রবিউল মাশরাফী-এর কবিতা

বৈশাখী দহন


১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:০৯

কাল বাতাসে অনেক দুঃখ ছিল, নীল।

দুই চোখে বৃষ্টি ছিল, বুকে দগ্ধ কাঠ
মনে হতাশার খেদ, উদরে ভীষণ ক্ষুধার আগুন।
কালের খেয়ায় সব ভেসে যাক পুরনো জঞ্জাল।

আসে পহেলা বৈশাখ, প্রতিজ্ঞায় জেগে উঠি ফের নতুন আশায়।
পূবের আকাশে আলো জন্মমাত্র সূর্য-শিশু হাসে,
ঘরে নব পরিণিতা
ঘোমটার আড়ালে তার রঙিন ঠোঁটের হাসির ঝিলিক
প্রথম সূর্যের মতো বাড়িময় ছড়িয়ে পড়েছে।

বাতাসে ফুলের গন্ধ, বৈশাখ আনন্দে উদ্বেলিত মন।
ছোট-বড় ছেলে-মেয়ে বৈশাখী আলপনা আঁকে কী দারুণ গালে
কিশোরী, মহিলা, শিশু কাজল চোখের চাহনি ফেলে যায়
যেন মায়াবি হরিণ শাবকেরা দলবেঁধে ছোটে।

কুঁজো বুড়োও এসেছে দৌহিত্রের উষ্ণ হাত ধরে
যদিও রোদের জল ভিজিয়ে দিয়েছে মায়াময় মুখ
তবুও শরীর মন ক্লান্ত নয় মোটে
জনসমুদ্রে উঠেছে আনন্দ জোয়ার
চোখের তারায় হাসে বৈশাখের ফুল।

অতিমিত গর্জনের বাঙালিপনার শেষে আবার ইংরেজ হয়ে যাই সব!
আড়ঙের থেকে আনা আলপনার শখের হাঁড়িটা
ধূলিকণা জমে জমে পড়ে থাকে ধুলার ওপর!
বছর পেরিয়ে ফের, বৈশাখ আনন্দ আসে বাঙালির ঘরে।

বয়সের প্রৌঢ়বেলা জীবনের পাণ্ডুলিপি খুলে
পান্তা ইলিশের ঝাঁকে চোখ রেখে ভাবি
নবরূপে নবসাজে কত কিছু ফিরে আসে পৃথিবীর বুকে
আর তো এলো না ফিরে মনকাড়া সেই ইলিশের ঘ্রাণ।