এমন জনপ্রিয় দল দরকার, যারা মানবতার জন্য কাজ করবে
৬ মে ২০২৬ ১৮:১৭
॥ মাহবুবুল হক ॥
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, কবি, সাহিত্যিক ও সাহিত্য সংগঠক মাওলানা আবদুল মান্নান তালিবকে একবার প্রশ্ন করেছিলাম- এদেশের মানুষ মুসলিম। কিন্তু মুসলিম হিসেবে তাদের দর্শন, চিন্তা, লক্ষ্য এবং আখিরাত সম্পর্কে আমার পরিষ্কার ধারণা নেই। আপনি কি আমাকে এ বিষয়ে ধারণা দিতে পারেন? তিনি হেসে উল্টো আমাকেই প্রশ্ন করলেন, আপনি কী ধরনের ফ্যামিলি থেকে উঠে এসেছেন। আমি সহজ-সরল ভাষায় তাকে জানালাম, আমাদের পরিবার এখন বলতে গেলে চাকরিজীবী পরিবার। প্রায় একশত বছর পূর্ব পর্যন্ত ছিল তালুকদার পরিবার। সেই তালকদাার ছিল তাও প্রায় দুইশত বছর। তার পূর্বে আমরা ছিলাম বিদেশগত ধর্মপ্রচারক, যারা হযরত শাহজালালের (রহ.) সফরসঙ্গী হয়ে এদেশে এসেছিলেন। মূলত আমাদের পূর্বপুরুষগণ এসেছিলেন ইরাক ও ইয়েমেন থেকে। তারা ছিলেন তিনজন। দুজন ছিলেন ইরাকি এবং একজন ছিলেন ইয়েমেনি। ইরাকি দুজন ছিলেন আপন ভাই। ইয়েমেনি ছিলেন পারিবারিক বন্ধু। নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার কালামুন্সি বাজার পর্যন্ত ছিল সমুদ্র। ছিল বঙ্গোপসাগরের মোহনা। পারিবারিক সূত্রে যতটুকু শুনেছি বা জেনেছি, হযরত শাহজালালের নির্দেশে তারা এ এলাকায় অবস্থান নেন। সেখানে তখন গভীর জঙ্গল ছিল। আশপাশে কোনো মনুষ্যজাতির চিহ্ন ছিল না। জঙ্গল কেটে কেটে মনুষ্যবাসের উপযোগী করেন সেই বিদেশাগত পূর্বপুরুষরা, বেশ দূরে দূরে সনাতন ধর্মের লোকদের বসবাস ছিল। তাদের ধর্ম, সমাজ, জীবনযাপন পদ্ধতি, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না সবই ছিল। এটুকু বলেই আমি ক্ষান্ত হয়েছিলাম। কারণ এ ইতিহাস অনেক বড়। কনভার্ট বলি বা রিভার্ট বলি, সেটার ব্যাপারে নাকি আমাদের পূর্বপুরুষদের পক্ষ থেকে কোনো তাগিদ, জোরজবরদস্তি বা তাড়াহুড়ো ছিল না।
তালিব ভাই বললেন, এই একই ইতিহাস প্রায় সব অঞ্চলে। জঙ্গল কেটে মানুষের বসত তৈরি করার মধ্য দিয়েই বিদেশিদের সাথে দেশিদের একটা মানবিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের ভিতিত্তেই ধর্মান্তরের ভেতর দিয়েই এদেশের মুসলিম সমাজ গড়ে ওঠে। তালিব ভাই বলতে লাগলেন, বিদেশ থেকে যেসব মুসলিম এসেছিলেন, তারা যে ইসলামের সবকিছু ভালোভাবে জেনে এসেছেন, তা তো নয়। কেউ এসেছেন ইসলাম প্রচার করতে। কেউ এসেছেন ব্যবসা-বাণিজ্য করতে। কেউ এসেছেন শুধু ভ্রমণ করতে। কেউ রাজ্য জয়ের নেশায় এসেছেন। একপর্যায়ে তিনি আমাকে আবার প্রশ্ন করলেন, আপনাদের পূর্বপুরুষরা খানকা বানিয়ে পীরসাহেব হলেন না কেন? অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মাজারের জন্ম হয়েছে, খানকার জন্ম হয়েছে, একটি পীরই সিলসিলার জন্ম হয়েছে এবং কাল থেকে কালান্তরে সেই ব্যবসা-বাণিজ্য তো চলছেই। এটাও তো এক ধরনের জীবিকা।
আমার জবাব ছিল খুব সাধারণ। আমাদের আব্বাজান যখনই ঢাকায় আসতেন, তখনই তিনি আজিমপুর দায়রা শরীফ, হাইকোর্ট মাজার, মিরপুরের শাহআলী বাগদাদীর মাজার, নারিন্দার পীরসাহেবের আস্তানা ইত্যাদি জায়গায় নিয়ে যেতেন এবং বলতেন, এরাই আমাদের পূর্বপুরুষদের আত্মীয়-স্বজন। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে অবস্থিত শামপুর এলাকা শাহ জকির দায়রা শরীফে পূর্বপুরুষদের সাথে আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্পর্ক ছিল, সে কথাও তিনি বলেছেন।
কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষরা খানকাসহ পীরের সিলসিলা অবলম্বন করেনি।
তালিব ভাই এটাকে নানাভাবে বিশ্লেষণ করে বলেছিলেন, এদেশে যে ইসলাম বিরাজমান রয়েছে, তা হলো ‘পপুলার ইসলাম’। ঠিক কোনো ধরাবান্ধা নিয়মের মধ্য দিয়ে এখানে ইসলাম কায়েম হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশে দেশে যে ইসলাম ছিল, সে ইসলামকে নিয়েই আমাদের পূর্বপুরুষরা এদেশে এসেছেন এবং সেই ভিন্নতা নিয়েই ভিন্ন ভিন্নভাবে গড়ে উঠেছে ইসলামের সৌন্দর্য। তবে মূল বিষয়টি ছিল সেবা বা জনকল্যাণ। যারা খানকা করেছে, মসজিদ-মাদরাসা তৈরি করেছে, তারা যেমন কল্যাণের কাজে নিজেদের ব্যাপৃত করেছিল, ঠিক তেমনি আপনাদের পূর্বপুরুষদের মতো বন-জঙ্গল কেটে যারা মানুষের আবাস তৈরি করেছিল, তারাও কল্যাণকর কাজে নিবেদিত ছিল। এই কল্যাণের মধ্য দিয়েই আমাদের দেশে ইসলাম বিস্তৃতি লাভ করেছে। বিভেদের মধ্য দিয়ে নয়। বিভক্তির মধ্য দিয়ে নয়।
এরপর তিনি আমাকে যেটা জানাচ্ছিলেন, স্থানীয় সংস্কৃতি ও কৃষ্টির একটা বিষয় আছে। সনাতন ধর্মের মানুষ হাজার হাজার বছর ধরে যে আচার-ব্যবহার, চালচলন, ওঠাবসা করে এসেছিল, তা তো তারা রাতারাতি বন্ধ করতে পারেনি। একদিকে তারা ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো রপ্ত করেছিলেন; অপরদিকে নিজেদের সংস্কৃতিকেও কিছু কিছু অনুসরণ করছিলেন। এই অনুসরণের মধ্যে শিরক ও বিদ’আত অবশ্যই ছিল। সেগুলো তো রাতারাতি শেষ করা যায়নি এবং এখানেও ছিল নানারকম বৈচিত্র্য। ইসলাম প্রচারের জন্য শুধু শাহজালালের সঙ্গে অনেকে এসেছিলেন, তা তো নয় এবং একবার দুবার বা পাঁচবার এসে আগের সিলসিলা বা যোগাযোগের যে সিলসিলা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তাও তো নয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় যেমন ধর্মের মূল শিক্ষা এক থাকলেও কৃষ্টির ভিন্নতা ছিল। ঠিক একইভাবে আফ্রিকার মুসলিম দেশ থেকে যারা এদেশে এসেছিলেন, তাদেরও সংস্কৃতি ভিন্ন ছিল। ইরান ও মধ্যএশিয়া থেকে যারা এসেছিলেন, তাদেরও কৃষ্টি-সভ্যতা ভিন্ন ভিন্ন ছিল। স্পেন, তুরস্ক এসব দেশ থেকেও ক্রমাগতভাবে আমাদের দেশে মুসলিমরা এসেছিলেন। তাদেরও কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও সভ্যতা তারা তো তাদের দেশে ফেলে রেখে আসেননি। সভ্যতার ভিত্তি হলো নগরসভ্যতা। আমাদের দেশে নগরসভ্যতা গড়ে উঠেছে অনেক পরে। কিন্তু ইরান, মিশর, তুরস্ক, স্পেন, ইরাক, সিরিয়া, মধ্যএশিয়ার নগরসভ্যতা গড়ে উঠেছিল অনেক পূর্বে। এসব দেশের সভ্যতা ও কৃষ্টির সাথে কোনো না কোনোভাবে সংযুক্ত ছিল গ্রিস সভ্যতা, রোমান সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, মিশরীয় সভ্যতা। অন্যদিকে যদি আমরা সনাতন ধর্মের কথা এ প্রসঙ্গে টেনে আনি, তাহলেও দেখব মুসলিমদের মতো তাদের মধ্যেও রয়েছে নানারকম ভিন্নতা। এদেশে আর্যরা আসার আগে সনাতন ধর্মের মানুষের মধ্যে কোনো বিভক্তি ছিল না। ছিল শুধু পেশার ভিন্নতা। কিন্তু আর্য-ব্রাহ্মণরা এসে সনাতন ধর্মের মধ্যে কাস্ট তৈরি করল। যার ফলে প্রাকৃতিক ধর্ম বা সনাতন ধর্ম তাদের নিজস্বতা অনেকটাই হারিয়ে ফেলল। অন্যান্য ধর্মের ক্ষেত্রে একই কথা। ঈসা (আ.)-এর সময় খ্রিস্টানরা যে খ্রিস্টধর্ম তৈরি করেছিল, তা কালের বিবর্তনে কত পরিবর্তন হয়েছে। বৌদ্ধধর্মকেও যদি আমরা দেখি দেশে দেশে নানারকম বৌদ্ধধর্ম।
এই আলোচনা আমাদের সংক্ষিপ্ত করতে হচ্ছে এভাবে যে, নানা দেশে কোনো ধর্মই সবসময় একরকম ছিল না। কালে কালেও ধর্মের রূপ ও প্রকৃতি এক ধরনের ছিল না। দেশে দেশে যেমন পরিবর্তন এসেছে, কালে কালেও তা পরিবর্তিত হয়েছে। সুতরাং পরিবর্তন একটি অনিবার্য বিষয়।
আবদুল মান্নান তালিব সাহেব যে কথাটি বলতে চেয়েছেন, সেটি হলো মূল বিষয়গুলো অবশ্যই ঠিক রাখতে হবে। পাশাপাশি হাজারো ছোট-খাটো জিনিস আসবে, সেগুলোকে স্থান-কাল-পাত্রভেদে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। আমাদের দেশে যেহেতু নবী-রাসূল, সাহাবারা প্রত্যক্ষভাবে ইসলাম প্রচার করেননি। নানা ভায়া মাধ্যমে আমরা এখানে ইসলামকে খুঁজে পেয়েছি। সুতরাং ভিন্নতা থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। সেক্ষেত্রে আমাদের উচিত ছিল কুরআনের দিকে ফিরে যাওয়া, কিন্তু সে কাজটি আমরা সঠিকভাবে করতে পারিনি। আমরা ইসলাম শিখেছি বা ইসলামকে জানার চেষ্টা করেছি মৌলভী, মুন্সী, মাওলানা, হাফেজ, ক্বারী, মুফতি, পীর-মুরশিদ, সুফী, অলি-আউলিয়া, ওয়ায়েজিন বিভিন্ন তরীকা বা পন্থীর মাধ্যমে। ব্রিটিশ আমলের আগে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কী কী ধরনের ছিল, সে আলোচনা আর এখানে আনছি না। কারণ আমাদের জীবনবিধানে বলা হয়েছে, আমাদের পূর্বপুরুষগণ ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে যদি কোনো ভুল করে থাকেন, তাহলে সেসব ভুলের ফলে বা কার্যকারিতা যদি এখনো বজায় থাকে, তাহলে সে কারণে তাদের দোষ হবে, তারা তওবা করবে। কারণ তওবা করলে মহান আল্লাহ সেটা ক্ষমা করে দেবেন। তাদের ভুলের জন্য তাদের সমালোচনা করা আমাদের দায়িত্ব নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো- ভুল শোধরানো। ভুল জেনেও যদি আমরা পূর্বপুরুষদের ভুলকে অব্যাহত রাখি, সেজন্য তাদের দোষ হবে না। দোষ হবে আমাদের। অন্য কোনো জীবন ব্যবস্থায় এ ধরনের ছাড়ের ব্যবস্থা নেই। এখানে ছাড়ের ব্যবস্থা আছে বর্তমানের জন্য। এখন আমরা ভুল করছি কিছুদিন পর সে ভুলটি আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়েছে, আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো ভুলটা স্বীকার করে নেওয়া। অনুতপ্ত হওয়া। আত্মসমালোচনা করা এবং সচেতন হয়ে মহান আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া। মহান আল্লাহ আমাদের সৃষ্টিকর্তা।
তিনি আমাদের একমাত্র মালিক। একমাত্র লালন-পালনকর্তা। একমাত্র মাবুদ। একমাত্র ইলাহ। আমরা তার একনিষ্ঠ বান্দা। মহান আল্লাহ তার কুরআনে যে অভিপ্রায় পেশ করেছেন, তা হলো- এক জীবনেই যাবতীয় গুনাহের ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে এবং সাথে সাথে সংশোধিত হয়ে পুনরায় মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ ও নির্দেশ পালন করতে হবে এবং নিষেধগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। পিতার ভুলের জন্য পুত্র দায়ী হবে না। আবার একজীবনে পিতার ফরজ আদেশ ও নির্দেশগুলো যদি পুত্র না মানে, তাহলে অবশ্যই পুত্রের পাপ ও অপরাধ হবে। ইসলামের বিষয়গুলো হলো বর্তমান। অতীতের বিষয় অতীতের মানুষের কাছে। বর্তমানের বিষয় বর্তমান মানুষের কাছে। ভবিষ্যতের বিষয় ভবিষ্যতের মানুষের কাছে। তার মানে এই নয়, অতীতের কোনো ভালো কাজ এবং তার ফলাফল গড়িয়ে গড়িয়ে বর্তমানে আসবে না বা ভবিষ্যতে পৌঁছাবে না। ইসলামে এই কাজকে বলা হয়েছে ‘সাদকায়ে জারিয়া’। অর্থাৎ যেটা জারি থাকবে বা জারি বা চলমান থাকে।
আবদুল মান্নান তালিব সাহেব ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে যে কথাটি বলতে চেয়েছেন, তা হলো- যুগ যুগ ধরে এ দেশে আমরা হিন্দু হই, মুসলিম হই, বৌদ্ধ হই- খ্রিস্টান হই, আমরা কেউই সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারিনি। আমরা হাজারো সূত্র থেকে এবং হাজারো উৎস থেকে মানুষ হবার চেষ্টা করেছি। মুসলিম হবার চেষ্টা করেছি। এটা করতে গিয়ে প্রতিটি মানুষ একটা জগাখিচুড়ি দর্শনের মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছি। আমরা যদি রাসূলদের মতো একজন শিক্ষক পেতাম, নবীদের মতো একজন শিক্ষক পেতাম বা খোলাফায়ে রাশেদিনের মতো একজন খলিফা পেতাম বা অসংখ্য সাহাবীর মতো একজন সত্যনিষ্ঠ, আসমানি জ্ঞানসমৃদ্ধ সাহাবা পেতাম, তাহলে হয়তো ভালো হতো। কিন্তু সেই সৌভাগ্য আমাদের হয়নি। আবার যাদের এই সৌভাগ্য হয়েছে, তারাও যে সেই সৌভাগ্য নিজের দেশ বা নিজের জাতির জন্য পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগাতে পেরেছে, তেমন তো নয়। এসব চিন্তার কথা, ভাবনার কথা, গবেষণার কথা। যেমন মহান আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, আমি প্রতিটি জনপদে রাসূল বা নবী পাঠিয়েছি। আবার অন্য জায়গায় বলেছেন, জনপদে আমার বাণীসমৃদ্ধ কিতাব না পাঠিয়ে আমি কোনো জাতির ওপর শাস্তি অর্পণ করিনি। জাতি-গোষ্ঠী যখন কিতাব পেয়েছে, অনুধাবন করেছে, উপলব্ধি করেছে; তার পরবর্তীতেই তারা আমার বাণীকে অস্বীকার করেছে। এই অস্বীকারের পরই আমি তাদের পাকড়াও করেছি। মহান আল্লাহ ভালো জানেন। উপর্যুক্ত সৌভাগ্যগুলো আমরা এখনো অর্জন করতে পারিনি। আমরা জানি না, চার হাজার বছর আগে বা চার-পাঁচ হাজার বছরের মধ্যে আমাদের এই বদ্বীপে কে বা কারা নবী বা রাসূল ছিলেন, কুরআনের আগে মহান আল্লাহর কোন কোন ‘স্ক্রিপচার’ আমাদের পূর্বপুরুষদের হাতে পৌঁছেছিল সেসব কিছু এখন আমরা জানতে পারিনি। কখন জানতে পারব, তাও আমরা জানি না। হয়তো এদেশের ভবিষ্যতের মানুষ তা জানতে পারবে।
আমরা হাজার হাজার সোর্স থেকে জীবনদর্শন, আসমানি জ্ঞান, জাগতিক জ্ঞান, আহরিত জ্ঞান অর্জন করার চেষ্টা করেছি। অথবা স্কুল-কলেজ-মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠক্রম থেকে পেয়েছি। হিসাবের বাইরেও ছিল হাজার সোর্স। তার মধ্যে পুস্তক-পুস্তিকা, হাদিসের হাজার হাজার কিতাব, শত শত রাজনৈতিক দলের মেনিফেস্টো, বিভিন্ন ধর্মীয় কিতাব ও ধর্মীয় গুরু, পীর-ফকির, মুফতি, মাওলানা, ওয়ায়েজিন, উপন্যাস-গল্প, সাহিত্য-ছড়া, নাটক-সিনেমা, ঐতিহাসিক পুস্তকাদি, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, রেডিও-টেলিভিশন, সংবাদপত্র, মিডিয়া, অনলাইন মিডিয়া, ছবি, চারুকলা, ভাস্কর্য, পালা-পার্বণ, পুঁথি, জারি-সারিসহ অসংখ্য ও অগণন সূত্র থেকে জ্ঞানার্জন করে আমরা এক ধরনের ‘পপুলার মুসলিম’ হয়েছি। অর্থাৎ এক ধরনের জনপ্রিয় ইসলামকে আমরা ধারণ করে আছি। এই ধারণের মধ্যে এক ধরনের ‘ইউনিটি ইন ডাইভার্সিটি’ আছে। যেমন রাজনীতি ক্ষেত্রে একসময় ছিল ২০ দল ও ১৪ দল। এখন আছে ১১ দল ও ১০ দল। এর মধ্যে যে আবার ব্যতিক্রম নেই, তাও তো বলা যাচ্ছে না। ঐক্যের মধ্যে আছে অনৈক্য। আবার অনৈক্যের মধ্যে আছে ঐক্য।
তালিব সাহেব বলেছিলেন ২০১০ সালের দিকে। তিনি ইন্তেকাল করেছেন ২০১০ সালে। তিনি ‘পপুলার ইসলাম’ বা জনপ্রিয় ইসলাম বলতে গত শতাব্দীর মুসলিম লীগ, আওয়ামী লীগ বা বিএনপিকে বুঝিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ইসলামকে সামনে রেখে রাজনীতি করতে হলে একটা মধ্যমপন্থা অবশ্যই অবলম্বন করতে হবে। প্রান্তিক বা মৌলিক অথবা শুদ্ধতম ইসলাম নিয়ে অগ্রসর হওয়া যাবে না। মুসলিম লীগ কাজ করেছে মুসলমানদের জন্য। আওয়ামী লীগ কাজ করেছে বাঙালিদের জন্য। এখন এমন একটি দল করতে হবে, যে দলটি মানবতার জন্য কাজ করবে।