পুনর্বাসিত হচ্ছে আওয়ামী অলিগার্করা


৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৩৩

গতি নেই পাচার করা অর্থ ফেরত ও বিচারে

॥ উসমান ফারুক ॥
অর্থ পাচারের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ার পরও এখনো দেশে স্বাভাবিকভাবে আগের মতোই ব্যবসা করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অলিগার্ক হওয়া ব্যবসায়ীরা। পাচার করা অর্থ ফেরত আনার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, তাও গতি হারিয়েছে বিএনপি সরকার গঠনের পর। আর্থিক অপরাধ করেও তাদের বিচার আটকে গেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের মতোই এই সরকারের সঙ্গে সরকারি হাজার কোটি টাকার কেনাকাটা করতে সুযোগ পাচ্ছে অলিগার্ক হওয়া ব্যবসায়ীরা। অথচ এসব ব্যবসায়ী গ্রুপ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারকে টিকিয়ে রাখতে পতনের আগ পর্যন্ত সব ধরনের কার্যক্রমে সামনের সারিতে ছিল। প্রকাশ্যে পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সহযোগিতা করেছে এই দশ গ্রুপ। অপরাধের বিচারের বদলে আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগী এসব গ্রুপের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চলছে ঢিলেগতিতে। সরকারের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে তারা।
সেই অলিগার্করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় আর্থিক খাতে অশুভ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের সূচনাকারী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ দখলকারী এস আলম গ্রুপ। ইসলামী ব্যাংকসহ ৭টি ব্যাংক দখল করে গ্রুপটি প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা নিয়ে যায় এসব ব্যাংক থেকে। এ তালিকায় ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোপাটকারী বেক্সিমকো গ্রুপ। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি নিয়ে অর্থ পাচারকারী বসুন্ধরা গ্রুপ। বসুন্ধরার বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগ তদন্তাধীন আছে।
রয়েছে বিদ্যুৎ খাতের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণকারী সামিট গ্রুপের ২০ হাজার কোটি টাকা লুটপাটকারী। রয়েছে ওরিয়ন গ্রুপ, নাসা, নাবিল, সিকদার, যুক্তরাজ্যে অর্থ পাচারকারী আওয়ামী লীগের সময়ে থাকা মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর আরামিট গ্রুপ, আওয়ামী লীগের এইচবিএম ইকবাল, সাদ মুসা গ্রুপ, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, হলমার্ক গ্রুপ ও জেমকন গ্রুপ।
এই ১৬ গ্রুপের তালিকা করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সেখান প্রথম ধাপে ১০টি গ্রুপের দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, ব্যাংক দখল ও অর্থ পাচারের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। বিদায়ী সরকার অর্থ পাচার করায় শেখ হাসিনা, তার পরিবার ও দশটি ব্যবসায়ী গ্রুপের দেশে-বিদেশে ৭৬ হাজার কোটি টাকার অর্থ ও সম্পত্তি অবরুদ্ধ করেছে আদালত। তাদের বিরুদ্ধে মোট ৯৮টি মামলা করে গেছে জুলাই বিপ্লবের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যে ৫৭ হাজার কেটি টাকা দেশে ও ১৯ হাজার কোটি টাকা বিদেশে।
বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদক ও সিআইডি ১১টি তদন্ত দল গঠন করে। এসব গ্রুপ ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাৎ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঘুষ ও দুর্নীতিসহ অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জনের তথ্য পায় সবগুলো তদন্ত দল। এছাড়া এসব ব্যবসায়িক গ্রুপের বিরুদ্ধে কর ও শুল্ক ফাঁকি এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অবৈধ পন্থায় বিদেশে অর্থ পাচারের তথ্য রয়েছে।
কিন্তু সেই পদক্ষেপ গতি হারায় বিএনপি সরকার গঠন করার পর। বিশ্লেষকরা বলছেন, ফ্যাসিস্টদের ব্যবসা পরিচালনা, সরকারি কেনাকাটায় অংশ করতে দেওয়া আর্থিক খাতের সুশাসন ও দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এটি শুধু নৈতিকতার প্রশ্ন নয়, আইনের শাসনেও এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ব্যবসার পরিবর্তে অর্থ পাচার করায় রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে এসব প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় স্বার্থে অধিগ্রহণ করা প্রয়োজন।
সরকার ও বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্ব হচ্ছে, সেই অলিগার্কদের তাদের সকল আর্থিক কর্মকাণ্ডের ওপর ফরেনসিক অডিট পরিচালনা করা। কারা কারা তাদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছে, তাদেরও বিচারের আওতায় এনে ব্যবস্থা নেওয়া। তাদের সম্পদ ও ব্যবসা বিক্রি করে দেওয়া। দ্রুত এসব প্রতিষ্ঠানকে সরকারি কেনাকাটায় অংশ নিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া।
নিষিদ্ধের দাবি অর্থনীতিবিদদের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম জাহীদ বলেন, সরকারকে একটি ভারসাম্য নীতিতে যেতে হবে। যেখানে ব্যবসায়িক গ্রুপের আর্থিক অনিয়মের বিচার হবে। একইসঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জনস্বার্থ জড়িত থাকলে সেদিকেও তাকাতে হবে। অনেক পণ্য তারা আমদানি করে, যা জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের বাদ দিয়ে সেসব সেবা কীভাবে ব্যবস্থা করা যায়, সরকারকে সেই বিকল্পও ভাবতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে যে, অপরাধী যত প্রয়োজনীয় হোক না কেন, তাকে আইন মানতে বাধ্য করা হবে।
তার মতে, আর্থিক দিক দিয়ে যতই শক্তিশালী হোক, তাদেরও আইন মেনে চলার সংস্কৃতিতে ফেরাতে হবে। প্রয়োজনে জাতীয় স্বার্থে এসব গ্রুপকে অধিগ্রহণ করে অন্য কাউকে পরিচালনা করার দায়িত্ব দেওয়া যায়।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, যদি এই গ্রুপগুলোকে নিষিদ্ধ না করা হয়, তবে ইচ্ছেকৃত খেলাপি হওয়ার সংস্কৃতি কোনোদিনও বন্ধ হবে না। অর্থনীতিতে মাস্তানের সংখ্যা দিন দিন বাড়বে। এসব মাস্তানির কার্যক্রমকে কোনোভাবে উৎসাহ দেওয়া উচিত হবে না। সরকার প্রয়োজনে ছোট ছোট আকারে টেন্ডার দিতে পারে। যাতে নতুন নতুন উদ্যোক্তাও তৈরি হয়।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবে— এটাই তাদের কাজ। ব্যবসার পরিবর্তে রাজনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে অর্থনীতিকে পণবন্দি করার সুযোগ আর কাউকে দেয়া উচিত হবে না।
হুট করে তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিলে বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এছাড়া চিনি, তেল বা ওষুধের মতো নিত্যপণ্যের বাজারে তাদের বড় অংশীদারিত্ব থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এসব গ্রুপ বন্ধ না করে সরকারের উচিত হবে জাতীয় স্বার্থে অধিগ্রহণ করা বলে সুপারিশ করেন আবু আহমেদ।
আওয়ামী লীগের পাশে ছিল শেষ পর্যন্ত
জুলাই বিপ্লব চলাকালীন ও সরকার পতনের তিন দিন আগেও প্রকাশ্যে জনসভায় দাঁড়িয়ে এই অলিগার্করা শেখ হাসিনার পাশে আজীবন দাঁড়িয়ে থেকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশ থেকে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার সহযোগী এসব ব্যবসায়ী গ্রুপ এখন বিএনপি সরকারেরও পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে। এসব ব্যবসায়ী গ্রুপ ব্যবসার আড়ালে দেশ থেকে অর্থ পাচার করেছে নিয়মিত।
তখনই তাদের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। কিন্তু পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় তাদের অংশ থাকায় নিষেধাজ্ঞা দিলে পুরো বাজার ব্যবস্থাপনা ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়। তখন সিদ্ধান্ত হয়, ধীরে ধীরে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে এই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নেওয়া উদ্যোগ বাস্তবায়নে ধীর গতিতে চলছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব ব্যবসায়িক গ্রুপের নামে-বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানই গত দেড় দশকে দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। অন্য ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বীদের কোনোভাবেই দাঁড়াতে দেয়নি। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে তাদের কথা মতোই নীতিনির্ধারণ করা হয়। সরকারি প্রকল্পে কাজ নিয়ে নিজেদের মতো ব্যয় বাড়িয়েছে। অনিয়ম ও লুটপাট করে গড়ে তুলেছে সম্পদের পাহাড়।
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে বাধা এসব অলিগার্ক
আওয়ামী লীগের এসব ব্যবসায়িক গ্রুপের লাগামহীন লুটপাটের কারণেই দেশের অর্থনীতি এখনো খাদের কিনারায় রয়েছে। বিশ্বব্যাংক ইতোমধ্যে পূর্বাভাস দিয়ে বলেছে, বিএনপি সরকার আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার যে লক্ষ্য ঠিক করেছে, তা অর্জনে সবচেয়ে বড় বাধা এসব ব্যবসায়িক গ্রুপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ব্যাংকিং খাত। ব্যাংক খাত দুর্বল হওয়ার কারণেই দেশের জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধির হার ৪ শতাংশের মধ্যে থাকবে বলে আন্তজার্তিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে।
অন্যদিকে এসব প্রতিষ্ঠানের কারণেই ব্যাংকিং ও শিল্প খাতে অনিয়ম-দুর্নীতির পাহাড় ক্রমাগত বড় হচ্ছে। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থ অবরুদ্ধ করা হয়, তখন তার মূল উদ্দেশ্য থাকে অপরাধলব্ধ অর্থের স্থানান্তর রোধ করা ও রাষ্ট্রের পাওনা নিশ্চিত করা। কিন্তু এই বিশাল অংকের সম্পদ কাগজে-কলমে অবরুদ্ধ থাকলেও সেই গ্রুপগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা সরকারি দরপত্রে অংশগ্রহণে কোনো বাধা দিচ্ছে না সরকার। উল্টো সরকারি হাজার কোটি টাকার কেনাকাটায় তাদের সুবিধা দিয়ে আরো শক্তিশালী করছে।
অলিগার্করা ফের পণবন্দি করতে পারে অর্থনীতি
অথচ এসব ব্যবসায়িক গ্রুপের কারণেই ব্যাংকিং খাত পণবন্দি হয়ে আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ ১০ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশ। এর একটি বড় অংশই এই শীর্ষ ১০টি গ্রুপের হাতে কুক্ষিগত। এই ঋণের সিংহভাগই দশ গ্রুপের। গত এপ্রিলে অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে খেলাপির যে তালিকা প্রকাশ করা হয়, শীর্ষ ২০ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০টিই বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন।
এর মধ্যে শুধু বেক্সিমকো গ্রুপের সালমান এফ রহমান, নাসা গ্রুপের নজরুল ইসলাম মজুমদার কারাগারে রয়েছে। এ দুটি ছাড়া অন্য গ্রুপগুলো এখনো টিসিবিসহ সরকারের বিভিন্ন কেনাকাটায় অংশগ্রহণ করছে। তাদের তেল, ডালসহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে ক্রয়াদেশ দিচ্ছে বিএনপি সরকারও। সর্বশেষ জ্বালানি আমদানি করার সুযোগও দিতে যাচ্ছে সরকার। এসব গ্রুপের অনেক প্রতিষ্ঠানই ঋণ খেলাপি হয়েও সরকারি কাজে অংশ নিচ্ছে।
জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশ পাচার করেও নির্বিঘ্নে সরকারি কাজ পায়, তখন সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের জবাবদিহি ও সুশাসনের বার্তাটি অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে সৎ উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করে এবং দেশের ‘ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেট’ বা বিনিয়োগ পরিবেশ নষ্ট করছে।
খেলাপির বড় অংশই এদের কারণে
এই গ্রুপগুলোর অনিয়ন্ত্রিত ঋণ গ্রহণ এবং অর্থ পাচারের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ব্যাংকিং খাতের ওপরও। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত স্মরণকালের বৃহত্তম লোকসানের মুখোমুখি হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেবল এস আলম গ্রুপের দখলে থাকা সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের লোকসান ছিল ভয়াবহ। আর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের যে ক্ষতি হয়েছে, তা ঠিক করতে ৫০ বছরের বেশি সময় লাগবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এস আলমের কর্ণধাররা বিদেশে পালিয়ে গেলেও এখনো বিদ্যুৎসহ কয়েকটি খাতে ব্যবসা পরিচালনা করছে। কোল্ডস্টোর, নির্মাণ ও পরিবহন খাতে ব্যবসা পরিচালনা করে এলেও ইসলামী ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করছে না। টিসিবির বিভিন্ন পণ্য তারা সরবরাহ করছে আগের মতো।
শুধু বেক্সিমকো ও নাসা গ্রুপের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। অবশিষ্ট ৮ গ্রুপের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড চলছে চলছে স্বাভাবিক গতিতে। উল্টো সরকারি ব্যাংক থেকে দেশি ও বিদেশি মুদ্রায় ঋণ দিচ্ছে। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের যাবতীয় নথি আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন শুধু বিচারের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। শিল্প গ্রুপগুলোর অর্থ অবরুদ্ধ হলেও ব্যবসায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তারপরও তারা ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করছে না।
ব্যবসার বদলে রাজতৈনিক কাজে যুক্ত হওয়ায় দেশের তারা শিল্প খাতকেও ঝুঁকিতে ফেলেছে। দেশের রপ্তানি খাতকেও নানা ধরনের চ্যলেঞ্জের মধ্যে ফেলেছে। বেক্সিমকো, নাসা ও এস আলম গ্রুপও ব্যবসার বদলে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে। ফলে সরকার বদল হওয়ার পরই আর্থিক দুর্নীতি প্রকাশ পেলে কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। বেতন দিতে না পারায় ২০ হাজারের বেশি ব্যক্তির কর্মসংস্থান চলে যায়। ব্যবসার পরিবর্তে দুর্নীতি করায় পুরো অর্থনীতিকে বিপদে ফেলে দেয়। তারা আবার শক্তিশালী হলে বর্তমান সরকরকেও পণবন্দি করে ফেলতে পারে ভবিষ্যতে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে নাসা গ্রুপ বা বেক্সিমকোর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের কারখানাগুলোয় উৎপাদন বন্ধ হলে তার প্রভাব পড়েছিল পুরো সাপ্লাই চেইনে।