রাজধানীর ৪শ’ হটস্পটে ছিনতাইকারী

প্রতিদিন খুন হচ্ছে ১০ জন


৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:২৮

সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

॥ সাইদুর রহমান রুমী ॥
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে খুন, ধর্ষণ ও ছিনতাই যেন মামুলি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনে কিংবা রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্লিপ্ততায় বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে ছিনতাইকারী চক্র। শহর-গ্রাম সর্বত্র প্রতিদিনই ছিনতাই, চুরি, ধর্ষণ, খুন এবং মাদকের মতো ভয়াবহ ঘটনার বিস্তারে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গা-ছাড়া ও ঢিলেঢালা ভাবের কারণে ক্রমেই অপ্রতিরোধ্য হয়েছে এসব অপরাধী চক্র। এসব অপরাধী চক্রের সাথে ক্ষমতাসীন দলীয় লোকজনের যোগসূত্র পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু শুরু থেকেই তাদের দীর্ঘদিনের আশা ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিসহ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ আরও দৃঢ় হবে। তবে তাদের এই আশা অনেকটাই ফিকে হতে শুরু করেছে। বর্তমানে রাজধানী ঢাকাসহ প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ভয়াবহ খুন, ছিনতাই, ধর্ষণসহ ভয়াবহ অপরাধের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। মানুষের আতঙ্ক দূর করার জন্য পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে ধরনের দৃশ্যমান তৎপরতা থাকা দরকার, সে ধরনের তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বরং দেখা যাচ্ছে, পুলিশ কেমন যেন নির্বিকার থাকছে। ওপর মহলের নির্দেশ পেলে সামান্য একটু নড়াচড়া করছে। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিতেও তাদের মাঝে নেই বোধোদয়।
সাত মাসে খুনের রেকর্ড : সারা দেশে আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে খুনাখুনি। রাজনৈতিক কোন্দল, দখল, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, আন্ডারওয়ার্ল্ডে আধিপত্যের লড়াই, এলাকাভিত্তিক উঠতি সন্ত্রাসীদের তৎপরতা, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্ব, জমি দখল এবং পারিবারিক-সামাজিক কলহ থেকে ঘটছে খুনের ঘটনা। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে সরকার। অপরাধীরা দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে গিয়ে মাঠপর্যায়ে পুলিশকে সক্রিয় করাসহ একাধিক উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও খুনাখুনি রোধ করা যাচ্ছে না।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি থেকে জুলাই) সারা দেশে ২,০৭৬টি খুনের মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৩০০টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যার অর্থ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ জন মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার কারণে খোদ পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থায় উদ্বেগ রয়েছে।
এছাড়া ফেব্রুয়ারির পর দেশে নতুন করে রাজনৈতিক মেরুকরণের পর রাজনৈতিক খুনও বেড়েছে। গত সাত মাসে সারা দেশে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ৭৫ জন খুনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ বিএনপির নেতাকর্মী।
পুলিশ বলছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় আছে। তারা সামাজিক খুনাখুনি রোধে মাঠে কাজ করছেন। পাশাপাশি খুনের ভিকটিমের দ্রুত মামলা নেওয়া ও আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছেন এবং তাদের গ্রেপ্তার করছেন। এছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করেছেন আইজিপি। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার এসপিদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া ও জনসংযোগ) এএইচএম শাহাদাত বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
খুন-ছিনতাই যেন মামুলি ব্যাপার
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে খুন-ছিনতাই যেন মামুলি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৯ আগস্ট শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইকারীদের হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে রনজিনা পারভীন (৫৫) নামে এক প্রধান শিক্ষিকার মৃত্যু হয়। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বগুড়া থেকে ঢাকায় এসে ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা তার ব্যাগ ধরে টান দিলে তিনি রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুরের দাসপাড়ার মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই ঘটনায় মামলা দায়েরের আগেই স্থানীয় দুই প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে আটক করে পুলিশ। সর্বশেষ তথ্য- প্রমাণে দেখা যায়, মাদাকাসক্ত ওই দুই প্রতিবেশী ব্যক্তিই গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, কন্যা ও পুত্রকে একে একে হত্যা করে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠতে দেখা যায়।
এছাড়া গত ৬ আগস্ট ঢাকার সবুজবাগ থানাধীন বাগানবাড়ী কালভার্ট এলাকায় এক নারীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জানা যায়, ২১ বছর বয়সী ওই নারীর নাম সুরাইয়া আক্তার। গত ২০ আগস্ট খুলনার বটিয়াঘাটায় এলাকায় এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এভাবে একের পর খুন আর ছিনতাইয়ের ঘটনায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ঢাকাসহ সারা দেশে খুন হয়েছে ২৮৭ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০, মার্চে ৩১৭, এপ্রিলে ২৮৮, মে মাসে ৩১০, জুনে ৩২৬ ও জুলাই মাসে ২৯৮টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গত সাত মাসে মোট খুন হয়েছে ২,০৭৬ জন। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ২৯৮টি খুনের ঘটনার মধ্যে গণপিটুনিতে ২১ জন ও রাজনৈতিক সহিংসতায় ১১ জন নিহত হয়েছে। প্রত্যেকটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় খুনের মামলা হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো নানা অপরাধের ঘটনাগুলোয় পুলিশ মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করে থাকে, ফলে আইনশৃঙ্খলার প্রকৃত ঘটনাগুলো প্রকাশ পায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে আরো জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সারা দেশে খুনের ঘটনা ঘটেছিল ৩৬২টি। ২০২৫ সালের জুন মাসে খুন হয়েছিল ৩৪৪ জন। কিন্তু যতই সরকারের দিন যাচ্ছে ততই আইনশৃঙ্খলার অবনতি লক্ষ করা যাচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার অনেকগুলো স্পট ছিনতাইয়ের জন্য কুখ্যাত। এসব স্পটে দিন দুপুরে ঘটছে ছিনতাই। এছাড়া ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় দেখা যায় খুনের ছড়াছড়ি। পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, পুলিশের টহল আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া পুলিশের রাতের টহলও বেড়েছে।
রাজধানীসহ প্রধান প্রধান শহরগুলোয় ভোর ৪টা থেকে সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত টার্মিনাল, রেলস্টেশন ছাড়াও হাসপাতাল এলাকায় সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে ছিনতাইকারীরা। কারণ এ সময়ে লোকের সমাগম কম থাকায় ছিনতাই করে পালিয়ে যাওয়া সবচেয়ে সুবিধা। বর্তমানে রাজধানীর ৪ শতাধিক স্পটে সক্রিয় রয়েছে প্রায় ১৪০০ ছিনতাইকারী। ডিএমপির তথ্য বলছে, তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীদের মধ্যে যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, তেজগাঁও, উত্তরা ও ওয়ারীতে সর্বোচ্চসংখ্যক চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন সড়কে ছুরি, চাপাতি অথবা সামুরাই নিয়ে ছিনতাই করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীর সঙ্গে ছিনতাইয়ের হটস্পটও নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। এ তালিকায় মোহাম্মদপুর, পল্লবী, যাত্রাবাড়ী, দারুসসালাম, উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম, বিমানবন্দর, তেজগাঁও, কোতোয়ালি, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, শেরেবাংলা নগর, আদাবর ও খিলক্ষেত অন্যতম। সূত্র জানিয়েছে, ঢাকার ৫০ থানা এলাকায় ৪ শতাধিক ছিনতাইয়ের হটস্পট রয়েছে। যেখানে গভীর রাত ও ভোরে ছিনতাই হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।
ঢাকায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ তেজগাঁও ও ওয়ারী : ডিএমপির পরিসংখ্যান বলছে, তেজগাঁও ও ওয়ারী বিভাগ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার ও মামলায় যেমন এগিয়ে, ছিনতাইয়ের হটস্পটেও শীর্ষে। বছরের পর বছর ধরে একই স্পটে প্রায় একই কায়দায় একই ছিনতাইকারীরা লুট অব্যাহত রেখেছে।
ছিনতাইয়ে ঘটছে মিনি অপহরণ : রামদা, চাপাতি, ছুরি ও আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা রাজধানীতে নিত্যদিনের ঘটনা। তবে সম্প্রতি সময়ে ছিনতাইয়ে নতুন কৌশল নিয়েছে ছিনতাইকারীরা। রাত ১০টার পর বিভিন্ন সড়ক থেকে অটোরিকশায় করে মিনি অপহরণ করা হচ্ছে পথচারীদের। ছুরি ঠেকিয়ে সবকিছু লুটে নেওয়ার পর সড়কেই ফেলে দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, ছিনতাইকারীরা সুনির্দিষ্ট সময় ও জায়গা বেছে নিচ্ছে। বিশেষ করে বাস থেকে নেমে গন্তব্যে যাওয়ার পথে যেসব জায়গা তুলনামূলক ফাঁকা, সেখানে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এসব বিবেচনায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে বর্তমানে ৮৮টি চেকপোস্ট কাজ করছে। পাশাপাশি প্রতিটি থানায় তিন থেকে পাঁচটি নিয়মিত টহল দল রয়েছে। চেকপোস্ট ও টহলের কার্যক্রম তদারকির জন্য সুপারভিশন টিমও কাজ করছে। এরপরও বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। পুলিশের গাফিলতির বিষয়ে ওসমান গণি বলেন, দায়িত্বে অবহেলার তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, বর্তমানে রাজধানীর অনেক এলাকাতেই পথচারীদের আতঙ্কের একটা বড় কারণ ছিনতাই। বিশেষ করে সন্ধ্যায়, রাতে ও ভোরে এই আশঙ্কা বেশি থাকে, কিংবা কখনো দিনে দুপুরে। এর মধ্যে সড়কে অপরাধীদের মহড়া, কুপিয়ে জখম ও ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার বিভিন্ন ঘটনার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ পাওয়ার পর জনমনে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।
এক বছরে প্রায় ১৭ হাজার মামলা
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য বলছে, এক বছরে ঢাকায় বিভিন্ন অপরাধে ১৬ হাজার ৯২৬ মামলা দায়ের হয়েছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এত মামলার ফলে খুন, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, প্রতারণা থেকে শুরু করে সাইবার অপরাধ সব মিলিয়ে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণত থানা-পুলিশ বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন ঘটনা ঘটলেও মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে। কিন্তু এত মামলায় ক্রাইমের আধিক্য ও ভয়াবহতা আঁচ করা যাচ্ছে।
ডিএমপির ৮টি বিভাগের ৫০টি থানার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৬টি মামলা। সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য যেখানেই থাকুক, সেগুলো নির্মূল করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য যেখানেই থাকুক, সেগুলো নির্মূল করা হবে। আমরা আশা করি, আপনারা সবাই সহযোগিতা করবেন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষ আমাদের এ উদ্যোগকে সমর্থন ও সহযোগিতা করবেন। আমরা এ দেশে কোনোভাবেই সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী এবং চাঁদাবাজদের স্থান দেব না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মুক্তি পাওয়া সন্ত্রাসীরা আবার অপরাধে জড়াচ্ছেন কি না, তা নজরদারিতে রাখা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে মনে হয়, তাদের কার্যকর নজরদারির মধ্যে রাখা যায়নি। অপরাধীরা যাতে কোনোভাবেই রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় না পায়, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।