সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
২১ মে ২০২৬ ১০:২৪
ক্যালিফোর্নিয়ায় ইসলামিক সেন্টারে ভয়াবহ হামলায় নিহত ৩
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগোয় একটি ইসলামিক সেন্টারে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন; ঘটনাটিকে বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী ‘হেইট ক্রাইম’ হিসেবে তদন্ত করছে পুলিশ। হামলায় এক নিরাপত্তারক্ষীসহ তিনজন নিহত হন, আর সন্দেহভাজন দুই হামলাকারীও মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগোয় একটি মসজিদ ও ইসলামিক স্কুল কমপ্লেক্সে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই ঘটনাটিকে একটি বর্ণবাদী ও ঘৃণা-প্রসূত অপরাধ বা ‘হেইট ক্রাইম’ হিসেবে সন্দেহ করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল জানিয়েছেন, গত সোমবার (১৮ মে) সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো’ বা আইসিএসডিতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারী দুজনও পরে নিজেদের গুলিতে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলটি একটি ইসলামিক সেন্টার হওয়ায় বিষয়টি কোনোভাবেই হালকা করে দেখা হচ্ছে না। পুলিশ প্রধান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত অন্য কোনো তথ্য-প্রমাণ না মিলছে, ততক্ষণ একে বর্ণবাদী অপরাধ হিসেবেই বিবেচনা করছে পুলিশ। সন্দেহভাজন হামলাকারী দুজনের বয়স আনুমানিক ১৭ ও ১৯ বছর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল আরো জানান, নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন ওই ইসলামিক সেন্টারের নিরাপত্তারক্ষী। হামলা রুখতে এবং এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা যেন আরো বড় বিপর্যয় বা গণহত্যায় রূপ না নেয়, তা নিশ্চিত করতে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। এই ভয়াবহ ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মসজিদের ইমাম তাহা হাসান। তিনি আইসিএসডিকে এমন এক মিলনমেলা হিসেবে বর্ণনা করেন যেখানে মুসলিম এবং অমুসলিম- সবাই একসাথে জড়ো হন, প্রার্থনা করেন, শিক্ষা নেন এবং আনন্দ উৎসব ভাগাভাগি করেন। ইমাম তাহা হাসান আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, একটি এবাদতের কেন্দ্রকে লক্ষ করে এমন হামলা চালানো অত্যন্ত জঘন্য এবং মারাত্মক আপত্তিকর। আমাদের এই ইসলামিক সেন্টারটি শুধুই একটি পবিত্র ইবাদতের জায়গা। এদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া জোর দিয়ে বলেছেন, এই শহরে ঘৃণার কোনো স্থান নেই। স্থানীয় মুসলিমদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের প্রার্থনা আপনাদের সাথে আছে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, এই শহরে আপনারা যেন নিরাপদবোধ করতে পারেন তার জন্য যা যা করা দরকার আমরা সব করব। এই সংবেদনশীল সময়ে আমাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং স্থানগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের সম্পদের কমতি রাখা হবে না। সান ডিয়েগোর ডাউনটাউন বা মূল শহরের উত্তরে অবস্থিত ক্লেয়ারমন্ট আবাসিক এলাকায় এই ইসলামিক সেন্টারটি অবস্থিত। হামলাকারীদের আসল পরিচয় এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার করা হয়নি। তবে এমন এক সময়ে এই হামলার ঘটনাটি ঘটল, যখন খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়া বা মুসলিমবিদ্বেষ মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। অনেক রাজনীতিক ও বিশ্লেষক নিয়মিতভাবে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে আসছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও কংগ্রেস সদস্য র্যান্ডি ফাইন গত বছরের শেষের দিকে প্রকাশ্যেই বলেছিলেন যে মুসলিমদের ‘ধ্বংস’ করে দেয়া উচিত। আল জাজিরা।
আমিরাতকে ইরানি দ্বীপ দখলের উসকানি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র!
যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা সংযুক্ত আরব আমিরাতকে পারস্য উপসাগরের একটি ইরানি দ্বীপ দখলে উৎসাহ দিচ্ছেন বলে দাবি করেছে দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ। গত শনিবারের (১৬ মে) দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের বরাতে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের কিছু কিছু ব্যক্তি আমিরাতকে ‘ লাভান ’ নামের একটি ইরানি দ্বীপ দখল করার প্রস্তাব দিয়েছেন। গত এপ্রিলের শুরুতে এই দ্বীপে আমিরাত গোপন সামরিক হামলা চালিয়েছিল বলেও জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এক উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তার কথা টেনে সংবাদপত্রটি জানায়, মার্কিন কর্মকর্তারা আমিরাতকে উৎসাহিত করে বলছেন, ‘যাও, ওটা দখল করো!’ তাদের আসল উদ্দেশ্য হলো, সেখানে মার্কিন সেনাদের বদলে আমিরাতের স্থল সেনারা যুদ্ধ করুক। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল একযোগে হামলা চালানোর পর থেকেই এই অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালায় ইসরাইল এবং পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর, যার মধ্যে আমিরাতও ছিল। একইসাথে ইরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে ইসলামাবাদে হওয়া শান্তি আলোচনা কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দেন। মিডলইস্ট মনিটর।
ভারতের মানচিত্র বদলে যাবে : পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, ভবিষ্যতে ভারত যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, নতুন কোনো সংঘাত শুরু হলে ভারতের ‘মানচিত্র ও ভূরাজনৈতিক অবস্থান বদলে যেতে পারে’। ভারতের সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। জিও নিউজের ‘ক্যাপিটাল টক’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। তার দাবি, গত এপ্রিল ও মে মাসে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার সময় পাকিস্তান কার্যকর জবাব দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভারত যদি আবার কোনো দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। দিল্লিকে এর ফল ভোগ করতে হবে।’ তবে তার বক্তব্যের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সামরিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী পাকিস্তানকে উদ্দেশ করে কঠোর মন্তব্য করেছিলেন। এর জবাব দিতেই খাজা আসিফের এই প্রতিক্রিয়া এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দুই দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, গত বছরের সীমান্ত উত্তেজনার সময় তারা ‘অপারেশন বুনইয়ান-উম-মারসুস’ নামে একটি পাল্টা সামরিক অভিযান চালায়। ইসলামাবাদের দাবি অনুযায়ী, ওই অভিযানে ভারতীয় সামরিক স্থাপনা ও ড্রোন লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তবে ভারত এ ধরনের অনেক দাবিই অস্বীকার করেছে। খাজা আসিফ বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তি চাপে পড়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থান এখন আগের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে ভিন্ন মতও রয়েছে। ভারত-ইসরাইল সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তার দাবি, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ইস্যুতে ভারত ও ইসরাইলের স্বার্থের মধ্যে মিল রয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য নতুন নয়। কাশ্মীর ইস্যু, সীমান্ত সংঘাত এবং সামরিক প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই অস্থির। তবে উভয় দেশের নেতাদের কড়া ভাষার বক্তব্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। জিও নিউজ।
ক্ষুধার তীব্র জ্বালায় সন্তান বিক্রি করছে আফগানরা!
আফগানিস্তানে গভীর অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব ও আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার প্রভাবে বহু পরিবার এখন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্যসংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কিছু পরিবার সন্তানের চিকিৎসা বা বেঁচে থাকার খরচ জোগাতে শিশুদের অন্যের কাছে তুলে দেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে সতর্ক করেছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় ঘোর প্রদেশের রাজধানী চাগচারানে প্রতিদিন ভোর থেকেই শত শত দিনমজুর কাজের আশায় রাস্তার পাশে জড়ো হন। কনকনে ঠাণ্ডা আর ধুলাবালির মধ্যেও তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। কিন্তু কাজের সুযোগ এতটাই সীমিত যে অধিকাংশ মানুষ খালি হাতেই বাড়ি ফিরছেন। স্থানীয় শ্রমিক জুমা খান জানান, গত কয়েক সপ্তাহে তিনি হাতেগোনা কয়েক দিন কাজ পেয়েছেন। দৈনিক ১৫০ থেকে ২০০ আফগানি আয় দিয়ে পরিবারের খাবার জোগানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানরা না খেয়ে ঘুমায়। কখনো কখনো ধার করে ময়দা কিনতে হয়।’ জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার তথ্যানুযায়ী, আফগানিস্তানের বড় অংশের মানুষ এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। লাখো মানুষ জরুরি খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘ খরা, বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও পাহাড়ি অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চাগচারানের বাসিন্দা আব্দুল রশিদ আজিমি তার সাত বছর বয়সী যমজ কন্যাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, দারিদ্র্য তাকে অসহায় করে তুলেছে। পরিবারের জন্য খাবার জোগাতে না পেরে তিনি প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আফগানিস্তানে শিশু বিয়ে, ঋণের বিনিময়ে সন্তান হস্তান্তর এবং শিশু শ্রমের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। আরেক বাসিন্দা সাঈদ আহমদ জানান, মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনি আত্মীয়ের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ নিয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যানুযায়ী, অনেক পরিবার এমন চুক্তিতে বাধ্য হচ্ছে যেখানে ভবিষ্যতে শিশুকে অন্য পরিবারের কাছে পাঠানোর শর্ত থাকে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসব ঘটনাকে চরম দারিদ্র্যের নির্মম প্রতিফলন হিসেবে দেখছে এবং শিশু সুরক্ষায় জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সহায়তা তহবিল কমে যাওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘোরসহ বিভিন্ন প্রদেশের হাসপাতালগুলোয় অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ, অক্সিজেন ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, অনেক পরিবার চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে অসুস্থ শিশুদের বাড়িতে ফিরিয়ে নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তানের এই সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি একটি গভীর মানবিক বিপর্যয়। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা জরুরি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, দ্রুত সহায়তা না বাড়ালে দেশটিতে ক্ষুধা, অপুষ্টি ও শিশুমৃত্যুর হার আরও বাড়তে পারে। বিবিসি।
কেরালার মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন ৬ মুসলিম সদস্য
ভারতের কেরালায় নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ভি ডি সতীশন। গত সোমবার (১৮ মে) তিরুবনন্তপুরমের সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। মুখ্যমন্ত্রী সতীশনের পাশাপাশি তার ২০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভাও শপথ নেন। জোটসঙ্গী ‘ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ’ (ওটগখ)-এর শীর্ষনেতা পি কে কুনহালিকুট্টি, পি কে বশির, এন সামসুদ্দিন, কে এম শাজি, ভি ই আব্দুল গফুর ও টি সিদ্দিক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তারা সকলেই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। নতুন এই মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও তরুণ প্রজন্মের চমৎকার মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। ২০ সদস্যের এই ক্যাবিনেটে কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা রমেশ চেন্নিথালা, কে মুরলীধরণ এবং কেপিসিসি (কচঈঈ) প্রধান সানি জোসেফ স্থান পেয়েছেন। মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা হলেন মন্স জোসেফ, শিবু বেবি জন, অনুপ জ্যাকব, সি পি জন, এ পি অনিল কুমার, পি সি বিষ্ণুনাথ, রোজি এম জন, বিন্দু কৃষ্ণা, এম লিজু, কে এ তুলসী এবং ও জে জনীশ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, ওয়ায়নাডের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডি, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। তবে প্রশাসনিক ব্যস্ততা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। ১৯৬৪ সালে কোচির কাছে নেত্তুরে জন্মগ্রহণ করা ভি ডি সতীশন নেহরুবাদী ভাবধারায় গভীরভাবে বিশ্বাসী। তিনি এরনাকুলাম জেলার পরাভুর কেন্দ্র থেকে টানা ছয়বারের বিধায়ক। কেরালা কৌমুদি।
ইরান যুদ্ধ পঙ্গু করে দিচ্ছে বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ কাতারকে
কয়েক দশক ধরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পাঠানো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির মাধ্যমে কাতার বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছে, যা এই ছোট উপসাগরীয় রাষ্ট্রটিকে একটি বৈশ্বিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে রূপান্তরিত করেছে। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধটি প্রকাশ করে দিয়েছে যে, আঞ্চলিক সংঘাতের মুখে সেই সমৃদ্ধি কতটা ভঙ্গুর ছিল। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং কাতারের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইরানের হামলাÑ এই দুইয়ের ফলে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে কাতারের গ্যাস রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। দেশটি যা গ্যাসের আয়ের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, এখন ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছে। কাতারের বাণিজ্য পথগুলো অবরুদ্ধ রয়েছে এবং দেশটির গ্যাস উৎপাদনের প্রধান শিল্প কেন্দ্র রাস লাফানে কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দোহার দক্ষিণে হামাদ বন্দর নীরব হয়ে পড়েছে, পন্য বোঝাইয়ের ক্রেনগুলো অলস দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই যুদ্ধ কাতারের বৃহত্তর বৈচিত্র্যকরণ কৌশলকেও ব্যাহত করেছে। ভ্রমণ সতর্কতা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কার কারণে আন্তর্জাতিক পর্যটন তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং বহুজাতিক সংস্থাগুলো এই অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি কমিয়ে দেওয়ায় রাজধানীজুড়ে হোটেল, মল এবং বিলাসবহুল বুটিকগুলোয় দর্শনার্থীর সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। যুদ্ধের আগে, কাতার বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম জ্বালানি সম্প্রসারণ প্রকল্প চালু করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল ২০২৭ সালের মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন বার্ষিক ৭ কোটি ৭০ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ১২ কোটি ৬০ লাখ টন করা। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় রাস লাফান স্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং উৎপাদন ক্ষমতা আনুমানিক ১৭ শতাংশ কমে যাওয়ায় সেই প্রচেষ্টাও অনেকটাই থমকে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী শিগগিরই খুলে গেলেও এই ক্ষতি মেরামত করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি সংস্থা কাতারএনার্জি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইতোমধ্যেই কয়েকশ’ কোটি ডলার লোকসান করেছে। এদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আশঙ্কা করছে, এবছর কাতারের অর্থনীতি ৮ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হবে। মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের উর্ধ্বতন গবেষক ফ্রেডেরিক স্নাইডার বলেছেন, কাতারের অর্থনৈতিক কৌশল মূলত বিদেশি বিনিয়োগ, প্রবাসী শ্রমিক এবং সর্বোপরি, স্থিতিশীলতার ধারণার ওপর নির্ভরশীল ছিল। দেশটির কাছে এখনো বিপুল আর্থিক রিজার্ভ এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সার্বভৌম সম্পদ তহবিল রয়েছে, কিন্তু হরমুজ প্রণালীর দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি রপ্তানি এবং বৈশ্বিক আস্থার ওপর নির্ভরশীল একটি অর্থনীতিকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে সম্পদের সীমাবদ্ধতাকে উন্মোচিত করেছে। কাতারের অর্থনীতি, যা একসময় উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিস্থাপকতার একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছিল, তা এখন এই বাস্তবতার মুখোমুখি যে, যখন বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং স্থিতিশীলতা একই সাথে ভেঙে পড়ে, তখন বিপুল সমৃদ্ধিও দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে। গালফ নিউজ।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান