গণতন্ত্র হত্যাকারী দল আওয়ামী লীগ


১৬ জুলাই ২০২৬ ১০:৩০

॥ সৈয়দ খালিদ হোসেন ॥
কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিজেদের গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালা দাবি করলেও কার্যত দলটি দেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্র ধ্বংসের খালনায়ক ছিল। দলটির একসময়ের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বা ‘বাকশাল’ (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ) গঠন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার খর্ব করার মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যা করেছিলেন। তারই কন্যা শেখ হাসিনাও পিতার আদর্শ অনুরসণ করতে গিয়ে ধাপে ধাপে গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করেছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের ভাষায়, ‘গণতন্ত্র হলো এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে। নাগরিকরা সরাসরি অথবা নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে শাসনকার্য ও নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ করেন। এতে আইনের শাসন, বাকস্বাধীনতা এবং সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়।’ যা শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে ছিল না।
গণতন্ত্রের যে হাল করেছিল হাসিনার আওয়ামী লীগ
ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকোচিত করা হয়েছে। সরকারের সমালোচনা করলেও মামলা দেওয়া হয়েছে, করা হয়েছে গ্রেফতার। সরকারবিরোধী কণ্ঠকে রাষ্ট্রবিরোধী বা ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে। ভিন্নমতকে অপরাধে পরিণত করা হয়েছে। ভারতের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেওয়ার পর বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়েছে। অথচ এই স্ট্যাটাস দেওয়া ছিল তার গণতান্ত্রিক অধিকার। বিরোধী রাজনৈতিক দলের মিছিল-মিটিং ও সমাবেশ করা ছিল তাদের অধিকার, কিন্তু সেই অধিকার প্রয়োগ করতে চাইলে সরকারি বাধা এসেছে। শুধু রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কারণে লাখ লাখ বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জেলে রাখা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে সব শিক্ষার্থীরই গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে পছন্দের ছাত্র সংগঠনে সম্পৃক্ত হওয়ার, কিন্তু হাসিনার আমলে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও তার মিত্র দলগুলো ছাড়া আর কোনো ছাত্র সংগঠনের তৎপরতা চালানোর পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এক ধরনের ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছিল, ফলে নাগরিকরা একপর্যায়ে এসে নীরব হয়ে গিয়েছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজের মতপ্রকাশে ভয়ের কারণে অনীহা প্রকাশ করেন। তাছাড়া গণতন্ত্রের সূচকে বাংলাদেশের অবনতি ঘটেছিল আওয়ামী লীগের সময়ে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা নির্বাচন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে তখন উদ্বেগও প্রকাশ করে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকোচন
কথা বলার অধিকার হরণ করতে আওয়ামী লীগ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করে। যার মাধ্যমে লেখক, শিক্ষক ও সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। ফেসবুক পোস্ট বা সরকারের সমালোচনার জেরে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, গণতন্ত্র কেবল একটি নির্বাচননির্ভর ব্যবস্থা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, জনগণের কাছে জবাবদিহি। আওয়ামী লীগের শাসনামলে গত দেড় দশকের বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, একের পর এক ঘটনা গণতন্ত্রের মান ও কার্যকারিতা নিয়ে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কেননা গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি হলো নাগরিকের অবাধে মতপ্রকাশের অধিকার। রাষ্ট্রের নীতি, সরকারের সিদ্ধান্ত কিংবা ক্ষমতাসীন দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য উপাদান। কিন্তু আওয়ামী লীগের টানা শাসনামলে এই অধিকার ধীরে ধীরে জিরোতে নিয়ে আসা হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পায়। সরকার আইনটির উদ্দেশ্য হিসেবে সাইবার অপরাধ, গুজব, ডিজিটাল প্রতারণা ও রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার প্রতিরোধের কথা বললেও বিশ্লেষকরা মনে করেন, আইনটির বেশ কয়েকটি ধারা এতটাই বিস্তৃত ও অস্পষ্ট যে, সরকারের সমালোচনাকেও সহজেই ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ তৈরি হয়। এরপর থেকেই সাংবাদিক, লেখক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কার্টুনিস্ট, রাজনৈতিক কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধেও এই আইনে মামলা হওয়ার ঘটনা নিয়মিত সংবাদ শিরোনাম হতে থাকে। কখনো একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস, কখনো একটি কার্টুন, আবার কখনো সরকারের সমালোচনামূলক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তারের ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভাষ্য ছিল, আইনের প্রয়োগ অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ দমনের চেয়ে ভিন্নমত নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ নাগরিকও প্রকাশ্যে রাজনৈতিক মতামত দিতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েন। কারণ একটি মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটি আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণ হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে জনগণ অনেকটা চুপসে যায়।
ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে গণ্য
হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত করা হতো। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, গণমাধ্যম পর্যবেক্ষক এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে এমনটাই উঠে এসেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারবিরোধী মতপ্রকাশের কারণে রাজনৈতিক কর্মী, মানবাধিকারকর্মীসহ সব শ্রেণি-পেশার নাগরিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছিল। ফলে নাগরিকদের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণ বা ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’-এর পরিবেশ তৈরি করেছিল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, যেমন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, একাধিক প্রতিবেদনে বিরোধীমতের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত হওয়ার অভিযোগ তুলে ধরে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। হাসিনা গণতন্ত্র ধ্বংস করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সমালোচিত হয়েছিলেন।
ফেসবুক পোস্ট : আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড এবং গণতন্ত্র নিয়ে বিতর্ক
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর নিজ আবাসিক হলে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের ক্যাডাররা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, মানবাধিকার সংস্থা এবং আদালতে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, ঘটনার আগে আবরারের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছাত্রলীগ ক্যাডারা। ওই পোস্টে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং ফেনী নদীর পানি প্রত্যাহারসংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে সমালোচনামূলক মতপ্রকাশ করেছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিলেও, আবরার হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে প্রশ্ন তোলে- একজন শিক্ষার্থী কি শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কারণে সহিংসতার শিকার হতে পারেন? মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ঘটনাটিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে।
শেখ হাসিনার শাসনামলে ফেসবুক পোস্ট বা অনলাইন মতপ্রকাশকে কেন্দ্র করে আরও বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনা ঘটে। ফেসবুককেন্দ্রিক আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে ফটো সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা ও পরবর্তী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা, লেখক মুশতাক আহমেদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার এবং কারাগারে মৃত্যুর ঘটনা, কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের গ্রেপ্তার এবং সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নথি-সংক্রান্ত মামলাকে ঘিরে দেশি-বিদেশি মহলে ব্যাপক সমালোচনা হয়। আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু একটি নৃশংস ক্যাম্পাস হত্যার ঘটনা নয়; এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে জাতীয় বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের সমালোচনামূলক মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা এবং সেই মতপ্রকাশের কারণে কোনো ধরনের সহিংসতা বা ভয়ভীতি থেকে নাগরিককে সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।
বিরোধীদলগুলোর রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে
গণতন্ত্রে ক্ষমতাসীন দলের পাশাপাশি একটি কার্যকর বিরোধীদলের অস্তিত্ব অপরিহার্য। বিরোধীদল সরকারের সমালোচনা করবে, বিকল্প নীতি উপস্থাপন করবে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করবে- এটাই গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক চিত্র। কিন্তু আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বিরোধীদলগুলোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্রমেই সীমিত করে দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক মামলা, গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন আলোচিত ছিল। বিরোধীদলগুলোর দাবি ছিল, এসব মামলার একটি বড় অংশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নেতৃত্বকে ব্যস্ত রাখা ও মাঠের রাজনীতি দুর্বল করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা কারো বাসায় দাওয়াত খেতে গেলেও তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজপথে সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন সময় বিএনপির সমাবেশে হামলা করা হয়েছে অথচ এ দলগুলোর গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার।
ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি
হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ (বর্তমানে নিষিদ্ধ) সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশে একটি ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ তৈরি হয়েছিল। মানবাধিকার সংস্থা, সংবাদমাধ্যম পর্যবেক্ষক, বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজ প্রকাশ্যে মতামত দিতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়েন। বিশেষ করে ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনামূলক পোস্ট দেওয়ার পর মামলা বা গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে দেশি-বিদেশি পর্যায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এর ফলে অনেক সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিক আত্মনিয়ন্ত্রণের (Self-censorship) পথ বেছে নেন।
যা বলছেন রাজনীতিকরা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘যেখানে আওয়ামী লীগ, সেখানে গণতন্ত্রের কোনো অবস্থান নেই। তারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে গণতন্ত্র শব্দটি যায় না এবং তারা সমালোচনা সহ্য করতে পারেনি। তারা গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকতে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে বলেন, আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও সবসময় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার কাজ করেছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দলটির মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গণতন্ত্রকে হত্যার পথ বেছে নিয়েছে। তারা সংবিধানকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সাজিয়ে নিয়েছে। সংবিধান থেকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বাতিল করে দিয়েছে। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে মানুষের কথা বলার অধিকার হরণ করেছে। বাকস্বাধীনতা বলতে কিছুই ছিল না। নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করার কারণে জুলাই এসেছে। ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করে গণতন্ত্র হরণকারী ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারকে বিদায় করেছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেন, আওয়ামী লীগ বারবার গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। দলটি একনায়কতন্ত্র ও বাকশাল কায়েম করেছে। তাই তাদের আর সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে, রাজনৈতিক পরিসর মারাত্মকভাবে সংকুচিত করেছে এবং তাদের ১৫ বছরের স্বৈরাচারী ও লুটপাটের শাসনামলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে আপসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।