কুরবানির শিক্ষায় পথচলা শুরু হোক হিজরি ১৪৪৮-এ
৪ জুন ২০২৬ ১০:৪৩
॥ একেএম রফিকুন্নবী ॥
হজরত ইবরাহিম আ. ও ইসমাইল আ.-এর স্মৃতিবিজড়িত ঈদুল আজহা গত ২৮ মে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে উদযাপিত হলো। আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে অনেক জায়গায়ই খোলা মাঠে জামাত হয়নি। তবে জাতীয় ঈদগাহে ঠিকই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ঈদের জামাত যথারীতিতে হয়েছে। আমরা ধানমন্ডি ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায়ে গিয়ে মাঠ প্রস্তুত না থাকায় মসজিদেই নামাজ আদায় করতে হয়েছে, সকাল ৭টায় ছেলে, নাতি ও আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ। আকাশে মেঘ থাকলেও বৃষ্টি হয়নি। ফলে মানুষ তাদের কুরবানি ঠিকঠাক মতোই করতে পেরেছে।
এবারে যারা নাড়ির টানে গ্রামে গেছে, তারা লম্বা ছুটির কারণে মোটামুটি স্বস্তিতেই সড়কপথে, রেলপথে ও লঞ্চে বাড়িতে পৌঁছেছে। তবে এবারও ছিল বাড়তি ভাড়া এবং দুর্ঘটনার মতো অঘটন। পরিবহনমন্ত্রীর ঘোষণার পরও ভাড়া ঠিকই বেশি গুনতে হয়েছে যাত্রীদের। দুঃখের বিষয় হলো, ঈদের ছুটির ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সড়কে নিহত হয়েছে ৭৯ জন। মে মাসে মোট নিহত হয়েছে ৪০৪, যা ঈদের খুশিতে ব্যত্যয় ঘটিয়েছে; যা খুবই দুঃখজনক। শুধু একটি ট্রাকের দুর্ঘটনায় ১৫ জনের প্রাণের সমাপ্তি হয়েছে। এবার হজে সৌদি আরবে আমাদের বাংলাদেশের ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এবারে পশু কুরবানির জন্য তেমন অসুবিধা হয়নি। শহর, গ্রাম সব জায়গায়ই মোটামুটি স্বস্তিতেই কুরবানির পশু কেনা গেছে এবং জনগণ কুরবানি করতে সক্ষম হয়েছে। এবারের বাজারে বড় একটি ঘটনা ঘটেছে, তা হলো ডোনাল্ড ট্রাম্প নামের একটি মহিষের আবির্ভাব। বাজারে এই মহিষ বিক্রি হলেও তা কুরবানি করা যায়নি। সরকারের দৃষ্টি আকৃষ্ট হওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পসদৃশ মহিষটি সরকার ক্রয় করে তা ঢাকার মিরপুর চিড়িয়াখানায় রেখে দিয়েছে; যা জনগণের দৃষ্টিতে এসেছে। ঈদুল আজহার পরদিন থেকে মানুষ চিড়িয়াখানায় ঐ মহিষ দেখার ভিড় জমায়। অন্যদিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ইরান যুদ্ধে হার মানতে শুরু করেছে।
এবার ঈদের সময় দেশের একটি বড় খবর বের হলো। তা হলো লাখকোটি টাকা পাচারের এস আলমের প্রায় ৮ মিলিয়নের পরিমাণ টাকার সম্পদ সাইপ্রাস আদালত বাজেয়াপ্ত করেছে। মানুষের মনুষত্ব থাকলে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করার চিন্তা করত না। এই পাচারের জন্য দুয়িায়ও ধরা খাচ্ছে আর আখিরাতেও এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। নবী ইবরাহিম ও ইসমাইলের আ. ত্যাগ ও কুরবানির কথা স্মরণ করে আমাদেরও ত্যাগ আর কুরবানির মানসিকতা নিয়ে ঈদুল আজহায় পশু কুরবানি করা উচিত।
এবারের ঈদুল আজহায় সচেতন জনগণ গ্রাম থেকে শহরে স্থানীয় নির্বাচনের রিহার্সেল দিয়েছে। জনগণের সাথে নামাজ আদায় করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছে। কুরবানির গোশত বিলি করেছে। গ্রামের অনেক মানুষ আছে শুধু ঈদুল আজহায় একটু গোশত খেয়ে থাকে। আমাদের কুরবানিদাতারা যদি গরিব মানুষের মধ্যে তাদের কুরবানির গোশত বিলি করে, তবে একদিকে তাদের কুরবানির ত্যাগের মানসিকতা প্রকাশ পায় আবার সাধারণ মানুষ এক টুকরা গোশত খাওয়ার সুযোগ পায়। স্থানীয় নির্বাচনের কাজ করতে বাধা নেই। ত্যাগী নেতাদের আগামী দিনের স্থানীয় নির্বাচনে আমরা দেখতে চাই। দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, জনদরদি মানুষকেই আমরা আমাদের প্রতিনিধি বানাতে চাই। কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং আমরা হতে দেব না। সজাগ থাকতে হবে। পাহারা দিতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে সৎ, যোগ্য নেতা আমরা নির্বাচিত করতে চাই।
দেশের সরকারি ও বিরোধীদলের লোকদের এবারের কুরবানিতে সক্রিয় দেখা গেছে। যে যেমনভাবে জোগাড় করতে পারুক অধিকসংখ্যক পশু কুরবানির ব্যবস্থা করেছে। কোনো কোনো এমপি ১০০-এর অধিক কুরবানির ব্যবস্থা করেছে, যা আমার দৃষ্টিতে ভালো উদাহরণ। আমরা চাই আমাদের জনপ্রতিনিধিরা সুযোগ পেলেই জনগণের কাছে পৌঁছে যাক।
এবারের ঈদুল আজহার বড় দিক হলো বিরোধীদলের নেতা ও জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের হজ পালন। তিনি আরাফাত ময়দানে দেশ-জাতি এবং গোটা মুসলিম উম্মাহর জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের ভালোর জন্য দোয়া করে এসেছেন। গত ৫৫ বছরে এবারই বাংলাদেশ একটি গঠনমূলক বিরোধীদল পেয়েছে। বিরোধীদল বিরোধিতার জন্য বিরোধীদল নয়, বরং ভালোর জন্য সংসদ ও সংসদের বাইরে সরকারি দলকে সহযোগিতা করছে। আবার দেশের জন্য ক্ষতিকারক সব বিষয়ে সংসদে ও সংসদের বাইরে সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছেন। আমি বলতে চাই, দেশের জন্য শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া যা করে গেছেন, তার ফল কিন্তু তারা পেয়েছেন। জনগণের ভালোবাসা। তারা দুজন লাখো জনতার উপস্থিতিতে জানাজা নামাজের সুফল পেয়ে গেছেন। আমরা চাই তাদের ছেলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবা-মাকে ফলো করলেই দেশ ও জাতির ভালো করতে পারবেন। কোনো দেশের প্রতি অতিরঞ্জিত আনুগত্য না দেখিয়ে।
ছাত্র রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। ডাকসু, চাকসু, রাকসু, জকসু, জাকসু নির্বাচনে শিবিরের প্যানেল জিতে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। ছাত্রদের মধ্যে গোশত বিতরণ, একসাথে কেন্দ্রীয় মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা। ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় বড় দৃষ্টান্ত। এবারের ঈদুল আজহায় স্থানীয় ও পর্যটন কেন্দ্রগুলো ছিল জমজমাট। কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। দেশের আর্থিক অবস্থা দুর্বল হলেও মানুষ ঠিকই ছোট-বড় কুরবানি করেছে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক মনের টানে।
এবারের ঈদুল আজহার মধ্যেই চট্টগ্রামে সলিমপুর জঙ্গলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যারাকে হামলা করে প্রচুর ক্ষতি করেছে, যা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাতের শামিল। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো সতর্ক থাকতে হবে। কারণ আমাদের শত্রুরা বসে নেই। আওয়ামী দোসরদের সহায়তায় আমাদের শান্তিতে বসবাস করতে দিতে চায় না। তারা ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারবে। কিন্তু আমাদের এই দেশের মানুষকে পদানত করতে পারবে না। তার প্রমাণ ৪৭, ৬৯, ৭১ সর্বশেষ ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে- আমরা জান দিতে পারি, কিন্তু আমাদের স্বাধীনতার গায়ে হাত দিতে দেব না। ছাত্র-জনতার ঐক্য আমাদের স্বাধীনতার ওপর আঘাতের দাঁতভাঙা জবাব দেবে।
৭১ থেকে আজ পর্যন্ত ৫৫ বছরে এবার আমরা স্বাধীনভাবে ১৮ কোটি মানুষ শান্তিতে ঈদুল আজহা পালন করতে পেরেছি। অন্যদিকে সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে লাখ লাখ মানুষ গোটা দুনিয়া থেকে হাজির হয়ে বলেছে, ‘লাব্বাইক আল্লাহুমা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা-শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক লাব্বাইকা লাক।’ ‘হে আল্লাহ! আমরা হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, তোমারই গুণগান গাই, তুমি রাজাধিরাজ তোমার নেয়ামতের শুকর করি।’ অন্যদিকে বাংলাদেশে আমরা ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রতি ফরজ নামাজের পর বলেছি, ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ’ ‘হে আল্লাহ! তুমি বড় মহান, তোমার কোনো শরিক নাই, আমরা তোমারই প্রশংসা করি। মহান আল্লাহর শেষ নবীর সময় এ তাকবীর রাস্তাঘাটেও শব্দ করে জানান দিত মহান আল্লাহর ঘোষণা।
মহান আল্লাহই আমাদের অভিভাবক, তিনিই আমাদের সাহায্যকারী। তাই কারো প্রতি ভয়ভীতির জুজুর আছড় না করে এক আল্লাহর প্রতি ভরসা রেখেই আমাদের পথ চলতে হবে। কোনো পরোয়া নেই, আল্লাহ আমাদের সাথে থাকলে কোনো দেশ বা জাতি আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না।
আমাদের জাতীয়ভাবে ঐক্য না থাকায় প্রতিবেশীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বার্থ আদায় করতে চায়। আওয়ামী দোসররা মাঝে মাঝে কাগজি হুমকি-ধমকি দিয়ে ভয়ে রাখতে চায়। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না যারা দেশ থেকে পালায় তারা আর দেশে ফেরার সাহস করতে পারে না। তাদের কবর এ দেশের মাটিতে হবে না, ইনশাআল্লাহ।
ঈদুল আজহার ত্যাগ ও কুরবানি আমাদের প্রতি বছর এ শিক্ষা দেয় যে, তোমরা আল্লাহর হয়ে যাও। মহান আল্লাহও তোমাদের হয়ে যাবে।
ইসলামী সমাজে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয় দুই ঈদ- ঈদুল ফিতর আর ঈদুল আজহা। রমজানের রোজা শেষে খোলা মাঠে ছোট-বড় ছেলে-মেয়ে সবার জন্য ঈদুল ফিতর আদায় করা জরুরি। আমাদের দেশে ঈদের জামাতে মেয়েদের উপস্থিতি খুবই কম। ইদানিং কিছু জায়গায় শুরু হয়েছে, যা ব্যাপকভাবে চালু হওয়া জরুরি। ঈদের নামাজে মেয়েদের উপস্থিতির ব্যাপারে আমাদের প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ সা. তাগিদ দিয়েছেন যে, মেয়েদের মসজিদে অবস্থান ও ঈদের মাঠে যেতে বলেছেন মেয়েদের হায়েজ অবস্থায়ও খুতবা শোনার জন্য। যেহেতু তাদের এ অবস্থায় নামাজ নাই কিন্তু ঈদের মাঠে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন। আর নবী ইবরাহিম আ. ও ছেলে ইসমাইল আ.-এর ত্যাগ ও কুরবানিকে কেন্দ্র করে আমাদের হজের পরে দেশে দেশে কুরবানি আয়োজন হয় এবং ঈদুল আজহার ২ রাকাত নামাজ আদায় করা হয়। সাধারণত খোলা মাঠে।
এবারের ঈদুল আজহার নামাজে বিশেষ দিক ছিল রাজনৈতিক নেতা, সংসদ সদস্যবৃন্দ তাদের এলাকায় নামাজ পড়েছেন, কুরবানি দিয়েছেন, মতবিনিময় করেছেন। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবার সাথে কুশলাদি বিনিময় করেছেন, যা জাতীয় জীবনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে সাহায্য করবে। আর গতানুগতিক নয়, আমরা চাই ২০২৪-এর গণজাগরণ সামনে রেখে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের আলোকে জনগণের মনের ইচ্ছাই নেতারা দেশ চালাবেন। কোনো স্বৈরাচারী কায়দা যাতে আর ফিরে না আসে।
আমাদের এ ঈদুল আজহার মধ্যেই শিশু রামিসা হত্যার বিচারের ব্যাপারে দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। আমীরে জামায়াত হজ পালন শেষে দেশে এসেই শিশু নিহত রামিসার বাবাকে হাসপাতালে দেখতে গেছেন, সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং সঠিকভাবে বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। ইতোমধ্যেই বিচারকার্য শুরু হয়েছে। আমরা আশা করতে পারি, এই বিচার থেকেই শুরু হবে দেশের বিচার ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। আর ঘুণেধরা বিচার নয়, যুক্তিতর্কের মাধ্যমেই স্বল্পসময়ে বিচার করে তা কার্যকরী করা।
আমাদের দেশ ছোট হলেও ১৮ কোটি মানুষ আর নদনদী, পাহাড়-পর্বতঘেরা, সমুদ্রঘেরা উর্বর মাটির দেশ। আমরা যদি দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে মহান আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস রেখে নবী ইবরাহিমের আ. মতো ত্যাগ ও কুরবানির কথা স্মরণ করে যদি দেশের মানুষের উন্নয়নের উদ্যোগ নিই তবে আমরা আমাদের এই জন্মভূমিকে একটি আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ।
সরকারি ও বিরোধীদল মিলে দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে আমরা দেশ চালানোর উদাহরণ সৃষ্টি করে আর হানাহানি নয়, আমরা মদিনা সনদের আলোকে দেশ চালাতে চাই। যেখানে খাদ্য, বসবাস উপযোগী জনপদ, শিক্ষা, চিকিৎসার কোনো অসুবিধা না করেই দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হবেন, কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই।
জিলহজ হিজরি ক্যালেন্ডারের বছরের সর্বশেষ মাস। মহররমের ১ তারিখ শুরু হবে নতুন বছর হিজরি ১৪৪৮। ঈদুল আজহার ত্যাগ আর কুরবানির কথা স্মরণ করেই আমাদের পথচলা শুরু হবে নতুন বছরের। আমাদের স্মরণ রাখতে হবে ‘আমাদের নামাজ, আমাদের কুরবানি সবই মহান আল্লাহর জন্য, তিনি আমাদের রব। আসুন, আমরা আমাদের অহংকার লোভ-লালসা ত্যাগ করে দুনিয়া ও আখিরাতের জবাবদিহির কথা স্মরণ করে আমাদের ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তুলে দুনিয়াকে একটি জান্নাতের পরিবেশ সৃষ্টি করি।
লেখক : সাবেক সিনেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ই-মেইল : rnabi1954@gmail.com