সার সংকট কোথায়?
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৩১
ভরা মৌসুমে কৃষককে কেন ঘুরতে হচ্ছে ডিলারের দ্বারে দ্বারে?
॥ সৈয়দ খালিদ হোসেন ॥
দেশে সারের সংকট কী আছে কি নেই? এমন প্রশ্ন জোরালোভাবে তখনই সামনে আসে, যখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সারের কোনো সংকট নেই। অথচ কৃষক সার না পেয়ে গুদাম লুট করার মতো ঝুঁকি নেয়। ডিলাররা কৃষককে চাহিদা অনুযায়ী যখন সার সরবরাহ করতে পারছেন না, তখন এটাকে সংকট বলা যাবে, নাকি যাবে না? কৃষক সার পাচ্ছেন না। অথচ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বলছে, কোনো সংকট নেই। অথচ সরকারের ভাণ্ডারে থাকা মজুদ ও চাহিদার মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। দীর্ঘসময় সারের অপেক্ষায় থাকা কুড়িগ্রামের কৃষকরা যখন ডিলারের গুদাম ভেঙে সার লুটে নেন, লালমনিরহাটের কৃষকরা যখন সারের জন্য বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন, রাজশাহীতে চাহিদার তুলনায় সার না পেয়ে যখন সংবাদ সম্মেলন করেন, তখনো সরকার বলছে সংকট নেই। ভুক্তভোগী কৃষকদের প্রশ্ন— সংকটটা আসলে কোথায়? গুদামে, সরবরাহ ব্যবস্থায়, নাকি বিতরণ ব্যবস্থাপনায়?
‘পাঁচ বিঘা জমিতে সার লাগবে পাঁচটা, দেয় একটা। লাগবে সকালে, দেয় দুপুরে। এভাবে ক্ষেত করতে পারবে কেউ?’ রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার কৃষক তোরাপ শেখের এই প্রশ্নটিই যেন দেশের সব কৃষকের। সরকারি হিসাবে দেশে সারের মজুদ পর্যাপ্ত, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যেও সংকট নেই। অথচ আমন মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কৃষককে প্রয়োজনীয় সার পেতে ঘুরতে হচ্ছে দোকান থেকে দোকানে। কোথাও সরকার নির্ধারিত দামে সার মিলছে না, কোথাও মিলছে সীমিত পরিমাণে, আবার কোথাও বাড়তি দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় সার পাওয়া যাচ্ছে না।
সরকারি হিসাবেও চাহিদার বিপরীতে মজুদের ব্যবধান বেশ বড়
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, দেশে সারের বার্ষিক চাহিদার তুলনায় বর্তমান মজুদের ব্যবধানও বেশ বড়। গত ২১ আগস্টের হিসাবে, চলতি বছরে দেশে ইউরিয়ার চাহিদা প্রায় ২৬ দশমিক ২২ লাখ টন। এর বিপরীতে মজুদ ছিল ৫ দশমিক ৬৮ লাখ টন। অর্থাৎ শুধু বর্তমান মজুদের হিসাবে চাহিদার সঙ্গে ব্যবধান দাঁড়ায় প্রায় ২০ দশমিক ৫৪ লাখ টন। একইভাবে টিএসপির বার্ষিক চাহিদা ৯ লাখ টনের বেশি, যেখানে মজুদ ছিল ৩ দশমিক ৬৮ লাখ টন। হিসাবে চাহিদার তুলনায় মজুদের ব্যবধান প্রায় ৫ দশমিক ৩২ লাখ টন। ডিএপির চাহিদা প্রায় ১৩ দশমিক ৫৫ লাখ টন, বিপরীতে মজুদ ৩ দশমিক ৫২ লাখ টন; অর্থাৎ ব্যবধান প্রায় ১০ দশমিক ৩ লাখ টন। আর এমওপির বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৯ দশমিক ৭০ লাখ টন, যেখানে মজুদ ছিল মাত্র ১ দশমিক ৮১ লাখ টন। এক্ষেত্রে চাহিদা ও মজুদের ব্যবধান প্রায় ৭ দশমিক ৮৯ লাখ টন। চার ধরনের সারের হিসাব একসঙ্গে ধরলে, চলতি বছরে দেশে মোট সারের চাহিদা প্রায় ৬৭ দশমিক ৭১ লাখ টন। ২১ আগস্ট পর্যন্ত মোট মজুদ ছিল প্রায় ১৬ লাখ টন। অর্থাৎ বার্ষিক চাহিদার সঙ্গে বর্তমান মজুদের হিসাবে ব্যবধান প্রায় ৫১ দশমিক ৭ লাখ টন।
অবশ্য এর বাইরে আমদানির প্রক্রিয়ায় রয়েছে আরও ২ লাখ ১০ হাজার টন টিএসপি, ২ লাখ ৮০ হাজার টন ডিএপি এবং ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন এমওপি। গত ২৪ আগস্টের সরকারি ক্রয় কমিটির বৈঠকে আরও ৩ লাখ ৬৫ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে আরও ১ লাখ ১৫ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কৃষকের অভিযোগ এবং স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য বলছে, অনেক সরকারি গুদামে সার থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী ডিলার পর্যায়ে বরাদ্দ না পৌঁছানো, সরবরাহে সময়ক্ষেপণ এবং বিতরণ ব্যবস্থাপনায় অসামঞ্জস্যতায় সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চাহিদার পুরো সার একসঙ্গে প্রয়োজন হয় না, আবার সরকার পুরো বছরের চাহিদার সব সার একদিনই মজুদ করে রাখেন না। ধাপে ধাপে আমদানি করে তা মজুদ করা হয়।
আমন মৌসুমে কেন বাড়ছে সারের চাহিদা?
বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য ধান উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৌসুম আমন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫৭ লাখ হেক্টর। এই বিপুল জমিতে চাষাবাদের জন্য জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ এবং পরবর্তী পর্যায়ে গাছের বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপির প্রয়োজন হয়। ফলে আমন মৌসুমে নির্দিষ্ট সময়ে সারের চাহিদা একসঙ্গে বেড়ে যায়। এই সময়টিই কৃষকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সার প্রয়োগে কয়েকদিন দেরি হলেও সবসময় সেটি পরে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধানের বয়স ও জমির অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্দিষ্ট সময়ে সার প্রয়োগ করতে হয়। কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইদুর রহমানের ভাষায়, আমন মৌসুম মাত্র শুরু হয়েছে এবং আরও দেড় থেকে দুই মাস কৃষকের নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ প্রয়োজন হবে। ফলে মৌসুমের শুরুতেই যদি সরবরাহে টান দেখা দেয়, তাহলে সামনে আরও বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে।
প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাচ্ছেন কি কৃষক?
রাজশাহীর কৃষক তোরাপ শেখের বক্তব্য গণমাধ্যমের কল্যাণে এখর ভাইরাল। এ কৃষকের ভাষ্য, পাঁচ বিঘা জমির জন্য প্রয়োজনীয় পাঁচ বস্তা সার চাইলে তিনি এক বস্তা পাচ্ছেন। শুধু পরিমাণের ঘাটতিই নয়, সময়মতো সার পাওয়াও সমস্যা। ঝিনাইদহের কৃষক মোহাম্মদ জনির অভিযোগ আরও সরাসরি। তিনি জানান, খুচরা দোকানে সার পাওয়া গেলেও বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে রাজশাহীর এক ডিলারের ভাষ্য, আগের তুলনায় তারা কম সার পাচ্ছেন। অথচ কৃষকের চাহিদা বেড়েছে। তার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এক মাসে তিনি টিএসপি পেয়েছেন ৬০ বস্তা, ডিএপি ৬০ বস্তা, বাংলা ডিএপি ৭০ বস্তা এবং পটাস ৮০ বস্তা। ইউরিয়া থাকলেও অন্য সার নিয়ে সংকট রয়েছে। অর্থাৎ কৃষকের অভিযোগের সঙ্গে ডিলারের বক্তব্যের একটি জায়গায় মিল রয়েছে— চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম।
ডিলাররা কতটুকু সার পাচ্ছেন?
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী জেলা ইউনিট জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে পুরো রাজশাহী জেলার জন্য টিএসপি বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৪৫ মেট্রিক টন। অথচ জেলায় কৃষকের সংখ্যা ৪ লাখ ১২ হাজারের বেশি। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, প্রত্যেক কৃষককে এক বস্তা করে টিএসপি দিতে গেলেও এই বরাদ্দ পৌঁছাবে মাত্র প্রায় ২০ হাজার ৯০০ কৃষকের কাছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, রাজশাহীতে সেপ্টেম্বর মাসে এমওপি বরাদ্দ হয়েছে ১ হাজার ৬২৯ মেট্রিক টন এবং ডিএপি ৩ হাজার ১৫ মেট্রিক টন। ডিলারদের দাবি, সরকারি বরাদ্দ ও কৃষকের প্রকৃত চাহিদার মধ্যে সামঞ্জস্য নেই।
সার পেতে কত সময় লাগছে?
কৃষকরা বলছেন, সরকারের জন্য ডিলারদের কাছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় সার পাওয়া যাচ্ছে না। আর যা প্রয়োজন তার চেয়ে অনেক কম পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষকের জন্য কয়েক ঘণ্টার বিলম্বও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের নির্দিষ্ট সময়েই করতে হয়। অন্যথায় ফসল ফলনে ঘাটতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে সরবরাহ ব্যবস্থার আরও বড় সময়গত ঝুঁকি রয়েছে আমদানিতে। বিএডিসি কৃষি মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত আমদানি জরুরি। বেসরকারি আমদানিকারকদের দাবি, ক্রয়-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ করে এলসি খোলা এবং জাহাজে সার দেশে পৌঁছাতে দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অর্থাৎ আজ সিদ্ধান্ত নিলেই আগামীকাল মাঠে সার পৌঁছাবে না। এই কারণে আমন মৌসুমের বর্তমান চাপ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি রবি ও বোরো মৌসুমের জন্য এখনই সরবরাহ পরিকল্পনা করা জরুরি।
খুচরা বাজারে কত বেশি দামে কিনছেন কৃষক?
সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রতি বস্তা ইউরিয়া ও টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা এবং এমওপি ১ হাজার টাকা দরে বিক্রির কথা। কিন্তু কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি ডিলারের কাছে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে খুচরা বাজারে যেতে হচ্ছে। সেখানে বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে। অর্থাৎ সরকারিভাবে ভর্তুকি দিয়ে যে সার কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে, সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হলে তার সুফল কৃষক পুরোপুরি পাচ্ছেন না। বরং মধ্যস্বত্বভোগী বা অসাধু ব্যবসায়ীর হাতে বাড়তি অর্থ চলে যায়।
সার না পাওয়ার কারণে কৃষিকাজে কী সমস্যা হচ্ছে?
সার না পাওয়ার কারণে উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার শঙ্কাও থাকে। তাছাড়া প্রয়োজনীয় সময়ে প্রয়োজনীয় পুষ্টি না পেলে ফসলের কাঙ্ক্ষিত ফলন ব্যাহত হতে পারে। অন্যদিকে কৃষকের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে এতে মজুদপ্রবণতা তৈরিও আশঙ্কা থাকে। কৃষি অর্থনীতিবিদ রিপন কুমার মণ্ডল মনে করেন, বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে কৃষকের মধ্যে ভবিষ্যতের জন্য সার মজুদ করার প্রবণতা বাড়তে পারে। এতে প্রকৃত প্রয়োজনের বাইরে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হবে এবং সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
কৃষক কী বলছেন?
ভুক্তভোগী কৃষকরা বলছেন, সরকারি গুদামে সার থাকার কথা শুনলেও সেই সার তাদের জমিতে পৌঁছাচ্ছে না। ডিলারের কাছ থেকে সীমিত পরিমাণে পাওয়া গেলে পুরো জমিতে চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। কৃষকদের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে ডিলারদের বক্তব্য, তাদের কাছেও পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। ফলে শুধু ডিলারদের দায়ী করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সরবরাহ বাড়লেই সংকট কেটে যাবে।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
সরকারের হাতে মজুদ থাকলে মাঠে কৃষকের সংকট থাকার কথা নয় বলে মনে করেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা। এ বিষয়ে অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সাম্প্রতিক জ্বালানি তেল সংকটের তুলনা করেছেন। তার মতে, তখনো সরকার ঘাটতি না থাকার কথা বলেছিল, কিন্তু বাস্তবে পাম্পে গিয়ে মানুষ তেল পায়নি। সারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে কি না, তা দেখতে হবে। অধ্যাপক রিপন কুমার মণ্ডলের প্রশ্ন, যদি সার কম থাকে, তাহলে যতটুকু আছে— সেটিও মাঠে যাচ্ছে না কেন? তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সার বিপণন ব্যবস্থায় নতুন মধ্যস্বত্বভোগী বা নতুন চক্রের আবির্ভাব ঘটেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। তার মতে, কোনো উপজেলায় কত সার বরাদ্দ, কত মজুদ এবং কত বিতরণ হচ্ছে— এই তথ্য প্রকাশ্যে আনলে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ডিলার পর্যায়ে মজুদের অভিযোগও যাচাই করা সহজ হবে।
প্রসঙ্গত, কৃষক পর্যায়ে সারের ‘প্রাপ্যতা ও বিতরণ সংকট’ যে রয়েছে, তার একাধিক প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। একদিকে সরকারি গুদামে মজুদ; অন্যদিকে কৃষকের হাতে ঘাটতি— এই বৈপরীত্যই বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আরও বড় উদ্বেগ সামনে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে সারের মোট চাহিদা প্রায় ৬৭ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ টন। এর মধ্যে ইউরিয়া ২৬ লাখ ২২ হাজার, ডিএপি প্রায় ১৩ লাখ ৫৫ হাজার, টিএসপি ৯ লাখের বেশি এবং এমওপি প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজার টন। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানাগুলোর সাতটির মধ্যে ছয়টি দীর্ঘসময় বন্ধ থাকায় দেশীয় উৎপাদনও নির্ভরযোগ্য অবস্থায় নেই। ফলে আমদানির ওপর নির্ভরতা আরও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আমন মৌসুমের বর্তমান বিতরণ সংকট দ্রুত সমাধান না হলে সামনে রবি ও বোরো মৌসুমে চাপ আরও বাড়তে পারে। সুতরাং প্রশ্নটি এখন আর শুধু ‘দেশে সার আছে কি নেই’ এমন নয়। আসল প্রশ্ন হলো— গুদামে থাকা সার কৃষকের জমিতে সময়মতো, প্রয়োজনীয় পরিমাণে এবং সরকার নির্ধারিত দামে পৌঁছাচ্ছে কি না। কারণ কৃষকের কাছে সার না পৌঁছালে গুদামের হিসাব দিয়ে ফসল ফলবে না।