হালদায় দুই দফায় কার্প জাতীয় মাছের ৬০০০ কেজি ডিম সংগ্রহ
৭ মে ২০২৬ ০৯:৩৬
হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : বৃষ্টি ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে কার্প জাতীয় মা-মাছ (রুই, কাতল, মৃগেল ও কালিবাউশ) ডিম ছাড়তে শুরু করেছে। এতে নদীপাড়ে জড়ো হওয়া শত শত ডিম সংগ্রহকারী ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ও রাত ১১টার জোয়ারকে কেন্দ্র করে দুই দফায় ডিম সংগ্রহ করা হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির তথ্যানুযায়ী, প্রায় ২৫০টি নৌকায় অন্তত ৫০০ জন সংগ্রহকারী অংশ নেন। দুই দফায় মোট প্রায় ৬ হাজার কেজি ডিম আহরণ করা হয়েছে।
হাটহাজারী উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা শওকত আলী জানান, সকাল থেকে নদীর আজিমের ঘাট, অন্তরীঘোনা ও সত্তারঘাট এলাকায় মা-মাছ বিক্ষিপ্তভাবে ডিম ছাড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম ছাড়ার পরিমাণ বাড়ে এবং সংগ্রহও বৃদ্ধি পায়।
স্থানীয় প্রবীণ ডিম সংগ্রহকারী কামাল সওদাগর বলেন, চলতি মৌসুমে সময়মতোই মা-মাছ ডিম ছাড়তে শুরু করেছে। তিনি জানান, শুরুতে নমুনা ডিম পাওয়া গেলেও পরে জোয়ারের সময় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিম সংগ্রহ করা যায় এবং পরবর্তীতে ডিম দেওয়া শেষ হয়। ডিম সংগ্রহের জন্য অর্ধ-সহস্রাধিক সংগ্রহকারী বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে নদীর পাড়ে অবস্থান নেন। সংগ্রহ করা ডিম থেকে পোনা উৎপাদনের লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি হ্যাচারির পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে মিনি হ্যাচারি ও মাটির কুয়াও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত দিনভর বিক্ষিপ্তভাবে ডিম ছাড়ার পর রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে মা-মাছ সবচেয়ে বেশি ডিম ছাড়ে। ফলে রাতের জোয়ারে ডিম সংগ্রহের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। প্রায় ৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ হালদা নদী চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, রাউজান ও হাটহাজারী হয়ে প্রবাহিত হয়েছে। প্রতি বছর চৈত্র থেকে আষাঢ় মাসের মধ্যে পূর্ণিমা বা অমাবস্যার তিথিতে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে এ নদীতে মা-মাছ ডিম ছাড়ে।