কালুখালীতে জামায়াত কর্মীর হাত-পা বাঁধা দগ্ধ লাশ উদ্ধার
২০ জুন ২০২৬ ১২:৫১
রাজবাড়ী সংবাদদাতা : রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় মো. আসাদুজ্জামান (২৪) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীর হাত-পা বাঁধা ও অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুর্বৃত্তরা তাকে নির্মমভাবে হত্যার পর লাশ উপুড় করে শুইয়ে আগুনে ঝলসে দেয় বলে জানা গেছে।
নিহত আসাদুজ্জামান কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের বিল মানুষমারী গ্রামের মো. শাহজাহান মণ্ডলের ছেলে। তিনি বালিয়াকান্দি উপজেলায় অবস্থিত মীর মোশাররফ হোসেন কলেজের ডিগ্রি শাখার ছাত্র ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন রোববার বাদ আসর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন আসাদুজ্জামান। রাত ৮টার দিকে তিনি সৌদিপ্রবাসী দুলাভাইয়ের কাছে মুঠোফোনে জরুরি পাঁচ হাজার টাকা প্রয়োজন বলে জানান। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
গত ১৫ জুন সোমবার সকালে স্থানীয় কৃষকরা মাঠে কাজ করতে গিয়ে লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশ ও পরিবারকে খবর দেন।
জানা গেছে, মদাপুর ইউনিয়নের সূর্যদিয়া গ্রামে দাখিল মাদরাসার সামনের মাঠে, ভাটিয়াপাড়া রেলপথ ও চন্দনা নদীর তীরে তোরণ মেম্বারের পাটক্ষেত থেকে তার বিকৃত লাশ উদ্ধার করা হয়।
জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জামায়াতের
রাজবাড়ীর কালুখালীতে দলীয় কর্মীর হাত-পা বাঁধা অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গত ১৫ জুন সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাজবাড়ীর কালুখালীতে জামায়াতকর্মী মো. আসাদুজ্জামানকে (২৪) নির্মমভাবে হত্যার পর হাত-পা বাঁধা লাশে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা চরম বর্বরতা, নৃশংসতা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ। এহেন ঘটনা আইয়্যামে জাহিলিয়াতকে হার মানিয়েছে। আমি এই ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আসাদুজ্জামানের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে যে, দেশের নাগরিকদের কোনো নিরাপত্তা নেই। সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করতে পারায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে সন্ত্রাসী ও খুনিরা। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
নিহত আসাদুজ্জামানের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে পরিবারের সদস্যদের ধৈর্যধারণের তাওফিক কামনা করেন তিনি।
এছাড়া আসাদুজ্জামানের হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিচার দাবি করেছন রাজবাড়ী জেলা জামায়াতের আমীর এডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম ও নায়েবে আমীর মো. হাসমত আলী হাওলাদার। গত ১৫ জুন সোমবার এক শোকবার্তায় নেতারা আসাদুজ্জামানের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান।