চন্ডিপুরের চড়কি মেলা


১ জুলাই ২০২৬ ১৯:৪০

॥ আনোয়ারুল ইসলাম ॥
তুলিরা চার বোন- ঝুমুর, জুলি, রুলি ও তুলি। তাদের মেলায় যাওয়ার বায়না অনেক দিন থেকেই। এবার তারা পীরগাছার চন্ডিপুরের চড়কি মেলায় যাবে। বৈশাখ মাসের প্রতি বৃহস্পতিবার এ মেলা বসে। আজ প্রথম মেলা শুরু হয়েছে। চারদিকে ঢাকের শব্দ, ‘এসো হে বৈশাখ’ গান আর লাল-সাদা পোশাকে মানুষের ঢল। ছোট্ট তুলি তার বোন ঝুমুর, জুলি ও রুলির একটাই প্ল্যান- মেলায় গিয়ে দারুণ মজা করা।
মেলায় ঢুকতেই তারা অবাক! কোথাও নাগরদোলা ঘুরছে, কোথাও বাঁশি, চশমা বিক্রি হচ্ছে, আবার কোথাও পুতুল নাচ চলছে।
ঝুমুর বলল, ‘প্রথমে নাগরদোলায় উঠব।’
জুলি ভয় পেয়ে বলল, ‘না না! আমি নাগরদোলায় উঠব না। পড়ে গেলে তো মরেই যাব!’
রুলি সাহস করে বলল, ‘কীসের ভয়! মানুষ নাগরদোলায় চড়ে না?’
তুলি খুশিতে বলল, ‘আমি চড়ব, কী হয় হবে!’
কিন্তু তুলি একটু দুষ্টু, সে ঝুমুর ও রুলিকে নাগরদোলার কাছে টেনে নিয়ে গেল। তারা আনন্দে নাগরদোলায় চড়ল। নাগরদোলা যখন একদম ওপরে উঠল, রুলি চিৎকার করে উঠল- ‘আমি নামব! আমি আর কখনো মেলায় আসব না।’
নিচে থাকা লোকজন হো হো করে হাসছে।
নাগরদোলা থেকে নামার পর তুলি একটু রাগ করল, কিন্তু হঠাৎই তার চোখে পড়ল- এক দোকানে রঙিন ঘুড়ি।
‘ আমি এটা চাই!’ বলল তুলি।
জুলি বলল, ‘ঠিক আছে, তবে আগে আমি জিলাপি খাব।’
জিলাপির দোকানে গিয়ে তারা চারজনে চার প্লেট নিল। কিন্তু তুলি এত তাড়াহুড়ো করে খেতে গিয়ে গরম জিলাপি মুখে দিয়ে হাঁসফাঁস শুরু করল।
‘পানি! পানি! পানি!’ বলল তুলি।
দোকানি হেসে বলল, ‘ধীরে খেলে এমন হতো না।’
এরপর তারা গেল একটা জাদুর খেলা দেখতে। জাদুকর বললেন, ‘এই যে ছোট্ট মেয়ে, তুমি আসো!’
জাদুকর তুলিকে মঞ্চে তুলে একটা টুপি দিয়ে বললেন, ‘এই টুপির ভেতর কিছু আছে কি?’
তুলি মাথা নেড়ে বলল, ‘না, নেই।’
এরপর জাদুকর টুপি ঝাঁকাল – আর হঠাৎ একটা সাদা কবুতর বের হয়ে এলো!
তুলি অবাক হয়ে বলল, ‘ওরে বাবা! এটা কীভাবে এলো?’
রুলি ফিসফিস করে বলল, ‘আমার মনে হয় টুপির ভেতর ওয়াইফাই আছে।’
সবাই হেসে উঠল।
বিকেলের দিকে তারা গেল পুতুলনাচ দেখতে। সেখানে এক পুতুল বলছে, ‘আমি মেলায় এসে আজ জিলাপি খাব।’
ঝুমুর হেসে বলল, ‘এই পুতুলটা দেখতে তুলির মতো।’
তুলি বলল, ‘না, আমি পুতুল না, আমি তোমাদের হিরো।’
শেষে তারা বেলুন কিনল। চারজন চার রঙের বেলুনÑ লাল, নীল, সবুজ আর হলুদ।
তারপর হঠাৎ একটা দমকা হাওয়া এলো। চারটা বেলুনই উড়ে গেল আকাশে।
তুলি মন খারাপ করে বলল, ‘আমাদের বেলুন গেল…।’
ঝুমুর বলল, ‘কিন্তু মজাটা তো থেকে গেল !’
রুলি বলল, ‘আর জিলাপির মজার স্বাদও।’
চারজনেই একসঙ্গে হেসে উঠল।
সেদিনের মতো মজার আনন্দ তারা কখনো ভুলতে পারেনি। চন্ডিপুরের চড়কি মেলার সেই দিনটা তাদের জীবনের সবচেয়ে হাসি-খুশি আর স্মৃতি হয়ে রইল।