নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে মিলছে না কাক্সিক্ষত মাছ, হতাশ পাথরঘাটার জেলেরা


২৫ জুন ২০২৬ ১০:৫৪

পাথরঘাটা (বরগুনা) সংবাদদাতা : বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার অর্থনীতি ও মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান ভিত্তি মৎস্য খাত। তবে গত কয়েক বছর ধরে বঙ্গোপসাগরে আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় সংকটে পড়েছেন এ অঞ্চলের মৎস্যজীবীরা। বিশেষ করে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় জেলে, ট্রলার মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। দীর্ঘ ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে গত ১১ জুন বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণ শুরু করছেন জেলেরা। দুই মাস পর নতুন আশায় সাগরে নামলেও অনেকের জালে কাক্সিক্ষত পরিমাণ মাছ ধরা পড়ছে না বলে অভিযোগ জেলেদের। এতে নিষেধাজ্ঞা শেষে কাক্সিক্ষত সুফল পাওয়া নিয়ে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা শেষে উপজেলার বিভিন্ন ঘাট থেকে প্রায় পাঁচশত ট্রলার সাগরে যায়। তবে অধিকাংশ ট্রলারই আশানুরূপ মাছ ছাড়া ফিরে এসেছে। বিশেষ করে ইলিশের দেখা মিলছে তুলনামূলক কম।
উপজেলার সদর ইউনিয়নর জেলে আলম মাঝি বলেন, দীর্ঘদিন বসে থাকার পর ধারদেনা করে সাগরে গিয়েছিলাম। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় খরচই উঠছে না। এভাবে চলতে থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
একই কথা জানিয়ে মৎস্য ব্যবসায়ী আবুল ফরাজি বলেন, একটি ট্রলার সাগরে পাঠাতে জ্বালানি, বরফ, খাদ্য ও শ্রমিক মজুরিসহ বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় আমরা লোকসানের মুখে পড়ছি।
স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী রুবেল বলেন, ঘাটে আগের তুলনায় মাছের সরবরাহ অনেক কম। বিশেষ করে বড় আকারের ইলিশ খুব একটা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতির মুখে পড়ছেন, তেমনি ক্রেতাদেরও বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। নদীগুলো নিয়মিত খনন করা হলে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি পেত, যা জেলেদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হতো।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ইলিশ সংরক্ষণে জারি করা নিষেধাজ্ঞার আগে ৮ এপ্রিল থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে ৩২.৩৬ টন ইলিশ এবং ৪৩.৩৪ টন মিশ্র মাছ আহরণ হয়েছিল। এ সময় সরকারের রাজস্ব আয় হয় ৪ লাখ ৪৩ হাজার ২৬০ টাকা।