শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা

রায়ের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে, শুনানির অপেক্ষায়


১১ জুন ২০২৬ ০৯:৪৫

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড (ডেথ রেফারেন্স) অনুমোদনের নথি হাইকোর্টে পৌঁছেছে গত ৯ জুন মঙ্গলবার। দুই আসামির ফাঁসির রায়ে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন স্বাক্ষরের পর ডেথ রেফারেন্সসহ পূর্ণাঙ্গ রায়ের ৭২ পৃষ্ঠার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে গত ৭ জুন রোববার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালত প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর তাদের কারাগারের কনডেম সেলে স্থানান্তর করা হয়েছে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, ভুক্তভোগী শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন এবং হত্যার সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপিত হয়েছে। একইসঙ্গে প্রধান আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের কোনো উদ্যোগ না থাকায় আদালত সেটিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করেন। অন্যদিকে, ঘটনার পর আসামিকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে স্ত্রী স্বপ্নার সম্পৃক্ততাও প্রমাণ হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
মামলাটি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন এবং যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সব মিলিয়ে মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে অধিকাংশের সাক্ষ্য অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রহণ করা হয়। রায় ঘোষণার দিন আদালত এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে একটি ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরে পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। প্রধান আসামি ঘটনার পর পালিয়ে গেলেও প্রযুক্তিগত সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।
আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, উচ্চ আদালতে এ মামলার নিষ্পত্তি যাতে দ্রুততম সময়ে করা যায়, সেজন্য তিনি ও অ্যাটর্নি জেনারেল মিলে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। মামলার রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছাড়াও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী। মামলার বাদী রামিসার পিতা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, রায়ে তারা সন্তুষ্ট হয়েছেন, তবে রায় কার্যকর হলেই তাদের প্রত্যাশা শতভাগ পূরণ হবে। প্রধানমন্ত্রী, বিচারপতি, পুলিশ প্রশাসন, জনগণ, মিডিয়া, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী সবাই আমাকে সহযোগিতা করেছেন। আমি পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দ্রুত থেকে দ্রুততর সময়ের মধ্যে রায় কার্যকর হোক। বাংলাদেশে রামিসার মতো এমন ঘটনা আর না ঘটুক।
অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বিচারিক আদালত ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানোর পর (পাঠানো হয়েছে) তারা দ্রুততম সময়ে মামলার শুনানির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় নিজেদের বাসার পাশের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে রক্তাক্ত ও খণ্ডিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শিশু রামিসার মৃতদেহ। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার রায়ে গত ৭ জুন রোববার ঢাকার একটি আদালত দুজনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড দিয়েছেন। আদালতের এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবী ছাড়াও রামিসার বাবা, আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দেশবাসী এ দণ্ড কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছেন।