পুঠিয়ায় ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খননের হিড়িক


২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:১১

পুঠিয়া (রাজশাহী) সংবাদদাতা : রাজশাহীর পুঠিয়ায় অনুমোদনহীন পুকুর খননের হিড়িক পড়েছে। উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নে সংস্কারের নামে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে।
এদিকে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, আমি তো লিখিত অভিযোগ পাইনি। পুকুর খনন বন্ধের কাজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, অবৈধভাবে পুকুর খনন একটি অপরাধ। এটি দেখার বিষয় থানার ওসির। আবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ বিষয়ে অনেকটা গা-ছাড়া ভাব দিয়ে চলেন। তিনি না পারেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দিকে ঠেলে দিতে। না পারেন থানার ওসির দিকে ঠেলে দিতে। অপরদিকে সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও গাফিলতির কারণে পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করা হচ্ছে। সেই সাথে পুকুরের খাজনা আদায় হচ্ছে ধানি জমি হিসেবে। যার কারণে মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অপরদিকে উপজেলা প্রশাসন নাম মাত্রই দুই একবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বৈধতা দিচ্ছে পুকুর খননের। সরকারি নিয়মনুসারে ১৪২২ বঙ্গাব্দ সাল থেকে ধানি জমি প্রতি শতাংশ দুই টাকা হারে খাজনা ধার্য করা হয়েছে। অপরদিকে বাণিজ্যিক পুকুরের খাজনা ধার্য হয়েছে প্রতি শতাংশ পৌর এলাকায় ৪০ টাকা আর ইউনিয়ন এলাকায় ৩০ টাকা হারে।
পুকুর খননের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে ইতোমধ্যে একাধিক পুকুর পুনরায় সংস্কারের জন্য আবেদন জমা হলেও তা যাচাই-বাছাইয়ের আগে কিছু দিন ধরে শুরু হয়েছে পুকুর খননের কাজ।
উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের একজন বিএনপির প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় রাতোয়াল-মালিপাড়া ও বদোপাড়া বিলের মাঝখানে ৩০ বিঘা জমিতে চলছে পুকুর খননের মহোৎসব।
গত ৮ এপ্রিল বুধবার গভীর রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান অভিযানে যান। কিন্তু তিনি যাওয়ার আগেই পুকুর খননের এক্সকাভেটর নিয়ে পুকুর খননকারীরা পালিয়ে যায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসলে আবার তারা পুনরায় পুকুর খনন কাজ শুরু করে।
এলাকাবাসী অভিযোগ তুলে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে উপজেলার শীলমাড়িয়া ইউনিয়ন একটি পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে। ফাঁড়ির সঙ্গে সমঝোতা করেই বিলে পুকুর খনন করা হচ্ছে। তারা আরো দাবি করেন, উপজেলা সদর থেকে পুকুরে অভিযানে যাওয়ার কথা পুকুর খননকারীদের জানিয়ে দেয় ফাঁড়ির পুলিশরা। এ কারণে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রকার সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মণ্ডল সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি অতি গুরুত্বের সঙ্গে বলেছিলেন এলাকায় ভূমিদস্যুদের কোনোরকম তৎপরতা চালাতে দেয়া যাবে না। এই হুঁশিয়ারির পর পুকুর খনন একেবারে বন্ধ ছিলো। হঠাৎ করে আবার সমঝোতার মাধ্যমে রহস্যজনক কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুকুর খনন শুরু হয়েছে।
শিলমাড়িয়া মালিপাড়া এলাকার সিয়াম হোসেন বলেন, পুকুর খননকারীরা অভিনব কায়দায় প্রথম বছর কোদাল দিয়ে তিন ফসলি জমির ওপর দুই-তিন ফিট মাটি কেটে পুকুরের আকৃতি করে রাখছেন। পরের বছরে উপজেলা পরিষদে গিয়ে বলছেন, এই জমিতে কোনো প্রকার ফসল চাষ করা যায় না। পরে পুকুর খননের জন্য আবেদন করছেন। আর উপজেলা পরিষদের পক্ষ হতে কোনোভাবে রাজনৈতিক দলের নেতার মাধ্যমে খননের অনুমতি পেলে নেতার মোটা অংকের টাকা আয় হয়ে যায়। এ কারণে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা পুরাতন পুকুর সংস্কারের নামে পুকুর খননের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।
এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, পুকুর খননের বিষয়ে আমরা তো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি, আর এটি দেখার দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস বলেন, মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করি, কিন্তু পুলিশের সহযোগিতা ছাড়া তো সময় অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মতি লাগে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, এমপি মহোদয় নিষেধ করার পর পুকুর খনন বন্ধ ছিল। আমরা বুধবার জানতে পারি রাতে শিলমাড়িয়ার একটি বিলে পুকুর খননের কাজ চলছে। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর খননকারীদের কাউকে পাওয়া যায়নি। পুকুর খননের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছেন। এছাড়া অবৈধভাবে পুকুর খনন একটি অপরাধ। এটি দেখার দায়িত্ব পুঠিয়া থানা পুলিশের।

কবি সৈয়দ আলী আহসান
২৭ জুলাই ২০২৬ ১৬:০১