কিশোরগঞ্জ-ঢাকা বাস রুটে সিন্ডিকেট গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া
৯ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৩৬
আহসানুল হক জুয়েল, কিশোরগঞ্জ : গণপরিবহনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে কিশোরগঞ্জের বাস কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মহোৎসব চলছে। ফলে এ জেলা থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত ভাড়া না দিলে নানা হয়রানি ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকারও হচ্ছেন যাত্রীরা।
এমন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে ঢাকা-কাপাসিয়া-কিশোরগঞ্জ রুটে চলাচলকারী গাজীপুরের কাপাসিয়া, কিশোরগঞ্জ জেলা সদর, ভৈরব বাজার, পাকুন্দিয়া, কটিয়াদি, হেসেনপুর, নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলাসহ আশপাশের লাখ লাখ মানুষ পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। অপরদিকে কিশোরগঞ্জ ভায়া ভৈরব বাজার ভেলানগর ভুলতা মাধবদী, কাঁচপুর শেখেরচর, নারায়ণপুর, ইটাখলা, বাজিতপুর, কুলিয়ারচর রুটের যাত্রীরাও অতিরিক্ত বাস ভাড়া আদায়ের ফলে বাস মালিকদের সিন্ডিকেটে একইভাবে জিম্মি যাত্রীরা। সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় যাত্রীবাহী পরিবহনগুলো ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছে।
এ বছর পবিত্র ঈদুল ফিতরে রাজধানী ঢাকা থেকে ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামের বাড়ি যাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়েছে যাত্রী সাধারণকে। আবার ঈদুল ফিতরের ছুটির পর রাজধানী ঢাকায় ফিরতে একইভাবে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়েছে তাদের। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন যে সকল বাসগুলোতে অভিযান পরিচালনা করেছে সেই সকল বাস মালিকরা যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে পারেনি। কোনো কোনো বাস অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপের কারণে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দিতে হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা চলাচলকারী সবগুলো পরিবহন কোম্পানি যাত্রীদের কাছ থেকে গেটলক সার্ভিসের ভাড়া আদায় করলেও বাসগুলোয় সেবা দেয় লোকাল সার্ভিসের মতো। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের অনেক সময় মারধরের শিকার হতে হয়। কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা রুটে চলাচলকারী সবগুলো বাসই হলো স্থানীয় প্রভাবশালীদের। বাংলাদেশের ভালোমানের বাস কোম্পানিগুলো কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা ভায়া কাপাসিয়া, ভায়া ভৈরব বাজার হয়ে ঢাকা চলাচলের চেষ্টা করলেও কিশোরগঞ্জ বাস মালিক সমিতি কোনোভাবেই অনুমতি দিতে চায় না। ফলে দেশের ভালো কোম্পানির বাসগুলো যেমন হানিফ, সোহাগ, রয়েল এসব রুটে চলাচল করতে পারছে না।
এ প্রতিবেদককে যাত্রীরা জানান, উন্নতমানের বাস চলাচল করলে আমাদের ভাড়া বেশি দিতেও আপত্তি নেই। কিন্তু এ সকল লক্কড়-ঝক্কড় মার্কা লোকাল বাসগুলো দিয়ে বেশি ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছি চলাচল করতে। কিশোরগঞ্জ বাস মালিক সমিতি কিশোরগঞ্জ জেলাবাসীকে একপ্রকার জিম্মি করেই রেখেছেন বলে মনে করেন অনেক যাত্রী সাধারণ। বিগত দিনগুলোয় দেশের কয়েকটি বাস কোম্পানি কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচলের চেষ্টা করলেও কিশোরগঞ্জ মালিক সমিতির অসহযোগিতার কারণে ওই কোম্পানিগুলো বাস চালাতে ব্যর্থ হয়েছেন। কিশোরগঞ্জ বাস মালিক সমিতি ওই সকল নামিদামি বাস কোম্পানিগুলোকে অনুমতি দিতে নারাজ।
কোনো কোনো যাত্রী মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ বাস মালিক সমিতি এতটাই শক্তিশালী যে অন্য কোনো বাস মালিক কোম্পানি তাদের সাথে পারছেন না। যখন যে সরকার ক্ষমতাসীন হয় সেই সরকারের ছত্রছায়ায় চলে যায় এই কিশোরগঞ্জ বাস মালিক সমিতি। ফলে তাদের চরিত্রের কোনো পরিবর্তন নেই। কথাই বলে সুবিধাবাদ জিন্দাবাদ। বাস মালিক সমিতির একটি সূত্র দাবি করেছে গত কয়েক মাসে কিশোরগঞ্জ ঢাকা রুটে তাদের সমিতি বেশকিছু নতুন বাস চালু করেছেন।
এদিকে জানা গেছে শেরপুর-ঢাকা রুটে, হালুয়াঘাট-ঢাকা রুটে, নেত্রকোনা-ঢাকা রুটে, ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটে, ময়মনসিংহ-সিলেট রুটে, ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম রুট, টাঙ্গাইল-ঢাকা রুটে, কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটের তুলনায় ওই সকল রুটে ভাড়া অনেক কম। কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটে বাস ভাড়া সরকার নির্ধারিত বাস বাড়ার চাইতে কেন বেশিÑ এটা বাসে চলাচলকারী যাত্রীদের বোধগম্য নয়। বাসের কাউন্টারগুলোয় জিজ্ঞেস করলে কাউন্টার কর্তৃপক্ষ বলে এটা মালিক সমিতির ব্যাপার আমরা এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না। স্থানীয় বিআরটিএ প্রশাসন অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন কিনা, যাত্রীরা বলতে পারেন না।
এই রুটে চলাচলকারী বেশকিছু যাত্রী জানান, ঢাকা পরিবহন, ‘প্রভাতী বনশ্রী পরিবহন’ ও ‘ভাওয়াল পরিবহনের প্রায় শতাধিক বাস কাপাসিয়া সদর থেকে ঢাকা গেলেও বর্তমানে কাপাসিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে রাজধানী কিংবা গাজীপুর সদরের উদ্দেশে কোনো বাসই যাত্রা করে না। ফলে যাত্রার শুরুতে সিট মিলে না এখানকার অধিকাংশ যাত্রীর। এমনকি লোকাল সার্ভিসের মতো সেবাদাতা ২টি পরিবহনের বাস ছাড়া অন্য বাসগুলোকে কাপাসিয়া সদরে এবং আশপাশের অধিকাংশ স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হয় না। ফলে ওই নির্দিষ্ট পরিবহনের বাসে যাত্রীরা তাদের ব্যাগ ও ছোট-খাটো জিনিস নিয়ে উঠতে গিয়ে মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকেন।
পরিবহন সূত্রে জানা যায়, রাজধানী ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে কাপাসিয়া হয়ে কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি, পাকুন্দিয়া, হোসেনপুর ও কিশোরগঞ্জ কটিয়াদী। এলাকায় জলসিঁড়ি এক্সপ্রেসের ৬৪টি, অনন্যা পরিবহনের ৪৭টি, উজানভাটি পরিবহনের ২৬টি এবং অনন্যা ক্লাসিকের ৫৪টি যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে। গত ২৯ মার্চ রোববার কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসন কটিয়াদি জলসিঁড়ি কাউন্টারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের জন্য জলসিঁড়ি কাউন্টারকে ৫০০০ টাকা জরিমানা করেন বলে জানা গেছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের ৩২ বাসস্ট্যান্ড কাউন্টার থেকে ঢাকার উদ্দেশে শুধুমাত্র দুটি এসি বাস চলাচল করে এতে ১২৫ কিলোমিটারের ভাড়া নেওয়া হয় ৫০০ টাকা। কিশোরগঞ্জ থেকে কক্সবাজার চলাচল করে দুটি এসি বাস ভাড়া ১৬০০ টাকা। মহাখালী বাসটার্মিনালের উত্তর পাশের একটি পেট্রোলপাম্প এলাকা থেকে কাপাসিয়া হয়ে নরসিংদী জেলার মনোহরদীর চালাকচর পর্যন্ত ‘সম্রাট পরিবহনের ৪৫টি এবং সম্রাট ট্রান্সলাইনের ১৯টি যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে। তাছাড়া গাজীপুর সদর থেকে কাপাসিয়ার সর্ব উত্তরের জনবহুল স্থান টোক বাজার পর্যন্ত ‘পথের সাথী রাজদূত’ পরিবহনের প্রায় ৪০টির মতো যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে থাকে।
কাপাসিয়া সদরের আব্দুর রহমান নামের এক যাত্রী জানান, গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে কাপাসিয়ার দূরত্ব মাত্র ২৯ কিলোমিটার। সেখান থেকে ‘অনন্যা পরিবহন’, ‘অনন্যা ক্লাসিক’ ও ‘জলসিঁড়ি এক্সপ্রেসের’ বাসে কাপাসিয়া আসতে যাত্রীদের ২০০ টাকা দিয়ে একটি টিকিট কিনতে হয়। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে কাউন্টার থেকে বলা হয়, যেহেতু কাপাসিয়ায় তাদের স্টপেজ নেই; তাই টোক বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত টিকিট কিনে কাপাসিয়া যেতে হবে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে নানা কটু কথা শুনতে হয় এবং হেনস্তার শিকার হতে হয়।
কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নে বীর উজুলী এলাকার ফরহাদ হোসেন জানান, বীর উজুলি থেকে গাজীপুর চৌরাস্তার দূরত্ব ৪৪ কিলোমিটার এবং অনন্যা ক্লাসিক পরিবহনের টিকিটের গায়ে ১৫০ টাকা লেখা থাকলেও এখানে ভাড়া আদায় করা হয় ১৯০ টাকা।
টোক এলাকার ব্যবসায়ী আমানউল্লাহ জানান, টোক থেকে কাপাসিয়ার দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার হলেও পথের ‘সাথী রাজদূত’ পরিবহনে ভাড়া আদায় করা হয় ৫০ টাকা এবং গাজীপুরের দূরত্ব ৫২ কিলোমিটার হলেও ভাড়া আদায় করা হয় ১৫০ টাকা। অন্যান্য পরিবহনগুলোয় গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে টোক পর্যন্ত ভাড়া গুণতে হয় ১৭০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।
খিরাটি এলাকার মো. মকবুল হোসেন জানান, ঢাকা-কাপাসিয়া-মনোহরদী-চালাকচর সড়কে ‘সম্রাট পরিবহন’ ও ‘সম্রাট ট্রান্সলাইন’ একমাত্র যাত্রীবাহী পরিবহন হওয়ায় যাত্রীরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। কাপাসিয়া থেকে সালদৈ চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার দূরত্বে যেতে তাদের ভাড়া দিতে হয় ৫০ টাকা।
আজিজুল হক নামে কিশোরগঞ্জ শহরের একজন যাত্রী জানান, ঢাকা থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা হয়ে কিশোরগঞ্জের দূরত্ব ১০২ কিলোমিটার হলেও অনন্যা পরিবহনে অনন্যা ক্লাসিক পরিবহনে তাদেরকে ভাড়া দিতে হয় ৩৩০ টাকা। ঢাকা-কাপাসিয়া-কিশোরগঞ্জ সড়কে ভাড়া নৈরাজ্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত বলে তিনি জানান। এদিকে কিশোরগঞ্জ তায়া ভৈরব বাজার হয়ে ঢাকা যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ১৩৫ কিলোমিটার দূরত্ব হলেও অনন্যা সুপার, অনন্যা পরিবহন লিমিটেড, যাতায়াত সুপার, যাতায়াত পরিবহন সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চাইতে অনেক বেশি ভাড়া নিয়ে থাকেন। এ ধরনের অভিযোগ অনেক যাত্রীর। প্রতিবাদ করে কোন লাভ হয় না। যাত্রী অধিকার পরিষদ নামে একটি সংগঠন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসককে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে স্মারকলিপি দিলেও কোনো কার্যকারিতা নেই।
জানা গেছে, জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামার পর সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল বিআরটিএ দূরপাল্লার বাসে প্রতিকিলোমিটার ২ টাকা ১২ পয়সা ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়। ভাড়ার এই নতুন হার ডিজেলচালিত বাসের জন্য প্রযোজ্য হবে এবং সিএনজিচালিত বাসে ভাড়া এক পয়সাও বাড়ানো যাবে না বলে সতর্ক করা হয়। কিন্তু কিশোরগঞ্জ কাপাসিয়া ঢাকা ও মনোহরদী কাপাসিয়া ঢাকা সড়কে চলাচলরত সাতটি কোম্পানির বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়ে থাকে। বাস টিকিটের গায়ে আবারো নতুন করে সিল মেরে গড়ে সাড়ে তিন টাকা থেকে পাঁচ টাকা কিলোমিটার হারে ভাড়া আদায় করার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বাস কোম্পানিগুলো সরকার নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে নিজেদের মতো করে একটি ভাড়ার তালিকা করে বাসে রেখে দেন। সাধারণ যাত্রীরা তালিকা দেখতে চাইলে তা দেখিয়ে অনেকটা জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়। কোনো কোনো কোম্পানির বেশিরভাগ বাস সিএনজিচালিত হলেও তারা তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়তি ভাড়া আদায় করলেও তেলের দাম কোনো সময় কমলে সরকার ভাড়া কমালেও বাস মালিক সমিতিগুলো ভাড়া কমায়নি। পরিবহন কোম্পানির মালিকরা সংঘবদ্ধ ও প্রভাবশালী হওয়ায় এ পথের যাত্রীরা ভাড়া নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেও কোনো সুফল পান না বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন নেতা দাবি করেন, এ সড়কে অতিরিক্ত বাসের কারণে ভয়াবহ যানজট হয়। এ কারণে বর্তমানে তাদের বাসগুলো পর্যাপ্ত যাত্রী পাচ্ছেন না এবং যাতায়াতে সময় বেশি লাগার কারণে ট্রিপ কমে গেছে। এজন্য তারা ভাড়া কমাতে পারছেন না।
এ বিষয়ে গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ বিআরটিএ’র কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান, কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত বাস ভাড়া আদায় করা যাবে না, যদি কোনো বাস কোম্পানি আদায় করে থাকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কিশোরগঞ্জে জেলা শহরের প্রখ্যাত আলেম হাফেজ মাওলানা যুবায়ের আহমাদ বলেন, কিশোরগঞ্জের সিএনজি বাস ভাড়া স্বাভাবিক নাকি জুলুম! তিনি আরো বলেন জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহ ব্রিজের দূরত্ব ৯২ কিলোমিটার। বাসে স্বাভাবিকভাবে ১৫০ টাকায় যাওয়া যায়। আর জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে কিশোরগঞ্জের দূরত্ব ৭৭ কিলোমিটার। বাসভাড়া ৩০০ টাকা।
ঈদুল ফিতররের দিন ১১টার দিকে জয়দেবপুর চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে দেখেছি ময়মনসিংহ ব্রিজের বাসভাড়া চাচ্ছে ২০০ টাকা আর কিশোরগঞ্জের ভাড়া চাচ্ছে ৫০০ টাকা।
এ প্রতিবেদককে কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বেশকিছু যাত্রী জানান, কবে নাগাদ কিশোরগঞ্জ-ঢাকা বাস রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ হবে তা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জানতে চাই। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে নিজেদের প্রত্যাশার কথাও জানান যাত্রীরা।