শিক্ষাবিদ এবনে গোলাম সামাদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা
১৪ আগস্ট ২০২৬ ২০:৩০
বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদ এবনে গোলাম সামাদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার (১৫ আগস্ট, ২০২৬) রাজশাহী নগরীর শাহ মখদুম কলেজ মিলনায়তনে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় পরিচয় সংস্কৃতি সংসদ এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন রাজশাহী বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ্যাডভোকেট আবুল কাসেম। পরিচয় সংস্কৃতি সংসদরে সভাপতি কবি ও গবেষক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দের সভাপতিত্বে কী-নোট উপস্থাপন করবেন কবি ও গবেষক ড. ফজলুল হক তুহিন। আলোচক হিসাবে উপস্থিত থাকবেন কথাশিল্পী ও প্রাবন্ধিক ড. নাজিব ওয়াদুদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রানিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. শাহ হোসাইন আহমেদ মেহ্দী, কবি ও সাহিত্যসমালোচক খুরশীদ আলম বাবু এবং লেখক ও গবেষক ড. সায়ীদ ওয়াকিল।
উল্লেখ্য, জনাব এবনে গোলাম সামাদ ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট রোববার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে রাজশাহীতে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তিকাল করেন। বাদ আসর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এবনে গোলাম সামাদের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তাঁর জন্ম ২৯ ডিসেম্বর ১৯২৯। এবনে গোলাম সামাদের বাবা মো. ইয়াসিন ছিলেন স্টেশন মাস্টার। তাঁর মায়ের নাম নছিরন নেসা। বড় বোন বাংলাদেশের আলোচিত লেখক ও সমাজকর্মী দৌলতুননেসা খাতুন। তিনি চার ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।
এবনে গোলাম সামাদ ১৯৪৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা সংঘ বিষ্ণুপুর থেকে বি. কোর্স পাস করেন। পরে ১৯৪৯ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। তেজগাঁও কৃষি ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পরে উদ্ভিদ রোগতত্ত্বের ওপরে গবেষণা করতে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। ফ্রান্সে প্লান্ট ভাইরাসের ওপর চার বছর গবেষণা করে পুয়াতিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
এবনে গোলাম সামাদ ১৯৬৩ সালে দেশে ফিরে ১৯৬৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৫ সালে অবসর নেন। কবি সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ‘সমকাল’ পত্রিকায় লেখালেখির সূচনা।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় চলে যান। সেখানে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত ‘জয়বাংলা’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ফিরে আবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। এবনে গোলাম সামাদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা থেকে ১৯৯৫ সালে অবসর নেন। কবি সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ‘সমকাল’ পত্রিকায় লেখালেখির সূচনা। আমৃত্যু দেশ ও দেশের মানুষের জন্য নিরলসভাবে লিখেছেন। তার উল্লেখ্যযোগ্য গ্রন্থ : ‘শিল্পকলার ইতিকথা’ (১৯৬০), ‘উদ্ভিদ সমীক্ষা’ (১৯৬৬), ‘নৃতত্ত্ব’ (১৯৬৭), ‘বাঙালির জন্ম পরিচয়’ (১৯৭২), ‘ইসলামী শিল্পকলা’ (১৯৭৮), ‘বাংলাদেশে ইসলাম’ (১৯৮৭), ‘রাজশাহীর ইতিবৃত্ত’ (১৯৯৯), ‘নৃতত্ত্বের প্রথম পাঠ’ (২০০১), ‘বাংলাদেশে : সমাজ সংস্কৃতি রাজনীতি প্রতিক্রিয়া’ (২০০৩), ‘মানুষ ও তার শিল্পকলা’ (২০০৬), ‘প্রাথমিক জীবাণু তত্ত্ব’ (২০০৭), ‘বাংলাদেশের আদিবাসী এবং জাতি ও উপজাতি’ (২০১৩), ‘আত্মপক্ষ’ (২০১৪), ‘আত্মপরিচয়ের সন্ধানে’ (২০১৫), ‘বায়ান্ন থেকে একাত্তর’ (২০১৭), ‘রাজনীতি বিষয়ক নির্বাচিত কলাম’ (২০১৭), ‘বিবিধ বিষয়ক নির্বাচিত কলাম’ (২০১৭), ‘আমাদের রাজনৈতিক চিন্তা চেতনা এবং আরাকান সংকট’ (২০১৮), ‘আমার স্বদেশ ভাবনা’ (২০২০) এবং তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয় ‘বাংলাদেশ কথা’ (২০২৩)।