ছড়া ও কবিতা


৭ জুন ২০২৬ ১০:২৯

বৃষ্টির ছড়া
আশরাফ জামান

বৃষ্টি এমন সৃষ্টি ছাড়া।
বৃষ্টি এমন মিষ্টি হারা॥
জুঁইয়ের বনে ফুল ফোটে না।
ওলির মুখে মৌ জোটে না॥
ধানের গায়ে ঢেউ জাগে না।
শিশির নেমে ঘাস ঢাকে না॥
বৃষ্টি এমন দৃষ্টিহারা।
লাগামছাড়া পাগলা ঘোড়া॥
পথের পথিক গৃহহারা।
কৃষক ভয়ে দিশেহারা॥
আম কাঁঠালের মুকুল ঝরে।
বৃষ্টি সাথে লুটিয়ে পড়ে॥

 

বাংলার মধু মাস
মোস্তাহিদুর রহমান

বারো মাস মাঝে খোদার রাজ্যে
করি যে মোরা বাস
বৈশাখ শেষে আগমন করে
বাংলার মধু মাস।
এ ঋতু আসে আমাদের পাশে
রহমতের মহাক্ষণে
ফলে ফুলে ভরে তবুও ঝরে
গ্রামের মধুবনে।
মধু মাসে সেই তপ্ত বায়ুর
আম কাঁঠালের বাগে
গন্ধে ভরে এই দেহ মন
খেতে না পাওয়া আগে।
স্বজনে ভরে বাড়ি ও ঘরে
মধু মাসের স্বাদ পেতে
বালক-বালিকা ধরে বায়না
জাম জামরুল খেতে।
মধুবন তলে পিতাহারা ছেলে
কুড়াতে খেজুর লিচু
নয়ন বুলায় সেই তরু ছায়ায়
খুঁজে খাবে ফল কিছু।
কাহারো খাদ্য কম কর প্রভু
কাহারো দিয়েছো বেশি
আজ তবু মোরা জগতের সেরা
মিলে হই প্রতিবেশী।

 

ঝড় উঠেছে
সাদমান হাফিজ শুভ

ঝড় উঠেছে ঝড় উঠেছে
ঘর বাহিরে যাসনে তোরা,
হাট ভেঙে যায় ঘাট ভেঙে যায়
ছুটছে যেন পাগলা ঘোড়া।
ঝুপড়ি ভাঙে খুপড়ি ভাঙে
উপড়ে পড়ে বৃক্ষ-তরু,
তুলছে ফণা ধুলোর কণা
হকচকিয়ে ছুটছে গরু।
উড়ছে ছাতা ঘুরছে পাতা
উথাল-পাথাল ঘূর্ণিপাকে,
কোন সে ফাঁকে দৈত্য ডাকে?
কড়কড়িয়ে মেঘ যে হাঁকে।
মাছ যে লাফায় হাঁস যে লাফায়
বংশী নদী উঠছে ফুলে,
পাল ছিঁড়ে যায় জাল ছিঁড়ে যায়
নৌকা চলে হেলেদুলে।

 

বাংলাদেশের ট্রেন
জনি সিদ্দিক

বাংলাদেশের ট্রেন দ্যাখোরে বাংলাদেশের ট্রেন,
এমন চিত্র দেখলে পরে নষ্ট মাথার ব্রেইন!
জনসংখ্যার প্রবল চাপে ভর্তি ট্রেনের ছাদও,
মানুষগুলোর কষ্ট ভেবে যাই চেপে যাই পাদও।
টিকিট ছাড়া যাত্রী কত ট্রেনের মাঝে যায়রে,
আইন কানুন ধার ধারে না লুটোপুটি খায়রে।
একটুও ভয় নেইকো কারুর সবাই চলে আগে,
বিপদ যখন সামনে আসে তখনি হুঁশ জাগে।
ঝুঁকি নিয়ে চলছে সবাই মরণ হাতে নিয়ে,
কেউবা খুশি বাড়িত গিয়ে করবে নাকি বিয়ে!
উন্নয়নের জোয়ার আসে কাগজ-কলমজুড়ে,
বাস্তবে সব স্বপ্নগুলো ধুলোর সাথে ওড়ে।
দেশপ্রেমের বুলি মুখে পকেট ভরে যারা,
দেশের বুকে গভীর খাদ করছে খনন তারা।

 

দুখু হলো নজরুল
শেখ সালমান শাহী

দুখু হলো নজরুল
গল্প কবিতার তরে
বিস্তৃত সব সাহিত্য কর্ম
রয়েছে ঘরে ঘরে।
কবিতা সে প্রতিবাদী
বজ্র কণ্ঠ ধ্বনি
পাঠক পাঠে হয়ে শুদ্ধ
মুছে সব গ্লানি।
ছিলো গল্প অনুরাগী
মানব সেবা প্রেমী
মরণে আজও অমর
সবার কাছে দামি।

বিদ্রোহী নজরুল
কাব্য কবির

একটি ছেলে জন্মেছিলো চুরুলিয়া গাঁয়ে,
আদর, সোহাগ করতো বেশি ছোটবেলা মায়ে।
ছয় বছরে বাবা হারায়, আট বছরে মাকে,
এতিম বলে সবাই তাকে দুখু মিয়া ডাকে।

বড় হলো দুখু মিয়া সংগ্রাম করে করে,
জীবনের তার পড়লে গল্প চোখের পানি ঝরে।
বড় হয়ে দুখু মিয়া হয়ে গেলো কবি,
পত্রিকাতে প্রকাশ হলো গান, কবিতা, ছবি।

মজার মজার পদ্য লিখতো, লিখতো মজার ছড়া,
শিশু-কিশোর যতই পড়ে দেখে মজায় ভরা।
বিশ্বখ্যাত অমর কাব্য বিদ্রোহী তার লেখা,
ব্রিটিশদের সে ভাঙতো মাজা ভয় পেত না একা।

সবসময় তার থাকতো মুখে কবিতা ও গান,
চিবাতো সে মুখে নিয়ে মিষ্টি খিলি পান।
বিষের বাঁশি বাজাতো রোজ অসীম সাহস বুকে,
অন্যায় দেখলে সবার আগে দাঁড়াত সে রুখে।

অত্যাচারের ভাঙতো দেয়াল আঁকতো ন্যায়ের ফুল,
দ্রোহের কবি, প্রেমের কবি বিদ্রোহী নজরুল।

প্রথম কুরবানির ইতিহাস
আব্দুস সালাম

বিবি হওয়া প্রথম নারী ছিলেন যে অনন্যা
জন্ম দিতেন একই সাথে পুত্র এবং কন্যা,
এক গর্ভের যমজ যারা-সহোদর বোন-ভাই
তাদের মাঝে বিয়ে হারাম বিধান ছিল তাই।

কিন্তু কাবিল মানবে না তা আকলিমাকেই চায়
আদম বলেন, তোমরা যমজ কেমনে মানি হায়!
আল্লাহ শুধু কবুল করেন মুত্তাকিদের কর্ম
তাই তো যারা মুত্তাকি হয় তারাই বোঝেন ধর্ম।

কাবিল জেদি একরোখা সে বিবেক না তার জাগে
বাবা বলেন, প্রভুর জন্য কুরবানি দাও আগে,
কুরবানি যার ভস্ম হবে সেই তো হবে ধন্য
হাবিল দিল দুম্বা এবং কাবিল কৃষিপণ্য।
হাবিল তাতে জয়ী হলো দেখতে পেল আগুন
কাবিলেরটা হয়নি কবুল ম্লান হলো তার ফাগুন,
ক্ষোভের আগুন বাড়লো দ্বিগুণ হুমকি দেয় অগত্যা
অবশেষে সংগোপনে কাবিল করে হত্যা।
খুব পেরেশান কাবিল তখন- বলতে পারো কেহ
করবো কী, হায়! রাখবো কোথায় ভাইয়ের মৃতদেহ?
রাখলো ঢেকে নিজের ভাইয়ের খুঁড়ল মাটি কাকে
শিক্ষা দিল কাকটি তখন এমনিভাবে তাকে।

আশাবাদ
মো. রহমত আলী

পাতা লড়ছে না বোধ হয়
ভেবো না হাওয়া বইবে না
জল ঘোলা দেখে ভেবো না
যে আর পরিচ্ছন্নই হবে না।
কেবা আপন কেবা পর
বিপদের দিনেই পরিচয়
মেঘ জমেছিল বলেই তো
পথের পাথরও যায় তলায়।
ঝড় এসে ঠিকই নিমিষেই
আপদ-বিপদ উড়িয়ে দেবে
আশাবাদী হয়ে থেকো বন্ধু
নিশ্চয়ই ভালো কিছু হবে।
আয়রে তোরা আয়
শেখ সোহেল রেজা
ছোটন, রুকন, পান্না, সুমা
আয়রে তোরা আয়,
বৈশাখী ঝড়ে আম কুড়াব
সন্ধ্যা হয়ে যায়।
ঝড়ের দিনে আম কুড়াতে
ভারি মজা লাগে,
যাসনে কেউ ঘরের বাহির
মা বলেছে রেগে।
মন মানে না এমন দিনে
কেমনে ঘরে রই,
কত আম পড়ে আছে
দেখ না চেয়ে ঐ।

ঘাসফড়িংয়ের মেলা
শারমিন নাহার ঝর্ণা

সবুজ মাঠে বিকেল বেলা
ঘাসফড়িংয়ের মেলা,
পাতার ফাঁকে খেলে তারা
ওড়াউড়ি খেলা।
এত ফড়িং দেখে খুকু
অবাক হয়ে চায়,
ফুরুৎ করে উড়ে ফড়িং
বসে খুকুর গায়।
আদর করে খুকু তখন
একটু ধরতে চায়,
ফুরুৎ করে উড়ে ফড়িং
ঘাসের ডগায় যায়।
কাক, কোকিল, হাঁসের ছানা
মুকুল হোসেন

গাছের ডালে বসে কাক
উঁকিঝুঁকি মারে,
সুযোগ পেয়ে হাঁসের ছানা
কামড়ে নিল ঘাড়ে।

জ্যান্ত ছানা ঘায়েল করে
বুকটি চিরে খেল,
হাঁসের ছানার মায়ের বুকে
কষ্ট অনেক পেল।
কাকের বিচার চাইতে গেলে
কোকিল পাখির কাছে,
কোকিল পাখি শাস্তি দিতে
কাকের বাসায় আসে।

কাকের ডিম সব খেয়ে ফেলে
কোকিলের ডিম রাখে,
কোকিলের ডিম বাচ্চা ফোটে
উড়ে গাছের শাখে।
কোকিলছানা বড় হলেই
‘কাক’ বুঝে সব ফাঁকি,
কোকিল পাখির ধোঁকায় পড়ে
দুঃখ কোথায় রাখি?

ঝড়ের দিনে
শেখ সোহেল রেজা

আকাশ কুণে মেঘ জমেছে
ঝড় আসছে ঐ,
রুম্পা, মনা, সাদেক মিনা
তোরা সবাই কই।
ঝড়ের দিনে আম কুড়াতে
অনেক মজা পাই,
এমন দিনে আমরা সবাই
কেমনে ঘরে রই।
আম কুড়াতে ঝড়ের দিনে
করে হইচই,
শুনবো না আর কারো মানা
মা বলুক যতই।

 

বিদ্যুৎ মামা
সাইদুল ইসলাম সাইদ

পাশের গ্রামে আসছে মামা
বলছে আমার দাদু,
বেশ কটাদিন জ্বলছে শরীর
দেখাচ্ছে সে জাদু।
তারপরেও সব ভুলে গিয়ে
দৌড়ে বাড়ি আসি,
এই মাত্র সে গেলেন চলে
বলছে ডেকে মাসি।

চলে গেলে আসার কথা
একদমই সে ভুলে,
বিশাল বড় মন যে তাহার
বিবেক ও তুলতুলে।
সবার কথা ভাবেন তিনি
তাই তো নাকি তাড়া,
আমায় যারা গালমন্দ কয়
ভীষণ বোকা তারা।

 

বর্ষা এলো বাংলাদেশে
ফরিদ আহমদ ফরাজী

ঝমঝমাঝম বৃষ্টি পড়ে, কদম ফোটে ডালে,
টইটম্বুর নদী নালা, জল ছুটেছে তালে।
কেয়া ফুলের গন্ধে মাতে, ভিজে মাটির বুক,
আকাশজুড়ে মেঘের মেলা, নামল যেন সুখ।

পুঁটি টেংরা মাছের দলে, মিছিল চলে জলে,
রুপার কুচি ঝিলিক মারে, নাচে দলে দলে।
টাপুর টুপুর শব্দে বাজে, টিনের চালের সুর,
ব্যাঙ ডাকছে ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর, ভরল পুকুর পুর।

কাগজ নৌকা ভাসাই খালে, ছুটি ছুটি দিন,
খিচুড়ি আর ইলিশ ভাজা, খুশির বাজে বীণ।
ছাতা মাথায় ছুটছে খোকা, জল ছিটিয়ে যায়,
বিজলি হাসে ঝিলিক দিয়ে, মেঘের গায়ে গায়।
হাওয়ায় দোলে তালের পাতা, শনশনাশন বায়,
আম-কাঁঠালের ডাল ভেঙে যায়, ঝড়ের ইশারায়।

ডোবার জলে হাঁসের ছানা, প্যাঁকপ্যাঁকিয়ে ধায়,
জলপরীরা নূপুর পায়ে, ঢেউয়ের তালে গায়।
শাপলা শালুক ফুটল জলে, সাদা গোলাপি রং,
মাঝির নায়ে পাল উড়েছে, ভাটির টানে সং।

কাদামাটির পথে পিছল, আছাড় খেলাম ধপ,
তবুও খোকা হাসে খিলখিল, আনন্দে টইটপ।
জামরুল গাছে পাখির বাসা, ভিজে একাকার,
ছানাগুলো ডানা ঝাঁপটায়, মায়ের অপেক্ষার।

টিনের চালে বৃষ্টি নাচে, রিমঝিমাঝিম তাল,
বইখাতা সব বন্ধ আজকে, ছুটির মহাকাল।
মা ডাকছে আয় রে খোকা, গরম গরম ভাত,
ডাল-ভর্তা-ডিমের ঝোলে, মিটবে সবার সাধ।

বৃষ্টি শেষে রংধনু ওঠে, সাতটি রঙের খেলা,
আকাশ হাসে নীল আঁচলে, ফুরায় মেঘের মেলা।