জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পতন ঘটে ফ্যাসিস্ট হাসিনার

দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বিরোধীদলগুলোর মাসব্যাপী কর্মসূচি


২ জুলাই ২০২৬ ২০:৫০

স্টাফ রিপোর্টার : ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিনাভোটে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নিশি রাতে এবং ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সরকার টানা দেশের শাসনক্ষমতা কুক্ষ্যিগত করে রাখে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন টানা ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ যখন ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারে পরিণত, তখনই প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় গণঅভ্যুত্থানের।২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সম্পৃক্ত হয়ে হাসিনার দুর্নীতি, ব্যাংক লুট, অর্থ পাচারসহ সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে, যা শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
২০২৪ সালের ৫ জুন ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। এই রায়ের প্রতিবাদে দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শুরু হয় বিক্ষোভ। এরপর সারা দেশে শিক্ষার্থীরা ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচিসহ সভা-সমাবেশ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে থাকে। প্রথম দিকে আন্দোলন তীব্রতর না হলেও ১৪ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার ‘মুক্তিযোদ্ধার নাতি-পুতিরা কোটা পাবে না তো, কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা কোটা পাবে?’ এমন বক্তব্যের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে, ঢাবি, রাবি, জাবি, চবিসহ দেশের সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এ দিনই পাকাপোক্ত হয়ে যায় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন।
এরপর ঢাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমানোর জন্য তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে ঢাবি এলাকায় ফোর-জি নেটওয়ার্ক বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। আহত শিক্ষার্থীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, সেখানেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রড ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংস হামলা চালায়।
এরপর ১৬ জুলাই সারা দেশে হওয়া বিক্ষোভে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ শহীদ হন। আবু সাঈদ হত্যার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ঢাবি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা হল থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের তাড়িয়ে দেয় এবং হলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। আন্দোলনে নিহত সকলের জন্য গায়েবানা জানাজার ব্যবস্থা করা হলে সেখানেও হামলা চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। দুদিন পর (১৮ জুলাই) শিক্ষার্থীরা সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাট ডাউন’ ঘোষণা করে। পাশাপাশি ফ্যাসিস্ট সরকার সারা দেশের আন্দোলন দমানোর জন্য টানা ছয়দিন ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট করে দেয়। এরপরও ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ নানাভাবে যোগাযোগ করে আন্দোলন চালিয়ে যায়।
পরদিন ফ্যাসিস্ট সরকার সারা দেশে কারফিউ জারি করে এতে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৬৬ জনের অধিক হতাহতের ঘটনা ঘটে। ২৬ জুলাই পুলিশ বাহিনী সারা দেশে ‘ব্লক রেইড’ চালায়। এ সময় তারা আন্দোলনের সমন্বয়কারী- নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ এবং আবু বকর মজুমদারকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা আরও দুই সমন্বয়কারী সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহকে হেফাজতে নেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা সমন্বয়কদের মুক্তির দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয়। ২৭ জুলাই পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ১২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে শুধু রাজধানীতেই গ্রেফতার হয়েছেন ২ হাজার ৫৩৬ জন।
পরদিন (২৮ জুলাই) কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুমকে হেফাজতে নেয় পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে রাত ৯টার দিকে ডিবি কার্যালয়ে রেকর্ড করা একটি ভিডিও গণমাধ্যমে পাঠানো হয়, যেখানে পূর্বে হেফাজতে নেওয়া ছয় সমন্বয়কারী সব কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে একটি লিখিত বিবৃতি পড়ে শোনান। তবে তিন সমন্বয়কারী- মাহিন সরকার, আব্দুল কাদের এবং আব্দুল হান্নান মাসুদ বলেছেন যে, ডিবি হেফাজতে থাকা ছয় সমন্বয়কের ভিডিও বার্তাটি বিক্ষোভকারীদের আসল অবস্থান নয়। সমন্বয়কারীদের ডিবি কার্যালয়ে জিম্মি করা হয়েছিল এবং বার্তা পড়তে বাধ্য করা হয়েছিল।
পরদিন জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয় সরকার। পাশাপাশি সারা বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক সমাবেশ’ ব্যানারে ছাত্র হয়রানি ও গণগ্রেফতার বন্ধের আহ্বান জানান। তারা আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি জানান এবং চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন। সকালে ঢাবির অপরাজেয় বাংলায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সাম্প্রতিক কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে এক মুহূর্ত নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়, যাকে শিক্ষকরা ‘জুলাই গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
৩০ জুলাই যারা সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের স্মরণে সরকার একটি ‘শোক দিবস’ পালন করে, কিন্তু ছাত্ররা দিনটিকে প্রত্যাখ্যান করে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল লাল করে দেয় এবং রাজধানীসহ অন্যান্য স্থানে বিক্ষোভ করে। চলমান নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে সারাদেশে ছাত্ররা ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ নামে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে। দুপুর সোয়া ১টার দিকে বুয়েট, ঢাবিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হাইকোর্টের দিকে মিছিল করে যাওয়ার সময় পুলিশ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করে। এর প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষার্থী ও ঢাবি সাদা দলের শিক্ষকরা দোয়েল চত্বরে জড়ো হয়।
পরদিন ১ আগস্ট তৎকালীন সরকার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের পাশাপাশি এর সহযোগী সংগঠনগুলোকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে নিষিদ্ধ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। পরদিন ডিবি হেফাজতে থাকা ছয় সংগঠক বলেন, ডিবি অফিস থেকে প্রত্যাহারের বিবৃতি স্বেচ্ছায় দেননি। ৩ আগস্ট সরকারের পতন ঘটে যায়; যেদিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিপুল জমায়েত থেকে ‘এক দফা’ ঘোষিত হয়। এরপর ঢাকা এবং দেশের অন্তত ২১টি জেলায় ব্যাপক সংঘর্ষের ফলে ১৪ পুলিশ কর্মকর্তাসহ প্রায় ৯১ জন নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে দিনটি বিক্ষোভের সবচেয়ে মারাত্মক সময় হয়ে উঠলে সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ ঘোষণা করে।
সব শেষে ৫ আগস্ট অর্থাৎ ৩৬ জুলাই দেশের চলমান কারফিউ অমান্য করে সরকারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান অসহযোগ আন্দোলন সফল করতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ ডাকে সাড়া দিয়ে সারা দেশ থেকে মানুষ ঢাকায় আসতে শুরু করে। দুপুর নাগাদ গণভবনে লাখ লাখ মানুষের সমন্বয়ে লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। হাসিনার পতন সেই মুহূর্তেই নিশ্চিত হয়ে যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষেও লক্ষাধিক লোকের বিপক্ষে দাঁড়ানো অসম্ভব হয়ে ওঠে। বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তার পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন হাসিনা। এরপর হাসিনা তার বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে সামরিক বিমানে করে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পালিয়ে যান। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানান এবং পরে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনে বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচি ঘোষণা
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। ২৫ জুন রাজধানীর জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের ‘নৃশংসতার’ দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনের কর্মসূচি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরেন এবং ১১ দলের নেওয়া কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দেশব্যাপী সেমিনার, চিত্র প্রদর্শনী, স্মৃতিচারণমূলক সমাবেশ, মানববন্ধন, বিভাগীয় সমাবেশ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।
ঘোষিত কর্মসূচিগুলো হলো- ১ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত জেলা ও মহানগর পর্যায়ে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচার দাবিতে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। গ্রাফিতি অঙ্কন করা হবে। ৪ জুলাই রাজধানী ব্যতীত সব জেলা ও মহানগরীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে। ৬ জুলাই জাতীয় সংসদের সামনে শহীদ পরিবারের উদ্যোগে মানববন্ধন আয়োজন ও জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান। ৮ জুলাই জাতীয় সেমিনার আয়োজন। ২৭ জুন ময়মনসিংহে বিভাগীয় সমাবেশ। ১১ জুলাই রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশ। ১৮ জুলাই বরিশালে বিভাগীয় সমাবেশ। ২০ জুলাই নারীদের অংশগ্রহণে জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের অবদান শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ২৩, ২৪ ও ২৫ জুলাই চিত্র প্রদর্শনী এবং জুলাই আন্দোলনের সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাস্থলগুলোয় স্মৃতিচারণমূলক সমাবেশ আয়োজন করা হবে। ২৫ জুলাই সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ। ৩১ জুলাই দেশব্যাপী মসজিদে দোয়া ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। ৫ আগস্ট রাজধানীসহ সারাদেশে জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
জামায়াতের মাসব্যাপী কর্মসূচি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। একইসঙ্গে জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারসহ তিন দফা দাবিও জানিয়েছে দলটি। গত ৩০ জুন মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন ও কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ও দাবির বিষয়ে জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ২ থেকে ৯ জুলাই রাজধানীতে জুলাই শহীদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়, জুলাইয়ের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোয় স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকার দুই মহানগরীর উদ্যোগে আলোচনা সভা আয়োজন করা হবে। এছাড়া ১৮ থেকে ৩১ জুলাই সারা দেশে জুলাই শহীদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়, স্মৃতিবিজড়িত স্থানে স্মৃতিচারণ, আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। ১ আগস্ট মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গণমিছিলের কর্মসূচি পালন করবে দলটি। ১ থেকে ৪ আগস্ট শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হবে। তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশের জেলা, মহানগর ও উপজেলায় ১১ দলের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশ ও মিছিলে সমর্থন ও অংশগ্রহণ করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এছাড়াও মহিলা বিভাগ, ছাত্রসংগঠন এবং জুলাই যোদ্ধাদের বিভিন্ন ফোরামের উদ্যোগে গৃহীত কর্মসূচিতে অংশ নেবে জামায়াত।
মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা এনসিপির
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত একগুচ্ছ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ শিরোনামে এতে থাকছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পদযাত্রা, গণসংযোগ, শহীদদের স্মরণ, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মতো কর্মসূচি। ১ জুলাই রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ৫ আগস্ট ‘বিজয়ের উল্লাস’ শীর্ষক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
গত ২৯ জুন সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জুলাইয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
শিবিরের ৩৬ দিনের কর্মসূচি
‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ’- এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গত ২৯ জুন সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী ‘অদম্য জুলাই’ শিরোনামে মাসব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন। রক্তাক্ত জুলাইয়ের স্মৃতি নিয়ে গল্প, উপন্যাস, গবেষণা প্রবন্ধ ও সাময়িকী প্রকাশ। রাজধানীতে ‘শিশুদের চোখে জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন। ‘জুলাই জাগরণ’ ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী আয়োজন। সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, রিসার্চ কনফারেন্স, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন। সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক প্লেসে ‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ শীর্ষক আলোকচিত্র ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আয়োজন। জুলাইয়ের স্মৃতি বলা, স্মৃতিলিখন, বক্তব্য, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা প্রভৃতি আয়োজন। নিজ নিজ জেলায় শহীদদের নামে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা। ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন। শহীদ পরিবার, আহত ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী গাজীদের নিয়ে ‘লাল জুলাই’ শীর্ষক সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও পডকাস্টের আয়োজন। শহীদদের কবর জিয়ারত, শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং মতবিনিময়। জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন। ‘ঊপযড়বং ড়ভ ঔঁষু’ শিরোনামে ৩৬ দিনব্যাপী অনলাইন ক্যাম্পেইন পরিচালনা।
ছাত্রদলের মাসব্যাপী কর্মসূচি
জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান স্মরণ, শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মাসব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার দীর্ঘ ধারাবাহিক লড়াইয়ের বীরোচিত বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৩০ জুন মঙ্গলবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাসব্যাপী এই কর্মসূচির প্রথম ধাপে ১ জুলাই প্রথম প্রহরে (৩০ জুন, মঙ্গলবার রাত ১১টায়) জাতীয় শহীদ মিনারে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচিতে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনে ‘আলোয় আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ শিরোনামে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও মোমবাতি প্রজ্বালন করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ, সব অংশীজনের অবদানের স্বীকৃতি ও জাতীয় ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখতেই ছাত্রদল মাসব্যাপী এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে। কেন্দ্রীয় সংসদের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে সারা দেশের বিভিন্ন ইউনিটেও এই কর্মসূচি পালন করা হবে। এদিকে গত ৩০ জুন মঙ্গলবার বিকেলে সাড়ে ৪টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি।