সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


১০ জুন ২০২৬ ২১:৫৩

ভারতে আইটি খাতে মুসলিম কর্মীরা তীব্র নজরদারিতে
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ‘করপোরেট জিহাদ’ বিতর্ক। পুনে ও নাসিকের মতো প্রধান আইটি হাবগুলোয় মুসলিম কর্মীদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় হয়রানি ও জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের অভিযোগ ওঠার পর এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে আইটি সেক্টরে কর্মরত মুসলিম পেশাজীবীরা তীব্র সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির মুখে পড়েছেন। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় পুনেভিত্তিক একটি আইটি প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক নারী কর্মী অভিযোগ করেছেন, তার এক মুসলিম সহকর্মী তাকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। ওই নারীর দাবি, প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েও তিনি কোনো প্রতিকার পাননি। বর্তমানে পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ভুক্তভোগী নারী তার চাকরি পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন এবং দায়ী কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। এর আগে নাসিকে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস)-এর একটি শাখাতেও অনুরূপ অভিযোগ উঠেছিল। সেখানে কর্মক্ষেত্রে ধর্মীয় চাপ প্রয়োগ ও অসদাচরণের অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক এবং বিশ্লেষকরা এ ধরনের ঘটনাকে ‘করপোরেট জিহাদ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এটি কোনো আইনি পরিভাষা নয়, বরং হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোর ব্যবহৃত একটি রাজনৈতিক তকমা। কোনো ঘটনা আদালত বা সুষ্ঠু তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার আগেই এভাবে ঢালাও নামকরণ করায় কর্মক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, আইটি খাতের মতো একটি বৈশ্বিক পেশাদার জায়গায় মুসলিম কর্মীদের নাম প্রকাশ করা বা অনলাইনে তাদের ধর্মীয় পরিচয় সামনে এনে প্রচার করার ফলে সাধারণ মুসলিম চাকরিজীবীরা বৈষম্য, হয়রানি এবং ‘ডক্সিং’ (ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের মাধ্যমে হেনস্তা)-এর শিকার হচ্ছেন। সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে যেন কোনো নিরীহ কর্মী তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে সন্দেহের চোখে না পড়েন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মুসলিম মিরর।

আফ্রিকার ঐতিহাসিক দাস বন্দরকে পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করছে চীন
পশ্চিম আফ্রিকার বেনিনের দক্ষিণ আটলান্টিক উপকূলীয় শহর উইদাহ-তে, যা দেশটির অর্থনৈতিক রাজধানী কোতোনু থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত, একটি বড় চীনা-সমর্থিত প্রকল্প আফ্রিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাস-বাণিজ্যের স্থানকে একটি আধুনিক পর্যটন ও ঐতিহ্য কেন্দ্রে রূপান্তরিত করছে। ঐতিহাসিক উইদাহ বন্দর একসময় আন্তঃআটলা›িতক দাস বাণিজ্যের সময় আফ্রিকান লাখ লাখ ক্রীতদাসের জন্য আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিতে যাত্রা শুরুর একটি কেন্দ্র ছিল। এখানে চীনের প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে লা মেরিনা ওয়াটারফ্রন্ট কমপ্লেক্স, যা উইদাহ ‘গেট অব নো রিটার্ন’-এর কাছে অবস্থিত। এই স্মৃতিস্তম্ভটি সেই শেষ বিন্দুকে চিহ্নিত করে যেখান থেকে বন্দীদের আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হতো। বেনিন সরকার একটি বৃহত্তর পর্যটন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কৌশলের অংশ হিসেবে এ স্থানটি উন্নয়নের জন্য ইউনান কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট হোল্ডিং গ্রুপসহ চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন নির্মাণ সংস্থাগুলোকে চুক্তিবদ্ধ করেছে। বেনিনের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রোমুয়াল্দ ওয়াদাগনির এ উদ্যোগটির লক্ষ্য হলো নতুন সমুদ্রতীরবর্তী উন্নয়ন প্রকল্পটিকে দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নকে একীভূত করা। প্রকল্পটিতে হোটেল, জাদুঘর, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, স্মৃতি উদ্যান, একটি কারুশিল্পীদের গ্রাম, রেস্তোরাঁ এবং একটি পুনর্নির্র্মিত দাস জাহাজ জাদুঘরের পরিকল্পনা রয়েছে, যা পর্যটকদের এই অঞ্চলের ইতিহাস সম্পর্কে শিক্ষিত করার পাশাপাশি স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। বেনিনের জন্য এই পুনর্নির্মাণ একটি বেদনাদায়ক ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে সাংস্কৃতিক পর্যটন এবং আফ্রিকান প্রবাসীদের সাথে যোগাযোগের কেন্দ্রে পরিণত করার একটি প্রচেষ্টা। চীনের জন্য, এ প্রকল্পটি আফ্রিকাজুড়ে তার ক্রমবর্ধমান অবকাঠামোগত শক্তিকে আরও প্রসারিত করছে, যেখানে বেইজিং-সমর্থিত সংস্থাগুলো বৃহৎ আকারের সাংস্কৃতিক, পর্যটন এবং উন্নয়ন প্রকল্পে অংশগ্রহণ অব্যাহত রেখেছে। সিনহুয়া।

‘এই স্কুলে মুসলিমদের জায়গা নেই’ বলে ৩০ শিক্ষার্থীকে ফিরিয়ে দিলেন কেরালার প্রধান শিক্ষিকা
কেরালার কোল্লাম জেলার একটি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে প্রায় ৩০ জন মুসলিম শিক্ষার্থীকে স্কুলে ভর্তি নিতে অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষিকা। এ গুরুতর অভিযোগটি উঠেছে সাস্তামকোট্টা গ্রামের ‘ড.সি.টি. ইপেন মেমোরিয়াল আরএইচএস স্কুল’-এর প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী অভিভাবক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, ভর্তি হতে আসা মুসলিম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত বৈষম্যমূলক ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন তিনি। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষিকা অভিভাবকদের সরাসরি বলেন, ‘এই স্কুলে মুসলিমদের কোনো জায়গা নেই।’ এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও যোগ করেন, ‘যারা সাদা পোশাক (ধর্মীয় পোশাক) পরে আসবে, তাদের ভর্তি নেওয়া হবে না।’ এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং শিক্ষা কর্মীরা দোষী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাককুভাল্লির একটি ‘দারস’ (ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র)-এ পড়াশোনা করা ৩০ জনের মতো শিক্ষার্থী ওই স্কুলে ভর্তির জন্য আবেদন করতে গিয়েছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, স্কুলের সাধারণ শিক্ষক এবং অভিভাবক-শিক্ষক সমিতি (পিটিএ)-এর প্রতিনিধিরা বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষিকা ওই শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিতে রাজি হননি। আরও অভিযোগ, এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (ডিইও) কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয় সূত্রের খবর, পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত চালিত এই স্কুলটিতে বর্তমানে মাত্র ৬৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে হাইস্কুল বিভাগে মাত্র একজন মুসলিম শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। স্কুলের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় তারা নিজেদের চাকরি বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন (শিক্ষার্থী কমে গেলে শিক্ষকের পদ বিলুপ্ত হওয়ার নিয়ম রয়েছে)। এমন পরিস্থিতিতে যেখানে নতুন শিক্ষার্থী দরকার, সেখানে প্রধান শিক্ষিকার এমন আচরণে তারা ক্ষুব্ধ। এ ঘটনা প্রসঙ্গে কেরালার শিক্ষামন্ত্রী এন. শামসুদ্দিন বলেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘শিক্ষার অধিকার থেকে কোনো শিশুকে বঞ্চিত করার অধিকার কারও নেই’, স্পষ্ট জানিয়ে দেন শিক্ষামন্ত্রী। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রধান শিক্ষিকা বা স্কুল ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী, ধর্মনিরপেক্ষতা বা শিক্ষাগত নীতি লঙ্ঘন করলে সরকার যেকোনো অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলের অনুদান বন্ধ, কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত বা স্কুলের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নিতে পারে। সিয়াসত ডেইলি।

ইসরাইলের ওপর হামলায় নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার ইরানের
ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাবে এবার এক চাঞ্চল্যকর সামরিক বার্তা দিলো ইরান। দখলদার ইসরাইলি ভূখণ্ডে ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় এক ভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা তেল আবিবকে একটি ‘সীমিত ও সুনির্দিষ্ট’ বার্তা দেয়ার জন্য বিশেষভাবে বেছে নেয়া হয়েছিল। গত সোমবার (৮ জুন) ইরানের অন্যতম জনপ্রিয় দৈনিক হামশাহরি অনলাইন আল-জাজিরার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। ইসরাইলি সূত্র থেকে দাবি করা হয়েছে, গত ৭ জুন রোববার রাত থেকে এ পর্যন্ত ইরান ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। হামশাহরি অনলাইন জানিয়েছে, এই হামলায় ইসরাইলের রামাত দাভিদ বিমান ঘাঁটিকে নিশানা করা হয়। আল-জাজিরার সামরিক ও কৌশলগত বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান জুনি বলেছেন, ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী যে রামাত দাভিদ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, সেটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইরান পরিষ্কার ভাষায় বলেছে, বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে হামলায় ব্যবহৃত যুদ্ধবিমানগুলো এ ঘাঁটি থেকেই হামলা চালানোর জন্য উড়ছিল। ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি সরাসরি ওই ঘটনার জবাব হিসেবেই পরিচালিত হয়েছে। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী এ হামলায় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ হামলার ভৌগোলিক পরিধি ছিল কেবল উত্তর ইসরাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা সরাসরি লেবানন সীমান্তের সাথে যুক্ত। ইরান এ অভিযানের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো লেবানন সীমান্তে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা, কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধ বাধানো নয়। তবে এ অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এতে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন। আল-জাজিরার সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার এমন কিছু নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে যা আগের সংঘাতগুলোর চেয়ে আলাদা। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এগুলো ইরানের সেই প্রচলিত অতি উন্নত বা ব্যাপক ধ্বংস ক্ষমতাসম্পন্ন মাল্টিপল-ওয়ারহেড (বহু-বোমধারী) ক্ষেপণাস্ত্র নয়, যা আগের যুদ্ধগুলোয় দেখা গিয়েছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ইরান খাইবার শেকান, ফাত্তাহ-১, ইমাদ এবং হাজ কাসেমের মতো অত্যন্ত শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল। আন্তর্জাতিক সামরিক সূত্রগুলোর মতে, ফাত্তাহ-১ হাইপারসনিক এবং খাইবার শেকান হলো ইরানের সবচেয়ে উন্নত ও উচ্চধ্বংসক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র, যা আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানতে পারে। কিন্তু এবার নতুন ও ভিন্ন কৌশলের এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের মূল কারণ হলো, ইসরাইলকে একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা দেয়া। ইরান দেখাতে চেয়েছে যে তারা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি বা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ না চেয়েও শত্রুর যেকোনো ঘাঁটিতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। এ অভিযানের মাধ্যমে তেহরান মূলত বৈরুতের ওপর ইসরাইলি হামলার বিরুদ্ধে একটি শক্ত ‘লাল রেখা’ টেনে দিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছে, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। হামশাহরি অনলাইন।

ইরান সরকার পতনে ব্যর্থ হওয়ায় মোসাদের উপপ্রধান বরখাস্ত
ইরান সরকার পতনের অভিযানে ব্যর্থ হওয়ায় ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের উপপ্রধানকে বরখাস্ত করেছেন সংস্থাটির প্রধান। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে গোপন অভিযানের মতো সংবেদনশীল নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত থাকা এ শীর্ষ কর্মকর্তাকে এক ঝটকায় সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বলা হয়ে থাকে, একসময় মোসাদের পরবর্তী প্রধান হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন তিনি। গত রোববার (৭ জুন) আল-শুরুক সংবাদমাধ্যমের বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এক প্রতিবেদনে বলেছে, মোসাদের নতুন প্রধান রোমান গফম্যান তার এ সহকারী এবং সংস্থার দ্বিতীয় শীর্ষ ক্ষমতাধর ব্যক্তি, যাকে নিরাপত্তার স্বার্থে শুধু ‘এ’ নামে অভিহিত করা হয়েছে, তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকেও খবরটির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দিনগুলোর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য এবং নতুন প্রধানের অধীনে একটি শক্তিশালী টিম গঠনের অংশ হিসেবেই এই রদবদল করা হয়েছে। ইরান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার একটি মিশন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন এ কর্মকর্তা। সেই অভিযানে পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ার কারণেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ইরনা।

ভারতের উত্তরপ্রদেশে আরো একটি মাদরাসা সিলগালা
ভারতের উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে মাদরাসাগুলোর বিরুদ্ধে দেশটির প্রশাসনের নজরদারি আরো কড়া হয়েছে। দাসনার একটি মাদরাসা ভেঙে ফেলা এবং খোদা এলাকায় দুটি মাদরাসা সিল করার পর এবার ইন্দিরাপুরমের কানভানি গ্রামে অবস্থিত একটি মাদরাসা সিল করে দেয়া হয়েছে। গত রোববার (৭ জুন) দেশটির একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ভারত সরকারের দাবি করেছে যে, প্রতিষ্ঠানটি রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল এবং একাধিক বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা সংক্রান্ত মানদণ্ডও পূরণ করেনি। তাই সেটি সিল করা হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, সংখ্যালঘু কল্যাণ বিভাগের অভিযানে ইন্দিরাপুরম থানার অন্তর্গত কানভানি এলাকার মাদরাসা ‘জামিয়া খোলাফায়ে রাশিদিন’ সিল করা হয়। তদন্তে দাবি করা হয়, মাদরাসাটির কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন নেই এবং পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনও সংগ্রহ করা হয়নি। পুলিশের ডিসি ধাওয়াল জয়সওয়াল জানান, প্রতিষ্ঠানটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ মানছিল না। পাশাপাশি সরকারি নথিতেও মাদরাসাটির কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশনের তথ্য পাওয়া যায়নি। সেই কারণেই সংখ্যালঘু কল্যাণ বিভাগের সুপারিশে সিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কও শুরু হয়েছে। কারণ রেজিস্ট্রেশন হয়নি এই ধরনের মাদরাসা সংক্রান্ত একটি মামলায় ইতোপূর্বে ইলাহাবাদ হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছিল যে শুধুমাত্র রেজিস্ট্রেশন না থাকার কারণে কোনো মাদরাসাকে বন্ধ করে দেয়া যায় না। যদিও এমন প্রতিষ্ঠান সরকারি স্বীকৃতি বা আর্থিক অনুদান দাবি করতে পারে না বলে আদালত জানিয়েছিল। প্রশাসন আরো জানিয়েছে, প্রশাসনিক তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে একটি এফআইআর দায়ের করা হতে পারে। সিয়াসত ডেইলি।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান