ছড়া ও কবিতা
১ জুলাই ২০২৬ ১৯:৩৮
টলমল পায়ের খোকা
আসাদুজ্জামান খান মুকুল
হাঁটতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে
পড়ে খোকন সোনা,
একটি দুটি বলছে কথা
কেবল হাতে গোনা।
নতুন কিছু দেখলে খোকা
তাকায় ঘুরে ফিরে,
উঠোনজুড়ে খেলনা গাড়ি
চালাতে চায় ধীরে।
খাতায় কভু টানছে রেখা
কলম হাতে নিয়ে,
মা যে তখন আদর মাখে
পরম স্নেহ দিয়ে।
দিনের শেষে ঘুমের দেশে
চলে খোকন একা,
স্বপ্নপরী খোকার সাথে
করে তখন দেখা।
সেই নদীতে
আমিনুল ইসলাম কাইয়ূম
এই যে নদী আমার নদী,
কোথায় বা তার ঘর?
সে যে আমার বুকের ভেতর,
নিত্য সহচর॥
সংসার ছিল সুখে ভরা,
অল্প পেয়ে মজুরি॥
দাদার বাপে এই নদীতে,
চালায় গেছে তরী॥
বাপের বাপে সেই নদীতে,
একই তরী বেয়ে॥
পরিবার যেন পরিপূর্ণ যে,
মাছ-ভাত খেয়ে॥
অল্পে তুষ্ট সতেজ দ্রব্য,
তৃপ্তি সহকারে খান॥
আমার পিতা সেই নদীতে,
গেয়ে প্রভুর গান॥
বাবার সাথে ছোট্টবেলায়,
দেখেছি নদীর ঢেউ॥
পড়ে আছে ঘাটে বাঁধন,
এখন আসে না কেউ॥
পুল করেছে নদীর ওপর,
দিয়েছে স্লুইসগেট॥
দুঃখে! কষ্টে! লবণ-ভাতে,
ভরে না এখন পেট॥
সবাই এখন যায় গাড়িতে,
খোঁজে না নদীর বাড়ি॥
বেদন চেপে! নদীর সাথে,
তাই পেতেছি আড়ি॥
বৃষ্টির ছড়া
আশরাফ জামান
বৃষ্টি এমন সৃষ্টি ছাড়া।
বৃষ্টি এমন মিষ্টিহারা॥
জুঁইয়ের বনে ফুল ফোটে না।
ওলির মুখে মৌ জোটে না॥
ধানের গায়ে ঢেউ জাগে না
শিশির নেমে ঘাস ঢাকে না॥
বৃষ্টি এমন দৃষ্টিহারা
লাগাম ছাড়া পাগলা ঘোড়া॥
গায়ের পথিক পথহারা।
কৃষক ভয়ে দিশেহারা॥
আম কাঁঠালের মুকুল ঝরে।
বৃষ্টি সাথে লুটিয়ে পড়ে॥
বিশ্বকাপ
আসাদুজ্জামান আসাদ
বিশ্বব্যাপী বিশ্বকাপে
পরেড় গেছে সাড়া
চায়ের টেবিল মুখে মুখে
খেলার নাড়াচাড়া।
টিভির পর্দা হাট-বাজারে
বিজয় ভরা আঁখি
কোন যে দেশটা বিজয় হবে
উঠব সবাই ডাকি।
বিশ্ব বুকে চলছে লড়াই
বিশ্বকাপের খেলা
বিজয় বিজয় মহাবিজয়
কাটাই সারা বেলা।
স্কুলব্যাগ
শেখ সোহেল রেজা
স্কুলেতে যাবে প্রথম
বিড়াল ছানা কই,
ঘরের কোণে লুকিয়ে আছে
কান দেখা যায় ওই।
মান করেছে, রাগ করেছে
স্কুলব্যাগ নাই,
মিউ মিউ ডাকছে ছানা
ব্যাগ কোথায় পাই।
চারটি পায়ে চারটি জুতা
সাদা মোজা পায়,
পিঠে নিয়ে স্কুলব্যাগ
কেমনে ছানা যায়।
স্কুলেতে প্রথম যাবে
টিফিন দিতে হবে,
নইলে ছানা যাবেনা যে
ঘরেই বসে রবে।
মা জননী
মুকুল হোসেন
এই ধরণীর শ্রেষ্ঠ মায়ের
তুমি যে মা জননী,
তুমি আমার বাবার ঘরের
আদর্শময় রমণী।
শত দুঃখের মাঝেও তুমি
গড়তে পারো এ সংসার,
তুমি হলে এই ধরণীর
শ্রেষ্ঠ মায়ের প্রশংসার।
নিজের কাঁধে বয়ে বেড়াও
জীবন যুদ্ধের ওই ঘাঁনি,
দুঃখ পেলেও তোমার চোখে
কভু ঝরে না পানি।
দুঃখ এলে কষ্টগুলো
লুকিয়ে মুখ যে রাখো,
গড়িয়ে পড়া চোখের পানি
আঁচল দিয়ে মুখ ঢাকো।
বাবার স্নেহ
শারমিন নাহার ঝর্ণা
বাবা মানে শক্ত দু’হাত,
নিরাপত্তার ছায়া,
বাবার স্নেহে মিশে আছে
এক পৃথিবী মায়া।
বাবা মানে ভোরের আলো
সাহস বাড়ায় প্রাণে,
বাবার স্নেহ মায়া শুধু
আমায় কাছে টানে।
দুঃখ এলে বুকের মাঝে
আগলে রাখেন টেনে,
হৃদয়জুড়ে শান্তি আসে
বাবার আদেশ মেনে।
বাবার স্নেহের গভীরতা
মাপার যন্ত্র নাই,
সবার বাবা ভালো থাকুক
প্রভুর কাছে চাই।
মায়ের মুখের হাসি
আবুল খায়ের বুলবুল
মাগো তোমার মুখের হাসি
মুক্তা রাশি রাশি
চাঁদ হারায় যে আলোর দ্যুতি
অবাক বিশ্ববাসী …
আমি তোমায় ভালোবাসি
মাগো তোমায় ভালোবাসি ॥
তোমার হাতের সেই ছোঁয়াতে
দূর হয়ে যায় দুঃখ
আদর করে ডাকলে আমার
থাকে না অসুখ
পেরেশানে সান্ত্বনা মা
তোমার মুখের হাসি—-
আমি তোমায় ভালোবাসি
মাগো তোমার মুখের হাসি ॥
তোমার কণ্ঠের সেই সুরে মা
রৌদ্রের ঘাম শুকোয়
অশান্তির ঐ ঝড় বিঝড়ে
ভয় সরে চোখ ঘুমোয়
বাধার পাহাড় দিই পাড়ি দিই
তোমায় ভালোবাসি …
আমি তোমায় ভালোবাসি
মাগো তোমায় ভালোবাসি ॥
বড় অনুদান
শাহীন খান
বাবা মানে বন্ধু নেই তার তুল
ঢেউ তোলা স্রোতধারা পদ্মার কূল।
বাবা মানে সত্য ন্যায়-নীতিবান
শত বাধা পায়ে দলা নিবেদিতপ্রাণ।
বাবা মানে সুখ সুখ আর মিঠে বাঁশি
সব ব্যথা সয়ে যাবে মুখে তবু হাসি।
বাবা মানে আশা ভাষা নিবিড় ছায়া
সন্তানের ভালো চাওয়া কী দারুণ মায়া।
বাবা মানে বটগাছ ফুল ফল লতা
বুক মাঝে ভালোলাগা কী যে গভীরতা।
বাবা মানে বায়না ধন অফুরান
স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ বড় অনুদান।
ফোকলা দাঁতের হাসি
জাকারিয়া আল হোসাইন
ফোকলা বুড়ি ফোকলা বুড়ি
উনাইসা তার নাম
ছোট্ট হলেও বড্ড পাজি
দৌড়ি যেন তার কাম।
একটু আগে এখানে ছিলো
ওরে খোদা একি!
চোখ পলকে নেই কোন খোঁজ
ভাবছি আরে সে কী।
এই এখানে; ওই ওখানে
স্থিরতা নাই
দেখে তার ওই ডানপিটে ভাব
বড্ড মজা পাই।
এই উনাইসা এদিকে এসো
এত্ত ক্যান পাজি
আমার কাছে এসেই যেন
সাজলো সদ্য হাজী।
মাথা তোলো; লজ্জা কীসের
দেখি তোমার দাঁত
দাঁতের কথা শুনতেই সে
মাথায় দিলো হাত।
বললাম ওরে মুখটা খোলো
অমনি দিলো কাশি
বেরিয়ে এলো তার লুকানো
ফোকলা দাঁতের হাসি।
বাবার কাছে চিঠি
কাব্য কবির
আমায় ফাঁকি দিয়ে বাবা কোথায় তুমি গেলে
আর না ফিরে এলে।
টুকটুকে লাল জামা তুমি
দিতে আমায় কিনে,
একটা দিনও ভাল্লাগে না
বাবা তোমায় বিনে।
রাতের বেলা তোমার কথা মনে পড়ে রোজ,
মায়ের কাছে সবসময়ই
নেই যে তোমার খোঁজ।
তোমার জন্য হন্যে হয়ে কাঁদি আমি যখন,
মা যে বুঝায় তখন
তোর বাবা ঐ নীল আকাশের বুকে
আছে অনেক সুখে।
সেদিন থেকে আকাশপানে আমি চেয়ে থাকি,
বাবা বলে ডাকি।
কবুতরকে বন্ধু ডাকি বলি তাকে প্রিয়
আমার লেখা রঙিন চিঠি বাবার কাছে দিও।
বাবা শুধুই স্মৃতি
শেখ সালমান শাহী
নিয়ে বাবা হিল্যে ঝুলে
পড়াতে ঘুম গানে
চাঁদ বুড়ির গল্প শুনাত
বলত কত মানে।
কাঁধে করে নিয়ে বাবা
যেত বাজার মাঠে
গরু ঘোড়ার খেলা হত
উঠে বাবার পিঠে।
বাবার সাথে মাছ ধরতে
যেয়ে গাঙের চরে
কাদা পানির মধ্যে ডুব
দিতাম বেশ করে।
বাবার সাথে এই গুলি
ছিলো যে মজার
আজ তো শুধুই স্মৃতি
পুষি জীবন ভর।
মা আমার জান্নাত
সাইদুল ইসলাম সাইদ
মা নামের এই সূর্যটা রোজ
আমায় দিচ্ছে আলো
যতই মনে ঝড়-ঝাঁপটা যাক
মুছে যায় সব কালো।
বাবা গেছে সেই যে কবে
না ফেরার ওই দেশে,
নিজের স্বপ্ন কবর দিয়ে
গড়ছে আমায় হেসে।
আমার মুখে অন্ন দিতেন
থাকতেন নিজে উপোস
ধীরে ধীরে খাও বাবা সব
নয়তো গাপুস-গুপুস।
সেই মা’টা আজ আমার কাছে
হীরার চেয়েও দামি
সব ভুলে যাই প্রভু যেন
মা ভুলি না আমি।
সবুজ প্রান্তরে
আবদুল্লাহ মজুমদার
সবুজ প্রান্তরে আজ জাগে বিশ্বজয়ের গান,
নীলিমাভরা আকাশজুড়ে
ফুটবলের আহ্বান।
কাঁপে কোটি হৃদয়জুড়ে প্রত্যাশার আবেশ,
কার হাতে উঠবে সোনার
কাপকে হবে শ্রেষ্ঠ দেশ?
ফ্রান্সের দুরন্ত গতিতে
এমবাপ্পে ঝড় তোলে,
রক্ষণের দৃঢ় প্রাচীর মুহূর্তেই যায় দোলে।
ইংল্যান্ডের আস্থার প্রতীক
হ্যারি কেনের নাম,
গোলের নিখুঁত শিল্পে গড়ে
বিজয়ের অবিরাম ধাম।
আর্জেন্টিনার স্মৃতির ভেতর
মেসির আলোকরেখা,
অভিজ্ঞতার দীপ্ত প্রজ্ঞায় স্বপ্ন
পায় নতুন দেখা।
নরওয়ের অগ্নিপুত্র হাল্যান্ড
বজ্রের মতো ধায়,
একাই যেন ম্যাচের গতি
নিয়তির পথে চায়।
ব্রাজিলের ছন্দময়তায় ভিনিসিয়ুস
নাচে মাঠে,
ড্রিবলিংয়ের মায়াজালে প্রতিপক্ষ
পড়ে ফাঁদে।
স্পেনের নবীন বিস্ময় লামিনে
ইয়ামালের রূপ,
ভবিষ্যতের সম্ভাবনায় জাগে
আশার অনন্ত স্তূপ।
বেলজিয়ামের প্রজ্ঞার আলো ডি ব্রুইনের সূক্ষ্ম পাস,
কৌশলের কারুকাজে গড়ে বিজয়ের সুবাস।
স্পেন, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড শক্তির দীপ্ত ধারা,
আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল জাগায়
স্বপ্নের মহাধারা।
পর্তুগালের গৌরবগাথা রোনালদোর
অমলিন নাম,
জার্মানি ফের জাগে যেন পুনর্জাগরণের
অবিরাম।
নেদারল্যান্ডস দাঁড়িয়ে থাকে লড়াইয়ের
দৃঢ় প্রত্যয়ে,
বিশ্বমঞ্চ কাঁপে আজ ফুটবলের
মহিমাময় প্রভায়।
এ শুধু খেলা নয়, এ মানবস্বপ্নের মহারণ,
প্রতিটি পাসে লেখা থাকে
ইতিহাসের অনুরণন।
কে হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন,
কে রাখবে সোনার মান-
উত্তর দেবে শেষ বাঁশিতে
বিশ্বকাপের মহাগান।
সবুজ ঘাসের বুকে লেখা হবে নতুন কাব্যপঙতি,
জয়-পরাজয়ের অশ্রুহাসি গড়বে মানবভক্তি।
পৃথিবীর কোটি মানুষের এক হবে প্রাণের টান,
ফুটবলের এই মহোৎসব চিরকাল অম্লান।
মজলুমরা হচ্ছে অধীর
ফরিদ আহমদ ফরাজী
জাগ রে কিশোর, দেরি কিসের?
ডাকছে তোমায় বদরে।
বুকে রাখ্ রে হানজালার তেজ,
ফেরেশতাদের আদরে ॥
শেরে আলী হায়দর যেমন
খায়বার-দুয়ার ভাঙছিলো
তুমিও ভাঙো তাগুতের দোর,
শয়তান তখন কাঁদছিলো।
খালিদের ঘোড়া তীব্রবেগে
আজও ছোটে শিরায় শিরায়।
সাইফুল্লাহর সেই তলোয়ার
বাতিলের বুক দে চিরে আয়।
কলম তোমার অসির মতো
কণ্ঠে বাজুক তাকবীর-ধ্বনি।
গাজা-কাশ্মীর কাঁদছে দেখো
চুপ থাকা কি, শান কি মানি?
ওঠ রে এবার, ছোটে রে তোরা
ভঙতে হবে বাতিল প্রাচীর
হানজালা আর খালিদের পথ
ধরতে হবে-
মাজলুমেরা হচ্ছে অধীর।