লক্ষ্মীপুরে মা ও ৩ মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে ঘাতক নিহত
১ জুলাই ২০২৬ ২০:২৭
গ্রাম বাংলা ডেস্ক : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ঘরের ভেতর ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। পরে এলাকাবাসী ঘাতক অন্তর মুজমদারকে আটক করে গণপিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবারের সদস্যরা হলেন শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজ মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তারকে (৯) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই দিন বাসায় না থাকায় হত্যাকাণ্ড থেকে প্রাণে বেঁচে যান ১৬ বছর বয়সী কিশোর জুনায়েদ ইসলাম সিফাত।
নিহত ঘাতক অন্তরের বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায়। ঘটনার পরদিন ২৬ জুন শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পৌর শহরের ধানহাটা এলাকায় মা ও তিন মেয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনায় নিয়ে তাদের দাফন করা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডে সামাজিক মাধ্যম ও সারা দেশে ব্যাপক আলোচিত হয়। প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে প্রধান বিরোধীদল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির এক বিবৃতিতে সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আজ ২৫ জুন সকালে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরের ধানহাটা সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত। একটি ভাড়া বাসায় প্রবেশ করে মা শাহীনুর বেগম এবং তাঁর তিন নিষ্পাপ কন্যা সায়মা আক্তার, ইকরা বেগম ও সিপা আক্তারকে যেভাবে নির্মম, পাশবিক ও রক্তাক্ত কায়দায় হত্যা করা হয়েছে, তা মানবতার বিবেককে নাড়া দিয়েছে এবং সমগ্র জাতিকে স্তম্ভিত করেছে।
তিনি আরও বলেন, একজন মায়ের সঙ্গে তাঁর তিন কন্যার নিথর দেহ পড়ে থাকার দৃশ্য বিবেকবান মানুষের হৃদয়কে বিদীর্ণ করেছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে পুরো একটি পরিবার এক মুহূর্তেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। এমন নৃশংস ও বর্বর হত্যাকাণ্ড সভ্য সমাজে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই বিভীষিকাময় ঘটনায় পুরো রায়পুরবাসী শোকাহত, আর দেশের মানুষ গভীর বেদনা ও ক্ষোভে মুহ্যমান। নিষ্পাপ নারী ও শিশুদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা মানবিক মূল্যবোধের ওপর এক জঘন্য আঘাত।
তিনি আরও বলেন, আমি নিহত শাহীনুর বেগম ও তাঁর তিন কন্যার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন তাদের শহীদের মর্যাদা দান করেন এবং জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন। একইসঙ্গে তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও স্বজনহারাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন তাদের এই অসহনীয় শোক, বেদনা ও অপূরণীয় ক্ষতি ধৈর্যের সঙ্গে বহন করার তাওফিক দান করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমি এই ভয়াবহ ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আরও কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতের মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা এমপি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২৫ জুন বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ঘরে ঢুকে কুপিয়ে মা ও তিন মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে জানাচ্ছি। সারা দেশে প্রতিদিনই কোনো না কোনো স্থানে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ জনগণ তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। লক্ষ্মীপুরের ঘটনায় আমরা দেখেছি, সাধারণ মানুষ গণপিটুনিতে ঘাতককেও হত্যা করেছে। আমরা মনে করি, এ ঘটনা দেশের মানুষের আইনের প্রতি আস্থাহীনতার বহিঃপ্রকাশ।
এ পরিস্থিতিতে আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানাচ্ছি। ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের আইনেরর আওতায় আনা হোক। সরকারকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে বিশেষ নজর দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে এ ধরনের মামলার দ্রুত বিচার ও রায় কার্যকর করে। সমাজে সতর্কবার্তা দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।