রাষ্ট্র সংস্কারে অধ্যাদেশগুলো বাতিলে বিএনপির অপকৌশল
৯ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৫৭
আইনাঙ্গনসহ সারা দেশে সব মহলে তীব্র অসন্তোষ
॥ সাইদুর রহমান রুমী ॥
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক জারিকৃত গুম প্রতিরোধ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত পৃথক সচিবালয়, বিচারপতি নিয়োগ এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত না করায় দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়েছে। সরকারি কার্যক্রমের শুরুতেই গণমানুষের প্রতি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও জুলাই অভ্যুত্থানবিরোধী অবস্থান বিএনপির দু’মুখোনীতি প্রকাশ করছে। বহু আকাক্সিক্ষত বৈষম্যবিরোধী দেশ গড়ার প্রত্যয়ে বিএনপি সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত প্রধান তিনটি অধ্যাদেশকে রহিত করার মাধ্যমে বিএনপি সরকার মূলত বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়টি একেবারেই বাতিলের খাতায় ফেলে দিচ্ছে। আবারও ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলের যাচ্ছেতাই নিয়মে ফেরত যাচ্ছে বিএনপি। এই তিনটি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে সরকার সরাসরি কোনো টাইমলাইনও ঠিক করেনি বা ভবিষ্যতে করা হবে, তার ইঙ্গিতও দেয়নি। দ্বিতীয়ত, মানবাধিকার কমিশন, দুদকসহ ১৬টি অধ্যাদেশ পরবর্তী সময়ে শক্তিশালী করে আনার কথা বলা হয়েছে। যদিও সেই সময়কালটি সুনির্দিষ্ট নয়। তৃতীয় ধাপে থাকা পুলিশ কমিশনসহ ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে এনে পাসের কথা বলা হয়েছে। যদিও এসব ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, সেটিও স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। তার মানে জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া বিএনপি সরকার এখন আর জুলাইকে কোনো গণনায় রাখছে না।
গুম থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশনের বিধানের আলোকে বাংলাদেশের আইনি কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য গুম অধ্যাদেশ করা হয়। এতে গুমকে ‘চলমান অপরাধ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এ অধ্যাদেশটিও শেষ পর্যন্ত অনুমোদন করা হচ্ছে না। আর মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীন ও কার্যকর করতে কিছু মৌলিক পরিবর্তন এনে অধ্যাদেশ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। অধ্যাদেশে কমিশনকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে ক্ষমতা দেওয়া হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ডে একটি কার্যকর ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ প্রতিষ্ঠিত করা এবং স্বেচ্ছাচারিতা হ্রাস করা এর উদ্দেশ্য।
দুদকের তদন্ত ও গোপন অনুসন্ধান ক্ষমতা বাড়িয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে। এতে সরাসরি এজাহার দায়েরের বিধান, বিদেশে সংঘটিত অপরাধসহ গুরুতর আর্থিক অপরাধকে আইনের আওতায় আনা, কমিশনের সদস্য বাড়ানোর বিধান করা হয়। কিন্তু এই অধ্যাদেশগুলোও অনুমোদন করা হচ্ছে না।
অন্যদিকে স্বাধীন সচিবালয়, বিচারপতি নিয়োগসহ বিচার বিভাগের অধ্যাদেশগুলো বাতিলে অর্ধস্তন বিচারকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সোচ্চার বিচারকদের মাঝে ভীতি সঞ্চার করতে গত ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার ২৮ জন অধস্তন বিচারককে শোকজ করেছে। শোকজ নোটিশে বলা হয়, আপনি এই কার্যকলাপের দ্বারা বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ এর বিধি ২ (চ) (২) এ উল্লিখিত চাকরির শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর কার্যে লিপ্ত হয়েছেন, যা অসদাচরণেরও শামিল। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ এর বিধি ৩ (২) অনুযায়ী বর্ণিত অভিযোগের বিষয়ে পত্র প্রাপ্তির সাত কার্যদিবসের মধ্যে আপনাকে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় আপনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিচারক জানান, তারা কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরকম কোনো মন্তব্য করেননি। তারা তাদের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে আলোচনা করেছেন। বিচারকদের বিরুদ্ধে হঠাৎ করে সরকারের শোকজের মতো ঘটনা বিচারকদের মাঝে তীব্র চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, ‘বিচার বিভাগসহ আরো যে অধ্যাদেশগুলো এখন গ্রহণ করা হচ্ছে না, তাতে জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। প্রথমত, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পথে যেটুকু এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হয়েছিলো তা এখন পিছিয়ে পড়বে। বিচার বিভাগ আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। কিন্তু আলাদা সচিবালয় তো এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তাহলে তার কী হবে? আর দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে তো বিচার বিভাগ স্বাধীন করার কথা বলা হয়েছে।’
‘একইভাবে মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন, দুদক সংক্রান্ত যেসব অধ্যাদেশ পাশ হচ্ছেনা তাতেও জটিলতার সৃষ্টি হবে। মানবাধিকার কমিশন তো আবার পুনর্গঠন করতে হবে। মানবাধিকার রক্ষা এবং গুম প্রতিরোধে তাদের যে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছিলো, তা তো আর থাকছে না। গুশম থেকে ব্যক্তি ও পরিবারগুলোর সুরক্ষাও তো থাকবে না,’ বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘সরকার যদি এগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে চায় নতুন আইনের মাধ্যমে, তাহলে তো অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন করেও করা যেত। কিন্তু এখন যেটা হচ্ছে তাতে তো আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। আগে যেরকম ছিলো সেরকমই হচ্ছে। তাতে লাভ কী হলো। আরো একটি শূন্যতা তৈরি হবে।’
ড. শরীফ ভূঁইয়া জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আইন উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন। তার মতে, ‘এগুলো তো সংবিধান সংস্কার নয়, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। আর এই সংস্কার আমাদের প্রয়োজন। কিন্তু এখানে কেন বাধা তৈরি হবে?’
এদিকে বহু প্রতীক্ষিত মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল নিয়েও তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে সংশ্লিষ্টদের মাঝে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের কমিশন নিয়ে অধ্যাদেশের প্রধান প্রধান অংশগুলো না রাখার বিষয়ে সরকারি দল বিএনপির সিদ্ধান্তে এটি তার কার্যকারিতা হারাবে বলে মনে করছেন সবাই। গুম-ক্রসফায়ারের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচারের ঘটনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে কমিশনকে ঘিরে নতুন করে যে আশা তৈরি হয়েছিল সরকারি এ সিদ্ধান্তে খোদ কমিশনের কর্মকর্তা এবং ভুক্তভোগীদের মাঝে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করছেন, মূলত এর মাধ্যমে সরকার গুম-ক্রসফায়ারে জড়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়মুক্তি দিতে এ উদ্যোগ নিচ্ছে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে মানবাধিকার কমিশনটি পুনর্গঠন ও ক্ষমতা বৃদ্ধির করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের গুম কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল হোসেনকে মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ দেয়া হয়। গুম কমিশনের আরো কয়েকজন সদস্যকেও মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু তারা কাজ শুরু করার আগেই তা কার্যত বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে।
গুমের শিকার জামায়াতে ইসলামীর নেতা শহীদ মীর কাসেম আলীর ছেলে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান সংসদে বলেছেন, সরকারের সদিচ্ছা তখনই বুঝা যেত, যদি সরকার অধ্যাদেশটি একেবারে বাতিল না করে পাস করার পর সংশোধনী আনত। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে আমাদের আবেদন, যদি এই আইন সরকার পরিশোধিত করতে চায়, তাহলে এই আইনটিকে আগে অনুমোদন দিয়ে আইন রূপান্তর করুক। তারপর প্রয়োজনে সংশোধনী বিল এনে সংশোধন করা হোক। তিনি আরো বলেন, যদি সেটা না করা হয়, তাহলে ১২ তারিখে এই আইনটি বাতিল হয়ে গেলে ১৩ তারিখ থেকে গুমের কোনো সংজ্ঞা-ই থাকবে না।
এদিকে মানবাধিকার কমিশনের বর্তমান সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের প্রফেসর শরিফুল ইসলাম জানান, আমরা প্রথম থেকেই লক্ষ করছি সরকার গুম-ক্রসফায়ারসহ বিগত সময়ে যেসব আইনশৃঙ্খলা সদস্যরা জড়িত ছিল, তাদের রক্ষা করতে অন্তবর্তি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এ অধ্যাদেশকে পাশ কাটাতে চাচ্ছে। এ সদস্য বলেন, বর্তমানে কমিশনের কাছে গুম-ক্রয়ফায়ারসহ কয়েক হাজার নানা ধরনের বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের মারাত্মক অভিযোগ পড়ে আছে। যেগুলো আমরা যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যেগ নিয়েছিলাম।
এ বিষয়ে এনএইচআরসির অন্য সদস্য মো. নূর খান বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত চালানোর যে ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া হয়েছিল, সেটি বাতিল হয়ে যাবে।’ নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী কমিশন নিজ উদ্যোগে তদন্ত শুরু করতে পারত এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সংস্থার কাছ থেকে নথিপত্র তলব করার ক্ষমতা পেয়েছিল।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, দেশের গণমানুষের বহু প্রতীক্ষিত কমিশনের অধ্যাদেশটি বাতিল করতে সরকারের উদ্যোগ খুবই দুর্ভাগ্যজনক ও নজিরবিহীন। মানবাধিকার কমিশনকে ‘এ’ ক্যাটারিতে উন্নীত করতে আমরা সময়োপযোগী উদ্যগ নিতে যাচ্ছিলাম। যার মাধ্যমে দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হতো।
ভুক্তভোগীদের মাঝে গুম এবং পরবর্তীতে নির্যাতনের মাধ্যমে কেরানীগঞ্জ কারাগারে মৃত্যুর শিকার খুলনার মোস্তাফিজুর রহমান সিফাতের ভাই মাহফুজ শাকিল বলেন, কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়াই আমার তরুণ ভাইকে ফ্যাসিস্ট সরকারের র্যাব সদস্যরা ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই খুলনা শহর হতে উঠিয়ে নিয়ে যায়। ১৭ দিন গুম রেখে রাজধানী ঢাকায় আমার ভাইকে জঙ্গি হিসেবে র্যাব নাটক সাজায়। পরবর্তীতে বিচারবহিভূতভাবে দীর্ঘদিন নির্যাতন করে কেরানীগঞ্জ কারাগারে মেরে ফেলা হয়। হাসিনার পলায়নের পর আমরা বিচারের জন্য গুম কমিশন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং মানবাধিকার কমিশনের অভিযোগ দায়ের করে এসেছি। কিন্তু বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তে আমরা হতাশ।
২০১৪ সালে সাতক্ষীরা কলারোয়া এলাকায় র্যাব ও স্থানীয় থানা পুলিশের হাতে ক্রসফায়ার এবং নৃক্যাপিং (আঘাত করে পা কেটে ফেলা) ঘটনায় বেচে যাওয়া স্থানীয় ছাত্র শিবির নেতা জাহাঙ্গীর আলম, সামসুল হক বুলবুল, মুকুল হোসেন জানান, গত ১৬ বছরে সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বহু গুরুতর ঘটনায় কমিশনে নিযুক্ত হাসিনার কর্তারা ছিলেন রহস্যজনকভাবে নীরব। এত বছর হাসিনার কমিশন ছিলো নখদন্তহীন কমিশন। কিন্তু বর্তমান কমিশন গঠনের পর আমরা আজও আশায় ছিলাম বিচার পাবো বলে। কিন্তু সমস্ত বিবেচনায় মনে হচ্ছে আমরা আর ঘটনায় জড়িতদের বিচার পাবো না।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল বিষয়ে সরকারে উদ্যোগে উদ্বেগ জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। ওয়াশিংটনভিত্তিক রাইট টু ফ্রিডম এবং টিআইপি ও বিভিন্ন দাতা সংস্থা সরকারের এ উদ্যোগে তাদের উদ্বেগের কথা জানায়।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের(টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যেসব অধ্যাদেশ অনুমোদন করা হচ্ছে না, সেগুলো বিচার বিভাগ, দুদক, মানবাধিকার কমিশন ও গুম সংক্রান্ত। বিএনপির ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারেও তারা সংস্কারের কথা বলেছে। কিন্তু এখন তারা পিছু হটছে, যা দুঃখজনক।’
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘তবে বিএনপির এই অবস্থানে আমি অবাক হচ্ছি না। কারণ অতীতেও দেখেছি আমলাতন্ত্র রাজনীতিতে নিয়ন্ত্রণ করে। বিএনপির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। আমি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য হিসেবেও তখন দেখেছি, তারা বারবার বলেছে সরকারের হাত-পা বেঁধে দেয়া যাবে না। তারা এখন এই সংস্কারকে মনে করছে সরকারের হাত-পা বেঁধে দেয়া। কিন্তু এটা একটা কার্যকর রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজন। তাদের বাধার কারণে এখন আমরা ঠেকে গেছি। আসলে যেসব সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে, তা একটা কার্যকর রাষ্ট্রের জন্য দরকার। বিএনপি ও তার নেতা-কর্মীরাও কিন্তু গুমের শিকার হয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে। বিচার বিভাগের দলীয়করণের শিকার তারাও হয়েছে। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না যে কোন উদ্দেশ্যে, কোন কারণে তারা এখন এগুলো সংস্কারের বিরোধিতা করছে।’