহিদা ৩৫ লাখ ২০ হাজার টন। বিপরীতে সরকারের সংগ্রহে রয়েছে ৫১ লাখ ৮৩ লাখ টন সার। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারের সংগ্রহে উদ্বৃত্ত রয়েছে প্রায় ১৬ লাখ ৬৩ হাজার টন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পেছনে এক শ্রেণির ডিলার, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীও জড়িত। এজন্য ইতোমধ্যে ১৫ জেলার কৃষি কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে। এছাড়া চারজন জেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার এবং আরও চারজনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
প্রথম আলো ‘ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েলের ৩০ শতাংশ নিম্নমানের, নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি’ খবরে লিখেছে, দেশে ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েলের প্রায় ৩০ শতাংশই নিম্নমানের ও নকল। এমন ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহারের কারণে দ্রুত বিকল হচ্ছে যানবাহন ও শিল্পের যন্ত্রপাতি। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বাড়ছে বায়ুদূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) প্রথম আলো কার্যালয়ে আয়োজিত ‘নিম্নমানের ইঞ্জিন অয়েলের প্রভাব : ঝুঁকিতে ইঞ্জিন, অর্থনীতি ও পরিবেশ’ শীর্ষক এক সংলাপে এ তথ্য উঠে আসে। লুব্রিকেন্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এমজেএল বাংলাদেশ ও প্রথম আলো যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে।
দৈনিক আমার দেশ ‘বিদ্যুতের ফার্নেস অয়েলে ঝুঁকছে সরকার, বাড়বে আর্থিক চাপ’ শিরোনামের খবরে লিখেছে, দেশে চলমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় আপৎকালীন উদ্যোগ হিসেবে ফার্নেস অয়েল বা ভারী জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভর করছে সরকার। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত ৪,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি চলছে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে প্রয়োজনীয় ফার্নেস অয়েলের সরবরাহ চেয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। তবে এতে সরকারের আর্থিক চাপ আরো বাড়বে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
মানবজমিন ‘লাভের আড়ালে দেনার পাহাড় বিমানের’ শিরোনামের খবরে বলেছে, দেশের আকাশপথের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বাহন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স খাতা-কলমে শত শত কোটি টাকার মুনাফা দেখালেও বাস্তবে তাদের ঘাড়ে চেপে আছে পাহাড়সম দেনা। বছরের পর বছর ল্যান্ডিং, পার্কিং ও রুট নেভিগেশনের মতো অ্যারোনটিকেল এবং নন-অ্যারোনটিকেল ফি সময়মতো পরিশোধ না করায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রায় ৫ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা এখন বিমানের কাছে দেনা। ৫টি দেশীয় এয়ারলাইন্স মিলিয়ে বেবিচকের মোট পাওনা ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে শুধু রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমানের কাছে আটকে আছে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা বিমানের প্রশাসনে রদবদল হলেও বকেয়া আদায়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হচ্ছে না।
বণিকবার্তা ‘বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ সিস্টেম লস তিতাসের’ শিরোনামের প্রধান খবরে লিখেছে দেশে গ্যাসের মজুদের দুর্বল অবস্থা, চলমান সংকট এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির বিবেচনায় এ পরিমাণ গ্যাস হারানোকে উদ্বেগজনক বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। পাঁচ বছরে হিসাবের বাইরে খরচ হওয়া গ্যাসের পরিমাণকে দৈনিক হিসাবে ধরলেও সেটি অনেক।
দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। কোম্পানিটির বিতরণ নেটওয়ার্কে প্রতি বছর হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ গ্যাস, যা সিস্টেম লস হিসেবে বিবেচিত হয়। গত পাঁচ অর্থবছরে কোম্পানিটির মোট সিস্টেম লস হয়েছে ৪০৯ কোটি ঘনমিটার। বাংলাদেশে আমদানি করা একেকটি এলএনজি কার্গোতে সাধারণত ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ গ্যাস থাকে। সে হিসাবে তিতাসের পাঁচ বছরের সিস্টেম লস ৪৫ থেকে ৪৮ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ। অর্থাৎ গড়ে বছরে প্রায় ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায় হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে।
পত্রিকাটি ‘আফ্রিকায় আশ্রয় চেয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি’ শিরোনামে প্রথম পৃষ্ঠায় আরেকটি খবর গুরুত্বের সাথে ছেপেছে। এতে বলা হয়েছে, অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ প্রবণতা ইঙ্গিত করে যে কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের সন্ধানে বাংলাদেশিদের অনিয়মিত অভিবাসন এখন আর শুধু পশ্চিমা দেশগুলোকে ঘিরে নেই।
ইউরোপের দেশগুলোয় বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের চিত্র দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় থাকলেও অনিয়মিত অভিবাসনের এ প্রবণতা এখন আর শুধু ইউরোপকেন্দ্রিক নয়। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্যানুযায়ী, গত পাঁচ বছরে (২০২১-২৫) আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও রাজনৈতিক আশ্রয় বা শরণার্থী মর্যাদা চেয়ে আবেদন করেছেন ৬০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের সিংহভাগই আবেদন করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। তবে সোমালিয়া, মালি, মরক্কো, মিশর, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, নামিবিয়া ও ক্যামেরুনের মতো দেশেও তুলনামূলক কম সংখ্যায় বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের তথ্য পাওয়া গেছে।
ইত্তেফাক ‘মাদক-হতাশা ও সুস্থ বিনোদনের অভাবই বাড়াচ্ছে অপরাধ’ শিরোনামের খবরে লিখেছে,
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতা, সাইবার অপরাধ এবং পারিবারিক নৃশংসতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম— সর্বত্রই এখন এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতার আতঙ্ক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান ও বিশেষ তৎপরতা সত্ত্বেও অপরাধের এই গ্রাফ কিছুতেই নিচে নামানো যাচ্ছে না। মাদকের অবাধ বিস্তারের সঙ্গে আছে নানা ধরনের হতাশা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ বিনোদনের অভাবেও অনেক তরুণ বিপথগামী হয়ে যাচ্ছে।
সমকাল ‘মৌখিক নম্বর বাড়ছে, লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমছে’ শিরোনামে প্রধান খবরে লিখেছে,
সরকারি চাকরির নিয়োগবিধিতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত বিধিমালা এরই মধ্যে অনুমোদন করেছে প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটি। এখন সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। আর লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমবে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সব চাকরিতে এক মানবণ্টনে পরীক্ষা হবে। এর মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষায় ‘প্রক্সি’ ঠেকানো যাবে। তবে বিরোধীদলের অভিযোগ, সরকারের পছন্দের প্রার্থীদের সুবিধা দিতে এমন পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতে নিয়োগ দুর্নীতির পথ খুলবে।
কালের কণ্ঠ ‘ডেটা বেইস দুর্বলতায় অপরাধীরা অধরা’ শিরোনামে প্রধান খবরে লিখেছে, চারপাশে ভয়ংকর অপরাধী চক্র সক্রিয়। নানা মুখোশের আড়ালে তারা বেপরোয়া। কখনো নাম পরিচয় বদলিয়ে, কখনো ঠিকানা কিংবা পদ-পরিচয় গোপন করে একের পর এক অপরাধ করে চলছে তারা। এক জায়গায় ধরা পড়লেও আগের অপরাধ শনাক্তকরণে দুর্বলতা কিংবা সমন্বয়হীনতার কারণে অপরাধের মাত্রা যাচাই করা যাচ্ছে না। আবার সরকারি চাকরিতে যত সহজে অপরাধী চিহ্নিত করা যায়, বেসরকারিতে তা করার কোনো উদ্যোগ নেই। গৃহকর্মী, দারোয়ান থেকে কর্মকর্তা কিংবা করপোরেট নির্বাহী— কারো ক্ষেত্রেই পূর্ণাঙ্গ একক ডেটা বেইস বা তথ্যভাণ্ডার নেই।
গ্রন্থনা- আবু জায়েদ আনসারী