ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে হাম পরিস্থিতি
১১ জুন ২০২৬ ০৯:৫১
স্টাফ রিপোর্টার : হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুহীন কোনোদিন যাচ্ছে না। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে সরকার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ও নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়ে আসছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ৫৩৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে আরও ৯২ শিশু। সব মিলিয়ে এ সময়ে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৬৩১ জনে। চলতি মৌসুমে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১ হাজার ৮৪ জনে। এদের মধ্যে ৬৬ হাজার ১৭০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ৬২ হাজার ২৯২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ও আক্রান্তের এই সংখ্যা অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে। রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোয় রোগী রাখার ঠাঁই নেই। অনেক হাসপাতালে বারান্দায়ও স্থান পাচ্ছেন না রোগী ও তার স্বজনরা।
গত ৯ জুন মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো প্রতিবেদন বলছে, দেশে হামের উপসর্গে এদিন তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজারের বেশি শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার নিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া তিন শিশু ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। তবে এ সময়ে কোনো মৃত্যুই ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে হয়নি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগে উপসর্গভিত্তিক মৃত্যু ও নিশ্চিত সংক্রমণের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও সামগ্রিক চাপ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করা এবং দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায়। একইসঙ্গে অভিভাবকদেরও শিশুদের টিকাদানের বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর পূর্ববর্তী সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল, টিকা গ্রহণের হার কমে গেলে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দ্রুত বাড়তে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একাধিক প্রতিবেদনে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম হলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। চিকিৎসক রোগীকে ভালোভাবে দেখার পর শনাক্ত করতে পারবেন আসলেই হাম হয়েছে কিনা। সাধারণত তিন দিনের চিকিৎসাতেই এ রোগের জ্বর ভালো হয় এবং সাত দিনের মধ্যেই হামে আক্রান্ত রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে। হামে আক্রান্ত রোগীকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে। আর একটু পর পর ভেজা তোয়ালে বা গামছা বা নরম কাপড় দিয়ে শরীর মুছিয়ে দিতে হবে। রোগীর বেশি জ্বর হলে বমিও হতে পারে। তবে এতে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। এক্ষেত্রে ওষুধ খেতে হবে। তবে কোনোভাবেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রোগীকে ওষুধ খাওয়ানো যাবে না।