গ্রন্থ পরিচিতি

রহমতের সুবাস নিয়ে রাসূল (সা.) আসেন পৃথিবীতে


৭ জুন ২০২৬ ১০:৩২

॥ আবু ইউসুফ মুন্সী ॥
পৃথিবীতে সাজ সাজ রব পড়েছে, অপরূপ সাজে সেজেছে পৃথিবী। আরবের পথে পান্তরে ফুটেছে বাহারি ফুল। কী এক অজানা আনন্দে আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে বিচিত্র সব পাখি। রং-বেরঙের প্রজাপতি এ ফুল থেকে ও ফুলে বসছে। ফলে ফলে ভরে গেছে গাছগুলো। গজিয়েছে অপরূপ সুন্দর সব উদ্ভিদ ও তরুলতা। শিশুরা মেতেছে খেলাধুলায়। হাসি-আনন্দে। পথে-ঘাটে। অলিতে-গলিতে। কোলাহলে জনপদ মুখরিত। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে নদীর বয়ে চলা কলকল শব্দ। কী এক মহা আনন্দে দুলছে প্রকৃতি। পৃথিবীর প্রতিটি ভূখণ্ড শোভা-সৌন্দর্যের মালা পরেছে তাকে বরণ করতে। তবুও লেগে আছে দুঃখ-কষ্ট মানুষের জীবনে। সবখানে মারামারি। কাটাকাটি। যুদ্ধ-বিগ্রহ। এ যেন তৎকালীন অন্ধকারাচ্ছন্ন আরব সমাজের প্রতিদিনের ঘটনা।
মানুষ মহান আল্লাহ তায়ালাকে ভুলে গেছে। যিনি তাদের এই সবকিছু দিয়েছেন-ভুলে গেছে তার ইবাদতের কথাও। তাকে বাদ দিয়ে অন্য অনেক জিনিসের উপাসনায় মন দিয়েছে। তারা উপাসনা করছে আগুনের। সূর্যের। গৃহপালিত পশুর। পূজা করতে শুরু করেছে মূর্তির। যেগুলো পাথর এবং কাঠ দিয়ে অথবা মাটি দিয়ে নিজেরাই তৈরি করেছে। অথচ এসব পাথর, মাটি এবং কাঠ আল্লাহ তায়ালাই সৃষ্টি করেছেন। আগুন, সূর্য, গৃহপালিত পশু- এগুলো তাঁরই দান। তাই ইবাদতের উপযুক্ত একমাত্র তিনিই (আল্লাহ)।
তখন আরব সমাজের ধনীরা অত্যাচার করত গরিবদের। জুলুম করত। মানুষ কন্যাসন্তান পছন্দ করত না। কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দিয়ে অহংকার করত দরিদ্রদের ওপর। সে সময় আরব সমাজে দুর্বল অসহায়কে দেখত অবহেলার চোখে। বৃদ্ধদের কথা কেউ মনে রাখত না। অসুস্থরা চিকিৎসার সুযোগ পেত না। করত না রোগীর সেবা। মোটকথা, সে সময় মানুষের ছিল না উপযুক্ত মর্যাদা। ছিল না সম্মান। বিশেষ করে ছিল না নারীর সম্মান। মানুষ আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মানত না। উচ্ছৃঙ্খল এক অস্বাভাবিক জীবনযাপন করত। ফলে মানুষের পাপাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গেল সুন্দর এই পৃথিবী। অসভ্য এই মানবসমাজকে তার বুকে আগলে রাখা কঠিন হয়ে গেল। যাদের হৃদয়ে নেই দয়া, মায়া-মমতা। নেই কোনো প্রেম-ভালোবাসা। চারদিকে ছিল চরম বিশৃঙ্খলা। এমন ভালোবাসাহীন এবং অজ্ঞ মানুষের আবাসস্থল হওয়া পৃথিবীর জন্য সত্যিই কঠিন ছিল।
মুসলমানদের আদি পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম ছিলেন পৃথিবীর বুকে সর্বপ্রথম নবী ও রাসূল। মানুষের মুক্তি ও হেদায়াতের জন্য অনেক নবী রাসূল পাঠিয়েছেন আল্লাহ তায়ালা। তারা মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করেছেন। দাওয়াত দিয়েছেন এক আল্লাহর ইবাদতের প্রতি। ভুল পথে চলা মানুষের সরল-সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন। উৎসাহিত করেছেন সৎকাজে। সততার পথ অবলম্বন করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন; কিন্তু মানুষ কিছুকাল পরপরই পথ হারিয়ে ফেলে। নবীদের আনীত আদেশ-নিষেধ থেকে দূরে সরে যায়। আবারও ডুবে যায় অমানিশার অন্ধকারে। শয়তান পথভ্রষ্ট করে তাদের।
হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম পৃথিবীতে আগমনের পর কেটে গেছে ছয় শত বছর। নতুন নবী আসার সময় ঘনিয়ে এসেছে। যিনি এসে আবার টেনে ধরবেন জুলুম-নির্যাতনের লাগাম। বন্ধ করে দেবেন নিষ্ঠুরতার পথ। অচিরেই আসবেন তিনি। আসবেন শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে, আসবেন তিনি রহমত আর কল্যাণের অফুরন্ত সুবাস নিয়ে। ন্যায় ও ইনসাফের পতাকা হাতে। আলোকিত করবেন পুরো পৃথিবীকে। তবে কখন আসবেন তিনি?
উল্লেখ্য যে, গল্পে গল্পে নবীজী (সা.)-এর সাথে ৩৬৫ দিন গ্রন্থটিতে সর্বশেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের ৩৬৫টি গল্প সংকলন করা হয়েছে, যা এককথায় শিশুদের মনন ও বোধ বিকাশে অসাধারণ। তাদের জন্য এখানে প্রতিদিন একটি করে গল্প লিপিবদ্ধ করা হয়েছে যাতে সারা বছরজুড়েই তারা নবীজীর মনোমুগ্ধকর আচরণ, অপার্থিব চরিত্রমাধুরী, অবিসংবাদিত ব্যক্তিত্ব ও ঐশী প্রেরণায় আত্মিকভাবে সংযুক্ত থাকতে পারে। গল্পগুলো সহজ ও সাবলীল ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। এটি একটি ব্যতিক্রম গ্রন্থ, যা পুরো পরিবারকেই দীনের দিকে আরও উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করতে সহায়তা করবে।
লেখিকা : নূরদান দামলা (জন্ম : ১৯৬৩) একজন তার্কিস। ২০০৭ সালে প্রথম বইটি তার্কিস ভাষায় প্রকাশিত হয়। এরপর ২০১৪ সালে বইটি ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করেন উসমান তুরহান। (The first publication of ÔÔ365 Days with the Prophet MuhammadÕÕ (Originally published in Turkish as 365 Günde Sevgili Peygamberim was in 2007.)) সারা বিশ্বে অল্প সময়েই বইটি জনপ্রিয়তা লাভ করে এখন পর্যন্ত ২৬ ভাষায় বইটি অনুবাদ হয়। নূরদান দামলা এই বইটি জন্য ২০০৭ সালেই তার্কিস রাইটার ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শিশু সাহিত্য অ্যাওয়ার্ড পান। তুরস্কের আনাদোলু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমিউনিকেশন সায়েন্সে গ্র্যাজুয়েশন করেছেন। বর্তমানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষাকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে International Association for the Recognition and Introduction of Muhammad এর প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়া তিনি তুরস্কে শিশুদের শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন সংস্থা পরিচালনা ও শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন।